Home আঞ্চলিক নগরীর এসওএস শিশু পল্লীতে ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

নগরীর এসওএস শিশু পল্লীতে ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

56


স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর সদর থানাধিন শেরে বাংলা রোডের এসওএস শিশু পল্লীতে নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসরাত জাহান ইশার (১৬) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত. ওই ছাত্রী সোনাডাঙ্গা মডেল থানার আল-আমিন মহল্লার বাসিন্দা খালেক শেখের মেয়ে।
নিহত ছাত্রীর নানা জুয়েল শেখ বলেন, আমার নাতনির মা বেঁচে নেই। ইশরার ১৬ মাস বয়সে তার মা মারা যায়। তারপর থেকে তাকে এসওএস শিশু পল্লীর হোমে রেখে লেখা-পড়া করানো হয়। সে সেখানে ১৪ বছর ধরে অবস্থান করছে। ওই হোমের কেউ আমার নাতনির ব্যাপারে খারাপ কোনো কথা বলতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে ইশরা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেখানকার কয়েকজন কর্মকর্তা তা দেখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রাত সাড়ে ১২টার কিছু পরে তার মৃত্যু ঘোষণা করেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশকে খবর না দিয়ে তারা নিজেরাই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আমাদের খবর দেয়। হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এসওএস পল্লীর কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যে রশি বা ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল ইশা, সেটাও তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এটা একটি রহস্যজনক মৃত্যু বলে তিনি দাবি করেছেন।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বোঝা যাবে, এটি আত্মহত্যা না কি অন্য কিছু। দুপুরের পর ময়নাতদন্ত শেষে ছাত্রীর মরদেহ মর্গ থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৫ বছর বয়সী কিশোরী গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভিলেজ-এর নিজ কক্ষে আত্মহত্যা করে। আমরা তাঁর পরিবার, বন্ধু ও পরিচিত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। আমরা তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। উক্ত কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার সুষ্ঠু মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছিলাম।
আমরা অবগত হয়েছি যে, মেয়েটির কিছু আত্মীয়-স্বজন এবং গণমাধ্যমে কিছু প্রতিবেদন এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহের অবতারণা হয় এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও, আমরা নিশ্চিত করছি যে, তদন্তে যেকোনো সত্য উদঘাটনে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষিতে, এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজে বসবাসরত অন্যান্য শিশু ও কর্মীদের মানসিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা পেশাদার কাউন্সেলরদের নিয়োজিত করেছি। একইসাথে, আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা পর্যালোচনা করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আরও জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করছি।
আমরা সম্মানিত গণমাধ্যম ও জনসাধারণের প্রতি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি—এই পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুমান, গুজব বা যাচাই-বাছাই বিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকুন। এটি সহানুভূতির, গোপনীয়তা রক্ষার এবং মর্যাদা বজায় রাখার সময়, উক্ত কিশোরী, তার পরিবার এবং কমিউনিটির সবার জন্য।
এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য জানার জন্য শুধুমাত্র এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর-এর মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, যিনি এই সংকটকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ খুলনা, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সর্বোচ্চ যত্ন ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।