খুলনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর দূর্নীতির চিত্র
সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার।।
খুলনার দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত ব্যাক্তির জমি সাব কবলা দলিলের মালিকানা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিক মারা যান গত ২০১৮ সালে। দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তার নামে একটি সাব কবলা দলিল নিবন্ধন হয় গত ২৭/১২/২২ইং। যার দলিল নম্বর ২৭৭৩/২২। মৃত আব্দুল সাত্তারকে জীবিত দেখিয়ে নিবন্ধন করা এ দলিলে জমির পরিমান ১৬.৩৫ শতাংশ। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা হলেও সাব কবলা দলিলে জমির মূল্য লেখানো হয়েছে মাত্র ১১ লক্ষ টাকা। আলোচিত ঘটনায় আব্দুল সাত্তারের পরিবার অনেক আগে থেকেই খুলনা খালিশপুরে বসবাস করেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দলিল লেখক নূরু ইসলাম মল্লিক জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে আব্দুল সাক্তারের সাবেক বসতবাড়ীটি দলিল করে নেন। মৃত আব্দুল সাত্তারের পরিবার এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট অভিযোগ করলেও তিনি কোনো প্রতিকার করেন নাই মর্মে জানা যায়।
তথ্য অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহল এলাকার আব্দুল সাত্তার মিয়ার বসতবাড়ীর সম্পত্তি জালিয়াত চক্রের হোতা দলিল লেখক নূর ইসলাম কৌশলে তার নিজের নামে ভূয়াঁ পাওয়ার দলিল করে নেন। পাওয়ার দলিলের দাতা আব্দুল সাত্তারের মৃত হওয়ার ঘটনা গোপন রাখেন,মৃত সাত্তারের পক্ষে, মহরী নূরু ইসলাম নিজে দাতা সেজে, তার নিজ কন্যা মনিরা আক্তার ও হোসনে আরার নামে গত ২৭/১২/২২ইং তারিখে সাব কবলা দলিল করে দেন।
অভিযুক্ত ব্যাক্তি দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহল গ্রামের শফিউদ্দিন মল্লিকের ছেলে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক নূরু ইসলাম মল্লিক। এবং জালিয়াতী চক্রের মূল নায়ক দিঘলিয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আজগর আলী। তিনিই এ ভূয়াঁ দলিলটি সম্পাদনা করেছেন। যার লাইসেন্স নং-১৬/৮৬। এ খবর নিশ্চিত করেন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল গনি মিয়া।
অনুসন্ধানে গত বছরেই এমন বেশকয়েকটি দলিলের সন্ধান মিলেছে বলে সূত্রটির দাবী। এসব জমির বাজার মূল্যে প্রায় কোটি টাকা। এসব অপকর্মের সিংহভাগের সঙ্গেই দিঘলিয়া সাবরেজিস্ট্রার এবং অফিসের পেসকার আব্দুল গনি ও শাকিল জড়িত বলে সূত্রটি দাবী করেন। তবে রেজিস্ট্রি অফিসের পেসকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমির প্রকৃত মালিক এবং জালিয়াত চক্রের লোকজনকে ভেরিফাই করার কোনো ব্যব¯’া না থাকায় চক্রটি এ ধরনের জালিয়াতি কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরোও বলেন, দলিলের তথ্য গোপন রেখে দলিল সম্পাদনা করলে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক দায়ী থাকবেন। সাব-রেজিষ্ট্রার কিংবা রেজিষ্ট্রি অফিস দায়ী নয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, উপজেলার চন্দনী মহল মৌজার মোট ১৬.৩৫শতাংশ জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন দলিল লেখক আজগর আলী। এতে ভোটার আইডি, দলিল, ঠিকানা,স্বাক্ষর জালিয়াতীর আশ্রায় নেন দলিল লেখক নূরু ইসলাম মল্লিক। এই নূরু ইসলাম মল্লিক ইতিপূর্বে সরকারী রাজস্ব ফাকীঁর অভিযোগে সাময়ীক বরখাস্ত রয়েছে। এ দলিলের ডকুমেন্টস জালিয়াতীর কাজে সহায়তা করেন দলিল লেখক আজগর আলী। ক্ষতিগ্র¯’রা বলেন, নালিশী এ জমি নিয়ে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভূয়াঁ পাওয়ার দলিলে নকল সই, দলিলের উপরভাগে ভূয়াঁ ছবি, এমনকি ভূয়াঁ আইডি ব্যবহার করে রেজিষ্ট্রি কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। অভিনব জালিয়াতি দেখে সবাই হতবাক। এ ব্যপারে অভিযুক্ত নূরু ইসলাম মল্লিকের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে, তিনি জাল-জালিয়াতির ঘটনা স্বীকার করে বলেন,তিনি পূর্বের এক ঘটনায় বরখাস্ত রয়েছেন, তার লাইসেন্স নম্বর-০৬/৮৬, তিনি আর দলিল লেখকের কাজ করবেন না বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। যার লাইসেন্সের মাধ্যমে দলিল সম্পাদনা হয়েছে,তিনি আজগর মহরী। তার অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, উক্ত দলিলের ব্যাপারে তিনি পুর্বে কিছুই জানতেন না, একজন দলিল লেখক কয়েকদিন লম্ফঝম্প করছিলেন,বর্তমান সবঠিক হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার নুরু ইসলাম মল্লিককে ডেকেছিলেন,আমাকে কিছু বলেন নাই মর্মে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিষ্ট্রার মাতৃকালিন ছুটিতে থাকার কারনে তার মতামত নেওযা সম্ভাব হয়নী। প্রতারক চক্রের হোতা নুরু ইসলাম মল্লিকের প্রত্যেকটি জালিয়াতির ঘটনাই চাঞ্চল্যকর। জালিয়াত চক্র নির্মূলে প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।











































