Home আলোচিত সংবাদ দৃশ্যটি সিনেমার নয়, জাজিরার

দৃশ্যটি সিনেমার নয়, জাজিরার

13

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
মনে হচ্ছে কোনো সিনেমার দৃশ্য। দুই পক্ষের রণ প্রস্তুতি। বালতিভর্তি হাতবোমা নিয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। হাতবোমাগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে। উভয়পক্ষ কয়েকশ’ হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। যেন যুদ্ধাবস্থা। তবে এটি কোনো সিনেমা কিংবা যুদ্ধের অংশ নয়। শরীয়তপুরের জাজিরায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার চিত্র। গতকাল সকালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দূর্বাডাঙ্গা এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি খোলা মাঠে উভয়পক্ষের শত শত লোক মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে অনেককে হাতে বালতি ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। বালতি ভর্তি করে তারা হাতবোমা নিয়ে এসেছেন। একে অপরকে লক্ষ্য করে তারা বোমা ছুড়ছেন। বালতি থেকে ছোড়া হাতবোমাগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশকেও দেখা গেছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী বোমা কুদ্দুস নামে এলাকায় পরিচিত। তার সঙ্গে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দু’পক্ষ কিছু দিন পরপর হাতবোমাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিপূর্বে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে অনেক। এসব ঘটনায় জড়িত কুদ্দুস ও জলিল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে এই ২ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস জেল খাটার পর কিছু দিন আগে চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী জামিনে বের হন। জলিল মাদবর এখনো জেলহাজতে রয়েছে। বোমা কুদ্দুস জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবারো এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে জানতে কুদ্দুস বেপারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল আখন্দ বলেন, পুরনো শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিলাসপুরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।