Home স্বাস্থ্য চুকনগরের চুঁইঝালের মাংসে জমজমাট খুলনার জিরো পয়েন্টে

চুকনগরের চুঁইঝালের মাংসে জমজমাট খুলনার জিরো পয়েন্টে

60

মোঃ রাজু হাওলাদার
চুকনগরের আব্বাস হোটেলের চুইঝালের গরু ও খাসির মাংসের জন্য বিখ্যাত ছিল। যেটি খুলনার জিরো পয়েন্টের ঐতিহ্যবাহী চুঁইঝাল মাংসের রূপ নিয়েছে বিখ্যাত চুঁইঝালের হোটেল হিসেবে। আব্বাস, আল-আরাফা, কামরুল, রূপকথা ইত্যাদি চুইঝালের বিখ্যাত রূপে খুলনার জিরোপয়েন্ট এ গড়ে উঠেছে সুস্বাদু খাবারের হোটেলগুলি। মন কেড়েছে ভোজন বিলাসীদের।
বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা খুলনার জিরো পয়েন্টের হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় লেগেই থাকে দিন-রাত এই বিশেষ পদের জন্য।
আল আরাফা হোটেলে দুপুরে খেতে আসা জমি ব্যবসায়ী এস এম মইনুল ইসলাম খুলনাঞ্চলকে বলেন, সপ্তাহে ৫ দিনই দুপুরে এখানে চুঁইঝালের মাংস দিয়ে ভাত খেতে আসি। বটিয়াঘাটা-ডুমুরিয়া জমি রেজিস্ট্রি থাকে আমাদের ড্রিম টাউন প্রপারটিজ কোম্পানির। তাই রেজিস্ট্রি সেরে সপ্তাহে পাঁচ দিনে এখানে খাওয়া পরে। খুবই সুস্বাদু ও ভালো পরিবেশ আছে বলেই আমরা এখানে খেতে আসি।
চুঁইঝাল নামের এক প্রকার বিশেষ মসলাজাতীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় বর্তমান সময়ে ভোজনরসিকদের মধ্যে রীতিমতো ক্রেজ তৈরি করা চুইঝাল মাংস। বিখ্যাত এই পদটির স্বাদ নিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভোজন রসিকরা খুলনার আলোচিত হোটেল-রেস্টুরেন্টে।
খুলনার বিভিন্ন প্রান্তেই দেখা মেলে এই চুঁইঝাল মাংসের। হোটেলগুলোর খাবারের স্বাদ ও দাম অনেকটা একই। চুঁইঝাল দিয়ে তৈরি গরু ও খাসি—এ দুই ধরনের মাংসই পাওয়া যায় হোটেলগুলোতে। সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ভাত। ডাল ও অন্যান্য ভর্তা-ভাজিও থাকে। প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এ দোকানগুলো। প্রতি পরিবেশনার চুঁইঝাল দেওয়া গরুর মাংসের দাম ১৮০ টাকা ও খাসির মাংস ২০০ টাকা।
চুঁইঝাল মূলত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাংস ছাড়াও মাছ, খিচুড়িসহ বিভিন্ন তরকারিতে ব্যবহৃত হয় মসলাটি। এ মসলার সামান্য ব্যবহার বদলে দেয় পুরো রান্নার স্বাদ। শুধু স্বাদই নয়, এ মসলার আছে নানা ভেষজ গুণও। ক্যানসার, হৃদ্রোগ, ক্ষুদামন্দা, গ্যাস্ট্রিকসহ অসংখ্য রোগের প্রতিষেধক হিসেবে চুঁইঝাল কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই মসলার বিশেষত্ব এর ভিন্নধর্মী স্বাদ ও ঘ্রাণে। এটি স্বাদে ঝাল, তবে এ ঝাল মরিচের ঝালের মতো নয়। এতে আছে এক তীক্ষè ঝাঁজ ও অপূর্ব সুগন্ধ।