স্পোর্টস ডেস্ক।।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। মঙ্গলবার সিডনির একটি আদালত তাকে ১৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১ হাজার ৬৫ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছে।
গত এপ্রিলে এই অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত ইস্টার উৎসবের ছুটির দিনগুলোতে সিডনির পূর্বাঞ্চলীয় উপশহরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে সন্তানদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ৩৯ বছর বয়সী ওয়ার্নার।
পথে পুলিশের ব্রেথ টেস্টে ধরা পড়ার পর তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরীক্ষায় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত আইনি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া যায়।
সিডনির ওয়েভারলি লোকাল কোর্টকে জানানো হয়, রাস্তায় পুলিশের ব্রেথ টেস্টের চেকপোস্ট দেখেই গাড়ি থামিয়ে দেন ওয়ার্নার এবং এক নারী সহযাত্রীর সঙ্গে সিট অদলবদল করার চেষ্টা করেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক ক্লেয়ার ফারনান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ওয়ার্নার ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ আর করবেন না।
তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, নিউ সাউথ ওয়েলসে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ এই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো।’
বিচারক আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় গাড়িতে শিশুরা থাকায় অপরাধের মাত্রা আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওয়ার্নারকে তার গাড়িতে একটি ‘ইন্টারলক ডিভাইস’ স্থাপন করতে হবে; যার ফলে তিনি অ্যালকোহল গ্রহণ করে থাকলে গাড়িটি নিজে থেকেই চালু হওয়া বন্ধ থাকবে। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য না দিয়েই আদালত চত্বর ত্যাগ করেন ওয়ার্নার।
এর আগে ওয়ার্নারের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, গণমাধ্যমে অতিরিক্ত প্রচারের কারণে তার মক্কেল ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার বাণিজ্যিক সুযোগগুলো হাতছাড়া হচ্ছে; তাই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা থেকে রেহাই দেওয়া হোক। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১১২টি টেস্ট ও ২৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলা ওয়ার্নার বর্তমানে ফক্স স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়ার ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিগ ব্যাশ লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘সিডনি থান্ডার’-এর অধিনায়কও। তবে যে সিডনি থান্ডার নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের মদ্যপানবিরোধী নিরাপদ ড্রাইভিং ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত, সেই দলের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘আমাদের সংস্থা নিরাপদ ড্রাইভিং এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর পক্ষে অত্যন্ত সোচ্চার। আমরা এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং খেলোয়াড়দের নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।’










































