Home Lead খুলনায় অসময়ের তরমুজে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

খুলনায় অসময়ের তরমুজে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

41

স্টাফ রিপোর্টার।।


সুস্বাদু ও রসাল তরমুজ মূলত গ্রীষ্মের ফল হলেও খুলনায় এখন বর্ষাকালেও ব্যাপকভাবে এর আবাদ হচ্ছে। খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের মাচায় চাষ করা এমন একাধিক ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে কৃষকেরা সফলভাবে অফসিজন তরমুজ উৎপাদন করছেন।


এতে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফসিজন তরমুজ চাষ দিনদিন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জেলায় ৯৬৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি-৫, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। শরীর ঠাণ্ডা রাখা, হজমে সহায়তা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর। তবে সাধারণত এই ফল গ্রীষ্ম মৌসুমেই বাজারে পাওয়া যায়। এখন বৃষ্টির মৌসুমেও চাষ হওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খুলনার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া অফসিজন তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা, রূপসা, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলায় চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচে ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল্লাহ গাজী জানান, আগে শুধু মৌসুমে তরমুজ চাষ হতো। এখন সরকারি সহায়তায় অফসিজন তরমুজ চাষ শুরু করেছি। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে। অন্য এক কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘেরের পাড়ে আগে শুধু শাকসবজি চাষ করতাম। এখন তরমুজও হচ্ছে। এতে আয় বাড়ছে, পাশাপাশি পরিবারের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, মৌসুমি তরমুজের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে সারাবছর ভোক্তারাও তরমুজ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অফসিজন তরমুজ চাষে জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহায়তা দিচ্ছে। কৃষকদের বীজ সরবরাহ ছাড়াও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকদের আমরা শুধু বীজই দিচ্ছি না, কীভাবে তরমুজ চাষ করলে ফলন ভালো হবে সেই বিষয়ে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অফসিজন তরমুজে সাফল্য পাওয়ায় এ আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিসিআরএল প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. লোকমান হোসেন মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট, সাতক্ষীরায় এ চাষ হচ্ছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে তরমুজ আবাদকে আরও বড় আকারে নেওয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, শুধু খুলনা নয়, উপকূলীয় অন্যান্য জেলাতেও অসময়ে তরমুজ চাষ বাড়ছে। সঠিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পেলে এ খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে খুলনার অফসিজন তরমুজ একসময় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।