স্টাফ রিপোর্টার||
খালিশপুর জুট মিলের গার্ড কমান্ডার নুরুল আমিন বাবু’র কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অপরাধে মিলের প্রকল্প প্রধান মো. মোস্তফা কামাল (৪৭) কে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) খুলনা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেছেন। মোস্তফা কামাল বাগেরহাট জেলার মোরলগঞ্জ থানার জিউধরা গ্রামের মো. ছন্দু মল্লিকের ছেলে। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোস্তফা কামাল আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি এডভোকেট কামরুম ইসলাম জোয়াদ্দার।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াসিন আলি নথীর বরাত দিয়ে জানান, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি নুরুল আমিন বাবু খালিশপুর জুট মিলস লিমিটেডে নিরাপাত্তা প্রহরী পদে যোগদান করেন। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল মিলের প্রকল্প প্রধান মো. মোস্তফা কামাল ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে গার্ড কমান্ডার নিয়োগ দেন। পরে তাকে ওই পদ থেকে সরানোর ভয় দেখিয়ে আরও ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপরও আরও ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে তাকে ওই পদ থেকে সরানোর হুমকি দেন। বিষয়টি তিনি অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্ণীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন। দুদক বিষয়টি তদন্তের জন্য ৫সদস্য বিশিষ্ট একটি ফাঁদ দল গঠণ করেন। ফাঁদ দল অভিযোগকারী নুরুল আমিন বাবু’র কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ইনভেন্টরী করে।
২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর ফাঁদ দল খালিশপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মো. মোস্তফা কামালের অফিসের পাশে অবস্থান নেয়। এসময় নুরুল আমিন বাবু ইনভেন্টরীকৃত ১০ হাজার টাকা নিয়ে মোস্তফা কামালকে প্রদান করে। পরে দুদকের ফাঁদ দল তাকে ইনভেন্টরীকৃত ১০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। এঘটনায় দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া বাদী হয়ে মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ১৬১ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন যার নং-১২। ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান মোস্তফা কামালকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানির পর মঙ্গলবার বিচারক দন্ডবিধি ১৬১ ধারায় আসামি মোস্তফা কামালকে দোষী সাব্যস্থ করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন। মামলায় ১৬জন স্বাক্ষীর সবাই আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। রাস্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)’র আইনজীবী খন্দকার মুজিবর রহমান।









































