তথ্য বিবরণী
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে একটি জাতীয় অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মোংলা বন্দরের সমস্যাগুলোকে চিহিৃত করা হয়েছে এবং সকলের সহযোগিতা নিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে তা সমাধান করা হবে।
তিনি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খুলনা হোটেল সিটি ইন এ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অংশীজন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। তিনি সবাইকে মোংলা বন্দরের উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার অনুরোধ করেন। জাতীয় অর্থনৈতিক হাব গড়ে উঠলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অংশীজন সম্মেলনে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, পুলিশ কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, মোংলা কাস্টমস হাউজের কমিশনার ড. আবু নূর রাশেদ আহম্মেদ ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল ইসলাম বাপ্পি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
অংশীজন সম্মেলনে বন্দর ব্যবহারকারীরা মোংলা বন্দরের উন্নয়নে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
অংশীজন সম্মেলনে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আমদানি ও রপ্তানিকারকসহ গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
আমাদের বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাগেরহাট প্রেসক্লাব আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “আপনারা আমার মতো সাধারণ চোখ দিয়ে দেখবেন না, মাইক্রোস্কোপের চোখ দিয়ে দেখবেন। ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বের করবেন। তবে শুধু ভিউ বাড়ানোর জন্য এমন সমালোচনা করা যাবে না, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।” সাংবাদিকদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই তাদের অনটনমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে অর্থ-বিত্তের পেছনে ছুটলে সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন হয় অর্থে, আর সাংবাদিকদের উন্নয়ন হয় অনুসন্ধান, দায়িত্ব ও দেশপ্রেমে। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ধসঢ়;ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার ও কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার জন্যই সাংবাদিকতার জন্ম।”
শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার দেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করবে, একইভাবে সাংবাদিকরাও তাঁদের কলমের মাধ্যমে দেশ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন। সেই পরিবর্তন হতে হবে জনগণের আকাঙ্ধসঢ়;ক্ষা ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে। সরকার নিজেদের শুধরে নিতে চায় এবং সেই প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখতে চায়। “আমরা হাতে হাত রেখে একটি অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে যেতে চাই—এটাই এই সরকারের নীতি।”
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করার উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে সকালে বাগেরহাটের দশানী এলাকায় দশানী-রামপাল মহাসড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেতুমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। পরে তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কৃষক দল নেতা বাদল মোড়লের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া বাগেরহাট সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন সেতুমন্ত্রী। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য, দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনুর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, প্রেসক্লাবের সদস্য এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।









































