ক্রীড়া প্রতিবেদক ||
এ এক নতুন পরিচয়। মাথায় সেই ২০১৫ সালের জুনে পাওয়া ব্যাগি গ্রিন। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরু হয়েছিল। ৮ বছর পর সেই ব্যাগি গ্রিনের সঙ্গে গায়ে জড়িয়েছেন সবুজ ব্লেজার। যা শুধু পেয়ে থাকেন দেশের টেস্ট অধিনায়ক। মর্যাদা আর গৌরবের ব্লেজার।
গর্ব খুঁজে পাচ্ছেন লিটনও,‘আমি নিজের টেস্ট ক্যাপ পেয়ে চমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ অধিনায়ক হয়ে গর্বিত। এই দায়িত্ব আমার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমি খুশি।’
বাংলাদেশের দ্বাদশ টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের যাত্রা শুরু হলো বুধবার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে নেতৃত্বভার পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ভরসা হয়ে উঠা লিটন। কেবল এই টেস্টের জন্য লিটন দায়িত্ব পেলেও তার অধিনায়ক হয়ে উঠা, নেতৃত্বগুন নানা কারণে আলোচিত এবং তার নিবেদন, তাড়না ও পরিশ্রম হয়ে উঠেছে উত্তরসূরীদের আদর্শ।
প্রথমবার সাদা পোশাকে তাকে মাঠে নামতে দেখে নাজমুল আবেদীন ফাহিম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, ‘এই আসছে আমাদের তারকা।’ ভারতের সেরা একাদশের বোলারদের বিপক্ষে ৪৫ বলে ৪৪ রানের ইনিংসের পর সেকালের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির ঘোষণা ছিল, ‘ওকে ওর মতো করে খেলতে দিন। ১০ বছর বাংলাদেশকে সার্ভিস দেবে।’
নাজমুল আবেদীন ও মাশরাফির বুক ভরা বিশ্বাস জন্মেছিল তার সাহস, টেকনিক ও সামর্থ্য জেনে। তারা ভুল করেননি। তবে লিটন দাস পারেননি প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার মেলবন্ধন করতে। সেজন্য এলোমেলো হাওয়ায় হারিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। আর অধারাবাহিক হওয়ায় বাদ পড়তে হয় সীমিত পরিসরের দল থেকে। তবে সাদা পোশাকে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না।
টুকটাক রান করতে করতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে ডানহাতি ব্যাটসম্যান একসময় ডানা মেলে উড়তে শুরু করেন। তাতে শেষ দুই বছরে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ দলের সেরা ব্যাটসম্যান। ব্যর্থতার অলিগলি পেরিয়ে সাফল্যে উদ্ভাসিত হয়ে দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন। শুধু-ই কী তাই? ব্যাটসম্যান সত্ত্বা বড় মঞ্চে দেখানোর পাশাপাশি তার নেতৃত্বগুণও প্রকাশ পেয়েছে। সীমিত পরিসরে সাফল্যের কারণে খুলে গেছে তার টেস্ট নেতৃত্বের দুয়ার।
হতাশার প্রহর পেরিয়ে লিটন দেখেছেন আলোর ঝলকানি। শুধু দেশের ক্রিকেটেই নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেও তার নাম নিয়ে চলে আলোচনা। ২২ গজে ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে পায়ের নিচের জমিন শক্ত করেছেন। হয়ে উঠেছেন পোষ্টারবয়। ব্যর্থতার নানা অলিগলি পেরিয়ে, সাফল্য সূর্যর দেখা পাওয়া লিটনের কাছে নিশ্চিতভাবেই টেস্ট অধিনায়কত্ব গর্বের উপলক্ষ।
লিটনের এই পথচলায় কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে খুশি। তার ওপর আস্থার হাত না সরিয়ে যে কজন ভরসা দিয়েছেন হাথুরুসিংহে তাদের অন্যতম। তাইতো লিটনের সাফল্যে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন লঙ্কান কোচ, ‘অনেক কম বয়সেই আমরা ওকে বাংলাদেশের জন্য দারুণ সম্ভাবনাময় হিসেবে নজরে রেখেছিলাম। এজন্যই আমরা ওর ওপর আস্থা রেখেছিলাম। তখন তার পাশে থাকার ফল মিলছে এখন।
শিষ্যকে প্রয়োজনীয় বার্তাও দিয়ে দিয়েছেন হাথুরুসিংহে, ‘অধিনায়কদের আমি সবসময়ই বলি, ‘যখন ব্যাটিং করছো, তখন তুমি দলে সেরা বাটসম্যান। আর যখন অন্য ১০ জনের সঙ্গে তুমি মাঠে নামছো, তখন তুমি অধিনায়ক।’
গত এক বছর ধরে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক তিনি। ২৮ বছর বয়সে সহ অধিনায়ক থেকে অধিনায়ক করা হয়েছে তাকে। সামনের পথচলাও নিশ্চিতভাবে মসৃণ হবে না। ব্যাটিংয়ের মতো অধিনায়কত্বের চ্যালেঞ্জও লিটন নেবেন তা জোর গলায় বলাই যায়।











































