Home জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, ১২ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, ১২ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক

23

ঢাকা অফিস।।
হরতাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যমত একটি প্রতিবাদের ভাষা। যদিও বর্তমানে অহিংস আন্দোলনের স্বার্থে এই ধরনের কর্মসূচি থেকে ফিরে আসছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। এমন সময়ে হরতালের সংস্কৃতি ধরে রাখতে প্রতিমাসে একটি করে ‘অহিংস’ ডেকে যাচ্ছে প্রকৌশলী ম ইনামুল হকের রাজনৈতিক সংগঠন সর্বজন বিপ্লবী দল। বরাবরের মতো আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সারাদেশে পূর্ণদিবস ‘অহিংস’ হরতালের ডাক দিয়েছে দলটি।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগের জাতীয় যাদুঘরের সামনে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের দাবিতে দেশপ্রেমিক মঞ্চ আয়োজিত রোড মার্চ ও পথসভা থেকে এই হরতালের ঘোষণা দেন সর্বজন বিপ্লবী দলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী ম ইনামুল হক। ভোটকেন্দ্র দখলমুক্ত নির্বাচন আয়োজনে ১৭ দফা রোড ম্যাপও ঘোষণা করেন তিনি।

হরতালের ঘোষণায় প্রকৌশলী ম ইনামুল হক জানান, তাদের এই হরতাল হবে কোনো ধরনের মারামারি বা বাধাহীন স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল। এই হরতালে সকল গণপরিবহন চলবে। জনজীবনের, ব্যবসা-বাণিজ্যের কোনো ক্ষতি করা হবে না। পুলিশের সঙ্গে কোনো মারামারিও হবে না। কিন্তু বিশেষ কাজ না থাকলে দেশবাসীকে বিকেলের আগে ঘর থেকে বের না হওয়া, দোকানপাট বিকেল পর্যন্ত বন্ধ রাখা। ব্যক্তিগত পরিবহন অর্থাৎ মোটরসাইকেল, কার, জিপ, মাইক্রোবাস বের না করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে হরতালের ঘোষণায়।
এদিকে সর্বময় ক্ষমতার এক ব্যক্তির শাসন বাতিল, ভোটকেন্দ্র দখলমুক্ত, কালো আইন ও কালো টাকা মুক্ত নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৭ দফা রোড ম্যাপও তুলে ধরেন প্রকৌশলী ম ইনামুল হক। সেগুলো হলো-

১। রাষ্ট্রপতি জরুরী অবস্থা জারী করে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে একুশ সদস্যের জাতীয় সরকার গঠন করবেন। ২০০৯ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোট সংখ্যার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলি প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে জাতীয় সরকারে প্রতিনিধি দেবেন।
২। রাষ্ট্রপতি দেশের বিশিষ্ট পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, বরেণ্য ব্যক্তিদের থেকে মন্ত্রীসভার অন্য সদস্যদের নিয়োগ দেবেন ও একজন নির্দলীয় ব্যক্তিকে জাতীয় সরকার প্রধান নিয়োগ করবেন। জাতীয় সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করবে।
৩। জাতীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৪। সরকারের সদস্যরা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। ডিজিটাল আইন বাতিল হবে।
৫। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ (নিম্নকক্ষ) নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন, উচ্চকক্ষ গঠন ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ পর্যন্ত জাতীয় সরকারের মেয়াদ থাকবে।
৬। নির্বাচনকালীন সময়ে জেলা/নিম্নবর্তী পর্যায়ের স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, যুব ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দপ্তরসমূহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে।
৭। নির্দিষ্ট ফি ও কিছু শর্তপূরণ সাপেক্ষে সকল রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয়া হবে।
৮। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেলায় ১% ভোটারের পূর্বস্বাক্ষর গ্রহণের বিধান থাকবে না।
৯। নির্বাচন পরিচালনা/ প্রার্থীদের সমূদয় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাচন কমিশন মাধ্যমে হবে।
১০। প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ মোট অনুর্ধ পাঁচ লক্ষ টাকা হবে।
১১। বাড়িতে ২ দিন ইলেকট্রনিক ভোট ও ১ দিন কেন্দ্রে ভোট দেবার সুযোগ থাকবে।
১২। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রত্যেক প্রার্থী সমান রাষ্ট্রীয় সুযোগ পাবেন।
১৩। সংসদ সদস্যরা আস্থাজ্ঞাপন ভোট ব্যতীত সকল বিলে স্বাধীনভাবে ভোট দেবেন।
১৪। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা যাবে না।
১৫। সংবিধানে গণভোট ও ভোটারদের ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকতে হবে।
১৬। জাতীয় সরকার অধীনে প্রাপ্ত দলীয় ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
১৭। পরবর্তী নির্বাচনে নিম্নকক্ষ ভেঙ্গে দিয়ে উচ্চকক্ষ সরকার পরিচালনা করবে।

এর আগে গেল বছরের ২৫ ডিসেম্বর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে দলীয় প্রচারপত্র বিলি করার সময় সর্বজন বিপ্লবী দলের আহ্বায়ক ম ইনামুল হককে কৃষক লীগ কর্মীর মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। মাঠে কোনো তৎপরতা না থাকলেও এ ঘটনায় আলোচনায় আসে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক এই মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন সর্বজন বিপ্লবী দল।