Home আলোচিত সংবাদ ১১ মাসে এডিপির ৪৮% বাস্তবায়ন

১১ মাসে এডিপির ৪৮% বাস্তবায়ন

0

ঢাকা অফিস।।


বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বৃহস্পতিবার এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বরাদ্দের অনুপাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে পেরেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আর সবচেয়ে দুরাবস্থা স্বাস্থ্য বিভাগের।

চলতি অর্থবছরে এডিপির মাধ্যমে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বাস্তবায়নের হার প্রত্যাশিত না হওয়ায় গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১১ মাসে সব উন্নয়ন প্রকল্প মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৬৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে ১ লাখ ১১ হাজার ৫ কোটি টাকা টাকা খরচ হয়েছিল। বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনে রদবদলের ধাক্কায় এডিপি বাস্তবায়নে যে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল, তা এখনও চলছে।

সবশেষ মে মাসে ১৪ হাজার ২৪৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা খরচ করেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। গত অর্থবছরের মে মাসের খরচের অংক ছিল ১৭ হাজার ৫৮০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপিতে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখে বাজেট পাস করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার সেই এডিপি কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে। এর মধ্যে খরচ করা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেয়।

তাতে করে আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্পে অর্থছাড় কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে চলমান অনেক প্রকল্পের কাজও স্থগিত হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এডিপির বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় কমে যায়।

এর আগের ২০২১-২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই- মে) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল যথাক্রমে ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ৬১ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও ৪৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

আইএমইডির ওয়েবসাইটে ২০১০–১১ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতি অর্থবছরের জুলাই–মে সময়ের হিসাব দেওয়া আছে।

সেই তথ্যে দেখা যায়, গত ১৬ বছরের মধ্যে এডিপি বাস্তবায়নের হার এবারই সবচেয়ে কম।

আগের ১৫ বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার তা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গড় বাস্তবায়নের হার ৫৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এই অর্থবছরের ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার ৭০ দশমিক ৯৭ শতাংশই বরাদ্দ আছে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে।

এর মধ্যে শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ ব্যয় করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ দশমিক ৮৩ এক শতাংশ খরচ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৬৭ দশমিক ৮১ শতাংশ অর্থ খরচ করেছে। ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ খরচ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

সেতু বিভাগ খরচ করেছে ৬০ দশমিক ৯৬ শতাংশ; বিদ্যুৎ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ৫০ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৪৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৫৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ খরচ করেছে বরাদ্দের ৪৪ দশমিক ৪২ শতাংশ অর্থ।

সবচেয় কম খরচ করেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ; ২২ দশমিক ১৫ শতাংশ।