Home আন্তর্জাতিক সৌদি সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে শতাধিক অভিবাসী নিহতের অভিযোগ

সৌদি সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে শতাধিক অভিবাসী নিহতের অভিযোগ

80

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

সৌদি আরবের সীমান্ত রক্ষীদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তে তারা গণহত্যা চালিয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে প্রায় শতাধিক অভিবাসীকে হত্যা করেছে সৌদি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এসব অভিবাসীদের মধ্যে বড় এক অংশ ইউথোপিয়ার। তারা ইয়েমেন হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে চেয়েছিল।

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা বিবিসিকে জানিয়েছে, অনেকে গুলিতে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়েছে। অনেক লাশ তারা সীমান্তে পড়ে থাকতে দেখেছে। তবে সৌদি আরব এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করেছে।

অভিবাসীরা বিবিসিকে জানায়, সীমান্ত পাড়ি দেয়ার জন্য তারা রাজতে বেঁচে নেয়। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ ইউথোপিয়া থেকে এসেছে। তার মূলত কাজের জন্য তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবে প্রবেশ করতে চাচ্ছে।

এ নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে তার শিরোনাম ‘তারা বৃষ্টির মতো আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’এতে অভিবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যাতে তারা বলছেন, সৌদি আরবের সাথে ইয়েমেনের পর্বত-সঙ্কুল উত্তর সীমান্তে সৌদি পুলিশ এবং সৈন্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে এবং কখনও কখনও তাদের লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালানো হয়েছে।

বিবিসি আলাদাভাবে যেসব অভিবাসীর সাথে কথা বলেছে তারা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে রাতের বেলা সীমান্ত অতিক্রমের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

গুলি খেয়ে বেঁচে ফেরা ২১ বছর বয়সী মোস্তফা সুফিয়া মুহাম্মাদ বিবিসিকে বলেন, এক দল ছিল ৪৫ জন ছিল। যারা সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় গুলিতে মারা যায়। ওই দলটি গত বছরের জুলাইতে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করে।

 

 

মোস্তফা জানায়, যখন সীমান্ত রক্ষীকা আমাকে গুলি করে তখন আমি কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু সীমান্ত পার হয়ে যখন হাঁটতে শুরু করি তখন দেখতে পাই আমার পায়ের একটি অংশ নাই। শেষ পর্যন্ত সে আর সৌদিতে প্রবেশ করতে পারেনি।

 

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার মতে, বছরে দুই লাখের বেশি মানুষ হর্ন অব আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইয়েমেনে পাড়ি দেয়। তারপর সেখান থেকে তারা সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই যাত্রায় অনেকেই কারাভোগ বা মারধরের শিকার হয়েছেন।

সৌদি সরকারের অস্বীকৃতি

সৌদি আরবের সরকার বলছে, অভিযোগগুলিকে তারা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডগুলি পরিকল্পিত কিংবা বড় মাত্রায় ছিল বলে জাতিসংঘ যেভাবে বর্ণনা করেছে, তারা সেটাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

‘প্রাপ্ত সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে’, সৌদি সরকার জবাব দিয়েছে, ‘অভিযোগগুলি নিশ্চিত বা প্রমাণ করার মতো কোনও তথ্য বা প্রমাণ রাজ্যে কর্তৃপক্ষ খুঁজে পায়নি।’

কিন্তু গত মাসে মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার নামে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানও জীবিত অভিবাসীদের সাথে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সৌদি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের আরও কিছু অভিযোগ প্রকাশ করেছে।

 

ঐ রিপোর্টে সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পচা মৃতদেহের বর্ণনা রয়েছে, বন্দী অভিবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সৌদি সীমান্ত-রক্ষীরা জানতে চেয়েছে তারা কোন পায়ে গুলি খেতে চান, এবং আতঙ্কিত অভিবাসীদের একটি বড় দলকে আক্রমণ করার সময় মেশিনগান ও মর্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি এপর্যন্ত সবচেয়ে বিশদ। সেখানে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ রয়েছে এবং সীমান্তের ক্রসিং পয়েন্টের স্যাটেলাইট ছবি রয়েছে যেখানে অনেকগুলো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে কথিত আছে, সেইসাথে সেখানে রয়েছে অনেকগুলো অস্থায়ী কবরস্থান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার র‌্যাপোর্টিয়ার, মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য বিবিসি সৌদি সরকারের কাছে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো জবাব আসেনি।

সূত্র: বিবিসি