Home খেলাধুলা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুললেন আমিনুল হক

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুললেন আমিনুল হক

12


স্পোর্টস ডেস্ক।।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া একাধিক কাউন্সিলরকে ডেকে হুমকি দিয়েছেন এবং ভোটে প্রভাবশালী হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চার বছরের জন্য ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে আরও দুইজন পরিচালক মনোনীত হয়েছেন। এনএসসি–নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ভোটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম (বুলবুল) নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ঘোষণা পাওয়া খবরটি উল্লেখযোগ্য।

পল্টনের হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে ‘জিয়া আন্তভলিবল টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে আমিনুল হক বলেন, ‘অনেক কাউন্সিলর ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফোন করে জানিয়েছে যে নির্বাচনের আগে তাদের ডেকে গিয়ে তারা চাপের মুখে পড়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিসিবি নির্বাচন নিয়ে প্রধান উদ্বেগ হলো সরকারি হস্তক্ষেপ এবং ক্রীড়া উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ। এই প্রত্যেকটি ঘটনার প্রমাণ আছে।’

এদিকে পূর্বে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ১৬ জন প্রার্থী অভিযোগ করে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। তারা নির্বাচনের ‘ফিক্সড আলামত’ দেখেছেন বলে দাবি করেছিলেন। তাদের অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর মনোনয়নের নিয়ম—যেটি নিয়ে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের পাঠানো একটি চিঠিকে চ্যালেঞ্জ করে তারা আদালতে গিয়েছিলেন। কাজকর্ম আদালতের ক্যালেন্ডারে আসা–যাওয়া করলেও হাইকোর্ট ওই চিঠি বৈধ বলে রায় দেয়; তবু বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির সুযোগ রয়েছে। আমিনুল হক তর্ক করেছেন, যদি চিঠি পরে অবৈধ ঘোষণা করা হয় তবেই ইতিমধ্যেই নেওয়া নির্বাচনের ফলাফল বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।

তিনি আরও অভিযোগ তুলেছেন, নির্বাচনে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবও পড়েছে। আমিনুল বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে যে আর্থিক লেনদেনও হয়েছে। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক—বোর্ড পরিচালকেরা অর্থসংক্রান্ত লেনদেনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারেন, এতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়।’

আমিনুল হকের দাবি, এই ধরনের অভিযোগ ও সন্দেহের কারণে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী ও ক্রীড়া সংগঠকরা নির্বাচনের ফলাফল সহজে মেনে নেবেন না; তাই তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।