আলমগীর হোসেন
আজ মঙ্গলবার যশোর -৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন। স্থাগিত হওয়া উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পাটীর তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। বিএনপি এই উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক অংশ নিচ্ছে না। নৌকার প্রতিদ্বন্দী লাঙ্গল যার কারনে এ আসনটিতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শাহীন চাকলাদারের বিজয় সময়ের অপেক্ষা। প্রথমে এ আসনটিতে নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় নামেন। তারা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দীতা করেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার(নৌকা),বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ(ধানের শীর্ষ) ও জাতীয়পার্টী (এরশাদ) সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে মাঠে নামেন। গত ২৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারিত হয়। সে মোতাবেক প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা মাঠে ময়দানে ভোট প্রচারণায় নেমে পড়েন।
বৈশিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে এ আসনটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করা হয়। যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার ঘোষনা দেন। যে কারনে এই আসনে আওয়ামীলীগের সাথে মূলত জাতীয়পার্টির প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী প্রতিযোগীতা হবে। আওয়ামীলীগের দলের বিভেদের কারনে দু-বার এই আসন থেকে এমপি নির্বাচনে ব্যর্থ হন। ৪ দলীয় জোটের কঠিন সময়ের মধ্যেও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ.এস.এইচকে সাদেক এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে দেশবাসিকে অবাক করে দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর কেশবপুর আসনে সর্বপ্রথম এম এন এ নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত সুবোদ কুমার মিত্র, ১৯৭৩ সালে অবিভক্ত কেশবপুর, মনিরামপুর অঞ্চরে সংসদ নির্বাচিত হন বর্তমান আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালীম, ১৯৮৮ সালে অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, ১৯৯১ সালে জামায়াত থেকে মাওলানা সাখাওয়াৎ হোসেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এ.এস.এইচ.কে.সাদেক,২০০১সালে আওয়ামীলীগ থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন এ.এস.এইচ.কে. সাদেক, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত শেখ আব্দুল ওহাব, ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত ইসমাত আরা সাদেক ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে ইসমাত আরা সাদেক আওয়ামীলীগ থেকে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সংসদীয় আসনের প্রয়াত এমপি ইসমাত আরা সাদেক মৃত্যুবরণ করায় জাতীয় সংসদে ২৮ জানুয়ারি আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে এ আসনে২৯ মার্চ উপনির্বাচনের দিন ধার্য করে ১৬ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করা হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ২১ মার্চ এ আসনটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এ মাসের ৪ জুলাইনির্বাচনকমিশন থেকে ফের ১৪ জুলাইনির্বাচনঅনুষ্ঠানের ঘোষণাদিলেকরোনাভাইরাসেরকারণে ভোটবর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। যে কারণেবিএনপি ভোটেরমাঠে কোনপ্রচারণায় নেই। যার ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী। কেশবপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর ৬ কেশবপুর সংসদীয় আসন গঠিত ।
মোট ভোটার সংক্ষা ২ লাখ ৩ হাজার ১শত ১৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২ হাজার ১শত ২২ জন ও মহিলা ভোটার ১লাখ ৮শত ৯৬ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৭৯টি। ৩৭৪টি বুথ, দায়িত্ব পালন করবে ৭৯ জন প্রিজাইটিং অফিসার, ৩৭৪ জন সহকারি প্রিজাইটিং অফিসার ও ৭৪৮ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ বজলুর রশীদ। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। নির্বাচনী মাঠে থাকা জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান জানান, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এ আসনটিতে আওয়ামীলীগের বিজযী হওয়োর সম্ভাবনা ষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
১১ জুলাই কেশবপুর আবু সারাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে সংসদীয় আসন ৯০ যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপ নির্বাচন সংক্রান্ত আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তিনি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ভোটের দিন নির্ধারনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। কেশবপুৃর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান জানান বলেন, ভোট কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ১৮জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ ,র্যাব, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করবে।









































