স্পোর্টস রিপোর্টার
দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই হকিতে নানা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে নতুন অ্যাডহক কমিটি। বির্তকের সূত্রপাত এএইচএফ কাপে রাসেল মাহমুদ জিমিকে বাদ দেয়ার মধ্যদিয়ে। বয়স ৩২ বছর পেরিয়ে গেলে জাতীয় হকি দলের জন্য কেউ বিবেচিত হবেন না, হকি ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির অদ্ভুত এই সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক। এর খেসারতও দিয়েছে দল। ৪৩ বছর পর এবারই প্রথম এশিয়া কাপে উঠতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। বির্তক তৈরি করেছে অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করা কোচ মওদুদুর রহমান শুভকে বাদ দেয়া নিয়েও। শুভকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে ফেডারেশন। এবার নতুন এশিয়া কাপে দল নির্বাচন নিয়েও বির্তকের জন্ম দিয়েছে তারা। এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়ে হতাশ নাঈম উদ্দিন, জানতে গিয়েছিলেন বাদ পড়ার কারণ। অভিযোগ আছে, ক্ষেপে গিয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর তপন এ খেলোয়াড়কে ‘বাস্টার্ড’ বলে গালি দেন! পরবর্তীতে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন নাঈম উদ্দিন, জানালেন এএইচএফ কাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ।
ভারতের বিহার রাজ্যের রাজগির শহরে ২৯শে আগস্ট শুরু হচ্ছে এশিয়ান কাপ হকি আসর। পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয় নিশ্চিত হয়েছে সোমবার। মঙ্গলবার হয়েছে টুর্নামেন্টের সূচি। দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে আটটি দলকে। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও চাইনিজ তাইপে। সোমবার রাতেই বাংলাদেশ প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত দল বেছে নিয়েছে। বিষয়টি খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নাঈম উদ্দিন ও মঈনুল ইসলাম কৌশিক ফেডারেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানতে চেয়েছিলেন কি কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাঈম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের বলেছি, যদি আপনারা আমাকে অন্যায়ভাবে বাদ দিয়ে থাকেন, ভবিষ্যতে এ জন্য আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। এ কথা শুনে তপন ভাই রাগান্বিত হয়ে আমাকে বাস্টার্ড বলে গালি দিয়েছেন।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবু জাফর তপন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘খেলোয়াড়রা এসেছিলেন, আমাদের সঙ্গে কথা বলে গেছেন। এটা এমন কিছু না।’ এক খেলোয়াড় দাবি করেছেন, ‘আমাকে অন্যায়ভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলছিলেন, ‘আমি এমনটা বিশ্বাস করি না। কারণ দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোচ, নির্বাচক প্যানেল জড়িত। অনুশীলন কার্যক্রম কিন্তু ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও দেখভাল করেছেন। এখানে মনগড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।’
হকির এ হট্টগোল এইচএফ কাপ ব্যর্থতাকে সামনে এনেছে। এ প্রসঙ্গে নাঈম উদ্দিন বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় এএইচএফ কাপ চলাকালে আমাদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত খাবার না পেলে হকির মতো কঠিন ম্যাচ খেলা অসম্ভব। বিষয়টি আমাদের নৈপুণ্যর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা এ খেলোয়াড় আরও বলেন, ‘বিগত দিনের তুলনায় দৈনিক ভাতা কম দেওয়া হয়েছে। খাবার ও ভাতা নিয়ে আমি ও পুস্কর খিসা মিমো প্রতিবাদ করেছিলাম। এ কারণে আমাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ এতদিন পর কেন এমন অভিযোগ করা হচ্ছে? প্রশ্নের জবাবে নাঈম উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন বাংলাদেশ হকিতে জটিলতার শেষ নেই। তাছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ফল খারাপ হওয়ার পর নতুন জটিলতা হোক আমরা চাইনি। কিন্তু ফেডারেশন কর্মকর্তারা প্রতিশোধ পরায়ন হওয়ার কারণে এগুলো সামনে নিয়ে এলাম। যাতে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সকলে জানতে পারেন।’ নাঈম-মিমোর অভিযোগ প্রত্যাখান করে হকির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিশোধ নয়, পারফরমেন্সের কারণেই বাদ পড়েছে ওরা।’











































