–-মুফতি মুহাম্মাদ এহছানুল হক
শিশুরা মহান আল্লাহর অপার নিয়ামত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে শিশু নির্যাতনের চিত্রগুলো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুদের ভালোবাসা ও তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে ইসলাম যে সুন্দরতম দিকনির্দেশনা দিয়েছে তা মেনে চলা আমাদের একান্ত কর্তব্য। সভ্যতার সংকট ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার জন্য শিশুদের ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্যগুলো বাস্তবায়ন ও চর্চা সময়ের দাবি। শিশু অধিকার রক্ষায় ইসলামের রয়েছে বিজ্ঞানধর্মী নীতিমালা। শিশুর সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, তার সঠিক বিকাশের জন্য কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে এসব হাতে-কলমে শিখিয়েছেন রসুল (সা.)। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘এক বেদুইন রসুলুল্লাহর কাছে এসে বলল, আপনারা শিশুদের চুমু দেন আমরা তো শিশুদের চুমু দিই না। উত্তরে রসুলুল্লাহ বললেন, আল্লাহ তোমার অন্তর থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নিলে আমি কী করব?’ বুখারি। কোনো এক ঈদের দিন নবী (সা.) নামাজ আদায়ের জন্য বের হলেন। তিনি দেখলেন এক শিশু মলিন বেশে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। নবী (সা.) শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন? শিশুটি জবাবে বলল, আমার বাবা-মা বেঁচে নেই আমি অসহায়, ঈদে আমার কোনো পোশাক নেই, তাই কাঁদছি।
নবী (সা.) শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে ফিরে এলেন, তাকে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক দিলেন এবং বললেন আজ থেকে আমি তোমার বাবা, আয়েশা (রা.) তোমার মা, ফাতিমা (রা.) তোমার বোন। নবীজি (সা.)-এর আদর পেয়ে শিশুটি তার দুঃখ ভুলে গেল। মহানবী (সা.) শুধু শিশুদের ভালোই বাসতেন না, তিনি তাদের খোঁজখবরও নিতেন। মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে রসিকতাও করতেন। অনেক সময় ঘোড়া সেজে নাতি হাসান, হোসাইন (রা.)-দের পিঠে নিয়ে আনন্দ করতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রসুল (সা.) আমাদের বাড়িতে আসতেন। আমার ছোট ভাই, তার উপনাম ছিল আবু উমায়ের। তার একটি বুলবুলি পাখি ছিল। সে তার প্রিয় পাখিটি নিয়ে খেলা করত। একদিন পাখিটি মারা গেল। এরপর কোনো একদিন রসুল (সা.) আমাদের বাড়ি এসে দেখলেন আবু উমায়েরের মন খারাপ। মহানবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, আবু উমায়েরের মন খারাপ কেন? সবাই বলল, তার বুলবুলিটি মারা গেছে। তখন মহানবী (সা.) বললেন, ‘হে আবু উমায়ের! তোমার বুলবুলিটির কী হয়েছিল?’ আবু দাউদ। একজন নবী ও রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও শত ব্যস্ততার মধ্যে তিনি শিশুদের খোঁজখবর নিতেন, ভালোবাসতেন। এটি তাঁর সুমহান চরিত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিশুদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার তৌফিক দান করুন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের এ মহামারী দূর করে দিন।- লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।
পবিত্র হজের প্রাক-নিবন্ধন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
আগামী বছর যারা পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যেতে চান কিন্তু নিবন্ধন করেননি, তাদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর সীমিত পরিসরে হজ পালিত হয়েছে। এতে শুধু সৌদিতে বসবাসরত মুসল্লিরা অংশ নিতে পেরেছেন। চলতি বছরের চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ ৩৭ হাজার ১৮৮ জনের হজ পালনর কোটা নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন। কিন্তু তাদের কেউই হজে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, কেউ টাকা ফেরত নিতে চাইলে পারবেন।
জুমার নামাজের অসামান্য গুরুত্ব
—আবদুর রশিদ
জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি এমন এক নামাজ যা মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মুমিনদের পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। হজরত সাইদ ইবনে মুসায়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসার সাহাবির মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে কেবল সওয়াব লাভের আশায় একটি হাদিস বর্ণনা করব। আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে অজু করে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে তার ডান পা ওঠাতেই আল্লাহ তার জন্য একটি সওয়াব লিখে দেন, এরপর বাঁ পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন। এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে মসজিদের কাছে থাকবে অথবা দূরে। অতঃপর সে যখন মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাত আদায় করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি জামাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর মসজিদে উপস্থিত হয় এবং অবশিষ্ট সালাতে শামিল হয়ে ছুটে যাওয়া অংশ পূরণ করে তাহলে তাকেও অনুরূপ জামাতের পূর্ণ সালাত আদায়কারীর সমান সওয়াব দেওয়া হয়। আর যদি সে মসজিদে এসে জামাত সমাপ্ত দেখে একাকী সালাত আদায় করে নেয়, তবু তাকে ওইরূপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ আবু দাউদ।
হজরত আবু সুমামাহ আল হান্নাত বলেন, একদা মসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কাব ইবনে উসরার (রা.) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে আমার দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাতে দেখতে পেয়ে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি আরও বললেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলে সে যেন তার দুই হাতের আঙ্গুল না মটকায়। কেননা সে তখন সালাতের মধ্যেই থাকে। অর্থাৎ অজু করা অবস্থায় তাকে সালাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়।
হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করে এবং যথাসাধ্য উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল ব্যবহার করে, কিংবা নিজের ঘর থেকে খুশবু ব্যবহার করে, এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং দুজনের মাঝে ফাঁক না করে তারপর নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমামের খুতবা পাঠের সময় চুপ থাকে, তবে তার সেই জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। বুখারি। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমান জুমার দিনে অথবা রাতে ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা, কবরের সওয়াল-জওয়াব ও আজাব থেকে রক্ষা করবেন।’ আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত। -লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।









































