Home Uncategorized আজ থেকে বিএনপির হরতাল

আজ থেকে বিএনপির হরতাল

41

ঢাকা অফিস।।
নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ শনিবার থেকে দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করবে বিএনপি। আজ শনিবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে হরতাল চলবে ভোটের পরের দিন (সোমবার) ভোর ৬টা পর্যন্ত। বিএনপির সঙ্গে সমমনা দলগুলোও এ কর্মসূচি পালন করবে।

এদিকে ভোট ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপির একাধিক নেতা মতামত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ভোট ঠেকানোর কোনো মানে হয় না। তবে মানুষ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট বর্জন করে, কেন্দ্রে যেন ভোটার উপস্থিতি তলানিতে ঠেকে, সে জন্য

সাধারণ মানুষকে বোঝানোর পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটি মত দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভোট ঘিরে হরতাল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফলে কেন্দ্রীয়সহ জেলার নেতাদের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের থাকতে হবে নিজ এলাকায়। তারা জনগণের সামনে ভোট বর্জনের যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন। ক্ষমতাসীনদের কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা সামনে পড়লে তা মোবাইলে ভিডিও করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলে তা কৌশলে মোকাবিলাসহ আরও কিছু দিকনির্দেশনা সাংগঠনিক জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপি, তাদের সমমনা বিভিন্ন দল ও জামায়াতের নেতারা জানান, একতরফা নির্বাচন হচ্ছে, তা তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন। এখন কেন্দ্রে ভোটার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তারা। এ জন্য অতীতের মতো শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচির মধ্যেই তারা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করবেন।

ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারাও পৃথক ভিডিও বার্তায় দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ‘একতরফা’ নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আন্দোলনকে বিপদগামী করার জন্য, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য সরকার নিজেই বেশ কিছু ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানো চেষ্টা করেছে। এখনো সেই অপচেষ্টা চলছে। আমরা শুধু শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আসনগুলো নির্বাচনের আগেই ভাগাভাগি হয়ে গেছে। জনগণ দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই ভোট বর্জন করবে।’

হরতাল সফলে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ভোট বর্জনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম (মন্টু) ও পিপলস পার্টি, লেবার পার্টিসহ সমমনারা। ভোটের দিন দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা গণকারফিউয়ের কর্মসূচি দিয়েছে ১২ দলীয় জোট। জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘দেশবাসী মনে করে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হয় না, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করে এ সরকারের পদত্যাগ করা জরুরি।’ ভোটের দিন গণকারফিউ পালনের আহ্বান জানিয়েছে নুরুল হক নুর নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদও।

এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব) অলি আহমেদ রাজধানীর মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর রাজনীতির আসল খেলা হবে। বিশ্বের ক্ষমতাধররা বসে নেই, বসে থাকবে না। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে। সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।

এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে একটি প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। প্রায় সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বয়কট করেছে। প্রহসনের নির্বাচনের প্রতি জনগণের কোনো আগ্রহ নেই। জনগণকে বলব- প্রহসনের নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকুন। হরতাল সফল করুন।’

ভোটের দিন ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি।

এদিকে ভোট বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়তে গতকাল মিছিল, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। এ দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠি মিছিল করে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। রাতেও মশাল মিছিল হয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে।

ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় মিছিল হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে। কারওয়ানবাজার এলাকায় লাঠি মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়ন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মিছিল করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করেন।

ঢাকার বাইরে প্রত্যেক জেলা ও মহানগরে একই কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে সিলেট নগরীতে লিফলেট বিতরণ ও মিছিলকালে ধাওয়া করে পুলিশ। কুমিল্লা ও ভোলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।