স্পোর্টস ডেস্ক।।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দল থেকে চোটের কারণে বাদ পড়েছিলেন আনরিক নরকিয়া। তার পরিবর্তে সুযোগ হয় লিজাড উইলিয়ামসের। ৩০ বছর বয়সী এই পেসার অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন। ৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার পাশাপাশি একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে এবার বিশ্বকাপে তিনি কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডির মতো বিশ্বসেরা বোলারদের সাথে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।
ডানহাতি উইলিয়ামসের জীবনের পথচলা অবশ্য এত সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পার করে আজ তিনি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে। জন্মের পরেই বাবাকে হারিয়ছেন তিনি। গ্যাংস্টারদের সাথে জড়িয়ে পড়া আপন ভাইকেও হারিয়েছেন। আর মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। এমন অনেক ঘটনাই তার জীবনে ঘটেছে। তবুও দমে যাননি।
লিজাড নিজেও একটা সময় জড়িয়ে পড়েছিলেন গ্যাংস্টার জীবনে। তবে সেখান থেকে ফিরে আসা এই পেসার এখন বোলিং করবেন বিরাট কোহলি, বাবর আজম ও ডেভিড ওয়ার্নারদের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আসার পেছনে দুটি জিনিসের উপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার জীবন যেভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তার মাঝে একটি জিনিস আমার জীবনকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমার বয়স যখন ১৬, তখনি আমি বিশ্বাস করতে শুরু করি যে আমাকে জীবনে এমন কিছু করতে হবে যেটা আমার স্বপ্নের চেয়েও বড়।’
মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবা হওয়ারই পরেই উইলিয়ামসের ক্যারিয়ার এবং জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায় আসার পেছনে প্রথমে তিনি তার মায়ের কথা উল্লেখ করেন। তার বোনের কথা বলতেও ভুলেননি তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন কেপ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। তবে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়, আফ্রিকার ঘরোয়া দল কেপ কোবরাসেরর হয়ে খেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় এক পোর্টালে নিজের জীবনের নানা উত্থানপতনের কথা শেয়ার করেন আফ্রিকার এই ফাস্ট বোলার। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আমাদের মতো তরুণদের সামনে দুটি সুযোগ ছিল। হয় তোমাকে জেলে হতে হবে আর না হয় মাছের ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে হবে। আমাদের মাঝে জাতিগত দ্বন্দ্ব,অপরাধ আর গ্যাংস্টার জীবনের অধ্যায়গুলো ছিল। যেটা এখানাকার স্থানীয় সব জাতিগুলোর মাঝে রয়েছে।২০১৮ সালে গ্যাংস্টার জীবনের অন্ধকার কবলে পরে আমার ভাইয়ের জীবন হারাতে হয়েছে।’
২০২১ সালে উইলিয়ামসের প্রোটিয়াদের হয়ে অভিষেক হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে। তবে স্বল্প এই অভিজ্ঞতা নিয়েই ভাগ্যের জোরেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন বিশ্বকাপে দলের জন্য দারুণ কিছু করা।










































