Home Lead রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত

13


ঢাকা অফিস।।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরে ঢুকে এক বিধবা নারী ও তার তিন কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হত্যাকারী অন্তর মজুমদারও নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (১৮) মেজো মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।


গতকাল সকালে পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাহীনুর বেগমের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলার মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী। আর গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। তিনি পেশায় ভ্রাম্যমান ফল বিক্রেতা ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বাসার নিচতলায় থাকতেন অন্তর মজুমদার। কয়েক মাস আগে অন্তর এই বাসা ছেড়ে চলে যান। তবে প্রায় সময় বাসার আশপাশে তাকে ঘুরতে দেখেছেন স্থানীয়রা।


এরিমধ্যে গতকাল সকালে হঠাৎ বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি শাহীনুর ও তার তিন মেয়েকে কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলে শাহীনুর বেগম ও বড় মেয়ে সায়মা আক্তার মারা যান। গুরুতর আহত ইকরা আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। ঘটনার পর পরই অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় অন্তর। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৭জন আহত হয়।


রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে প্রথমে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আরেক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে পথিমধ্যে সেই মেয়ে মারা যায়। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় গণপিটুনিতে আহত যুবককেও চিকিৎসা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে মারা যায় সে।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।