খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
কথায় বলে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই’। যেকোনো রাজনৈতিক দলের দুঃসময়ে প্রচলিত এই কথা যেন আরও কঠিন বাস্তবতা হয়ে দেখা দেয়। কাল যারা ছিলেন সহকর্মী-মিত্র, আজ তারা অপর পক্ষে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে বিএনপি সমমনা দলগুলোর অনেক নেতা বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে যাবেন- রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন গুঞ্জন ছিল বেশ জোরেশোরেই। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে বন্ধন অটুট রেখেছে রাজপথে থাকা সমমনা প্রায় সব দল।
কঠিন দুঃসময়ে বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করেনি দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বেশিরভাগ মিত্র। হাতে গোনা দুই একজন ছেড়ে গেলেও বেশিরভাগ মিত্র বিএনপির নেতৃত্বে অবিচল থেকে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা করেছেন। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন রয়েছে আত্মতৃপ্তি, তেমনই পাশে থাকা সঙ্গীদের প্রতিও রয়েছে সতর্ক দৃষ্টি।
বিএনপি-সমমনা দলগুলোর নেতারা বলছেন, সরকারের সঙ্গী হয়ে যারা নির্বাচনে যাচ্ছেন, আন্দোলনের মাঠ বা সংগঠনে তারা একেবারেই গুরুত্বহীন। বরং দল এখন ‘জঞ্জালমুক্ত’ হচ্ছে, যা আন্দোলনে আরও গতি বাড়াবে।
গুঞ্জন আছে, ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ভোটে নিতে জোর তৎপরতা শুরু করে সরকার। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন পর্যন্ত সরকারের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করে নেতাকর্মীদের আত্মগোপনে থাকার নির্দেশনা দেয়। এছাড়া প্রার্থী হওয়ার মতো নেতাদের মধ্যে যারা কারাগারের বাইরে রয়েছেন তাদের সঙ্গে রাখা হয় নিবিড় যোগাযোগ।
সরকারের ‘প্রলোভন’ আর বিএনপির ‘আত্মগোপন’ কৌশলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন পর্যন্ত দেখা যায় বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দলটির সাবেক কয়েকজন এমপিসহ জেলা পর্যায়ের কিছু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সমমনা একটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। নিজ দল থেকে বহিষ্কৃত কিছু নেতাও হয়েছেন ভোটের প্রার্থী।
ভোট বা আন্দোলনের মাঠে প্রভাব রাখেন এমন মাপের কোনো নেতা এখনো নির্বাচনমুখী না হলেও বিএনপিতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল দুটি দল। রাজনীতির মাঠে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বা বিএনএম কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয় বিএনপির জন্য।
তবে ভোট বা আন্দোলনের মাঠে প্রভাব রাখেন এমন মাপের কোনো নেতা এখনো নির্বাচনমুখী না হলেও বিএনপিতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছিল দুটি দল। রাজনীতির মাঠে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বা বিএনএম কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয় বিএনপির জন্য। অনেকের মধ্যে আশঙ্কা ছিল, মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত ক্লান্ত হয়ে পড়া নেতাদের কেউ কেউ এ দল দুটির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়ে যান কি না। তবে শেষপর্যন্ত এমন কিছু না হওয়ায় এখন আপাতত বিএনপিতে স্বস্তির বাতাস বইছে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়- এমন আশঙ্কায় সতর্ক বিএনপি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর আন্দোলন ছেড়ে যারা নির্বাচনের দিকে হাঁটছেন, তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত দুজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক- দুজনই জাতীয়ভাবে পরিচিত। তবে সংগঠন বা ভোটের মাঠে একদম অস্তিত্বহীন। পাঁচ শতাধিক সদস্য বিশিষ্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে গোনা কয়েকজনকে নির্বাচনমুখী করতে পেরেছে সরকার।
তিনি বলেন ,যারা দল ছেড়েছেন তারা নিজেদের হতাশা থেকেই গিয়েছেন। কারা ভেবেছেন, বিএনপির চলমান আন্দোলন কবে নাগাদ সফল হবে, কবে হবে সেই তত্ত্বাবধায়কের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন। ততদিন পর্যন্ত রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা রাখতে পারার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা থাকবে কি না। সক্ষমতা থাকলেও পরিস্থিতির প্রতিযোগিতায় কাঙ্ক্ষি মনোনয়ন কপালে জুটবে কি না তা নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা থেকে যায়। সেই বিবেচনায় আগেভাগেই মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক রং পরিবর্তন করেছেন। এখন যারা মীরজাফর হয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সুবিধা বঞ্চিত হয়ে তারা দুই কূল হারান কি না তাও দেখার বিষয়। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো শতাধিক নেতাকে সরকার ফাঁদ পেতে বাগিয়ে নেবে। কিন্তু তাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির চলমান যে আন্দোলন সেটি মূলত জনগণের চাওয়া। এখান থেকে বিএনপির পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। নির্বাচনের নামে যে নাটক মঞ্চায়ন করার চেষ্টা চলছে, সেখানে দল ভাঙার চেষ্টা কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে আনার চেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে। আগুনে পুড়ে যেমন লোহা ইস্পাত হয়, তেমনি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে সময়ের পরিক্রমায় বিএনপি ও সমমনা জোটের নেতাকর্মীরা উত্তীর্ণ হয়েছেন। দুই-একটা যা ব্যতিক্রম ঘটেছে তারা ইতিহাসে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’
দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। যে কয়জনকে সরকার দল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পেরেছে- তারা কেউ এই দলের আদর্শিক কর্মী নন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এদের দল পরিবর্তনের ইতিহাস অনেক আগে থেকে আছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা দেশবরেণ্য সব নেতৃত্ব তারেক রহমানের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঐক্যবদ্ধ আছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। যারা আজ শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং যোগ্যতা কী এটা বিশ্লেষণ করলেই দেশবাসী উপলব্ধি করতে পারবে। শুধু তাই নয়, অন্যের দলকে ভাঙতে গিয়ে নিজের দল আজ বিভক্তির পথে। ৩০০ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন চার শতাধিক। মেরুদণ্ডহীন দলগুলো করুণার অপেক্ষায় অপেক্ষা করছে। রাশেদ খান মেননের (বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি) মতো মানুষকে আজ নির্বাসিত হয়ে ঢাকা থেকে বরিশালে চলে যেতে হয়েছে।’
এসব বিষয়ে কথা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের সঙ্গে। দল থেকে বেরিয়ে যারা এই নির্বাচনের অংশ হচ্ছেন, তারা দলের কোনো পর্যায়েরই গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা নন দাবি করে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা জানি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হচ্ছে অনেককে। এরপরও কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাননি, যাবেনও না।’
তিনি বলেন, ‘দলের নেতারা সবাই জানেন তাদের কী করতে হবে। কীভাবে সব ষড়যন্ত্র, চাপ মোকাবিলা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। এর পরপরই দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
শাহজাহান ওমরের জামিন কেন হয়? জামিন হলো আর পরদিন তিনি নৌকার প্রার্থী হলেন! এটা থেকে বোঝা যায় একটা সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে একতরফা নির্বাচনের জন্য।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে ভগবান-অবতার সম্বোধন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। তার ওই অবস্থান সরকার মেনে নিয়েছে কি না এমন প্রশ্ন রেখে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘শাহজাহান ওমরের জামিন কেন হয়? জামিন হলো আর পরদিন তিনি নৌকার প্রার্থী হলেন! এটা থেকে বোঝা যায় একটা সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে একতরফা নির্বাচনের জন্য। তাদের (সরকারের) লাইসেন্স নবায়নের জন্য। যিনি কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে অবতার, ভগবান ইত্যাদি বলেছিলেন বলে পুরো মাসজুড়ে আওয়ামী লীগকে আওয়াজ তুলতে শুনলাম। তাকে এখন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী করে কী পরিস্থিতি তৈরি হলো? আপনারা কি উনার অবস্থানটা মেনে নিলেন?’
তিনি বলেন, ‘জনতার আন্দোলনের মধ্য থেকে একজন-দুইজন সরে দাঁড়ালেই জনগণের আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করা যায় না। সরকার রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যয় করে, এত কষ্ট করে একজন বীর বিক্রম ও একজন বীর প্রতীককে (নিজেদের কাছে টেনে) নিয়েছে। একজন বীর প্রতীক এবং একজন বীর উত্তম হিসেবে তাদের ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের যে গৌরব, ২০২৩ সালে এসে তারা জনগণের চোখে সেটা ম্লান করলেন। এই দায় এবং জবাবদিহি জনগণের কাছে তাদেরকেই করতে হবে।’
শাহজাহান ওমর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে নতুন নিবন্ধিত বিএনএমে যোগ দিয়ে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ফরিদপুর-৪ আসনে এবং মতিউর রহমান মন্টু রাজশাহী-৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ‘স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠন করে খন্দকার আহসান হাবিব টাঙ্গাইল-৫ আসনে এবং এ কে এম ফখরুল ইসলাম ঝালকাঠি-২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া-১ আসনে সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান এবং ময়মনসিংহ-২ আসনে শাহ শহীদ সরোয়ার।
বহিষ্কৃত জেলা নেতাদের মধ্যে বিএনএম থেকে শেরপুরের মো. আবদুল্লাহ শেরপুর-১ আসনে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আবদুল মতিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে, তৃণমূল বিএনপি থেকে জায়েদুল রশিদ শ্যামল শেরপুর-২ আসনে ও পঞ্চগড়ের আব্দুল আজিজ পঞ্চগড়-২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ানগঞ্জের মাহবুবুল হাসান জামালপুর-১ আসনে এবং ধামরাইয়ের দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু ঢাকা-২০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
কোরবানির হাটে আরেকটি গরুর মাথা বিক্রি হলো। শাহজাহান ওমর ফাউল টক করেন। এমন লোক দলে না থাকা ভালো। এতে আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজের স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সহ-তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া সিরাজকে বহিষ্কার করেছে দলটি। টাঙ্গাইল-৪ আসনে তার মেয়ে শুল্কা সিরাজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মেয়ের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ আসে জেলা পর্যায় থেকে।
মিত্রদের মধ্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম দলগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন গত ২২ নভেম্বর। এরই মধ্যে তার দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়া, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মালেক ফরাজী ময়মনসিংহ-৭ আসন এবং সদস্য এস এম সাফি মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ এলডিপি (সেলিম) প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল গনি নির্বাচন করছেন মেহেরপুরের গাংনী থেকে। যদিও আব্দুল গনিকে প্রতারণার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগে এলডিপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিছুদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসকে ‘ভগবান অবতার’ সম্বোধন করা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের অবস্থান আওয়ামী লীগ সরকার মেনে নিয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন রেখে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, শাজাহান ওমর সাহেবের জামিন কেন হয়? জামিন হলো আর পরদিন তিনি নৌকার প্রার্থী হলেন। এ থেকে বোঝা যায় একটা সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে কাজে লাগাচ্ছে একতরফা নির্বাচনের জন্য। তাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য। যিনি কিছুদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ‘অবতার ভগবান’ ইত্যাদি বলেছিলেন বলে আওয়ামী লীগ থেকে কটাক্ষের আওয়াজ উঠেছিল, সেই তাকে কী করে নৌকার প্রার্থী করার পরিস্থিতি তৈরি হলো? আপনারা (আওয়ামী লীগ) কি উনার অবস্থানটা মেনে নিলেন?
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, জনতার আন্দোলনের মধ্য থেকে দু-একজন সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে গণআন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করা যায় না। সরকার তাদের রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যয় করে এত কষ্ট করে একজন বীর উত্তম (শাহজাহান ওমর) এবং একজন বীর প্রতীককে (সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম) নিয়েছেন। এ দুজনই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের গৌরবোজ্জল ভূমিকাকে জাতির সামনে ম্লান করে দিয়েছেন। এর দায় এবং জবাবদিহি জনগণের কাছে তাদেরই করতে হবে।
এসব বিষয়ে কথা হয় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সঙ্গে। বিএনপি ও সমমনাদের করেকজন নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘কোরবানির হাটে আরেকটি গরুর মাথা বিক্রি হলো। উনি (শাহজাহান ওমর) ফাউল টক করেন। এমন লোক দলে না থাকা ভালো। এতে আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে না। শাহজাহান ওমর যেটা করেছেন এটা মীরজাফরি (বিশ্বাসঘাতকতা)।’- সুত্র: জাগো নিউজ









































