দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বদনপুরে মাসুদ হাসান রঞ্জু হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, বদনপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে রন্জু (২৫) একজন গৃহশিক্ষক। বেশকিছু দিন আগে মাস্টার্স সম্পন্ন শেষ চাকুরী প্রত্যাশী ছিলেন। বিবাহিত যুবক রঞ্জু একই এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। এরই মধ্যে বুঝতে পারেন মিজানুরের স্ত্রী অর্থাৎ ছাত্রীর মা শাহানাজ সুলতানার একই এলাকার হুমায়ুন কবিরের পরকীয়ার সম্পর্ক চলছে ৷রঞ্জু বিশেষ কায়দায় শাহানাজ-হুমায়ুন কবিরের মধ্যে কখন কি কথা হয়, সে বিষয়টি রঞ্জু জেনে যেতেন। স্থানীয় লোকজনও এই দুজনের মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি শাহানাজের স্বামী মিজানুর রহমান জানান। এরই জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তারা এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে বদনপুর গ্রামের (ঘোলার বাগান) ভুট্টা ক্ষেত থেকে গৃহ শিক্ষক রঞ্জুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তারা বদনপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবির (৪১) ও একই গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ সুলতানা (২৭)কে গ্রেপ্তার করে। দামুড়হুদা থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত হুমায়ুন কবিরকে থানা হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জু হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন ও বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক হুমায়ুন কবির জানান, হত্যার ৫-৬ দিন পূর্বে রাতে শাহানাজ আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে যে, রঞ্জু আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করে রাখছে। তাকে মেরে ফেলতে হবে, আমি বলি ঠিক আছে, মেরে ফেলব। সে আরও বলে মারতে পারলে, আমার সাথে কথা বলবা, না পারলে কথা বলবা না।এ কারণে আমি রঞ্জুকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দুই-একদিন আগে আমি রঞ্জুকে বলি, আমি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেব। তখন রঞ্জু বলে যে, আমিও আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেব। সে মোতাবেক রোববার সকাল ৯টার দিকে আমি আমার ভুট্টা ক্ষেতে পানি দিতে যাই এবং রঞ্জু’ও তার জমিতে পানি দেওয়ার জন্য আসে। আমার জমিতে পানি দেওয়া শেষে বেলা ১২ টার দিকে রঞ্জু তার জমিতে পানি দেওয়া শুরু করে। এ সময় আমি রঞ্জুর পিছনে পিছনে ভূট্টা ক্ষেতের ভিতরে যেয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পিছন থেকে কোদাল দিয়ে রঞ্জুর মাথার বাম পার্শ্বে স্বজোরে আঘাত করলে রঞ্জু কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে আমি রঞ্জুকে দুই’টি কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে কোদাল ক্যানেলের মধ্যে রেখে বাড়িতে চলে আসি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামী হুমায়ুন কবির এ হতার ঘটনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।











































