Home আঞ্চলিক ১৭৬৫ চিংড়ি ঘের তলিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে

১৭৬৫ চিংড়ি ঘের তলিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে

19

মোংলায় টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানি বাড়ায়

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও নদীতে আকস্মিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়া তা বেড়ী বাঁধ এবং রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে তলিয়ে গেছে মোংলার বিভিন্ন নিচু এলাকার কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের। এতে ভেসে গেছে ঘেরের বাগদা চিংড়িসহ অন্যান্য সাদা মাছও। বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে গত দুই তিনদিনে এখানকার প্রায় ১ হাজার ৭৬৫টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন চাষীরা। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ,জেড,এম তৌহিদুর রহমান। ঘের মালিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ঘেরগুলোতেই কম বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। বিশেষ করে মোংলার পশুর ও মোংলা নদীর পাশ ঘেষে যে ঘের রয়েছে সেগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে নদীর পাশের ঘের আর বৃষ্টির পানিতে ভিতরের ঘের প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলার চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের বেশির ভাগ ঘেরই তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। এরপর ক্ষতি হয়েছে সোনাইলতলা, বুড়িরডাঙ্গা, মিঠাখালী ও সুন্দরবন ইউনিয়নে। চাঁদপাই, চিলা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন নদীর পাড়ে হওয়াতে এ সকল ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।

চাঁদপাই ইউনিয়নের কাইনমারী গ্রামের ঘের মালিক নিখিল হালদার বলেন, বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানির চাপে ঘেরের বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে এবং তলিয়ে মাছ বের হয়ে যাওয়ার এখন খালি ঘেরই পাহারা দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি এখন ভেঙ্গে যাওয়া ঘেরের বেড়ী বাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন।

কাইনমারী গ্রামের চিংড়ি চাষী বিনয় বিশ্বাস বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঘেরে পানি বাড়তে থাকায় যাতে মাছ বের হয়ে না যায় সেজন্য ঘেরের চারপাশে নেট জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ নদীর জোয়ারের পানির চাপে ঘেরের বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে নেটসহ সকল মাছ ভেসে গেছে। আমার দুইটি ঘেরে কোনটিতে একটি মাছও নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা করে একটি মাছও পাইনি। তাই জাল বালতি নিয়ে খালি হাতে বাড়ী ফিরেছি।

একই গ্রামের প্রলয় মন্ডল বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আমার বাড়ীর পাশের ঘের এবং ঘরবাড়ী তলিয়ে গেছে। কিছুদিন আগে আম্পানে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবার বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আমাদের সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখন আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা মজিদ শেখ বলেন, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার পর মাটি দিয়ে ঘেরের বেড়ী উচু করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি, জোয়ারের পানিতে বেড়ী ভেঙ্গে মাছ যা ছিল তা সব বের হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও আটকে রাখতে পারিনি। কিভাবে সামনের দিনগুলো চলবো, ছেলে মেয়েদের কি দিয়ে লেখা পড়া শিখাবো তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন দৈনন্দিন খেটে খাওয়া দিনমজুরেরা।

এদিকে বৃষ্টি ও নদীর জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয়দের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে প্রয়োজনী পর্যাপ্ত সহযোগীতা প্রদাণেরও আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা প্রদাণের জন্য ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আশা করছি আগামী দু’একদিনের মধ্যে বরাদ্দ পেলে ক্ষুদ্র চাষীসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বিশেষ করে খাদ্য (চাল) সহায়তা দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রনয়ণের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই তালিকা হাতে পেলে বরাদ্দের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।