ঢাকা অফিস।।
ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি তারিক সাঈদ মামুনের ওপর হামলার সময় গুলিবিদ্ধ পথচারী এডভোকেট ভূবন চন্দ্র শীলের (৫৩) অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। মাথার একপাশ থেকে গুলি লেগে অন্য পাশ দিয়ে চলে গেছে। তবুও মাথার মধ্যে কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। তাকে পপুলার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। মামুন ও আরেক আহত আরিফুল চিকিৎসা নিয়ে গত মঙ্গলবার বাসায় ফিরেছেন। মামুন বাসায় চিকিৎসা নিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নজরদারিতে রেখেছে।
ভূবনের শ্যালক পলাশ চন্দ্র শীল মানবজমিনকে বলেন, আমার বোন জামাইয়ের অবস্থা গুরুতর। তিনি কথা বলতে পারছেন না। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে চিকিৎসকরা সার্জারিও করতে পারছেন না।
বিজ্ঞাপন
তাকে বাঁচানো যাবে কিনা সেই শঙ্কায় আমাদের পুরো পরিবার।
হামলার ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেছেন ভূবনের স্ত্রী রত্না রানী শীল। গত মঙ্গলবার তিনি এ মামলা করেছেন। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে ফুটেজ ভাইরাল হওয়াতে হামলায় অংশগ্রহণকারীরা গা ঢাকা দিয়েছে।
ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজ আল ফারুক মানবজমিনকে বলেন, মামলা হয়েছে তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই কথা জানালেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডিবি’র টিম আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত। আগে থেকে পরিকল্পনা করে সন্ত্রাসী মামুনকে নজরদারিতে রেখেছিল আরেক সন্ত্রাসী সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাইদ আহমেদ টিপু ও চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কারাবন্দি সানজিদুল ইসলাম ইমনের অনুসারীরা। সোমবার রাতে মগবাজারের পিয়াসি বার থেকে বের হয়ে প্রাইভেটকারে করে শুক্রাবাদের বাসায় যাচ্ছিলেন মামুন। তার সঙ্গে ছিলেন খোকন ও মিঠু নামের দু’জন। তেজগাঁও বিজি প্রেসের কাছাকাছি যাওয়ার পর মামুন কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা অস্ত্রধারীকে দেখে গাড়ি থেকে নেমে দৌড় দেন। এ সময় ওই অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। কিন্তু সেই গুলি গিয়ে লাগে পাশ দিয়ে যাওয়া পথচারী ভূবন ও আরিফুল নামের আরেকজনের গায়ে। পরে ইমনের অনুসারীরা মামুনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। গোলাগুলির শব্দ শুনে পুলিশ ও আশপাশের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, হুমকির সূত্র ধরে সন্দেহ করা হচ্ছে ইমনের নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মামুন নিজেও এ ঘটনায় ইমন জড়িত থাকার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। ফুটেজ নিয়ে পুলিশ ও ডিবি চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন তাদের পরিচয় জানা ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।









































