Home আলোচিত সংবাদ আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

5


স্টাফ রিপোর্টার।।

আজ পবিত্র আশুরা। মহররম মাসের দশম দিন মুসলিম উম্মাহ’র কাছে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। মানবজাতির ইতিহাসে সংঘটিত বহু স্মরণীয় ও শিক্ষণীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। মুসলিম উম্মাহ’র কাছে এটি যেমন আল্লাহ’র কুদরত, সাহায্য ও সত্যের বিজয়ের স্মারক, তেমনি আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এক অনন্য শিক্ষা। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে।


আশুরার ঐতিহাসিক পটভূমি: আশুরার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবজাতির ইতিহাসের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়-একটি মুক্তি ও বিজয়ের, অন্যটি ত্যাগ ও শাহাদাতের। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দেন। ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী যখন তাদের ধাওয়া করছিল, তখন আল্লাহ’র নির্দেশে সাগরের বুকে পথ সৃষ্টি হয়। মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা নিরাপদে পার হয়ে যান, আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে নিমজ্জিত হয়। এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় হিসেবে হযরত মুসা (আ.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন। অন্যদিকে, ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা। হিজরি ৬১ সালের ১০ই মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতবরণ করেন। তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


দেশে আশুরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন দেখা যায়। বিশেষ করে কারবালার শোক স্মরণে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য। প্রতি বছরের মতো এবারো রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল বের হবে। তাজিয়া মিছিল ঘিরে নিরাপত্তা দিতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।


দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।

তিনি বলেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সমপ্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।’