ইয়াসিন আহমেদ জীবু।।
গত ৮ বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা জানতে জরিপ হয়েছে ৩’টি। কিন্তু বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ ও শুকরের সংখ্যা জানতে সরকারিভাবে হয়নি তেমন কোনো গ্রহনযোগ্য জরিপ। তবে বেসরকারিভাবে দেশে ১ম বারের মতো শেষ হয়েছে বাঘের খাদ্য জরিপ। যেখানে ১ লক্ষ ৪০ হাজার হরিণ ও ৪৫ হাজার বুনো শুকর থাকার তথ্য মিলেছে।
সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব কতো হলে খাদ্য ঘাটতি হবে না, কিংবা এই বনের বাংলাদেশ অংশে কতটি বাঘ থাকলে প্রাণী ও জীববৈচিত্রের ভারসাম্য টিকে থাকবে তার সঠিক কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে আশার কথা হলো, গত মার্চে শেষ হয়েছে বাঘের খাবার যোগ্য প্রাণী গননা। জার্মান কেএফডাব্লু ব্যাংকের অর্থায়নে ও আইইউসিএন এর তত্ত্বাবধানে ২ বছর মেয়াদী এই জরিপে দেখা যায়, বাঘের ৭৯ ভাগ খাবার আসে হরিণ থেকে আর বাকি ১১ ভাগ বুনো শুকর। আর বর্তমানে সুন্দরবনের প্রতিবর্গ কিলোমিটারে এই হরিণ রয়েছে ৩৫ টি করে। যা কিনা বাঘের খাদ্য চাহিদার থেকেও বেশি। গবেষকরা সুন্দরবনকে ৮’শটি প্লটে ভাগ করে ও ২৫৫ টি খাল ও নদীর ১ হাজার ২৮১ কিঃমিঃ অঞ্চল জরিপ করে এ গনণা কার্যক্রম চালায়।
প্রাণীবিদ্যা গবেষক ড. এম এ আজিজ বলেন, সুন্দরবন ২’শ থেকে ২৫০ টি বাঘের আবাস স্থল হলেও খাদ্যে ঘাটতি হবে না। তাই বাঘ বৃদ্ধির সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে পর্যাপ্ত হরিণ থাকতে হবে। আর হরিণ রাখতে হলে থাকতে হবে তাদের জন্যেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও খাদ্য। শিকারীদের হরিণ শিকার ও হরিণের চরণভূমিতে মানুষের চলাচল কমানো জরুরি বলছেন তিনি।
তাই সুন্দরবনে বাঘ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় প্রকল্প ভিত্তিক গবেষণা ও কার্যক্রম না চালিয়ে বিশ্বের বাঘ থাকা অন্য ১২ টি দেশের মতো দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।











































