স্টাফ রিপোর্টার।।
এক সপ্তাহেও দখলমুক্ত হয়নি নগরীর ঐতিহ্যবাহি পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্র। অবৈধ দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে নিয়ে যে কোন সময় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব দখল ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অপরদিকে গণ অধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নামে প্রতিদিন পঞ্চবিথী ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করছে কতিপয় ব্যক্তি।
ক্রীড়া সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে প্রতিষ্ঠিত খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার তালিকাভুক্ত এ ক্লাবটি খুলনায় বিভাগীয় ক্রিকেট লীগ ও প্রিমিয়ারলীগ ক্রিকেট লীগ খেলায় একাধিকবার শিরোপাজয়ী। এই ক্লাবের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলী আজগর লবীসহ একাধিক ক্রীড়ানুরাগী এই ক্লাবের নেতৃত্ব থেকে বিসিবি, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুরুতে শান্তিধাম এলাকায় তারের পুকুর জাতিসংঘ মাঠ এলাকায় ক্লাবটি পরিচালনা হতো। ২০১০ সালের দিকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগ-২ থেকে দোতলায় তিনটি কক্ষ ক্লাবের নামে বরাদ্দ নেন। কয়েক বছর আগে মহানগর যুবলীগ নেতা নাহিদ মুন্সিও ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে এটি তার মায়ের নামে বরাদ্দ নেন। যা নিয়ে আদালতে মামলার বিচারাধীন রয়েছে। এমন অবস্থায় ক্লাবটি দখল হলো। এই ভবনের দ্বিতীয় তলার তিনটি রুমে ক্লাবের কাযক্রম চলতো। আর নিচ তলায় একটি সাহিত্য একাডেমি, সুরঝংকার নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নিচতলায় একজন চিকিৎসকের চেম্বার রয়েছে।
পঞ্চবীথি ক্রীড়াচক্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ নিয়ে সেখানে পঞ্চবীথি ক্রীড়াচক্রের কাযক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৫ আগস্টেন সেখানে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ ২৭ জানুয়ারি দিনে-দুপুরে সেটির তালা ভেঙে, সাইন ফেলে দখল করা হয়েছে। সেখানে যদি কোনো অনৈতিক কাযক্রম চলতো তাহলে সাধারণ মানুষের সেটা জানার কথা। অথচ মিথ্যা অজুহাতে ক্লাবটি দখল হলো। তারা ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ক্রীড়া সামগ্রী নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হলেও কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, পঞ্চবীথি ক্রীড়া চক্র এই মানুষের প্রতিটি মানুষের। সেখানে এসে রাজনৈতিক দখল কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কোন ধরণের সংস্কার চলছে। বিগত সরকারের আমলে একবার দখল চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ক্লাব সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি রুখে দিয়েছিল।
গত ২৭ জানুয়ারি গণ অধিকার পরিষদের ব্যানারে পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্রের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে কিছু ব্যাক্তি। তারা এটিকে গণ অধিকার পরিষদের খুলনা মহানগর ও জেলা কার্যালয়ের ব্যানারসহ নানা ব্যানারে দুই তলা ভবনটি জুড়ে টাঙ্গিয়ে দেয়। আর পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্রের নাম ফলক তুলে ফেলে।
এই সময় গণঅধিকার পরিষদের খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক শেখ রাশিদুল ইসলাম রাশেদ সাংবাদিকদের জানান, পঞ্চবিথী ক্লাবে জুয়াসহ বিভিন্ন অপকর্ম হতো। আমাদের ছেলেরা সেগুলো বন্ধ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। ভবনটি গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন প্রক্রিয়া ৭০ ভাগ এগিয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা অনুমতি পেয়ে যাবো। তখন ভবন ব্যবহার করবো।
কিন্তু ২৮ জানুয়ারি গণ অধিকার পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি প্রদান করে কেন্দ্রীয় গণ অধিকার পরিষদ। গণ অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। পরবর্তীতে শাকিল উজ্জামানের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্র দখলের অভিযোগ উঠার কারনে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণ অধিকার পরিষদ কোন প্রকার দখল দারিত্বকে প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু শেখ রাশিদুল বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ক্লাব দখলের পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।
অবশ্য গণ অধিকার পরিষদ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি জি এম আজিজুল ইসলাম জানান, গণ অধিকার পরিষদ এর সাথে জড়িত নয়। আমরা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো তারা তাদের ক্লাব যেন বুঝে নেয়।
কিন্তু তারপরও গণ অধিকার পরিষদের ব্যানার সড়েনি ভবন থেকে। সেখানে প্রতিদিন কিছু মানুষ নিয়মিত বসে থাকছে। ক্লাবের কোন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা ক্লাবে যেতে পারছেন না।
এ বিষয়ে পঞ্চবিথী ক্রীড়া চক্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম জানান, আমরা এখন আতঙ্কিত। এ কারনে ক্লাবের সকল সদস্যদের সাথে আলোচনা করে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডি নং ৫৪; তারিখ ০১.০২.২৫।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনীর উল গিয়াস জানান, থানায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।











































