খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি কমলেও পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার রায়েন্দা বাজার সংলগ্ন একটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার। সেখানে পানি আটকে থাকে বছরের প্রায় ছয় মাস। পুকুর, ডোবানালা পানিতে একাকার। হাঁটু পানি জমে আছে বাগান ও বাড়ির উঠানে, সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন অনেকেই। এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাচল। পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বাতাসে। দূষিত পানি ব্যবহারে ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে চর্মরোগ।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা শহরতলীর উত্তর কদমতলা এলাকার আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয় ও পুরানো পোস্ট অফিস এলাকার দক্ষিণ পাশ এবং রায়েন্দা বাজার দাখিল মাদ্রাসার আশাপাশের এলাকায় দেখা গেছে জলাবদ্ধতার এমন ভয়াবহ চিত্র। ওই এলাকার ডোবা-নালা, জলাধারগুলো ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বাড়িঘর। এ কারণে পাশের বলেশ^র নদের তীরের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের সঙ্গে সংযুক্ত পানি নিষ্কাশনের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিবছরই এভাবে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় ওই এলাকার বাসিন্দাদের।
বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় নিম্ন আয়ের এবং দরিদ্র পরিবারগুলো উঠান ও পুকুরের সেই বদ্ধ পঁচা পানি দিয়ে করছে ধোয়াপালা, গোসলসহ দৈনন্দিন সব কাজ। সবখানে পানি জমে থাকায় কাঁচা বসতঘর এখন সাপ, কেঁচো, পোকামাকড়ের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া পানিবাহিত নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়। বেশিরভাগ শিশুর শরীরে দেখা দিয়ে চর্মরোগ। উপজেলা সদরের পাশেই প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বছরের অধিকাংশ সময় এভাবে জলাবদ্ধ থাকা এবং তা নিরসনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। গ্রামের বাসিন্দা সেতারা বেগম (৫০) , আ. জব্বার শিকদার ও সালাম হাওলাদার বলেন, সবদিকেই পচা পানি। বাড়ির স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম করার উপায় নাই। পানিপচা দুর্গন্ধে শ^াস নেওয়া যায় না। কাপড়চোপড় ধোয়া, গোসলসহ সব কাজ এই পচা পানি দিয়াই করতে হয় আমাগো।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জলাবদ্ধতা তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বৃষ্টি কমলেও দুর্ভোগ আর কমে না। এখনো দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বছরের বেশিরভাগ সময় পানিবন্দি অবস্থায় বসবাস করতে হয় তাদের। কিন্তু এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো মাথাব্যাথা নেই। বহুবার উপজেলা প্রশাসনকে দুর্ভোগের কথা জানানোর পরও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ নেই।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ^াস বলেন, নোংরা পচা পানি দিয়ে গোসল এবং বাহ্যিক কাজে ব্যবহার করা হলে শরীরে নানা ধরণের চর্মরোগ, চুলকানি, চামড়ার প্রদাহ এবং নারীদের প্রসাবে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এছাড়া দূষিত পানি পানে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড এবং বি-ভাইরাসের মতো সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। শরণখোলার ইউএনও সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, জলাবদ্ধ এলাকার পানি নিষ্কাসনের জন্য কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নালা কেটে পাইপ বসানোর চেষ্টা করা হলে কিছু কিছু লোক তাদের জায়গা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উদ্যোগটি থমকে যায়।









































