Home আঞ্চলিক ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সে মাঝ নদীতে জন্ম নিল শিশু

ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সে মাঝ নদীতে জন্ম নিল শিশু

16

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত মাটির রাস্তা ডুবে আছে হাঁটু পানিতে। এর মধ্যে রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দমকা বাতাস। এর মধ্যে প্রসূতিকে নিয়ে ২ ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দেওয়ায় আছে বিপদের ঝুঁকি। বাধ্য হয়ে দুর্গম জনপদের অসুস্থ মানুষের জন্য উপহার দেওয়া ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের শরণাপন্ন হন স্বজনরা।

অ্যাম্বুলেন্সে প্রায় ১৫ কিলোমিটার নৌপথের অর্ধেক পার হতেই তীব্র ব্যথায় কাতর হয়ে ওঠেন প্রথমবার মাতৃত্বের স্বাদ নিতে যাওয়া লামিয়া খাতুন (২২)। এ সময় সঙ্গে থাকা পল্লি চিকিৎসক আকবর হোসেন ও ধাত্রী ফাতিমা খাতুন তৎপর হয়ে ওঠেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে মাঝ নদীতে জন্ম হয় ফুটফুটে মেয়ে শিশুর।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে শ্যামনগরের সুন্দরবনসংলগ্ন খোলপেটুায় নদীতে।

সদ্যজাত শিশুসহ তার মাকে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অক্সিজেন আর জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন চালক মাসুম বিল্লাহ। প্রায় ৩০ মিনিট নদীতে অপেক্ষার পর সুস্থ থাকায় মা ও সন্তানকে নিয়ে উল্টো যাত্রা করেন পরিবারের সদস্যরা।

সদ্যজাত শিশুর নানা মামুন হোসেন জানান, পাতাখালী থেকে নওয়াবেঁকী যাওয়ার একমাত্র কাঁচা রাস্তা পানির নিচে। আকস্মিক ব্যথা শুরু হলে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন।

শিশুর বাবা রিপন হোসেনের ভাষ্য, আগে অনেকে এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা সদরে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে উপহার পাওয়া ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স থাকায় মাঝ নদীতে নৌকায় সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পেরেছেন।

চালক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সে কাজ করায় তাঁকে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ‘এবানডন্স অব গুড ইংক ইউএস ও সোশিও ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্সের’ উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সটি উপকূলবাসীর চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। এর রোগী, তাদের স্বজন এবং চিকিৎসকসহ ১২-১৪ জনের ধারণক্ষমতা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, দুর্গম এলাকার রোগী বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানো জীবনের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ সহায়কে পরিণত হতে পারে।