স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির চলমান মাদক বিরোধী সভা-সমাবেশের মধ্যে ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মাজুর মাদক মামলায় সাজা হওয়ায় দল থেকে বহিস্কার হতে পারেন মাজু। বিএনপির বিভিন্ন সুত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুত্র জানিায়, নগরীর খালিশপুরে মাদক মামলায় ১০নং ওয়ার্ড বিএনপি সাঃ সম্পাদক মাজুসহ দু’জনের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। খুলনা মহানগর বিএনপি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহামান মাজু ও তার সহযোগী আবু দাউদকে মাদক মামলায় এক বছরের সাজা দেয় মহানগর হাকিম আদালত।
রবিবার আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ আকরাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রায় ঘোষনার পর ওই একইদিন আদালতটি আসামীদের আপীল করার শর্তে জামিন দিয়েছেন। দন্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মাজু খালিশপুর কাশিপুর কলোনী এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমানের ছেলে। পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে নগরীর খালিশপুরে কাশিপুর হাউজিং এলাকায় পুলিশের অভিযানে ২০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন বিএনপির ১০ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মফিজুুর রহমান মাজু ও তার সহযোগী আবু দাউদ।
তবে তখন তিনি এ পদে ছিলেন না। এ ঘটনায় খালিশপুর থানার এস আই আবুল হাসানাত বাদী হয়ে দু’ জনের নাম উল্লেখ করে খালিশপুর থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন, যার নং ২৪। একই বছরের ২৩ অক্টোবর খালিশপুর থানার এসআই মিজানুর রহমান তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জামাল হোসেন বলেন, মাদক মামলায় দু’জনের এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। তবে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন-এই শর্তে তাদের জামিন দিয়েছে আদালত। আপীল না করলে তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে।
খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিপি হুমায়ুন কবির উজ্জল সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপীল করার শর্তে তাদের দু’জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এদিকে খালিশপুর থানা সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা মফিজুুর রহমান মাজুর বিরুদ্ধে অন্তত একডজন মামলার রয়েছে। যার অধিকাংশই মাদক মামলা। নগর যুবদলের সাঃ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আগেও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এখন সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছি। সুতরাং মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নয়। এ সামাজিক আন্দোলন দলের নেতা- কর্মীদের নিয়ে অবিরাম গতিতে চলবে। যত দিন এলাকা থেকে মাদক মুক্ত না হয় তত দিন নগর যুবদলের কোন নেতা কর্মী ঘরে বসে থাকবে না।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান পরিস্কার। মাদককে বিএনপি না বলে। সুতরাং মাদকের ব্যাপারে বিএনপি জিরো টলারেন্স। মাজু যদি মাদক মামলায় সাজা হয় তবে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে কোন রকম ছাড় দেয়া হবে না। দলের অন্য কোন নেতা-কর্মী যদি মাদকের সাথে জড়িত থাকে তাকে এখনই তওবা করে মাদক ছাড়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। তা না হলে ধরতে পারলে কাউকে দল ছাড় দিবে না বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চরণ করেন।










































