Home আঞ্চলিক শরণখোলায় প্রতারক চক্রের খপ্পরে মিথ্যা মামলায় নিরীহ পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ

শরণখোলায় প্রতারক চক্রের খপ্পরে মিথ্যা মামলায় নিরীহ পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ

8

শরণখোলা প্রতিনিধিঃ


বাগেরহাটের শরনখোলায় উপজেলার পুর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের একাধিক নিরীহ পরিবারকে মিথ্যা মামলায় আসামী করে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পূর্ব-খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার খাঁন ,হালিম মাতুব্বর, জাকির মাতুব্বর ও সাবেক স্কুল শিক্ষক নেছার উদ্দিনসহ একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন মিথ্যা মামলায় হয়রানির স্বীকার একাধিক নিরীহ পরিবারের লোকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই এলাকার বাসিন্দা প্রভাবশালী মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ আঃ হালিম মাতুব্বর সহ একটি প্রতারক চক্রের থানা ও আদালতে দ্বায়েরকৃত একাধিক মিথ্যা মামলায় জেলে জাহিদুলের মত চরম হয়রানির মধ্যে পড়েছেন পুর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা কলেজ ছাত্র রাব্বি খান (২৫), কৃষক মাহাবুব খাঁন (৩৮) ,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিয়াদুল খাঁন (৩৬), শিক্ষক আঃ রাজ্জাক তালুকদার (৪০), কৃষক রফিক তালুকদার (৫০), ব্যবসায়ী মহিবুল খাঁন (৫০), জেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৮), কৃষক মোঃ শহীদ খাঁন (৫০) ও দিনমজুর ফজলু তালুকদার (৫০) সহ নানা পেশার ৯ ব্যক্তি।
জেলে জাহিদুল ইসলাম জানান, জীবনের চাকা সচল রাখতে চলতি বছরে ইলিশ আহরনের জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকেএকই উপজেলার বাসিন্দা এফবি আলী ফিশিং ট্রলারের মালিক মোঃ নুর মোহম্মদ মাঝির কাছ থেকে অগ্রীম দাদন গ্রহণ করে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে যান। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে জানতে পারেন একটি মারপিট মামলার ৬ নাম্বার আসামী তিনি।
শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার মা নুরজাহাজ বেগম উত্তারাধিকার সুত্রে ৫নং মোড়েলাবাদ মৌজার ৩৪১/৭৭১/১৮৯/১৯২ ও ১৯১নং খতিয়ানের ও ১৯২০/১৯২১/১৯২২/১৯২৩ নং দাগ হইতে ১৩.২০ শতক সম্পতি পেয়েছেন। ওই জমি সম্প্রতি বিক্রি করতে চাইলে পুর্ব-খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাবিবুর রহমান খাঁনের ছেলে আঃ বারেক খাঁন বর্তমান বাজার মুল্য অনুযায়ী ১লাখ ২৭ হাজার টাকায় ক্রয় করতে রাজি হন। কিন্তু ওই জমি বিক্রির মাঝখানে স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার ,হালিম মাতুব্বর, জাকির মাতুব্বর ও আমার মামা সাবেক স্কুল শিক্ষক নেছার উদ্দিন সহ একটি প্রতারক চক্র বারেক খাঁনের পিছু নেয় এবং তাকে কু-পরামর্শ দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা বারেকের কাছ থেকে ৮০হাজার টাকা আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন। এক পর্যায়ে আমরা টাকা হাতে না পেয়ে জমি রেজিষ্ট্রি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই প্রতারকদের সাথে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা শালিশ বৈঠকে বসলে তাদের অসৎ উদ্যেশ্য প্রমানিত হলে রায় আমাদের পক্ষে আসলে হালিম ও দেলোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে শরণখোলা থানা ও বাগেরহাট আদালতে পৃথক ৩টি মিথ্যা মামলা রুজু করেন। উক্ত মামলায় আমাকে সহ ৯জন নিরীহ গ্রামবাসীকে ফাঁসিয়ে দেন।
দিন মজুর ফজলু তালুকদার বলেন, সাধারন মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দ্বায়ের করা ওই চক্রের নেশা-পেশা। মামলায় ফাঁসিয়ে পরবর্তীতে মিমাংসার নামে দুই পক্ষ থেকে অর্থ হাতানোর ধান্দায় দেলোয়ার ও হালিম সহ তার দলবল সময় ব্যস্ত থাকেন। আমরা ওই চক্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে প্রসাশন সহ মাননীয় সংসদ সদস্যের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মহিবুল্লাহ খান বলেন, আমার ভাই মাসুম বিল্লাহ ও আবু তাহের দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। তাই ওই চক্র আমার কাছে কয়েক মাস পুর্বে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সৌদি প্রবাসী মাসুম বিল্লাহ বলেন, পুর্ব খোন্তাকাটা এলাকায় একটি নুতন মসজিদ নির্মানের জন্য আমি বিদেশ থেকে দেলোয়ারের কাছে বিভিন্ন সময় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা পাঠাই। পরবর্তীতে আমি উক্ত টাকার হিসাব জানতে চাইলে আমি দেশে ফিরলে দেলোয়ার আমাকে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।
আরেক সৌদি প্রবাসী আবু তাহের বলেন, কয়েক মাস পুর্বে আমি দেশে গেলে ওই চক্র আমাকে ব্যাংক থেকে আমাকে টাকা তুলতে দেখেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই দিন সময় সন্ধ্যায় ঝিমতলা এলাকা থেকে দেলোয়ারের নেতৃত্বে আমাকে বেঁধে ফেলে এবং মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ওই সময় আমার সাথে থাকা নগদ ১৯হাজার টাকা নিয়ে যায় পরবর্তীতে আরো ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে ওদের হাত থেকে আমি জীবন বাঁচাই। ৬মাসের ছুটি নিয়ে দেশে গেলেও ওই চক্রের ভয়ে ২মাসের মধ্যে পুনরায় সৌদি চলে আসি। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন খাঁন মহিউদ্দিন বলেন, ওই এলাকায় জমি জমা নিয়ে দুই পরিরারের মধ্যে বিরোধ আছে। কিন্তু দেলোয়ার সহ একটি অসাধু চক্র মিথ্যা মামলা করে সাধারন মানুষকে হয়রানি শুরু করেছেন বলে আমি অবগত আছি। তবে বিষয়টি মিমাংসার জন্য পুনঃরায় উদ্দ্যেগ নেওয়া হবে।
অপরদিকে, শরনখোলা থানায় দ্বায়ের করা মারপিট মামলার বাদী আঃ হালিম মাতুব্বর বলেন, আমাকে ও আমার ভাই জাকির মাতুব্বরকে গত ২২আগষ্ট যারা অন্যায় ভাবে জিমতলা এলাকায় ফেলে মারপিট করেছেন কেবল মাত্র তাদের বিরুদ্ধে মামলা দ্বায়ের করা হয়েছে। এখানে কাউকে অন্যায় ভাবে আসামী করা হয়নি। তবে, দেলোয়ার খাঁন এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি ।
শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, একাধিক মামলার বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে, শরনখোলা থানায় রেকর্ড হওয়া মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে নিরীহ কোন ব্যক্তিকে হয়রানি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।