স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার ৬টি আসনের সবগুলোতেই আবারও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তারা এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা-সংকট নিরসন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা করছেন। সেই সঙ্গে দলের নির্বাচনী ইশতেহার এলাকায় বাস্তবায়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
খুলনা-১ আসনে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবো। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনো কোনো কাজ করবো তা এখনও নির্ধারণ করতে পারিনি।
খুলনা-২ আসনে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর জোড়াগেট এলাকায় নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। ভৈরব ও রূপসা নদী ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন এবং খুলনায় শিক্ষাবোর্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে সচেষ্ট হবো। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ তলা ক্যানসার হার্ট ও কিডনি ইন্সটিটিউট চালু, শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডেন্টাল কলেজ, আইটি পার্ক স্থাপন, শিপইয়ার্ড সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, গল্লামারী এলাকায় ময়ূর নদীর উপর ৪ লেন সেতু নির্মাণ।
খুলনা-৩ আসনে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনী এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা মুক্ত করবো। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব মিল কারখানা বন্ধ রয়েছে সেই জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান চালুর জন্য চেষ্টা করবো। এছাড়া রুটিন যেসব উন্নয়ন কাজ রয়েছে তা করার ইচ্ছা রয়েছে।
খুলনা-৪ আসনে তৃতীয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, এবার আমার প্রথম কাজ হবে জেলখানা ঘাটে রূপসা নদীর উপর ঝুলন্ত সেতু এবং এখান থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা পর্যন্ত ৪ লেন সড়ক নির্মাণ। এই সড়কটি নির্মাণ করা গেলে খুলনার সঙ্গে রাজধানীর দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার কমবে। ইতোমধ্যে জাইকা এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে সম্মতি দিয়েছে। আজগড়া এলাকায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৩ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবো। দিঘলিয়ায় বন্ধ থাকা স্টার জুট মিলের জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। নির্বাচনী এলাকায় নিজের উদ্যোগে একটি শিল্প কারখানা গড়ে তুলবো, যেখানে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভৈরব নদের ওপর চলমান সেতু নির্মাণ কাজ তরান্বিত করবো। এছাড়া আড়ুয়া এলাকায় আতাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবো।
খুলনা-৫ আসনে ৫ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ভুতিয়ার বিলসহ বেশ কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতা রয়েছে। কয়েকটি নদী নাব্যতা হারিয়েছে এবং কিছু স্লুইচ গেট অকার্যকর রয়েছে। এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রাধিকার দেবো। যেসব সড়ক সংস্কার করা প্রয়োজন সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেবো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবো। তরুণদেরকে নিয়ে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করবো, যাতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে সুস্থ্ সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটাবো।
খুলনা-৬ আসনে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান মোড়ল বলেন, আওয়ামী লীগের যে নির্বাচনী ইশতেহার রয়েছে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবো। এলাকায় বেড়িবাঁধে যে সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে উদ্যোগ নেবো। সার্বিক পরিকল্পনা শিগগিরই করবো।











































