Home Uncategorized ‘বিচার আল্লাহ করবে, এ নিয়ে কিছু বলার নেই’

‘বিচার আল্লাহ করবে, এ নিয়ে কিছু বলার নেই’

24
নিহত শেখ মো. সাকিব রায়হান


স্টাফ রিপোর্টার।।

চাকরি করে ভাগ্য বদলাতে খুলনা থেকে ঢাকায় পাড়ি দিয়েছিলেন খুলনার নবপল্লী এলাকার শেখ মো. সাকিব রায়হান। তবে ভাগ্য পরিবর্তনের আগেই লাশ হয়ে খুলনায় ফিরেছেন এই যুবক। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলা সহিংসতার মধ্যে পড়ে প্রাণ হারান সাকিব। আর ছেলেকে হারিয়ে শোকেমাতাম তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় লোকজন ও সাকিবের পরিবারের সদস্যরা জানান, দরিদ্রতার কারণে বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেননি সাকিব রায়হান। চাকরির সন্ধানে গেল এপ্রিলে রাজধানীতে যান তিনি। ঢাকায় তিনি মোবাইলের সিম বিক্রি ও চলমান অর্থনৈতিক শুমারির মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সংঘর্ষের মধ্যে শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাকিব। দশদিন পেরিয়ে গেলেও ছেলের কথা ভুলতে পারছেন না মা-বাবা।

সাকিবের বাবা শেখ মো. আজিজুর রহমান জানান, ১৯ জুলাই বিকালে ঢাকার সোহরাওয়াদী হাসপাতাল থেকে একজন ফোন করে জানায়, তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পরদিন ভোরে তার মেঝো ছেলে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে এলাকায় ফেরেন। পরে জানাজা শেষে বসুপাড়া কবরস্থানে সাকিবকে দাফন করা হয়। তবে সেদিন ঢাকায় কীভাবে কী ঘটেছিল তার কোনো কিছুই জানেন না সাকিবের পরিবার। আজিজুর রহমান বলেন, ‘বিচার, না কারও কাছে বিচার চাই না। বিচার আল্লাহপাক করবে। এ নিয়ে আমার কোনো কিছু বলার নেই।’

সাকিবের বাবা কথা বলার সময় তার পাশে এসে দাঁড়ান মা নূরুন্নাহার বেগম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু বলার নেই। মরদেহ ফেরত পেয়েছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। কত মা তো তাও পায়নি।’ সাকিবের মেঝো ভাই সাব্বির রায়হান বলেন, যদি এমন হতো যে, ভাইকে ফেরত পেতাম, তাহলে তা-ই চাইতাম। অন্য কিছুই চাই না।

নবপল্লী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটা গলিতে জীর্ণশীর্ণ ঘরে থাকেন সাকিবের পরিবার। কাছেই আন্নী এন্টারপ্রাইজ নামে ছোট একটি মুদি দোকান চালান বাবা আজিজুর রহমান। ঘরবাড়িজুড়ে অভাব-অনটনের ছাপও স্পষ্ট। সাকিবের বড় বোন বিয়ের পর থেকে থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। আর মেঝো ভাই সাব্বির রায়হান, ঢাকায় অনলাইনে ছোটখাটো একটি ব্যবসা করেন।

সাকিবের মা-বাবা বলেন, সাকিবকে অনেকবার খুলনায় ফিরে আসতে বলেছি। তবে ও বলতো, খুলনায় কিছু করার সুযোগ কম। ঢাকায় চাকরি অথবা ব্যবসা করে তোমাদের মুখে হাসি ফোটাবো, এরপর ফিরবো। ১ আগস্ট থেকে নতুন চাকরিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল সাকিবের। তবে ওই সুযোগ পায়নি সাকিব। তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও। স্থানীয়দের দাবি সাকিব ছিলেন নম্রভদ্র একটি ছেলে। কারো সঙ্গে কখনো বিরোধও দেখিনি এলাকার কেউ। পাশাপাশি সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না বলেও জানান তারা।