Home Lead রাতের নগরী খুলনা অরক্ষিত: টহলহীন রাস্তায় বেড়েছে আতঙ্ক

রাতের নগরী খুলনা অরক্ষিত: টহলহীন রাস্তায় বেড়েছে আতঙ্ক

49
রাতের খুলনা শহরের ময়লাপোতা মোড়


স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা নগরী রাতে যেন এক অদৃশ্য ভয়ের ঘেরাটোপে ঢেকে যায়। দিনের ব্যস্ততা শেষে রাত নামতেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক, গলি আর পাড়া-মহল্লা হয়ে ওঠে প্রায় টহলহীন। নাগরিকদের অভিযোগ-রাতে নিয়মিত পুলিশি টহল না থাকায় শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর মধ্যে সাতরাস্তা মোড়, শিববাড়ি মোড়, নিউমার্কেট, সোনাডাঙ্গা, রূপসা, বয়রা, আড়ংঘাটা, ময়লাপোতা, গল্লামারী ও রেলস্টেশন এলাকা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় লোকশূন্য হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ছিনতাই, বাড়িতে চুরি, পথচারীকে হেনস্তা-এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের আশঙ্কা-রাস্তায় পুলিশ নেই, ভরসা নেই: ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রাতের শিফটে কাজ করা শ্রমিকরা বলছেন, রাত ১১টার পর রাস্তায় পুলিশ সদস্যকে চোখে পড়া ভাগ্যের ব্যাপার। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হলেও মনে ভয় কাজ করে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন এলাকায় টহল না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।


বাড়ছে অপরাধের সুযোগ: সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে চক্রগুলো। কিছু এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি, মোবাইল ছিনতাই, এমনকি চাঁদাবাজির ঘটনাও বেড়েছে। নিয়মিত টহল না থাকলে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েছে।
পুলিশের যুক্তি-জনবল সংকট, তবুও নজরদারি অব্যাহত: নগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সমানভাবে টহল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্পটে চেকপোস্ট ও মোবাইল টহল পরিচালনা করা হয়।


নাগরিকদের দাবি-রাতের নিরাপত্তায় বাড়াতে হবে টহল: নগরবাসী বলছেন, রাতে শহর যেন ‘নিজ দায়িত্বে’ চলার মতো অবস্থা। দ্রুত রাতের টহল জোরদার করা, প্রতিটি থানার আওতায় নির্দিষ্ট রুটে পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সিসিটিভি মনিটরিং বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান শহর। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সব ক্ষেত্রেই প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। এমন একটি নগরী রাতের বেলায় অরক্ষিত থাকলে তার প্রভাব শুধু নাগরিক নয়, পুরো অঞ্চলের ওপর পড়বে। রাতের খুলনাকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ- এটাই এখন নগরবাসীর প্রত্যাশা।

কেএমপির ডেপুটি কমিশনার খন্দকার রাশিদুল ইসলাম বলেন খুলনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।  তারপরও প্রায় অর্ধ শতাধিক চেকপোস্ট ও মোবাইল টহল ডিউটি  জোরদার রয়েছে।