ওবায়দুল কবির।।
দাবদাহে পুড়ছে সারাদেশ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে প্রতিদিন। এই অঞ্চলে অতীতে এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন তাপমাত্রার রেকর্ড নেই। তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। বেশি সময় স্বাভাবিক কর্মজীবনে থাকতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষ। রোজগারে সংকট তৈরি হওয়ায় অভাবে পড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। হিটস্ট্রোকে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে দেশের অনেক এলাকায়। প্রখর রোদে যথাসম্ভব ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তীব্র তাপে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের নানা অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলছে লোডশেডিং। প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও চলছে দাবদাহ। ওখানের তাপমাত্রা আরও বেশি। তীব্র তাপে সব যেন জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। চারদিকে এক ধরনের হাহাকার। পরিস্থিতি উত্তরণে করার নেই কিছুই। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সবাইকে। প্রকৃতি কেন বিরূপ হলো এই প্রশ্ন এখন সবখানে।
এখন থেকে অর্ধ শতক আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ষড়ঋতুর এই ভূখন্ডের আবহাওয়া ছিল বিচিত্র এবং সুসহনীয়। বসন্তের শেষ সময় অর্থাৎ চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে গরম অনুভূত হতো। মাঝে মধ্যে বৈশাখী ঝড়ে শীতল হয়ে যেত ধরণি। আষাঢ় শ্রাবণ দুই মাস বর্ষা ঋতুতে নিয়মিত বৃষ্টির কারণে তাপপ্রবাহ ছিল না। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে শরৎ ঋতুতে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হলেও অসহনীয় ছিল না কখনো। কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে হেমন্ত ঋতু ছিল নাতিশীতোষ্ণ এবং আরামদায়ক। পৌষ-মাঘে তীব্র শীতে কিছুটা কষ্ট হতো সাধারণ মানুষের। ঋতুর রাজা ছিল ফাল্গুন চৈত্র দুই মাসের বসন্ত। ঋতু বৈচিত্রের কারণে এই অঞ্চলের প্রাণিগর্ভ এবং ভূমি ছিল উর্বর। এই অঞ্চলে যেমন বারোমাসি ফসলের জন্য ছিল পৃথিবী বিখ্যাত, তেমনটি জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশে^র যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় এই অঞ্চলে তাই জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। দিন দিন বদলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যও কমে এসেছে। অনেকে মনে করেন এখন আর ছয়টি নয়, চার ঋতুতে আবর্তিত হচ্ছে আমাদের বঙ্গভূমি।
ছোটবেলা কেটেছে গ্রামে। সাধারণ গৃহস্থ পরিবারে জন্ম। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ছিলাম গ্রামে। তখন গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। গরম ঠেকাতে ভরসা ছিল হাতে তৈরি সুতা-কাপড়ে তৈরি হাতপাখা অথবা তালপাতায় তৈরি পাখা। তালপাতায় তৈরি নানা ধরনের সহজলভ্য পাখা ছিল গ্রীষ্মের গরমে মানুষের অবলম্বন। বাংলা সাহিত্যে তাই এইসব পাখার অস্তিত্ব অনেকটা জুড়ে। চৈত্রের শেষ দিকে বৃদ্ধি পেত সূর্যের প্রখরতা, বৃদ্ধি পেত তাপমাত্রা। তাপপ্রবাহ চলত জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। গ্রামে এই গরম খুব একটা দুঃসহ ছিল না। গরম থাকলেও বয়ে যেত দক্ষিণা বাতাস। প্রখর রোদে গাছের ছায়ায় বসলে পাওয়া যেত শীতল বাতাসের প্রশান্তি। রোদে খেত-খামারে কর্মরত মানুষ বিশ্রামের জন্য গাছের ছায়ায় বসে হুক্কা টানতেন। সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে শীতল হয়ে যেত ধরণি। জানালার ধারে শুয়ে মৃদু-মন্দ বাতাসে ঘুমানোর সেই স্মৃতি আজও মনে পড়ে। গরম থাকলেও গ্রীষ্মকাল ছিল খুবই কাক্সিক্ষত ঋতু। জ্যৈষ্ঠকে বলা হয় মধুমাস। এই সময় গাছে গাছে দেশী ফলের সমাহার। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাকতে থাকে আম, কাঁঠাল, লিচু, জামসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী সকল ফল। মধুমাসের মিষ্টি ফল ভুলিয়ে দিত গরমের কষ্ট। এখনো মধুমাসে ফল পাকে। গরমের তীব্রতায় ফলের মিষ্টি স্বাদ যেন ফিকে হয়ে যায়।
বিজ্ঞানের ভাষায় এল নিনোর প্রভাবে এই অঞ্চলের দাবদাহ বেড়েছে, কমেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। বৈশ্বিক জলবায়ুর একটি অবস্থা হলো এল নিনো, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর পৃষ্ঠের পানিকে উষ্ণ করে। এতে বাতাসের আয়নোস্ফিয়ার এবং আশপাশের জলবায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে। এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অনেক আগে। শিল্প বিপ্লবের পর যান্ত্রিকতায় সৃষ্ট বায়ু দূষণ, বনজঙ্গল ধ্বংস করে নগরায়ণ এবং প্লাস্টিকসহ নানা অবিনশ^র দ্রব্যে পরিবেশ দূষণে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে জলবায়ু। ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তনে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের সব জায়গাতেই বৃদ্ধি পাচ্ছে গড় তাপমাত্রা। তাপমাত্রা বাড়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনে, প্রকৃতিতে, জীব ও উদ্ভিদ জগতে। গোটা বিশে^র বিজ্ঞানীরা এই ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ে চিন্তিত। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’র গডার্ড ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় জানা গেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রতিবছর তার পূর্ববর্তী বছরের রেকর্ড ভেঙে বেড়েই চলেছে। ১৮৮০ সালে তাপমাত্রা সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। এরপর থেকে দেখা গেছে তাপমাত্রা প্রতিবছরই কিছু না কিছু বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০০ সালের পর থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। তাপমাত্র বৃদ্ধির কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বিগত তিন দশকে সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ ইঞ্চির ওপরে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের মতো শীতল অঞ্চলের বরফও দ্রুত গলে যাচ্ছে। এইসব পরিবর্তন এক সময় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
এগুলো বিজ্ঞানের কথা। পরিবেশ বিজ্ঞানীর এই অবস্থা থেকে মুক্তির পথ আবিষ্কারে দিন রাত চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন। দেশে দেশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনেক। সম্মেলনগুলোতে নানা সুপারিশ আসছে। স্বাক্ষরিত হচ্ছে অনেক চুক্তি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়ারোধে অনেক বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। এগুলো মেনে চলার অঙ্গীকারও করেছেন সকল দেশের প্রতিনিধি। এর মধ্যে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও মিথেন গ্যাস নিগর্মন হ্রাস করা, ডিজেল-পেট্রোলের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, বায়ু থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস দূরীকরণ এবং দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে অধিক মাত্রায় কার্বন-ডাই গ্যাস নির্গত হয়। বায়ুমণ্ডলে নিঃসরিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সূর্যের স্বাভাবিক তাপ আটকে রেখে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। এ ধরনের জালানি উৎপাদনকারী দেশগুলো কপ ২৬ সম্মেলনে উত্থাপিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেনি। মিথেন গ্যাস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। তেল নিষ্কাশনের সময় প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো হয়, যা থেকে ব্যাপক মাত্রায় মিথেন গ্যাস নির্গত হয়। স্তূপীকৃত বর্জ্য থেকেও প্রচুর মিথেন গ্যাস নির্গত হয়। মিথেন গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করা গেলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন বহুলাংশে রোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর বিকল্প পরিবেশবান্ধব কোনো উপায় বের করতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য বিনষ্টকরণের জন্যও উদ্ভাবন করতে হবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সভ্যতার উন্নতির ধারায় প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ ও তাপের ব্যবহার বাড়বে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে একদিকে বিদ্যুৎ বা তাপের চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব হ্রাস পাবে। বায়ু ও সৌরশক্তিও জ্বালানি চাহিদা মিটতে পারে। বিশ্ব নেতাদের প্রস্তাবিত ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরো বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য তথা বায়ু ও সৌরশক্তির ব্যবহারের বিকল্প নেই।
সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সমৃদ্ধ হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত সড়ক, নৌ ও আকাশ পথে নতুন নতুন বাহনের ব্যবহার বাড়ছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল, অকটনের মতো জ্বালানি। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে অবশ্যই যানবাহনে ডিজেল ও পেট্রোলের ব্যবহার হ্রাস করে ইলেক্ট্রিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ব্যবহার করা যেতে পারে হাইড্রোজেন জ্বালানি। বিজ্ঞানীরা বিমানের জন্য নতুন, বিশুদ্ধ জ্বালানি উৎপাদনেরও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া রোধে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রতিরোধে বৃক্ষ আচ্ছাদনের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কোনো পদ্ধতি হতে পারে না। প্রয়োজনে গাছ কাটা হলেও রোপণ করতে হবে একটির পরিবর্তে তিনটি গাছ। বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড দূর করে অক্সিজেনের প্রবাহ তৈরি করে গাছ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত বায়ুমণ্ডলে জমা হচ্ছে গ্রিনহাউস গ্যাস। সূর্য থেকে আগত তাপ পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হওয়ার পর মহাশূন্যে বিলীন হওয়ার পথে এই গ্যাস বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে, উত্তপ্ত হতে থাকে পৃথিবী। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস দূর করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এখন পর্যন্ত এই প্রযুক্তি বেশ জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলও প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় হয়নি। দরিদ্র দেশগুলোকে গ্রিন এনার্জির দিকে নিতে হলে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।
জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে গৃহীত কিছু সুপারিশ কার্যকর হচ্ছে, অনেক আবার আটকে যাচ্ছে নানা জটিলতায়। চুক্তি স্বাক্ষরকারী অনেক দেশ কার্যক্ষেত্রে চুক্তি বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। ফলে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির রোধ হচ্ছে না কিছুতেই। উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রকৃতির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করে পোড়াচ্ছে অতিরিক্ত জ্বালানি। পরিবেশগত প্রতিক্রিয়ার কথা না ভেবে নতুন নতুন কল-কারখানা তৈরি হচ্ছে। কল-কারখানার দূষিত ধোঁয়া বায়ুমনডলের সঙ্গে মিশে প্রকৃতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওজোনস্তর। সূর্যের ক্ষতিকারক অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাব এসে পড়ছে পৃথিবীতে। যান্ত্রিকীকরণের মাত্রা এতটাই প্রবল যে, পুরো পৃথিবী হয়ে উঠছে অগ্নিগর্ভ। নগরায়ণ ও শিল্পায়নে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশে^ অতিমাত্রায় কেটে ফেলা হচ্ছে সবুজ গাছপালা। চলছে নদী-নালা ভরাট কিংবা পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতা। প্রকৃতি তাই প্রতিশোধ নিচ্ছে সুযোগ বুঝে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশি^ক তাপমাত্রা এভাবে বাড়তে থাকলে এর প্রভাব মোকাবিলা করা মানুষের জন্য এক সময় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাপ বৃদ্ধির ভয়ানক প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হবে চরম দাবদাহ। কমে যাবে উৎপাদন এবং খাদ্য মজুদ। ধ্বংসের মুখে পড়ছে প্রাণিবৈচিত্র্য। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গলতে থাকবে মেরু অঞ্চলের জমাট বরফ। তলিয়ে যাবে অনেক দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চল। অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের কারণে অনেক এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। উষ্ণ পৃথিবীতে মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবের বসবাস কঠিন হয়ে যাবে। বিশিষ্ট আবহাওয়া বিজ্ঞানী অধ্যাপক তৌহিদা রশীদ বলেন, আমরা এল নিনো পর্যায়ে প্রবেশ করছি, তাই দেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও সময় বাড়তে থাকবে। এজন্য আমাদের মানিয়ে নিতে হবে এ ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অপরকে সচেতন করতে হবে। পরিবেশ ও বায়ুমন্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কাজ করতে হবে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে। সুপরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে তৈরি করতে হবে নিরাপদ বেষ্টনী।
শুধু পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক সংকট নয়, চিকিৎকদের মতে অতিরিক্ত গরমে দেখা দেয় অনেক শারীরিক সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে অস্বস্তিবোধ, পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাংসপেশিতে ব্যথা, খাবারে অরুচি, চামড়ায় ক্ষত, কিডনি ও ফুসফুসে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা, হিটস্ট্রোক ইত্যাদি। এই সময় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও শ্রমজীবী মানুষ। ডাক্তারদের পরামর্শ হচ্ছে এই সময় যাথাসম্ভব দিনের বেলায় বাইরে বের না হওয়া, রোদ এড়িয়ে চলা, বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি/ক্যাপ বা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা, হালকা রঙের ঢিলে ঢালা সুতি জামা পরা, প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান, সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ, ভাজাপোড়া ও বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা, একটানা শারীরিক পরিশ্রম না করা, সম্ভব হলে একাধিকবার গোসল করা, ঘরে চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বেশি অসুস্থবোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, জনকণ্ঠ










































