Home বিনোদন বছরের অর্ধেকটা সময় তো নাটকই করলাম: ফারিণ

বছরের অর্ধেকটা সময় তো নাটকই করলাম: ফারিণ

10

 

অনিন্দ্য মামুন।।

তাসনিয়া ফারিণ। জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সম্প্রতি ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ‘বাবা, সামওয়ান ইজ ফলোয়িং মি’ ওয়েব ফিল্ম।এ ছাড়াও ওটিটিতে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর আরও বেশ কয়েকটি কনটেন্ট।পাশাপাশি সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়েও যাচাই-বাছাই করছেন তিনি।

কোথায় আছেন, কী করছেন?
শুক্রবার তো তাই বাসাতেই ছুটির আমেজে আছি। বই পড়ছি, গান শুনছি, চিত্রনাট্য দেখছি। এই তো…

শুটিং কি আজকাল একটু কম?

কম করছি বলা ঠিক হবে না। এখন তো ওটিটির কাজ বেশি হচ্ছে। ওটিটিআর নাটকের কাজের ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতা রয়েছে। ওটিটির কাজে প্রস্তুতির পর্বটা বেশ সময় নিয়ে হয়। লুক সেট করাসহ নানাদিকের প্রস্তুতি লাগে। ফলে শুটিং না থাকলেও প্রস্তুতিতে সময় দিতে হয়। সে প্রস্তুতিতে সময় চলে যায় বেশি।

সম্প্রতি আপনার অভিনীত‘বাবা, সামওয়ান ইজ ফলোয়িং মি’ওয়েব ফিল্ম প্রকাশিত হলো…

হুম। নির্মাতা শিহাব শাহীন ভাইয়া বানিয়েছেন এটি। একটি সম্পর্কের গল্প।যাতে বাবা-মেয়ের এক রাতের ঘটনা পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। এটি পুরো টিমের জন্যই অনেক কঠিন কাজ ছিল। একটি রাতের ঘটনা দেখাতে আমাদের চার রাত জেগে থাকতে হয়েছে। বেশ কঠিন এবং পরিশ্রমের কাজ করেছি। প্রোডাকশনের প্রত্যেকে কষ্ট করেছে।

এতে আপনার চরিত্রটি কেমন?

এতে আমার চরিত্রের নাম বিজয়া। শিহাব শাহীন ভাইয়ার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত এটি। এতে আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। এতে বাবার সঙ্গে মেয়ের ওভার দ্য ফোনে কথা বলার অনেক দৃশ্য আছে। সে দৃশ্যগুলো করতে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কারণ, সহশিল্পীর সঙ্গে মুখোমুখি দৃশ্য করতে যতটা সহজ হয়, দূর থেকে সহশিল্পীর সঙ্গে সংলাপ দেওয়ার সময় উপযুক্তভাবে নিজের এক্সপ্রেশন বা অভিনয়টা অতটা সহজ নয়। এখানে সেটি একটি ব্যাপার আছে। ফিল্মটির বাংলাদেশে করেছি একদিন আর অস্ট্রেলিয়ায় তিন দিন।

রাজধানীর একটি মাল্টিপ্লেক্সে ফিল্মটির প্রিমিয়ার হলো। এটি দেখার পর সবার কি অনুভূতি লক্ষ্য করলেন?

ফিল্মটি চলাকালীন আমি এদিক-ওদিক তাকিয়ে সবার মুখের এক্সপ্রেশন বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। কেমন যেন সবাই কাজটির মধ্যে ডুবে ছিলেন। একটি রাতের এ ঘটনাকে অনেকেই তাঁর জীবনের সঙ্গে রিলেড করতে পারছিলেন হয়তো।ছেলেমেয়ে বাইরে থাকলে দেশে বাবাদের কেমন লাগে, সে ব্যাপারটা এতে পুরোপুরিভাবে উঠে এসেছে। বাবা-মায়ের কাজই হচ্ছে ছেলেমেয়ে বাসার বাইরে থাকলে তাদের নিয়ে চিন্তা করা। আপনি যতই চিন্তামুক্ত থাকতে বলবেন তারা ততটাই বেশি চিন্তা করবেন।ফিল্মটি দেখে যখন সবাই বের হলেন তখন সবাই বলছিলেন এ ব্যাপারটি। রোজী আপা তো আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেই ফেললেন পর্দায় আমাকে তাঁর মেয়ে মনে হচ্ছিল। আসলে বাবা-মায়ের চেয়ে আপন পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না। একজন সন্তানের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গাটাই হচ্ছেন বাবা-মা। কাজটি দেখার পর এটি অনুভব করতে পারবেন।

ফিল্মটির মতো আপনার বাস্তব জীবনে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে কখনও পড়েছিলেন?

এক কথায় বললে, না। কারণ, আমি তো বিদেশে থাকিনা, বিদেশে পড়াশোনাও করিনি। তবে প্রায়ই বিদেশে কাজের জন্য বা ঘুরতে যেতে হয়। তখন বাবা-মা প্রচুর চিন্তা করেন, উৎকণ্ঠায় থাকেন। ফিল্মটিতে কাজ করতে গিয়ে তাদের সেই উৎকণ্ঠার মাত্রা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেরেছি

এই যে ওটিটিতে একের পর এক কাজ আসছে। কোনো কোনো কাজের তো সমালোচনাও হয়। সেটিকে কীভাবে নেন?

প্রশংসা বা সমালোচনা যেটিই হোক। যদি গঠনমূলক হয় সেটি আমি বরাবরই ভালোভাবে গ্রহণ করি। তবে প্রশংসা পেলে সেটি তাৎক্ষণিক ভালো লাগা কাজ করলেও পরক্ষণেই তা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, প্রশংসার বিষয়টি মাথায় থাকলে পরবর্তী সময়ে আরও ভালো কাজ করা সম্ভবপর হয়ে উঠবে না। তাই চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেকে নতুনভাবে মেল ধরতে।

বাংলাদেশের অভিনেত্রী হলেও চলচ্চিত্রে আপনার অভিষেক হলো পশ্চিমবঙ্গের ছবিতে। বাংলাদেশের সিনেমায় কবে দেখা যাবে আপনাকে?

আমি তো বরাবরই চাই বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করতে। তেমন চিত্রনাট্য নাএলে কী করব বলুন। তবে আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে যদি অভিনয় করার মতো গল্পের ছবি পাই, আমি অবশ্যই করব।

বাংলাদেশে সিনেমা করার জন্য আসলে আপনি কী ধরনের গল্প চাচ্ছেন?

আমি আসলে তেমনভাবে গল্পের বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। শুধু বলব, আমার যখন কোনো গল্প পড়ে মনে হবে এটি আমি করতে চাই, আমার করা উচিত। সেটি হলেই আমি করব।

যে নাটক করে আজকের ফারিণ হলেন। সেই নাটকেই আপনি অনিয়মিত। কারণ কী?

অনিয়মিত কিন্তু না। আমি বছরের অর্ধেক সময় তো নাটকই করলাম। বাকি অর্ধেকটা ওটিটির যে কাজগুলো ছিল সেগুলো করলাম।এ সময়টায় নাটকের শিডিউল দিতে পারিনি। এখন আবার প্ল্যানিং হচ্ছে। সামনে আশা করি ভালো কিছু গল্পের নাটকের শুটিং করব।