খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
উদ্বেগ কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে খুলনার সামগ্রিক পরিবেশ। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টা শিথিল ছিল কারফিউ। আগের দিন বৃহস্পতিবার শিথিল ছিল ১৪ ঘণ্টা। কারফিউ শিথিলের সময় খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এতে স্বাভাবিক হচ্ছে নগরীর পরিবেশ। কিন্তু নগরবাসীর প্রধান দুই বিনোদন কেন্দ্র জাতিসংঘ শিশু পার্ক ও হাদিস পার্ক এখনও তালাবদ্ধ। গত কয়েক দিনের ট্রমা কাটিয়ে শিশুরা বাইরে বের হলেও খেলার জায়গা পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে খুলনায় তেমন সহিংসতা হয়নি। তার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর হওয়ায় গত শুক্রবার থেকে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক ও জাতিসংঘ শিশু পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতকাল বিকেল পর্যন্ত পার্ক দুটি বন্ধ ছিল।
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, নগরীতে পার্ক রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে খালিশপুরে একটি আধুনিক শিশু পার্ক এবং ময়ূর নদের তীরে লিনিয়ার পার্ক ইজারা দেওয়া রয়েছে। উচ্চমূল্যের প্রবেশ ফির কারণে সেখানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের যাতায়াত কম।
নগরীর নিরালা, সোনাডাঙ্গা ও গোলকমনি পার্ক রয়েছে শুধু নামেই। সেখানে বিনোদনের কোনো পরিবেশ নেই। নগরীতে শিশুদের বিনোদন উপযোগী একমাত্র উন্মুক্ত পার্ক জাতিসংঘ শিশু পার্ক। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় করে অসংখ্য শিশু-কিশোর। ছুটির দিনে এ সংখ্যা সহস্রাধিক ছাড়িয়ে যায়।
এ ছাড়া বিশাল পুকুর, শহীদ মিনার ও বিভিন্ন ধরনের গাছগাছালি ঘেরা হাদিস পার্কে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যান অনেকে। ছুটির দিনে সেখানে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্রধান পার্ক দুটি তালাবদ্ধ থাকায় ছুটির দিনে বেড়ানোর জায়গা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনার বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকেলে জাতিসংঘ পার্কের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে রিকশা ও ইজিবাইকে করে অভিভাবকরা আসছেন। কিন্তু তালাবদ্ধ গেট থেকে মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছেন তারা।
নগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা সেজুতি খানম বলেন, সারাদিন ঘরে থাকতে থাকতে শিশুরা অস্থির হয়ে ওঠে। ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকায় খুব বিরক্ত করে। তাই পার্কে নিয়ে এসেছি। এখন দেখি পার্ক বন্ধ। বাজার, ঘাট, অফিস– সবকিছু খুললে পার্ক খুলতে সমস্যা কোথায়?
জাতিসংঘ পার্ক ও হাদিস পার্কে প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণ ও শরীরচর্চা করতেন নগরীর অনেক প্রবীণ নাগরিক। তাদেরই একজন শেখপাড়ার বাসিন্দা সোহরাব আলী। তিনি বলেন, ফজরের নামাজ শেষে এলাকার অনেকেই হাদিস পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চায় অংশ নিতেন। পার্ক বন্ধ থাকায় এখন সড়কে হাঁটাহাঁটি করেন। কিন্তু সড়কে শরীরচর্চা খুবই অনিরাপদ।
কেসিসির প্রধান নিরাপত্তা সুপার সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান, পার্ক খোলার নির্দেশনা এখনও পাননি। নির্দেশ পেলেই তারা খুলে দেবেন।










































