ঢাকা অফিস
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে নিয়ে একজন সম্পাদক পত্রিকায় নিবন্ধ লেখায় ক্ষুব্ধ বিএনপি। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে নিবন্ধ লিখেছেন তা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। এতে খালেদা জিয়া সম্পর্কে অসংলগ্ন কথা বলা হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মাহফুজ আনামের লেখা অনুসারে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান জড়িত হলে তাদের আন্দোলনের ফসল মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে বিএনপির তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না কেন? মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার মামলার চার্জশীটে তারেক রহমানের নাম দেয়নি কেন? কেন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের নাম দিতে হলো।
রিজভী বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় ৬ বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুলিশ কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে নিয়ে এসে এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। চুক্তিভিত্তিক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দ তদন্ত কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সরকারী অনেক দলিল দস্তাবেজ হয় গায়েব অথবা পরিবর্তন করা হয়েছে। এই কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুফতি হান্নান নামের এক ব্যক্তিকে ৪১০ দিনের বেশি সময় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে তার মুখ থেকে বের করানো হয় তারেক রহমানের নাম। তবে পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আদালতে গিয়ে নিজেই তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেই একমাত্র ব্যক্তির মুখ থেকে জোরপূর্বক নাম বের করে ২১ আগস্ট মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে এই মামলার চূড়ান্ত রায় হওয়ার পূর্বেই অন্য একটি মামলায় ওই মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
রিজভী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ছাত্র, তরুণ, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আপোসহীন সংগ্রাম শুরু করেন। দেশের ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে। কিন্তু বারবার সেই গণতন্ত্র এবং এদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে আঁকড়ে ধরার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুর বেড়াজাল দিয়ে একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসনের মাধ্যমে জনগণকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এখন দিনের ভোট রাতে হয় অথবা বিনাভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।











































