Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চল ও আশ-পাশের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চল ও আশ-পাশের সব খবরা খবর

125
আলু চাষের জন্য অন্যের জমি তৈরিতে মই দিচ্ছেন মহিউদ্দিন বিশ্বাস। দুটি গরু ও মই তাঁর। ছয় বিঘা জমি মই দিলে মহিউদ্দিন মজুরি পাবেন ১ হাজার ২০০ টাকা। তেঁতুলিয়া, তালা উপজেলা, সাতক্ষীরা

২০২৪ জুলাই, আগস্টে আহত ও শহীদদের স্মরনে দোয়া ও আলোচনা সভা
কয়রা প্রতিনিধি
২৪ সালের জুলাই- আগস্টে ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুথানে আহত ও শহীদদের স্মরনে স্মরন সভা উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন এই স্মরন সভার আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুর রউফের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ জিএম ইমদাদুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শরিফুল আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এ হাসান, সাংবাদিক আলহাজ্ব সদর উদ্দিন আহমেদ, গন অধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি মোঃ ইয়াছিন আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী,শিক্ষক মোহসিন আলম, আহত ছাত্র আলতাফ মাহমুদ, শাহিন আলম, প্রতিপাদ্য দিবসের উপরে কবিতা আবৃত্তি করে সুন্দরবন গার্লস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রুহান বিনতে রউফ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত , আহতদের সুস্থতা কামনা করে ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আলহেরা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আয়ুব আলী।

ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন কেশবপুরে মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তরুণরা
কেশবপুর প্রতিনিধি
কেশবপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন তরুণদের দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা এবং দুর্ঘটনা একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রশাসন যদি দ্রুত এগিয়ে না আসে সামনে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে কেশবপুরবাসী। কেশবপুরের কড়িয়াখালী পুলের সন্নিকটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এতে তাৎক্ষণিক আহত হন মোঃ আব্দুল রশিদ এবং মোটরসাইকেল চালক চাদরা ১ নং ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ হোসেন আলী, বেগমপুরে থেকে দেহে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল পুল ক্রস করতে যেয়ে বিপরিত দিক আসা হোসেন আলীর মোটরসাইকেল কে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় এতে হোসেন আলী পুল থেকে সাত, আট ফিট নিচে পানির মধ্যে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় আব্দুল রশিদের কপালে আস্ত খেজুরের কাটা ঢুকে ,এ ছাড়া তাহার হাতে পায়ে বিভিন্ন জায়গায় খেজুরের কাঁটা ঢুকেছিল একই অবস্থা ড্রাইভার হোসেন আলীর। স্থানীয় লোকজন এসে আহত ব্যক্তি এবং মোটরসাইকেল টিকে পানির ভিতর থেকে উদ্ধার করে।
কেশবপুরে অল্প বয়সের ছেলেরা বাইক নিয়ে খুব দ্রুতগতিতে রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফলে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এদের কারণে পথচারী এবং সাধারণ মোটরসাইকেল চালক প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
কেশবপুরের প্রশাসন মোটরসাইকেল অভিযান দ্রুত পরিচালনা না করলে দুর্ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে। স্থানীয় জনসাধারণ মোঃ মইন বলেন অল্প বয়সের ছেলে পেলেদের কাছে মোটরসাইকেল যেন তার অভিভাবক না দেয়। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে কেশবপুরে দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতার বোধ তৈরি করা সম্ভব হবে।

অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ৪৭ জন আটক
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ,পুরুষ ও শিশুসহ ৪৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। এরা সবাই দালালের সাহায্য নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। গত ২৪ ঘন্টায় সীমান্তে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে বিজিবি। ্এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিত্বে এ তথ্যে নিশ্চিতকরেছেন মহেশপুর ৫৮ বিজিবি। বিজ্ঞপ্তিত্বে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের বিক্তিত্বে গত ২৪ ঘন্টায় ৫৮ বিজিবির বেশ কয়েকটি আভিযানিক দল সুগঠিত হয়ে রাতভর মহেশপুর উপজেলার মাটিলা,খোশালপুর,পলিয়ানপুর,বাংঘাডাঙ্গা,শ্যামকুড় এবং লড়াইঘাট সীমান্ত এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক কর। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার চেষ্টায় সর্বমোট ৪৭ জন বাংলদেশীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে নারী ১২ জন,পুরুষ ১৯ জন ও শিশু রয়েছে ১৬জন। আটককৃত ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
বিজিবি আরও জানান আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লোহাগড়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়ায় মাজেদা-মোয়াজ্জম শিক্ষা ট্রাস্টের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন ও গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক মো. মহসীন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মুন্সী শাহাবুদ্দীন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আ.ন.ম আজিজুল হক, নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার লীনা, যশোর দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ (যশোর সেনানিবাস) মাহফুজা নাসরিন, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী এম আতিকুল্লাহ, ও প্রয়াত মুন্সী মোয়াজ্জম হোসেনের সহধর্মিণী রত্নগর্ভা মাজেদা বেগম। এছাড়াও অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিলু শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ সাইফুল্লাহ মামুন, লোহাগড়া লক্ষীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে. এম রেজাউল ইসলাম, কাশিপুর অম্বিকা চরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ও মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন প্রমুখ। “স্মৃতির মুকুরে-মুন্সী মোয়াজ্জম হোসেন ” নামে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, ৫৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির টাকা এবং ৪ জন গুণী শিক্ষক মো. আতিয়ার রহমান, মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান, সুকুমার বিশ্বাস ও শ্রীবাস কুমার দত্তকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। এছাড়াও ১০ জন হাফেজদের মধ্যে পবিত্র কোরআন শরিফ ও টুপি প্রদান করেন।

বটিয়াঘাটা সরকারি ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ে শহীদদের স্মরণ সভা
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
সরকারি বটিয়াঘাটা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়ের আয়োজনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে এক স্মরণ সভা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার বেলা ১২ টায় অধ্যক্ষ অমিতেষ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় কলেজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক বীণাপাণি বিশ্বাস, প্রভাষক যথাক্রমে বিকাশ কুমার শীল, পলাশ কান্তি হালদার, ব্রজেন কুমার মন্ডল, শুধাংশু কুমার সরদার, বিপ্লব সাহা, পুতুল রায়, বাসন্তী দাশ, সুকুমার চন্দ্র বৈরাগী, পীযুষ কান্তি সরকার, প্রদীপ গোলদার, অনুপম কুমার মন্ডল সহ মহাবিদ্যালয়’র শিক্ষার্থীবৃন্দ।

খানজাহান আলী থানা জামায়াতের কর্মী সম্মেলন আজ
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ রোববার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তিনি খুলনার খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। ইস্টার্ণ জুট মিলস শ্রমিক ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মী সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৮টায়। এ উপলক্ষে তোরণ, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে সাজানো হচ্ছে গোটা এলাকায়। ইতোমধ্যে মঞ্চের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া উক্ত এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। করা হয়েছে একাধিক পথসভা। পুরুষ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিরলস কাজ করেছেন মহিলা কর্মীরাও। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কর্মী সম্মেলনের প্রস্ততি নিয়ে ব্যস্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামীর প্রায় সকল অফিস বন্ধ ছিল। নেতাকর্মীরা প্রাণ খুলে স্বাধীনভাবে কোন ধরনের মিছিল, মিটিং, রুকন সম্মেলন এমনকি কর্মী সম্মেলনও করতে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ফ্যাসিবাদ পতনের পাঁচদিন পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে সরকার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় কার্যক্রম দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই দেখছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শো-ডাউনের অংশ এক ডিসেম্বর খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন। এ কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী।
এদিকে আটরা শিল্প এলাকার ইস্টার্ণ জুট মিলস শ্রমিক ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মী সম্মেলন সফল করতে শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ইস্টার্ণ জুট মিলস অডিটোরিয়ামে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রীয় মসলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম ও গাওসুল আযম হাদী, মিডিয়া এবং প্রচার সেক্রেটারি শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্লা, মাওলানা সাইফুল ইসলাম খান, খানজাহান আলী থানা সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন, খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ বেলাল হোসাইন রিয়াদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কয়রায় ছিন্নমুল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
কয়রা প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপকূলীয় এলাকায় শীতের শুরুতেই অসহায়, ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ। গতকাল শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় নবজাগরণ যুব সংঘের আয়োজনে স্থানীয় অন্তাবুনিয়া বাজার বালুর মাঠে ছিন্নমুল ১৩০ জন মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। নবজাগরণ যুব সংঘের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহারাজপুর ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্টার দীন মোহাম্মদ, নবজাগরণ যুব সংঘের সদস্য হাফেজ হারুনুর রশিদ, আবু মুসা, আবু হাসান, মোঃ ওয়ায়েজ কুরনী, আসাদুল ইসলাম, মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। শীতবস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠানে নবজাগরণ যুব সংঘের সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম সরদার বলেন, নবজাগরণ যুব সংঘ একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকায় অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ন্যায় সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একদল যুবক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

পাইকগাছায় বিএনপি সাম্য ও সস্প্রীতির সমাবেশ
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্দ্যেগে তারেক রহমানের ৩১ দফা বিনির্মাণে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে পৌরসভা চত্বরে ওই সমাবেশ হয়। পাইকগাছা বিএনপির সভাপতি ডাঃ আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি “র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি সাংবাদিক অধ্যাপক আব্দুল হাই শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ও পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড, জি এম আব্দুস সাওার, জেলা বিএনপি নেতা মোড়ল শাহাদাত হোসেন ডাবলু,, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সেলিম রেজা লাকী, সদস্য সচিব মোস্তফা মোড়ল, আইনজীবী সাইফুদ্দিন সুমন, যুব নেতা এস এম মোহর আলী, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মেছের আলী সানা,ওলামা দলের আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা আবু মুসা, উপস্থিত ছিলেন আঃ মজিদ গোলদার, প্রনব কান্তি মন্ডল, আনারুল ইসলাম, নাজির আহমেদ,প্রভাষক ইকবাল হোসেন, আসাদুজ্জামান খোকন,হাবিবুর রহমান, সরদার তোফাজ্জেল হোসেন।

ফকিরহাটে মস্তিস্ক বিকৃত অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটে একজন মস্তিস্ক বিকৃত অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাটাখালী যাত্রী ছাউনি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। মৃত ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০ বছর ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফকিরহাটের কাটাখালী সহ আশেপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। সড়কের পাশে তিনি বিভিন্ন স্থাপনার সামনে শুয়ে থাকতেন। মানুষ দয়া করে কিছু দিলে তিনি তা খেতেন। শুক্রবার রাতের কোন এক সময় তার আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন তারা।
ফকিরহাট ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, একজন মস্তিস্ক বিকৃত অজ্ঞাত ব্যক্তি মারা গেছেন এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা উপস্থিত হয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরোহাল প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ আঞ্জুমান মফিদুল কবরস্থানে দাফন করা হবে। তবে তিনি কিভাবে মারা গেয়ে ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আসলে এর মুত্যুর কারন জানা যাবে।

ফকিরহাটে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ডলি বেগম (৩৫) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা র্যাব-৬ এর একটি দল। তাকে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে যশোর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। শনিবার তাকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তাকৃত আসামী মো. শরিফুল ইসলাম সোহাগ রূপসার নৈহাটী গ্রামের মৃত গোলাম আলীর ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশিক রেজা জানান, ২০ নভেম্বর বিকেলে ডলি বেগমের স্বামী নিহতের মা ও নিকট আত্মীয়দের ফোন করে জানান ডলি বেগম ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে। এমন খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা লখপুরে ভাড়া বাড়িতে এসে দেখেন ডলি বেগম মৃত অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে নিহতের স্বামীকে না পেয়ে তাকে ফোন করলে জানান তিনি যশোরে আছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ মঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২১ নভেম্বর সকালে নিহতের মা মা নার্গিস বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে নিহতের মা থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার একমাত্র আসামী নিহতের স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধিন রয়েছে বলে জানান।

কয়রায় ছিন্নমুল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
কয়রা প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপকূলীয় এলাকায় শীতের শুরুতে অসহায়, ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ। গতকাল
শনিবার ( ৩০ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় নবজাগরণ যুব সংঘের আয়োজনে স্থানীয় অন্তাবুনিয়া বাজার বালুর মাঠে ছিন্নমুল ১৩০ জন মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। নবজাগরণ যুব সংঘের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় এত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলি বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহারাজপুর ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্টার দীন মোহাম্মদ, নবজাগরণ যুব সংঘের সদস্য হাফেজ হারুনুর রশিদ, আবু মুসা, আবু হাসান, মোঃ ওয়েজ কুরনী, আসাদুল ইসলাম, মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। শীতবস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠানে নবজাগরণ যুব সংঘের সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম সরদার বলেন, নবজাগরণ যুব সংঘ একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকায় অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ন্যায় সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একদল যুবক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

শরণখোলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছে বিএনপি
শরণখোলা প্রতিনিধি
শরণখোলায় শনিবার সকালে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার পাঁচরাস্তা মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ডাঃ শফিকুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সদস্য, সাবেক সহ-সভাপতি ও বাগেরহাট-৪ আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শরণখোলা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, বিএনপির সিনিয়র নেতা ফজলুল হক তালুকদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি শহীদুল হক বাবুল, মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপি আহবায়ক শিকদার ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান তালুকদার, প্রধান শিক্ষক মোঃ নান্না মিয়া বিএসসি, শিক্ষক শামিম হোসেন ও বদিউজ্জামান বাদল প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম- আহবায়ক নাজমুল আহসান শিমুল গাজী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে উপজেলার ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরন করেন বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন।
একই দিন বিকেলে শরণখোলা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা কৃষক দলের বর্ধিত সভা ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের শরণখোলা উপজেলা আহবায়ক নজরুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন।

খুলনার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি
খবর বিজ্ঞপ্তি
শনিবার সকাল ১১টায় নগরীর কাইফেং চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান এর সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম ও সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুর পরিচালনায় দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনিক বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এছাড়া সভায় বক্তারা বলেন খুলনা শহরে মশার উপদ্রবে জনজীবন বিপর্যস্ত। শিক্ষর্থীদের দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে পড়াশুনা করতে হচ্ছে। দ্রুত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের আহবান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা আরও বলেন খুলনার রাস্তাঘাট সংস্কারসহ নির্মানাধীন গল্লামারী ব্রীজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জন দুর্ভোগ লাঘব করতে হবে। বক্তারা খুলনার বন্ধ মিল কলকারখানা চালু, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বিমান বন্দর নির্মাণ, খুলনায় গ্যাস সরবরাহসহ সকল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানান।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, খুলনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. শেখ নুরুল হাসান রুবা, উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ নিজামউর রহমান লালু, অধ্যক্ষ রেহানা ঈসা, খুলনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মিনা মিজানুর রহমান, শাহীন জামাল পন, অধ্যাপক মোঃ আবুল বাসার, কমার্স কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সেলিনা বুলবুল, মিজানুর রহমান বাবু, মামনুরা জাকির খুকুমনি, আয়কর উপদেষ্টা শেখ আবুল কাসেম, আয়কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. আমিনুর রহমান, এ্যাড. শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, উন্নয়ন কমিটির অর্থ সম্পাদক মিনা আজিজুর রহমান, মাস্টার মনিরুল ইসলাম, খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সম্পাদক জি.এম রেজাউল ইসলাম, ক্রীড়া সংগঠক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, উন্নয়ন কমিটির শ্রম সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, উন্নয়ন কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সরদার রবিউল ইসলাম রবি, সাবেক ছাত্র নেতা মোঃ হায়দার আলী, সাবেক ছাত্র নেতা মোল্লা মারুফ রশিদ, মঞ্জুর হাসান অপু, প্রকৌশলী সেলিমুল আজাদ, বিশিষ্ট ব্যসায়ী এস.এম এনামুল হক, এস.এম.এ বাশার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোর্শেদ উদ্দিন, উন্নয়ন কমিটির শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আযম খান, এস.এম. আকতার উদ্দিন পান্নু,অধ্যাপক আ.হ মহিউল ইসলাম, মোঃ আজিম উর রহমান মুরাদ, আবু আল মিরাজ, শেখ আব্দুস সালাম, উন্নয়ন কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইঞ্জিঃ রফিকুল আলম সরদার, মোঃ আলী রেজা বাচ্চু, শেখ গোলাম সরোয়ার, শেখ আবুল কাসেম, আফজাল হোসেন রাজু, রকিব উদ্দিন ফারাজী, বিশ্বাস জাফর আহম্মেদ, ইলিয়াস মোল্লা, শিকদার আব্দুল খালেক এবং প্রমিতি দফাদার প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী বৈঠাহারা মহাশ্মশান মঠ মন্দিরে ৪দিন ব্যাপি কালী পূজা শুরু
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় ঐতিহ্যবাহী বৈঠাহারা মহাশ্মশান মঠ মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুরু হয়েছে ৪দিন ব্যাপি ১০তম সার্বজনীন কালী পূজা। আজ রবিবার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন। খরস্রোতা সালতা নদীর তীরে বৈঠাহারা,আধারমানিক,কাঠবুনিয়া,খলশিবুনিয়া,খোরেরাবাদ ও মহাদেবপুর এ চার গ্রামের ভক্তদের আয়োজনে অত্যন্ত জাক জমকপূর্ণ ভাবে এ অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠান ঘিরে সাজানো হয়েছে রং বেরঙের বৈদ্যুতিক আলোক সজ্জিত তোরণ, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবারের দোকান, কসমেটিক সহ নানাবিধ পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশ পাশের গ্রামে প্রায় বাড়িতে আত্নীয় স্বজনরা আসতে শুরু করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় চন্ডি পাঠ অন্তে রাত্রিব্যাপি কালী পূজা,পূষ্পাঞ্জলি ও হোমাগ্নী প্রদান করা হয়। আজ রবিবার রাতে মা কাত্যায়নি নাট্য সংস্থার আয়োজনে সামাজিক যাত্রাপালা “মা রেখেছি মাইনে করে,বউ রেখেছি পায়ে ধরে।” সোমবার রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট এবং মঙ্গলবার বিকেলে হরিচাদ ঠাকুরের মহোৎসব।
আয়োজক কমিটির সভাপতি সুকৃতি রঞ্জন সরকার, সম্পাদক পতিরাম হালদার ও কোষাধ্যক্ষ আশুতোষ মন্ডল জানান, এবারের অনুষ্ঠান খুবই জাক জমক ভাবে উদযাপিত হবে। অনুষ্ঠানে আগত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতির পাশাপাশি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সমাগমে এক মিলন মেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সর্বদা কাজ করবে।

ভট্রকনকপুর মাদ্রাসার আজীবন সদস্য সম্মেলন
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী চুলকাটি বাজারে অবস্থিত ভট্রকনকপুর ছিদ্দিকীয়া আমিনিয়া মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসার মুহাতামমি মাওলানা আলী আহম্মদ এর সভাপতিত্বে মাদ্রাসার উদ্দ্যোগে শনিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ২ টার সময় মাদ্রাসা মযদানে আজীবন সদস্য সম্মেলন-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার স্বনামধন্য দ্বীনি এলেম শিক্ষা করার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫’ শত ছাত্রদের ও মাদ্রাসার উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্যে প্রতি বছর এই আজীবন সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দাতা সদস্যগণ দুপুরের আগে থেকেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে উপস্থিত হতে থাকে। জোহরের নামাজের আগে দাতা সদস্যদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ, একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় সহ আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে কর্যক্রম শুয় হয়।
শেখ মিরানুজ্জামান মিরান এর সঞ্চালনায় উক্ত সদস্য সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি’র কেন্দ্রয়ি গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবীদ শামীমুর রহমান শামীম, বাগেরহাট জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও প্রধান সমন¦য়ক এম এ সালাম, জেলা যুগ্ম আহ্ববায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসের আলাপ, জেলা বিএনপি সদস্য বারিষ্টার জাকির হোসেন, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোজাউদ্দিন মোল্লা সুজন, সদর থানা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমেদ মালেক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার শূরা কর্ম পরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম রাহাদ, বিএনপি সেতা সাহেদ আলী রবি, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলামসহ চুলকাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকেন্দার মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ঢালীসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ, খানপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো: হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মো: বাবুল ফকিরসহ বিএনপি’র সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই সনামধন্য আলেমগণ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন উপস্থিত সদস্যগণের উদ্দেশ্যে। জোহরের নামাজের পর দোয়া পরিচালোনা করেন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আলী আহম্মদ। দোয়া শেষে সকলের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। উৎসব মুখর পরিবেশে ধর্মপ্রান মানুষের উপচে পড়া ভিগ লক্ষ্য করা যায়।

কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১৪ মহিষ আটক
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবির সদস্যরা ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে নিয়ে আসা ১৪টি মহিষ আটক করেছে। মহিষগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১২ লাখ টাকার কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ৪৭ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ডিগ্রিরচর সীমান্ত এলাকা থেকে ৯টি ভারতীয় মহিষ আটক করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একই এলাকা থেকে আরও পাঁচটি মহিষ আটক করা হয়। এ ছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আতারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪০ গ্রাম ভারতীয় কোকেন উদ্ধার করা হয়। এ মাদকের বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা।
৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় মহিষ ও কোকেন উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহে বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে আহত ৮
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই জনকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতলে রেফার্ড করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের বেজপাড়া তেলপাম্প এলাকায় দুর্ঘটনাটি হয়।
আহতরা হলেন- যশোরের নওয়াপাড়া এলাকার আহম্মদ আলীর ছেলে সবুজ হোসেন (৩০), খুলনার ফুলতলা এলাকার হাসিম শেখের ছেলে কিবরিয়া হোসেন (৫০), ঝিনাইদহের খাজুরা এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে শাহাবুদ্দিন (২৮), আরাপপুর এলাকার শফিউদ্দিনের ছেলে সবুজ হোসেন (৩৮), মহেশপুর উপজেলার বড়বাড়ি এলাকার আনিচুর রহমানের স্ত্রী লিপি খাতুন (৩০), কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার তুষার দত্তের স্ত্রী কৃষ্ণা দত্ত (৩৭), শিবনগর এলাকার আব্দুল করিম গাজীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫২) ও চৌগাছা উপজেলার মাড়ুয়া এলাকার আবু কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫)। এদের মধ্যে সবুজ হোসেন ও শাহাবুদ্দিনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদের যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী রুপসা পরিবহন নামে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঝিনাইদহগামী কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটির যাত্রী ও কাভার্ডভ্যানের চালকসহ কয়েকজন আহত হন। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশির কুমার সানা বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আট জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে সবুজ ও শাহাবুদ্দিন নামে দুইজনকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।”

নড়াইলের বাঁশগ্রামে লাঠিখেলা উৎসবে মানুষের ঢল
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউপি’র বি-গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা উৎসব উপভোগ করলো হাজারো গ্রামবাসী। লাঠিখেলা দেখতে ঢল নেমেছিল মানুষের। এ উপলক্ষে উৎসবস্থলে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে এই বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ লাঠিখেলা ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “লাঠি খেলা, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলার মধ্যে অন্যতম। আত্মরক্ষা ও শারীরিক ভারসাম্য রক্ষায় লাঠি খেলার গুরুত্ব রয়েছে। অন্যান্য খেলার মতোই লাঠি খেলাতে রয়েছে আনন্দ। একত্রে সামনের বিপদকে মোকাবিলা করার দীক্ষাও রয়েছে এই খেলায়। একদিকে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত, আবার পাল্টা আঘাত। এ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়াল।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত জেলা কালচারাল অফিসার শ্রাবনী বিশ্বাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন লাঠিখেলা দলের সদস্যরা চমৎকার উৎসবমুখর পরিবেশে বাদ্যের তালে তালে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে লাঠি খেলার নানান দৃষ্টিনন্দন কসরত ও কলাকৌশল প্রদর্শন করেন। সেই সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এদিন সমাগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য হরেক রকম খাবার, তৈজসপত্র ও পণ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন।

কুষ্টিয়ায় বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (আইপিএম) কম খরচে বেশি উৎপাদন হওয়ায় সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার, উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন এই চাষাবাদ পদ্ধতিতে সাশ্রয়ী খরচে উৎপাদন বেশি হয় বলে জানান কৃষকেরা।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ১০০ একর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কারিগরী সহায়তা ও পরামর্শে টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, পটোল, লালশাকসহ প্রায় ১৫ ধরনের বিষমুক্ত সবজি চাষ করা হচ্ছে।
সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, তিনি কীটনাশক ছাড়াই সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে (আইপিএম) ৪৬ শতক জমিতে বিষমুক্ত টমেটো চাষ করছেন। এ পদ্বতিতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। বাজারে বিষমুক্ত সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারা লাভবান হচ্ছেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘টমেটো চাষ করে এত লাভ হবে, কখনো ভাবিনি। সামনের মৌসুমে আরও বেশি জমিতে টমেটো চাষ করবো। এ টমেটো বিষমুক্ত। টমেটোর জমিতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার জন্য টমেটো গাছে সবচেয়ে বেশি বিষ প্রয়োগ করতে হয়। কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার করায় সবজি চাষে বিষ প্রয়োগ করতে হয়নি। এর আগে প্রতি সপ্তাহে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার বিষ প্রয়োগ করতে হতো।’
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪৬ শতক জমির টমেটো থেকে খরচ বাদে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
একই এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘২৫ শতক জমিতে পটোলের চাষ করছি। আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহারে আগের চেয়ে খরচ কমেছে। ফলে লাভ বেশি হচ্ছে।’
সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে বিভিন্ন সবজি চাষ হচ্ছে। এখানে সম্পূর্ণ আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করেই প্রায় ১৫ ধরনের সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। নিরাপদ উপায়ে এসব সবজি চাষের জন্য কৃষকদের মোটিভেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষক সমাবেশের মাধ্যমে আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে এবং জনগণকেও সচেতন করা হচ্ছে।’
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘সবজি ক্ষেতে পোকা দমনে যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ কারণে কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব সবজি চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষি বিভাগের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। প্রথম অবস্থায় কৃষকদের এ চাষ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী করতে বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু উৎপাদনে সাফল্য দেখে উপজেলার কৃষকেরা দিন দিন এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।’

বাগেরহাটে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ডলি বেগম (৩৫) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা র্যাব-৬ এর একটি দল।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে যশোর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। শনিবার অভিযুক্তকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. শরিফুল ইসলাম সোহাগ রূপসার নৈহাটী গ্রামের মৃত গোলাম আলীর ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আশিক রেজা জানান, ২০ নভেম্বর বিকেলে ডলি বেগমের স্বামী নিহতের মা ও নিকট আত্মীয়দের ফোন করে জানান- ডলি বেগম ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে। এমন খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা লখপুরে ভাড়া বাড়িতে এসে দেখেন ডলি বেগম মৃত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে নিহতের স্বামীকে না পেয়ে তাকে ফোন করলে জানান তিনি যশোরে আছেন।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২১ নভেম্বর সকালে নিহতের মা মা নার্গিস বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে নিহতের মা থানায় একটি মামলা করেন।
সেই মামলার একমাত্র আসামি নিহতের স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

যশোর-ঢাকা রেলপথে চারটি ট্রেন চালুর দাবি, রেলপথ অবরোধের ঘোষণা
যশোর অফিস
যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে পদ্মা সেতু রেলপথ হয়ে চারটিসহ ঢাকায় যাতায়াতের ট্রেন দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ হয়েছে। ছয় দফা দাবিতে আগামী ৩ ডিসেম্বর রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) যশোর জংশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কমিটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, নাজির আহমেদ শেফার্ড প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যশোর-ঢাকা পদ্মা সেতু লিংক প্রজেক্ট শুরু হলে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। কিন্তু প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় যত এগিয়ে আসছে, আমাদের স্বপ্ন তত দূরে সরে যাচ্ছে। এই প্রকল্প শুরুর আগে ঢাকার সাথে যোগাযোগের জন্য যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর রুটে ৩টি ট্রেন ছিল।
যেগুলো যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করত। বিগত সরকারের আমলে ওই রুট থেকে ২টি ট্রেন রাজবাড়ী-ভাঙ্গা পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করছে। গত মে/জুন মাসে জানা গেছে, যশোর-ঢাকা পদ্মা সেতু লিংক প্রজেক্ট শুরু হলে খুলনার ট্রেনগুলো যশোর জংশনে আসবে না।
সিঙ্গিয়া স্টেশনের পর ট্রেনগুলো গতিপথ পরিবর্তন করে ঘুণি, পদ্মবিলা হয়ে নড়াইল পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়া-আসা করবে।
যশোর জংশন দিয়ে মাত্র একটি ট্রেন (বেনাপোল এক্সপ্রেস) যাতায়াত করবে। মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুরবাসী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য একটি ট্রেনও পাবে না। যশোরবাসীকে বাঘারপাড়া উপজেলার রাধানগরে অবস্থিত পদ্মবিলা স্টেশনে গিয়ে ঢাকার ট্রেন ধরতে হবে।
পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের সুবিধা পেতে যশোর জংশন থেকে যশোর-ঢাকা লিংক প্রজেক্টের উদ্বোধনী দিন থেকে বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দুটি ট্রেন চালু ও দর্শনা-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দুটি ট্রেন চালু করার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংগ্রাম কমিটির অন্য দাবিগুলো হলো- ঢাকায় অফিস করার উপযোগী সময়সূচি এবং আন্ত নগর ট্রেনে সুলভ বগি যুক্ত, ট্রেনের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ, ট্রেনের টিকিটপ্রাপ্তির সহজ পদ্ধতি চালু করা, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা এবং দর্শনা-খুলনা রেলপথকে দ্রুত ডবল করা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে মুহূর্তেই শেষ হচ্ছে ভারতগামী যাত্রীদের আনুষ্ঠানিকতা
বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের পাসপোর্ট চেকিং ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটেই শেষ হচ্ছে। ভারতগামী বা দেশে ফিরে আসা যাত্রীরা এখন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে পারাপার হচ্ছেন। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এমনটি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে পাসপোর্টযাত্রীরা ইমিগ্রেশনে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ডেস্কে থাকা অবস্থায় যাত্রীদের পাসপোর্ট নিয়ে বিনা কারণে সময়ক্ষেপণ করতেন। কিন্তু মাস দুয়েক ধরে এই অবস্থা থেকে যাত্রীরা পরিত্রাণ পেয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের প্রতি পুলিশ সদস্যরা সদয় আচরণ করছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুই দেশের সরাসরি পরিবহন যাত্রীদের জন্য আলাদা ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ই-পাসপোর্ট যাত্রীদের জন্য ই-গেইটে সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন টার্মিনালে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা ছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের জন্য সারা রাত ইমিগ্রেশন খোলা রাখা হচ্ছে এবং মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা দ্রুত সময়ে ইমিগ্রেশন পার হচ্ছেন।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমগ্রেশন দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার পাসপোর্টযাত্রী গমন করেন। বেনাপোলের ওপাশে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে যাত্রীদের ১০-১৫ মিনিট লাগে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের এ পাশে খুবই কম সময়ে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।
গতকাল ভারত থেকে দেশে আসা পাসপোর্ট যাত্রী আব্দুল জব্বার বলেন, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে ১০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশনে সময় লেগেছে মাত্র দুই মিনিট। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে।
ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী নিতাই চৌধুরী বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের কার্যকলাপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে একশ্রেণির দালাল দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। সিরিয়াল ছাড়া তাদের পাসপোর্টের কাজ তাড়াতাড়ি করে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল চক্রটি। কিন্তু সম্প্রতি কড়াকড়ি করায় এসব দালালের দৌরাত্ম্য একেবারেই নেই বললে চলে।
চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঞা বলেন, বর্তমানে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। ইমিগ্রেশনে সেবার মান বাড়াতে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রীরা এখন হয়রানি ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে নিজেরাই তাদের কাজ সম্পন্ন করছে।

বাগেরহাটে বিএনপির সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ নভেম্বার) বিকালে ডেমা ইউনিয়ন কাশেমপুর বাজার মাঠে এ সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডেমা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক গাজী আবু বক্কর এর সভাপতিত্বে সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক শমসের আলী মোহন, খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহেদ আলী রবি, সৈয়দ নাসির উদ্দিন মালেক, হাদিউজ্জামান হিরো, বিএনপি নেতা সাবেক শ্রমিক দলের সভাপতি সরদার লিয়াকত আলি, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি শাহীদা আক্তার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শান্ত, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী সাদ্দাম দ্বীপ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ আফজাল হোসেন, শহিদুল নকিব, তরফদার নীলুর রহমান, সোহেল তরফদার, শাওন শেখসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

খুমেকে পরিচালক না থাকায় সেবায় গতি, প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা রোগী ভোগান্তি নিরসনে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। আগে ৪ মাসের অধিক সময় নিউরোসার্জারি ও ইউরোলোজি বিভাগে অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো রোগীদের। বর্তমানে এ সময় এক থেকে দেড় মাসে নেমে এসেছে। পূর্বে বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স ও ইজিবাইকে হাসপাতাল দখল হয়ে থাকলেও সে চিত্র পাল্টে গেছে অনেকটাই। পরিবর্তন এসেছে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ রোগীর সেবায়ও। যার ইতিবাচক সাড়াও পড়ছে রোগীদের মধ্যে। তবে নিয়মিত পরিচালক না থাকায় বার্ষিক ক্রয় প্রক্রিয়াসহ অর্থনৈতিক অনেক কার্যক্রম থমকে আছে। নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহসীন আলী ফরাজী ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে সেবায় গতি ফিরলেও অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোহসীন আলী ফরাজীকে নিয়মিত পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হলে অন্য সব জটিলতা কাটিয়ে সম্পূর্ণ রোগীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১ মাস আগেও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক, উপপরিচালকসহ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কেউ ছিল না। তৎকালীন পরিচালক স্বেচ্ছায় অবসরে চলে যাওয়ার আগে দায়িত্ব দিয়ে যান নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহসীন আলী ফরাজীকে। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নিজ বিভাগের পাশাপাশি হাসপাতালের আমূল পরিবর্তন করেন তিনি। বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হাসপাতাল দখলমুক্ত করা, অপারেশনের টেবিল বাড়িয়ে রোগী ভোগান্তি কমানো, বহির্বিভাগে দালাল নিয়ন্ত্রণসহ অনেক কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে হাসপাতালে। এর ভিতরে হাসপাতালে উপপরিচালক ও একজন নতুন আরএমও যোগদান করলেও কোনো নিয়মিত পরিচালকের পদায়ন হয়নি। ফলে আটকে আছে বার্ষিক ক্রয় প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে বর্তমানে এমএসআর, খাবার, লিলেনসহ বিভিন্ন টেন্ডারের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে, যে কারণে হাসপাতাল থেকে রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সাপ্লাই পাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ক্রয় প্রক্রিয়া বা টেন্ডার সম্পন্ন করার জন্য নিয়মিত পরিচালক প্রয়োজন হয় বা মন্ত্রণালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব দিলেও তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
সার্জারি ৯-১০ ওয়ার্ডে ভর্তি আকলিমা খাতুন বলেন, হাসপাতালে একটি স্যালাইন, সিরিঞ্জ, এমন কি ক্যানোলাও ফ্রিতে দেয় না। এখানে ফ্লোরে থাকাটাই ফ্রি। কোনো ওষুধ ফ্রি দেয় না। কিছুই দেয় না। সব বাইরে থেকে কিনতে বলে।
মেডিসিন ৬ ওয়ার্ডে ভর্তি লাবনী আক্তার বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি আছি। যে কয়বার পরীক্ষা করাতে গিয়েছি সে কয়বার টাকা দিতে হয়েছে। স্যালাইন, সিরিঞ্জ, ক্যানোলা সবই কিনতে হয়েছে। কিছুই দিচ্ছে না। বলে সাপ্লাই নাই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আমি হাসপাতালে একা ছিলাম। অনেক কিছুই একা সহ্য করেছি। মোহসীন স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর ম্যাজিকের মতো অনেক কিছু পরিবর্তন করেছেন। মানুষ আগের থেকে সেবা বেশি পাচ্ছে। মোহসীন স্যারকে মন্ত্রণালয় থেকে রেগুলার অথবা ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হলে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো স্যার দেখভাল করলে হাসপাতালের সেবার মানের আরও দ্রুত উন্নতি হবে।
ডা. মোহসীন আলী ফরাজি বলেন, সাবেক পরিচালক স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সময় আমাকে না বলে দায়িত্ব দিয়ে চলে গেছেন। তখন কেউ ছিল না। আমি এই লাইনের মানুষ না। আমার বিভাগ দেখে বাকি সময় আমি এখানে দিচ্ছি। আগে শিক্ষক লাউঞ্জে সময় দিতাম এখন পুরো সময় হাসপাতালেই মানুষের সেবা নিশ্চিতে বসে থাকি। রোগীদের দায়বদ্ধতা থেকে বসে থাকতে হয়। হাসপাতালে এখন নিয়মিত পরিচালক না দিলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না। আমাকে দায়িত্ব দিতে হবে এমন না, যে কোনো যোগ্য একজনকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

সেচ প্রকল্পের ১৯২ কোটি টাকা হরিলুট
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসি (সেচ) বিভাগের অধীন ‘মুজিব নগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা বেশিভাগই তছরুপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে টেন্ডার সিন্ডিকেটসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত টাকা কাগজে বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন মেহেরপুর জেলার পৌরএলাকার বাসিন্দা শাখাওয়াত আরেফীন। তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তদন্তে সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে আত্মসাৎকৃত রাষ্ট্রীয় টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
চার বছরে প্রকল্পটির খাতা-কলমে অগ্রগতি ৭৫ ভাগ হলেও মাঠ পর্যায়ে তার অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়ে এরইমধ্যে ১৯২ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রকল্পটির বিরুদ্দে সরকারি টাকা নয়-ছয় এবং মাঠপর্যায়ে কাজের অস্তিত্ব না থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধানের জন্য একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালকের যোগসাজশে নিজেদের পছন্দমতো ঠিকাদার দিয়ে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার পলাতক তিন সংসদ সদস্যের কারসাজিতে রাষ্ট্রের এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অতি উর্বর মাটির জেলা কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলকে বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়। এই অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে নিষ্কাশন সুবিধাসহ সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে বিএডিসি। এতে সুবিধা সৃষ্ট জমিতে প্রতি বছর ৫১ হাজার মেট্রিক টন ধান, গম ও ভুট্টাসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে গৃহীত হয় প্রকল্পটি। ২৪৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রাক্কলন ব্যয় ও ৫ বছর বাস্তবায়নকাল ধরে অনুমোদন লাভ করে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’। প্রকল্প বাস্তবায়নের খাতগুলির মধ্যে রয়েছে- ১৩০টি সৌরচালিত ডাগওয়েল নির্মাণ যার প্রতিটি নির্মাণ ব্যয় ১২ লাখ টাকা, ১৮০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন যার প্রতি কিলোমিটার খাল খনন ব্যয়- ৯ লাখ টাকা, ২৫৫টি পাম্প হাউজ নির্মাণ যার প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ১৫ লাখ টাকা, ৯৫টি ২ কিউসেক ফোর্সমোড পাম্পসেট স্থাপন যার প্রতিটির ব্যয় ১৫ লাখ টাকা, ৫ কিউসেক সোলার পাম্প ২৫টি যার প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ১৫ লাখ টাকা, ১৫টি বড় আকারের সেচ অবকাঠামো যার প্রতিটি নির্মাণ ব্যয় ৪০ লাখ টাকা, ১২০টি মাঝারি আকারের সেচ অবকাঠামো যার প্রতিটি নির্মাণ ব্যয় ২৫ লাখ টাকা, ৩০০টি ছোট আকারের সেচ অবকাঠামো যার প্রতিটি নির্মাণ ব্যয় সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং ২১৫টি বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ যার প্রতিটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এভাবে মোট ১১টি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পাংশ বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে টেন্ডার সিন্ডিকেটসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত টাকা কাগজে বিল ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি- অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৪-২৫ চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের বাকি অংশের বাস্তবায়নে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ের স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবিতে প্রকল্প কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
কুষ্টিয়া শহরের ঠিকাদার হাজি বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিএডিসির লাইসেন্সধারী ঠিকাদার, দরপত্র আহ্বান করলে আমরা সেখানে অংশগ্রহণের যোগ্যতা রাখি। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা হলো এই প্রকল্পাধীন এলাকা। সে কারণে এই তিন জেলার ঠিকাদাররাই এখানে টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন, কিন্তু বিগত ১৫ বছর ধরে এই তিন জেলার প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের মদদে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে তাদের পছন্দের হাতে গোনা কয়েকজন ঠিকাদার ছাড়া আর কোনো ঠিকাদারই টেন্ডারে অংশ নিতে পারেনি। আমাদের কাছে অসংখ্য তথ্যপ্রমাণ আছে, তারা ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর থেকে কাজ না করেই বিল ভাউচার করে টাকা তুলে নিয়েছে প্রকল্প পরিচালকের যোগসাজশে।
একইভাবে দুদকে প্রেরিত একাধিক লিখিত দরখাস্তে এই প্রকল্পের টাকা কীভাবে আত্মসাৎ ও হরিলুট করা হয়েছে সেগুলি হলো- প্রকল্প পরিচালকের যোগসাজশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একই কাজ দুইবার বা তিনবার দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার করে কাগজে কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে ওই খাতের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মনোনীত ঠিকাদারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভুয়া কোটেশনে কাজ দেখিয়ে তার বিল ভাউচার করে টাকা আত্মসাৎ করেছে।
কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলে স্থাপনকৃত ২ শতাধিক সেচ প্ল্যান্টের জন্য চাষিদের কাছ থেকে প্রতিটি প্ল্যান্ট বাবদ ৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প পরিচালক প্রতিটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য মনোনীত ঠিকাদারের কাছ থেকে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫ ভাগ কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচারের টাকা উত্তোলনে প্রকল্প পরিচালক নেন ৪০ ভাগ এবং ঠিকাদার নেন ৬০ ভাগ। প্রকল্পের ডিপিপির ড্রয়িং ডিজাইন অনুযায়ী নির্ধারিত মাপের ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এছাড়া কাজ শেষে ঠিকাদার বিল নেয়ার পূর্বে প্রকল্প পরিচালক (২ শতাংশ), সহকারী প্রকৌশলী (১ শতাংশ), সাইট অফিসার (২ শতাংশ) ও হিসাব সহকারী (১ শতাংশ) হারে কমিশন প্রদান বাধ্যতামূলক। হেয়ালি ও খামখেয়ালিপনা কাজের কারণে কিছু কিছু স্থানে পাম্প সচল থাকলেও সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা। যার কারণে এটা এখন কৃষকদের প্রায় গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে মুজিব নগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আলী আশরাফ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে পূর্ববর্তী প্রকল্প পরিচালকের সময় হয়ে থাকতে পারে। সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আপনাদের কাছে কোনো অভিযোগ থাকলে তা উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেন, আমি আমার কায়দায় পারলে বাইরাইবো, না পারলে গেলাম গা।’