সেখ জুয়েলের পক্ষে বুলু বিশ্বাসের ৭শ’ পরিবারকে ঈদ উপহার
খবর বিজ্ঞপ্তি
বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের পক্ষে নগরীতে ৭শ’ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) নগরীর বিশ^াসপাড়ার ইসলাম মিশন ইয়াতিমখানা প্রাঙ্গনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক। সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ^াস এর আয়োজক।
সেখ জুয়েলের নির্দেশনায় ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যপণ্য (সেমাই, চিনি, দুধ, কিচমিচ, বাদাম, সয়াবিন তেল ও পোলাও চাল) বিতরণের আয়োজন করা হয়। ওই এলাকার অসহায় ও দু:স্থ মানুষের জন্য এমন আয়োজন। এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ^াস, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, কেসিসি’র কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ^াষ, ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান ইফতেখার চালু, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান পরশ বিশ^াস, নগর যুবলীগ সদস্য রোজী ইসলাম নদী, যুবলীগ নেতা আজগর বিশ^াস, শেখ জিয়াউর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় কেসিসি মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চের পর হতে অদ্যবধি ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। এবার ৫ম দফায় ত্রাণ বিতরণ চলছে। এসময় তিনি বলেন, একদা ত্রাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব ছিলেন। তখনও এবারের মতোন এতো পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ হয়নি। এরপরও কেউ যদি না পেয়ে থাকেন, তবে সে তার ভোটার আইডি কার্ড স্থানীয় কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতৃবন্দ এবং মেয়রের দপ্তরে পাঠালে ত্রাণ পৌছে দেয়া হবে।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার আহ্বান খুলনা নগর বিএনপি নেতৃবৃন্দের
খবর বিজ্ঞপ্তি
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে হতাহত ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় খুলনা মহানগর বিএনপি শোক-সমবেদনা জ্ঞাপন করে বৃহস্পতিবার (২১মে) বিবৃতি দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে ঘূর্ণিঝড়ের ১২ঘন্টার তান্ডবে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায়সহ পার্শ্ববর্তী বিভাগের জেলাসমূহে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনার জনপদে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের বিশেষ করে সাতক্ষীরায় গাছ চাপা পড়ে ৭জন নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, সাতক্ষীলা, খুলনা ও বাগেরহাটের নি¤œাঞ্চলের উপজেলাগুলো জলোচ্ছাসে বাঁধভেঙে ঘরবাড়ী ভেসে যাওয়ায় মৎস্য সম্পদ ও ফসলহানি ঘটেছে। একই সাথে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরে ঝড়ের তান্ডবে মৌসুমী ফল আম, লিচু, কলা বাগান বিলীন হয়ে যাওয়ায় এবং শষ্য ও সবজির ব্যাপক ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া জনগনের বাসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও পানের বরজে সীমাহীণ ক্ষতির ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে আরও বলেছেন, দেশ যখন করোনা ভাইরাসের থাবায় সীমাহীন সংকটে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতের ক্ষত দেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের জনপদের মানুষকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। নেতৃবৃন্দ মহান রাব্বুল আলামীনের কৃপা কামনা করে এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে জনগনের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে পতিত লাখো মানুষের বাড়ীঘর তৈরী, বেড়িবাঁধ টেকসই সংস্কার, খাদ্যশষ্য, খাবার পানিসহ জনগনের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান করুন। প্রয়োজনে নগদ অর্থ প্রদান করে জনগনের দুর্দশা লাঘবে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপি’র চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আব্দুল জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, মোঃ ইকবাল হোসেন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।
শরণখোলায় ঘূর্ণিঝড় আমফানে বেঁিড়বাধ ভেঙ্গে গ্রাম প্লাবিত: ভেসে গেছে ঘের পুকরের মাছ
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
শরণখোলায় ঘূর্ণিঝড় আমফানে বেঁিড়বাধ ভেঙ্গে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকর ও ঘেরের মাছ। ক্ষতি হয়েছে ভুট্রাসহ রবি ফসলের।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, সাউথখালী ইউনিয়নের তেরাবাকা থেকে গাবতলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার বেঁড়িবাধের ৮ টি জায়গা ভেঙ্গে বগী, গাবতলা ও শরণখোলা গ্রামের তিন শতাধিক বাড়ী ঘর প্লাবিত হয়েছে। বলেশ্বর নদীর জোয়ারের পানিতে বগী ও গাবতলার মানুষ ভাসছে। অনেক বাড়ী ঘরের চুলায় পানি ওঠায় রান্নাবান্না বন্ধ প্রায়। ওই ইউনিয়নের শতাধিক ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং অনেক বাড়ীঘর ভেঙ্গেছে যার হিসাব করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া উপজেলার অন্যান্য স্থানে বাড় ঘর গাছপালার ব্যপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সোনাতলা গ্রামের জাকির ও সরোয়ার সহ অনেকের মৎস্য ঘেরের মাছ জলোচ্ছ্বসের ভেসে গেছে বলে তারা জানান।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফানে শরণখোলায় বাড়ীঘর গাছপালা, মাছ ফসল সব মিলিয়ে কোটি টাকারও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে সঠিক হিসাব নিরুপণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আম্ফানের তান্ডবে যশোরেই ৬ জন নিহত: অসংখ্য ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত
কে এম রফিক, যশোর
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যশোরাঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাওয়ার সময় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ঝড়ে বুধবার রাতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ গাছপালা ভেঙে পড়েছে ও ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলায় গাছ ও ঘরচাপা পড়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে চৌগাছায় গাছচাপায় মা ও মেয়ে নিহত এবং ছেলে আহত হয়েছে। এছাড়া শার্শায় পৃথক ঘটনায় তিনজন এবং বাঘারপাড়ায় একজন নিহত হয়েছেন। সব উপজেলাতেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবিজ, আম ও লিচুর।
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বুধবার সারাদিন থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।সন্ধ্যার পর থেকে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। রাত ৮টার পর থেকে বাড়তে থাকে ঝড়ের গতি। যশোরে সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার মধ্যরাত ১২টার পর যশোরের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গেছে। সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় এ ঝড়ো হওয়া। রাত ৮টার পর থেকে ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। রাত দু’টার পর থেকে কমতে থাকে ঝড়ের গতিবেগ। ঝড়ের সঙ্গে ছিল ভারী বৃষ্টিপাতও।
বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২১ মিলিমিটার।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে গোটা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ-পালা, ঘর-বাড়ি ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চৌগাছায় গাছচাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, চৌগাছা পৌরসভার হুদো চৌগাছা এলাকার ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম (৪৫) ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩)। ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়লে এ দু’জন নিহত হন। আহত হন চায়না বেগমের ছেলে আল-আমিন (২২)।
এছাড়া গাছচাপা পড়ে শার্শা উপজেলার মালোপাড়ার সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, গোগা পশ্চিমপাড়ার শাহজাহানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০) ও বাগআঁচড়া জামতলা এলাকার আব্দুল গফুর পলাশের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫) এবং বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট বুদোপাড়া এলাকার সাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি খাতুন (৪৫) নিহত হয়েছেন।
ঝড়ে প্রাণহানির পাশাপাশি সবজি, ফসল ও ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া আম ও লিচুর সিংহভাগই ঝড়ের তান্ডবে ঝরে পড়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে গাছচাপা পড়ে জেলায় ৬ জন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সবজি, আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়ে গেছে বিধায় ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গৃহ বা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কাজ চলছে।
ঘূর্নিঝড় আম্ফানের ক্ষতবিক্ষত মোড়েলগঞ্জের ২০ কিলোমিটার রাস্তা বিধস্ত
এম.পলাশ শরীফ,মোড়েলগঞ্জ
সুপার সাইকোন আম্ফান এর তান্ডবে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০ কিলোমিটার কাচা পাকা রাস্তা বিধস্ত হয়েছে ভেসে গেছে ৮ শতাধিক মৎস্য ঘের। ৬শ’ ফুট অবধা ভেরীবাধ ভেঙ্গে পানিতে প্লাবিহ হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ২দিন ধরে বিদুৎ বিচ্ছিন্ন গোটা উপজেলায়।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া শুরু হলেও রাত ৯ টার দিকে এ উপকূলে আঘাত হানে সুপার সাইকোন আম্ফান। প্রায় ৪ ঘন্টা ব্যাপি চলে এর তান্ডব। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় উপকূল অঞ্চল ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর সদর। ডুবে যায় ফসলি জমি ও নিচু ঘরবাড়ি। অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর তীরবর্তী প্রায় ২ হাজার বসত বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থশতাধিক বসতবাড়ি সম্পন্ন বিধস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ, কুমারিয়া জোলার অবধা ভেরীবাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। অর্ধশতাধিক ছোট বড় মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে যায় বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানান। বহরবুনিয়ার ফুলহাতা লঞ্চঘাট হয়ে সুর্যমূখি দেড় কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা, ফুলহাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়ে বাছার বাড়ি পর্যন্ত ১কিমি., উত্তর ফুলহাতা চৌকিদার বাড়ি পর্যন্ত ১কিলোমিটার, সাড়ে ৯ কিলোমিটার কয়েকটি রাস্তা সম্পন্ন বিধস্ত হয়ে পড়েছে বলে চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন জানান। অপরদিকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বারইখালী ফেরীঘাট সংলগ্ন ১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা , হোগলাপাশার শৌলখালী গ্রামে ৩কিলোমিটার কাচা রাস্তা, চিংড়াখালী ইউনিয়নের নদীর তীববর্তী চন্দিপুর ৮ কিলোমিটার কাচা রাস্তা ও ৩ কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা পানির স্্েরাতে বিধস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পঞ্চকরণ ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আমিরুল আলম মিলন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, থানা অফিসার ইনর্চাজ কেএম আজিজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার, রিপন হোসেন তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ প্রমুখ।
কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে বনগ্রাম, হোগলাপাশা, চিংড়াখালীতে ৩ শতাধিক কলা ও সবজি ক্ষেতের চাষিরা। মৎস্য ঘেরে বহরবুনিয়া, জিউধরা, হোগলাপাশা, নিশানবাড়িয়া, বনগ্রাম, পঞ্চকরণ, সোনাখালী ও বারইখালীতে ৮ শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মাছ ভেসে গেছে। এদিকে পৌর শহরে আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুটিখালী ইউনিয়নের ঐতিয্যবাহি সোনাখালী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ সম্পন্ন বিধস্ত হয়েছে। উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান।
আম্ফানে উপজেলা ১৬ ইউনিয়নে ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে ৬ শ’ কিমি.বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনও নিরুপন করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে খোজ খবর নিয়ে ইউনিয়নগুলোর সব সেক্টরের ক্ষতির তালিকার তৈরি করা হচ্ছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হতে রক্ষার জন্য নৌবাহিনীর কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর সম্ভাব্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলের জনগনকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌছানোর উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীর খুলনা অঞ্চলের দুটি জাহাজ ১৮মে সকালে নৌ জেটি ত্যাগ করে। জাহাজদ্বয়ের একটি জাহাজ সাতক্ষিরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৫০০০ বাসিন্দা ও অপরটি দুবলার চরে আশ্রয় গ্রহণকারী জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌছানোর জন্য সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়াও ১৮ মে সড়ক পথে ২৪ নৌসদস্যের অপর একটি দল দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কার্যে সহায়তার জন্য সাতক্ষীরা জেলার উদ্দেশ্যে নৌ ঘাটি ত্যাগ করেছে। দলের সাথে রয়েছে ৫ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম। ইতোপূর্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নিয়োজিত নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট সমূহ বরগুনা ও বাগেরহাট জেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালীতে টহলরত ০৬টি জাহাজকে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীকালে প্রাথমিক রেসপ›স জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ঝড়ের তীব্রতা ও আঘাতের প্রকোপ পর্যবেক্ষণের পর নৌবাহিনীর আরও পাঁচটি জাহাজ বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় ত্রাণ সহায়তা প্রদানে অপেক্ষারত রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিস্তির্ণ এলাকায় সমুদ্রের ঘূর্র্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ০৪টি যুদ্ধ জাহাজ খুলনা ও মংলা নৌ জেটিতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রয়েছে। উলেখ্য পূর্বের ন্যায় নৌবাহিনী ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীকালীন দ্রুততম সময়ে সহায়তা প্রদানের যে ধারা বলবৎ রেখেছে জাহাজ মোতায়েন, উদ্ধারকারী দল, ত্রাণ সহায়তা ও মেডিকেল দল প্রেরণের মধ্যে এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনী জাহাজদ্বয়ের ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার কার্যে সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
খালিশপুরে পথচারি ও রিক্সা চালকদের মাঝে ইফতার বিতরণ অব্যাহত
খবর বিজ্ঞপ্তি
নগরীর খালিশপুর মানষী বিল্ডিং মোড়ের আওয়ামী চত্বরের উদ্যোগে থানা আ’লীগের সাঃ সম্পাদক আলহাজ্ব মনিরুল ইসলাম বাশারের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার বিকেলে পথচারি ও রিক্সা চালকদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় অংশ নেন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পারভীন আক্তার, সাবেক কাউন্সিলর ইউনুস আলী সরদার, ১০নং ওয়র্ড যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা মুরাদ হোসেন রিপন, বিপ্লব হোসেন মোল্যা, খালিশপুর হিমেল তৈয়বা যুবকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হুসাইন আল মামুন মুন্না, খালিশপুর ফুটবল একাডেমির সভাপতি কাজী নেয়ামুল হক মিঠু, সাঃ সম্পাদক কামাল হোসেন, আলতাপ হোসেন, সৈয়দ আলম গুড্ডু, আঃ রাজ্জাক, হাফেজ ক্বারী সাব্বির আহমেদ, মোঃ ইউসুফ, শাওন, কামাল হোসেন, মোঃ সাইফুল্লাহ, আমির উদ্দিন রাজু, নাদিম, তুষার, আরমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে আড়াইশত মানুষের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করা হয়।
আম্ফান’ তান্ডবে বিধ্বস্ত কয়রা: বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের
শাহজাহান সিরাজ, কয়রা
প্রায় ১১ বছর আগের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার ক্ষত সারতে না সারতেই সুপার সাইকোন আম্ফানের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা কয়রা। বুধবার সারা রাতব্যাপী প্রচন্ড ঝড়ে খুলনার সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত কয়রা জেলার উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি,গাছপালার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও তীব্র জোয়ারের পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও মাছের ঘের। ৩ টি ইউনিয়নে পুরো এবং ২ টি ইউনয়নের আংশিক এলাকা বাধ ভাঙ্গার কারনে লবন পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কে বড় বড় ভাঙ্গা গাছ পড়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। আম্ফানের তান্ডবে বিধ্বস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে গোটা সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রার উপজেলার অধিকাংশ জনপদ।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল গতিতে সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানে সুপার সাইকোন আম্ফান। সারা রাত ধরে চলে এর তান্ডব। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার ক্ষত সারতে না সারতেই আবারো লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সুন্দরবন উপকূলের খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ। এসব এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তীব্র ঝড়ের মধ্যে হাজর হাজার মানুষের সারা রাত কাটে কাটে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, কয়রায় বেড়িবাধ ভাঙ্গার পাশাপাশি,ঘরবাড়ি,মৎস্য ঘের ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষনিক শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।
কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত ও জোয়ারের পানির তোড়ে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ছোটো আংটিহারা বাকেরগাজীর বাড়ির পাশে শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ১২০ গজ বেড়িবাঁধ, আংটিহারা মজিদ গাজীর পাশে ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, জোড়শিং বাজারের পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, কপোতাক্ষ নদের চোরামোখা খেয়াঘাটের কাছে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ ও গোলখালী তসলিম মোল্লার বাড়ির পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের মাথায় কপোতাক্ষ নদের ৬০০ গজ বেড়িবাঁধ, কাটকাটা বাজারের শাকবাড়ীয়া নদীর ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের ৭০০ গজ বেড়িবাঁধ এবং কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা ও গোবরা ঘাটাখালি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের আধা কিলোমিটার এলাকাসহ ১০টি জায়গার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এবং মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কয়রা নদীর পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ উপচে লবণ পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। সেখানে স্থানীয় অধিবাসিরা মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিনতাপাত করছে।
ঝড়ে কয়রা উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের ছোটবড়ো ৫ হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে কয়রা সদর ইউনিয়ন অফিসের টিন উড়ে গেছে। ডুবে গেছে উপজেলা পরিষদ। কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু, সার্বক্ষনিক কয়রা অবস্থান করে মানুষের জানমাল রক্ষায় দিন রাত কাজ করছে। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন ভেঙ্গে যাওয়া বেঁড়িবাধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন জন্য পাউবোর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
ফুলতলায় ঘুর্ণিঝড় আমফানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাঁচাঘর ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি
ফুলতলা প্রতিনিধি
বুধবার রাতে ঘুর্ণিঝড় আমফানে ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক ঘুটি ও তার ছিড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার দুুপুর পর্যন্ত ফুলতলার সর্বত্র এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ ছিল। এতে প্রায় কোটি টাকার উপরে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আব্দুল লতিফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাড়ির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে যায়। গাড়খোলা মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, স্কুলের ৬টি কাস কক্ষের টিনের সম্পূর্ণ উড়ে যায়। এতে স্কুলের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল ও ফ্যানসহ অন্যান্য আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া আব্দুল লতিফ ও রাড়ীপাড়া স্কুলের টিনের চাল উড়ে যায়।
অপরদিকে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা ঘর বাড়ি এবং গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কৃষি বিভাগের নিকট থেকে জানা যায়, উপজেলার বিলডাকাতিয়ার সবজি ক্ষেতে এবং মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফুলতলার বৈদ্যুতিক বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ নাছিম রেজা জানান, উপজেলার সদও, শিকিরহাট এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে এবং পোল ভেঙে যায়। সে কারণে বৈদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ ঘটে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারও গ্রাম এলাকায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হবে না। তবে আমাদের সকল ইউনিটের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইউএনও পারভীন সুলতানা জানান, ঘুর্ণিঝড় আমফানে ফুলতলা বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা ঘর ও গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আগে থেকে সচেতনতার কারণে মানুষ ও গবাদি পশুর কোন ক্ষতি হয়নি।
খুলনায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
তথ্য বিবরণী
ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় খুলনা জেলা প্রশাসন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বৃহস্পতিবার সারাদিন দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণ সমগ্রীর মধ্যে ছিলো ঢেউ টিন, শুকনা খাবার, সুপেয় পানি ও নগদ অর্থ।
ত্রাণ বিতরণকালে বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিষয়টি তদারকি করছেন। তাঁর নির্দেশে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপের কাজ শুরু করেছে। যাতে সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারি সহায়তা পান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনায় উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪২ হাজার কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৬ হাজার কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং চিৎড়ি ও মাছ চাষীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় বেড়িবাধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং শীঘ্রই তা একনেকে উঠবে।
ত্রাণ বিতরণকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ^াস, বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান, দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আলী খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাহ অফিসার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ন্যাপ ভাসানী’র খুলনা মহানগরের উদ্যোগে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিখানায় ইফতার ও তেহরি বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ভাসানী, খুলনা মহানগরীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার এনপিপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও এনডিএফ দশ দলীয় জোট প্রধান জাতীয় নেতা মরহুম শেখ শওকত হেসেন নিলু, সাবেক ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান খাদেম-এ-মিল্লাত মরহুম শেখ আনোয়ারুল হক, ন্যাপ ভাসানী কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম শাহিদা আনোয়ারুল হকের মাতা মরহুমা সাবিয়া খাতুন, মহাসচিব মোঃ ইব্রাহিমের মাতা মরহুমা বেগম খাদিজা, খুলনা মহানগর ন্যাপ ভাসানীর ভাইস-প্রেসিন্ডেন্ট আশিক-উস সালেহিনের মাতা সাবেক সাংসদ ও হুইপ অগ্নিকন্যা অধ্যাপিকা মরহুমা হাসিনা বানু শিরিন, খুলনা ন্যাপ ভাসানীর সাবেক উপদেষ্টা, চেম্বার অব কর্মার্সের সাবেক সভাপতি, উত্তরা ব্যাংকের পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক-দানবীর মরহুম শেখ জাহিদুল ইসলাম জাহিদের রুহের মাগফেরাত কামনার্থে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিখানায় ইফতারি ও তেহরি বিতরণ করা হয়। ন্যাপ ভাসানী, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগর সভাপতি শেখ ইকবাল আহমেদের সভাপতিত্বে বিতরণপূর্ব এক দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনÑমহানগর ন্যাপ ভাসানীর উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর শেখ ফজলুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ ওবায়দুল হোসেন, ভাইস প্রেসিন্ডেন্ট আশিক-উস সালেহিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুম মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন, ন্যাপ নেতা শেখ রিজওয়ান রিজু, প্রচার সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম খান, নির্বাহী সদস্য মোঃ রকিব হাসান, যুবরাজ শেখ মগনীয় ইসলাম ফারহান, ১৬নং ওয়ার্ড সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান খান, সহ-সভাপতি শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরু, ১২নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল বাশার (আবুল), সহ-সভাপতি মোঃ কালিম কোরাইশী, নূরমোহাম্মদ নুর, মোঃ ইয়াসিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম, ২৩নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ সোহান খান, ১৪নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম টিপু, সহ-সভাপতি ডাঃ নূরুল ইসলাম তালুকদার, প্রচার সম্পাদক ইবাদ আলী গাজী, ২০নং ওয়ার্ড সভাপতি সাজিদ হোসেন মাল্লান, শেখ রবিউল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ। অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দÑপ্রয়াতদের রুহের মাগফেরাত, করোনা ভাইরাস হতে পরিত্রাণসহ মৃতদের ও প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আম্পানে মৃতদের আত্মার সদগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
আ’লীগের ঈদ শুভেচ্ছা
খবর বিজ্ঞপ্তি
ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। শুভেচ্ছা বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বছর ঘুরে ঈদ আসে মুসলিম উম্মাকে আনন্দ দিতে। ঈদে আমরা সব সময়ই আনন্দ করে থাকি। এবারও আনন্দ করবো, তবে অত্যন্ত সর্তকতার সাথে। কারন আনন্দের চেয়ে সুস্থতার সাথে বেঁচে থাকাটাই এখন মুখ্য বিষয়। করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে নিজেকে নিরাপদে রেখে সমাজ ও জাতিকে নিরাপদে রাখাই হবে এবারের ঈদের আনন্দ। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই সকলকে ঈদের নামাজ আদায় করে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে হবে। ঈদের খুশী যেন কারোর জন্য দু:খের না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে সকলকে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি। সারা দেশের মানুষ যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনাকে জয় করে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে দাড় করাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা করে বিবৃতি দিয়েছেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী।
শ্রমিক ইউনিয়ন উদ্যোগে ছাপাখানা শ্রমিকদের মাঝে সিটি মেয়রের ঈদ সামগ্রী বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকা সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং খুলনা জেলা ছাপাখানার শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: ২১৫১) এর উদ্যোগে ৪০০ (চারশত) ছাপাখানা শ্রমিকদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও মানবিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। গতকাল ২১ মে’২০ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় বিকে স্কুল প্রাঙ্গনে ৪০০ (চারশত) ছাপাখানা শ্রমিকদের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী ও মানবিক সাহায্য প্রদান করেন দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার উপদেষ্টা, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। এসময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, শ্রম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও দেশ সংযোগ পত্রিকার সম্পাদক, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার ঘোষ, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম টিটো, ইউনিয়নের উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শামিমুল আলাম মান্দার, যুবলীগ নেতা মাসুমুর রশিদ, পান্নু মিয়া, মো. হেলাল হোসেন, মাহিদুল ইসলাম সহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
মোংলা বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত, সুন্দরবনের স্থাপনাসহ গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি
পশুর নদীতে ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবি, ১২৫টি কাঁচা ঘরবাড়ী পুরোপুরি বিধ্বস্ত, আংশিক বিধ্বস্ত ৩২৫টি, চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে ১৫০০
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে মোংলার পশুর নদীতে একটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ ডুবে গেছে। এছাড়া ১২৫টি কাঁচা ঘরবাড়ী পুরোপুরি বিধ্বস্ত এবং ৩২৫টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিপুল সংখ্যক গাছপালা উপড়ে গেছে। এছাড়া প্লাবিত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার চিংড়ি ঘের। তবে ঝড়ের আঘাতে এখানে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে মোংলা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকতে দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সংকেত কমলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন বলেন, যেহেতু সিগনাল নামিয়ে আনা হয়েছে এখন কর্তৃপক্ষের বৈঠক শেষে কখন থেকে বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাসের কাজ শুরু করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাহাত মান্নান বলেন, সাইকোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া লোকজনের মাঝে বৃহস্পতিবার সকালেও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দিনে এবং রাতে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নেয় ৪৮ হাজার মানুষ। ঝড় কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা এখন নিজ বাড়ীঘরে চলে যাচ্ছেন। তবে ঝড়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের তালিকা পাওয়ার পর জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
বন্দরের পশুর চ্যানেলের তীরবর্তী কানাইনগর, কলাতলা, সুন্দরতলাসহ বিভিন্ন জায়গার দুর্বল ভেঁড়ী বাঁধের কয়েকটি জায়গা ধ্বসে গেছে। তবে আবহাওয়া অফিসের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী কয়েক ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসের কথা বলা হলেও মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলসহ সুন্দরবনের নদ-নদীর পানির উচ্চতা অনেকটা স্বাভাবিকই ছিল। ফলে মোংলাসহ আশপাশ এলাকায় জলোচ্ছাসে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। যদিও ভেঁড়ি বাঁধ ভেঙ্গে কিংবা উপচে জোয়ারের যে পানি বাঁধের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল তা আবার ভাটার সময়ে নেমে গেছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে দুর্গতদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আালী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক পরিবারে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাহাত মান্নান, পৌর মেয়র জুলফিকার আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: নাহিদুজ্জামান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান বলেন, আম্পানে কম বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এমন ২ হাজার ৪শ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৩ হাজার শিশুর জন্য শিশু খাদ্যও দেয়া হচ্ছে।
এদিকে আম্পানের তান্ডবে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী ষ্টেশন, লাউডোব, দুবলা ও মরাপশুর ক্যাম্পের জেটি, ঘরবাড়ীসহ অন্যান্য স্থাপনা এবং বনের গাছপালার বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন। তবে এতে কোন জেলে নৌকা ডুবি, জেলে নিঁখোজ কিংবা হতাহতের খবর নেই বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরা আম্ফান: গাছ চাপায় মহিলার মৃত্যু, ২০ টিরও বেশী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে সহস্্রাধিক কাঁচা ঘর বাড়ি। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে অনেক রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। উপকুলীয় চারটি উপজেলার কমপক্ষে ২০ টিরও বেশী পয়েন্টে বেড়িবাধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার ব্রান্ড খ্যাত আমের। এদিকে, শহরের কামাননগরে গাছ চাপা পড়ে করিমন নেছা নামের এক নারী মারা গেছে। সাতক্ষীরা জেলার প্রায় সব এলাকায় কমবেশী গাছপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ায় এবং খুটি উপড়ে পড়ায় জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ী ও টিনের চাল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মাপুকুর, গবুরা ও আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কয়েকটি স্পটে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০ ফুটের মত এলাকা ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া কামালকাটি ও চন্ডিপুর এলাকায় পানি ওভার ফো হয়ে লোকালয়ে ঢুকছে। এছাড়া গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখানি ও নাপিতখালী এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, হিজলা, দিঘলাররাইট, কোলা ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢুকছে বলে নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। সেগুলি মেরামতের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ঘন্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিবেগে বিকেল ৪টার পর থেকে সুন্দরবন উপকুলে আম্পান আছড়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিম দিকে ঝড়ো হাওয়াটি জেলা শহরের ওপর আঘাত হানে।
এদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম আবুজর গিফারী জানান, আম্পনের কারনে নদীর পানি ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে নদীর প্রবল জোয়ারে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁতনেখালি, দূর্গাবাটি, পদ্মপুকুর ও গাবুরার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কয়েকটি স্থানে ওভারফো হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত করে। কাঁচা ও টিনের ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ-গাছালি উপড়ে রাস্তা-ঘাট ও বাড়ী ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে ১৪৫টি সাইকোন সেল্টার ও ১ হাজার ৭০০ টি স্কুল কলেজসহ আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লাখ৭০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জেলায় ১২ হাজার সেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি ১০৩ জনের মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
মরিচ্চাপসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ও গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার দয়ারঘাট, হাজরাকাটি, কুড়িকাউনিয়া, মনিপুরি ও বিছট এলাকার ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সাথে নিয়ে তালিকা তৈরির কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে তালিকা পেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাধগুলো জরুরী সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানান জেলা প্রশাসক।
করোনা ভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিএনপি নেতা বকুলের পক্ষে নগরীতে খুলনা জেলা যুবদলের ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিএনপি’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রমজীবী মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা রকিবুল ইসলাম বকুলের পক্ষ থেকে নগরী জুরে বিভিন্ন থানাায় করোনায় সংকটে পড়া কর্মহীন অসহায় দুস্থ ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর বাঘমারার বিভিন্ন অলিগলিতে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পরা মানুষের মাঝে খুলনা জেলা যুবদল খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে।
এ সময়ে উপস্থিত জনসাধারনের উদ্দেশ্যে মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কর্তা-ব্যক্তিদের সমন্বয়হীনতার কারনেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আজ দেশের প্রতিটা নাগরিক কঠিনতম ও মানবতার জীবন পাড় করছে। এবং নিত্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম লাগামহীন উর্দ্ধগতিতে দিশেহারা হয়ে পরেছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে খুলনাঞ্চলের নিম্ম আয়ের জনসাধারন সব কিছুই হারাতে বসেছে। এলাকার সংসদ সদস্যরা এই মহাদূর্যোগেও জনগনের পাশে না দাড়ানোই প্রমান করে, সাধারন জনগনের স্বার্থ রক্ষা না করে নিজেদের আখের গোছাতে তারা ব্যস্ত রয়েছে। তাই বিগত দিনের মতোই যুবদলের প্রতিটা নেতাকর্মীকে জনগনের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান।
অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা জেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুর রহমান মিরাজ, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শেখ নাদিমুজ্জামান জনি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, যুবদলের সহ সভাপতি মনজুর আরেফিন, মাশকুর হাসান ফ্রান্স, তায়েফ উদ্দীন দ্বারা, আফজাল ফরাজী, মোঃ রাসেল, শেখ সজীব, সৈয়দ মেসবাহুল হাসান শুভ, মোঃ আমির হোসেন, শফিক মোল্লা, আব্দুস সালাম, নুরুউল্লাহ নূর, মনিরুজ্জামান নয়ন, মোঃ সাজু হাওলাদার, মোঃ সঞ্জু মোল্লা মোঃ মাসুদ, মোঃ রসূল, মোঃ নাঈম আঁকন প্রমুখ।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ: ত্রাণ বিতরণের তালিকা স্বচ্ছতার সাথে করতে হবে:সিটি মেয়র
তথ্য বিবরণী
বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা মহানগরীর ৩১ ওয়ার্ডে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় পঞ্চমধাপের কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চাল ও সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বৃহস্পতিবার সকালে ফুলবাড়িগেটস্থ এ্যাজাক্স জুট মিলস কাবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের চারশত ২৮ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবীদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র বলেন, ত্রাণ বিতরণের তালিকা স্বচ্ছতার সাথে করতে হবে। কোন অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঠিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে। সরকার প্রচুর পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এপর্যন্ত ৩১ টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬০ হাজার অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের চালসহ নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেগ লিয়াকত আলী, খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসমএম মনিরুজ্জামান মুকুলসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মেয়র সিটি মেয়র শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান-এর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে খুলনা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারশত কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকাসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সিটি মেয়র দৌলতপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে কর্মহীনদের মাঝে সাত কেজি করে চাল ও সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিতরণ করেন। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, বিজেএ’র চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী, মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম বন্দ, আকাঙ্খা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ মজনু, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিটি মেয়র পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় পঞ্চমধাপের নগরীর ১, ৩, ৫, ৭, ৯, ১০, ১৪, ১৫, ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চারশত ২৮ জন করে মোট তিন হাজার আটশত ৫২ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবীদের মাঝে সাত কেজি করে চাল ও সবজি ক্রয়ের জন্য নগদ একশত করে টাকাসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান-এর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ১৪ নম্বর এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয় চত্বরে মোট আটশত কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, তেল, ডাল, লবণ, সেমাই ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
খুলনায় ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত সকাল আটটায়
তথ্য বিবরণী
খুলনায় ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায় টাউন জামে মসজিদে। এবারে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে উন্মুক্ত স্থানে বা মাঠে কোন ঈদের জামাত হবে না। খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূিচ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঈদ-উল-ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে। জামাতে ইমামতি করবেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত সকাল নয়টায় এবং তৃতীয় ও শেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে নিজেদের সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলার সকল মসজিদে ঈদ-উল-ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদের নামাজ আদায়ের সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কাতারে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর এক কাতার করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। মসজিদের অযুর স্থানে সাবান ও স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মুসুল্লিদের বাসা থেকে অযু করে এবং মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে এবং মুসুল্লিগণ বাসা থেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদের টুপি এবং জায়নামাজ ব্যবহার করা যাবে না। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি, অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পেতে নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করা হবে।
ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ভবনে সকালে যথাযথভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো হবে।
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, খুলনা বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
ঈদে আইনশৃংঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঈদুল ফিতরের সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক, ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মটর সাইকেল চালানো যাবে না। ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙালে রাস্তা সংকুচিত হয়ে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে এবং শহরের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়। এজন্য গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙানো যাবে না। ঈদ-উল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সময় মুসল্লিদের অযুর জন্য সার্কিট হাউজ, টাউন জামে মসজিদ ও কোর্ট মসজিদে খুলনা ওয়াসা মুসল্লিদের অযুর জন্য পানির ব্যবস্থা রাখবে। যাকাতের একটি অংশের অর্থ সোনালী ব্যাংক খুলনা কর্পোরেট শাখার চলতি হিসাব নম্বর-৩৩০০০৮৩৫; ইসলামী ব্যাংক খুলনা শাখার চলতি হিসাব নম্বর-২১৫ এবং জনতা ব্যাংক খুলনা কর্পোরেট শাখার চলতি হিসাব নম্বর-৩৩০০৭৫৭ অথবা বয়রা খুলনার ইসলামিক ফাউন্ডেশরনর উপপরিচালক-এর নিকট সরাসরি প্রদান করা যাবে। উপজেলা সমূহেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা প্রদানকালে সিপিবি নেতৃবৃন্দ: আমফান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সুন্দরবন রক্ষার প্রয়োজনীয়তা
খবর বিজ্ঞপ্তি
ঘূর্ণিঝড় আমফানে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, বটিয়াঘাটার জলমা এবং খুলনা মহানগরীর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), খুলনা জেলা ও মহানগরের উদ্যেগে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। বেদকাশীতে সিপিবি’র স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এবং জলমা ও মহানগরী এলাকায় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এ সহায়তা প্রদান করেন এবং বটিয়াঘাটার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকাও পরিদর্শন করেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑআমফান সংক্রান্ত সিপিবি খুলনার কন্ট্রোল টিমের সমন্বয়ক ও সিপিবি জেলা সভাপতি ডাঃ মনোজ দাশ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. রুহুল আমিন ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, মহানগর নেতা মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, বটিয়াঘাটা উপজেলা সভাপতি সমীরণ গোলদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এর পূর্বে পার্টির জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সূত্রমতে কয়রার বেদকাশীতে কমপক্ষে ৫ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, এটি প্রাথমিক মেজমেন্ট। কিন্তু এর সংখ্যা আরও বেশী, এমনকি ১০ হাজারও হতে পারে। পার্টির পক্ষ থেকে গৃহহীন এসব অসহায় পরিবারের জন্য দ্রুত পরিকল্পনা করে তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সাথে সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সুন্দরবন রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এতবড় শক্তিশালী এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা-ব চালানো ঘূর্ণিঝড়ের সামনে সুন্দরবন বুক পেতে দিয়ে ঝড়ের গতি পরিবর্তন করে দিয়ে সম্ভাব্য সমূহ ক্ষতির হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছে। আমরা যেন সুন্দরবন রক্ষার প্রয়োজনীয় ভুলে না যাই। সুন্দরবনকে ধ্বংস করলে তা হবে আত্মঘাতী। সুতরাং সুন্দরবনের ক্ষতি হতে পারে এমন সকল কর্মকা- থেকে আমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।
পাইকগাছায় ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে শিশুর মৃত্যু: বেঁড়িবাধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত ঘরবড়ী বিধ্বস্ত,মৎস্য ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
বাবুল আক্তার, পাইকগাছা
সুন্দরবন ঘেষাউপকূলীয়এলাকা পাইকগাছা ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে উপজেলা লন্ড-ভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউপির কৃষ্ণনগর গ্রামে মামার বাড়ীতে মিরাজ নামে এক শিশু ইটের দেওয়ার চাপায় নিহত হয়। এ সময় তার মা শাবনুর বেগমও আহত হয়। নিহত শিশু যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বিশোরীপুর গ্রামের জহুরুল শেখের ছেলে। ঝড়ের প্রভাবে ও অ-স্বাভাবিক জোয়ারের চাপে একাধিক স্থানে পানিউন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে এলাকার শত-শত মৎস্য ঘের,হাজারো বিঘার কৃষি ক্ষেত তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের মধ্যেদিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অনেক স্থানে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাধ মেরামত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে নদ- নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট জলের উচ্চতা বুদ্ধি পেয়ে অনেক স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াপদার বেঁড়ি ছাপিয়ে পোল্ডারে পানি ঢুকেছে এবং অনেক স্থানে ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সোলাদানা ইউপির বয়ারঝাপায় ভাঙ্গন কবোলিত এলাকা সংস্কার করেছে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। এবং পানিবন্ধি মানুষের খাবার পরিবেষণ করেছে। গড়ইখালীর ক্ষুতখালীতে প্যানেল চেয়ারম্যান আঃ ছালাম কেরু স্থানীয়দের সহয়তায় ঝুঁকিপূর্ণ বেধিবাধে বালির বস্তা ও মাটি দিয়ে মেরামত করেন। এদিকে কালীনগরে ২ ফুটের উর্ধে ঝুকিপূর্ন বেঁড়িবাধ ভেঙে গোটা এলাকা লবন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। লস্করের খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে ১৫ ফুট ও কড়ুলিয়ার আনিছ খার ঘের সংলগ্ন স্থানে ৪০ফুট বেঁড়িবাধ ভেঙে পোল্ডারে পানি প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প বাঁধ দেওয়ায় খেয়াঘাটের ভাঙন রক্ষা পায়। লবন পানিতে ২শ একর তরমুজ ক্ষেত, কাচা ঘরবাড়ি, পুকুর ও ফসলের ক্ষেত তলিয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যন গাজী মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া গাদইপুরের বাইশার আবাদ, রাড়ুলীর কাঠিপাড়া,গড়ইখালীর বাজার, শান্তা গংরক্ষি,দেলুটির গেবুবুনিয়া, মধুখালী,পারমধুখালী, কপিলমুনির শ্রীফলতলা, লতার ইউপির কাঠামারী,লতা,হাড়িয়া, পানা, হালদার চকে ওয়াপদার নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পোল্ডারে পানি প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
খুলনায় আম্ফানে ৮২৫৬০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় সুপার সাইকোন আম্ফানের তা-বে ৮২ হাজার ৫৬০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ২১ হাজার ২৮৮টি চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের ভেসে গেছে। গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, আম্ফানের তা-বে খুলনা জেলার ৯ উপজেলার ৮২ হাজার ৫৬০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে ৫ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । তিনি বলেন, খুলনা জেলায় আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা।
অপরদিকে, খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র ম-ল জানান, খুলনা জেলায় ১৮ হাজার ৯০টি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এছাড়া ৩ হাজার ১৯৮টি সাদা মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে খুলনা জেলায় চিংড়ি ও মৎস্যখাতে ক্ষতি হয়েছে ১৯৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।
আম্ফান: বাগেরহাটে সাড়ে চার হাজার ঘের ভেসে গেছে
বাগেরহাট প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় বাগেরহাটে সাড়ে চার হাজারের অধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে মাছ চাষীদের প্রায় তিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলার হাজার হাজার চাষী। বুধবারের ঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে জেলার রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাগেরহাট জেলায় ৭৮ হাজার ১০০টি মাছের ঘের রয়েছে। চলতি অর্থ বছরের প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিকটন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
চাষীরা বলছেন, ঝড়ে জেলার কোথাও কোথাও ভেড়িবাঁধ ও রাস্তা উপচে এবং কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে শতশত মাছের ঘের ভেসে গেছে। ঘেরের মাছ বেরিয়ে গেছে। এতে আমরা দারুণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।
বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা খালেদ কনক বলেন, জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া মাছের ঘেরের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক একটি হিসাব নিরুপণ করা হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৫টি মাছের ঘের ভেসে ২ কোটি ৯০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।জলোচ্ছ্বাসে কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। জেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে পাট, সাড়ে তিনশ হেক্টরে আউশ ধানের বীজতলা, ১১০০ হেক্টরে পান এবং চার হাজার হেক্টরে গ্রীষ্মকালিন সবজি রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে জলোচ্ছ্বাস ও অতিবর্ষণে উপকূলীয় বাগেরহাটের মাঠে থাকা গ্রীষ্মকালিন সবজি, আউশ ধানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণ করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।
শ্যামনগরে বাঁধ ভেঙে ৫ ইউনিয়ন প্লাবিত, ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভেঙে গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ী, বুড়িগোয়ালিনী ও রমজাননগর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তালিয়ে গেছে কয়েক হাজার মৎস্যঘেরের প্রায় কোটি টাকার মাছ। বিধ্বস্ত হয়েছে শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ লাইন, উপড়ে গেছে গাছপালা। প্লাবিত হওয়া পাঁচটি ইউনিয়নের হাজারও মানুষ এখন পানি বন্দি।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ঝড়ের গতি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে উত্তাল জোয়ারে ঢেউয়ের আঘাতে ইউনিয়নের জেলিয়াখালী, নেবুবুনিয়া, পার্শ্বেমারী ট্যাকের হাটখোলা ও নাপিতখালী পয়েন্টে পাউবো বেড়িবাঁধ নদীতে ভেঙ্গে কয়েক হাজার মৎস্যঘের তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙন বন্ধে চেষ্টা চলছে।
পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. আতাউর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে ইউনিয়নের কামালকাটি, ঝাপা, চাউলখোলা, চন্ডিপুর ও খুটিকাটা সংশ্লিষ্ট কপোতাক্ষ নদের পাউবো বেড়িবাঁধ ভেঙে সমগ্র ইউনিয়ন তলিয়ে ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। দুই হাজার মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় জোয়ার-ভাটা অব্যাহত আছে। তবে, পাউবো কর্তৃপক্ষ বালির বস্ত দিয়ে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করছে। বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, দাতিনাখালী আতিয়ার মোড়লের বাড়ির সামনে এবং জুয়েল হ্যাচারিসহ দুর্গাবাটি নেছার মালির ঘের সংশ্লিষ্ট পাউবো বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ এখন পানি বন্দি। হাজার হাজার মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। শতাধিক ঘরবাড়ি ও গাছপালা সহ বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।
কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ইউনিয়নের ঝাপালি ও ঘোলা সংলগ্ন পাউবো বেড়িবাঁধ খোলপেটুয়া নদীতে ধসে ছটি গ্রামে পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকশত মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।
রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন গোলাখালী গ্রাম সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। ৪০টি পরিবার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসডিই) মো. রাশেদুর রহমান বলেন, উপজেলার পাঁটি ইউনিয়নের এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ রূপে ভেঙ্গে গেছে। সার্বিক বিষয়টি পাউবো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শ্যামনগর উপজেলা সাব-জোনাল (এজিএম) মধুসুধন রায় বলেন, ঝড়ে উপজেলা ব্যাপী বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কবলে ৩৩ কেভি লাইনের ১৯টি সহ মোট ৪০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। সমগ্র উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী জানান, ঘূর্নিঝড়ে উপজেলা ব্যাপী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কাচাঘর বাড়ি, গাছপালা ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ সঠিক ভাবে নিরূপনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও ৫০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সমগ্র উপজেলাকে সচল করার চেষ্টা চলছে।
নাটোরে অসহায় শতাধিক শামুকখোল পাখি রান্না করে খেল গ্রামবাসী!
এনামুল হক চিনু
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে উপকূলে নিজের জানমাল বাঁচাতে ব্যস্ত মানুষ বাংলাদেশেরও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ঝড় যখন প্রবেশ করে তখন তার দাপট থেকে বাঁচতে নাটোরের স্থানীয় মানুষজন নিজ বাড়িতে বা নিকটতম আশ্রয়ের খোঁজে ছোটে। আর তারই মধ্যে কিছু মানুষ অতিথী শামুকখোল পাখি ধরে নিয়ে ভুড়িভোজ করে। ঘটনাটি নাটোর জেলার বড়াইগ্রামে।
জানা যায়, ঝড়ের তা-বে মাটিতে আছড়ে পড়া শতাধিক অসহায় শামুকখোল পাখি ধরে নিয়ে ভুড়িভোজ করেছে স্থানীয় কিছু মানুষ। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাতাসের তোড়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে প্রায় শ’ খানেক পাখি মাটিতে পড়ে গেলে ভোরের দিকে ঐ গ্রামের কিছু মানুষ পাখিগুলো ধরে নিয়ে জবাই করে রান্না করে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পাখি প্রেমীরা।
বাজিতপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক মহসিন আলী বলেন, তিন-চার মাস ধরে গ্রামের বটতলা মোড়ের পাশের তিনটি শিমুল গাছে আস্তানা গড়ে শতাধিক শামুকখোল পাখি। দিনের বেলায় পাখিগুলো আশপাশের বিলে খাবার খেয়ে রাতে এসব গাছে এসে আশ্রয় নিত। এর মাঝে অনেকেই পাখিগুলো শিকার করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু গ্রামের সচেতন তরুণদের বাধার কারণে তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু ঝড়ের সুযোগে কিছু লোভী মানুষের কারণে শেষ রক্ষা হলো না।
তিনি জানান, বুধবার রাত থেকে ঝড়ের তা-বে পাখিগুলো এক এক করে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় সুযোগসন্ধানী লোকজন পাখিগুলো ধরে বাড়িতে নিয়ে যান। মাংস হিসেবে রান্নার জন্য পাখিগুলো জবাই করে তারা। খবর পেয়ে স্থানীয় পাখি প্রেমীরা ছুটে যান বাড়ি বাড়ি। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়। অনেকেই রান্নার জন্য এসব পাখির মাংস চুলায় চড়িয়ে দিয়েছেন বলে দেখেন তারা। পরে পাখিগুলোর আশ্রয় নেয়া গাছগুলোর কাছে গিয়ে আর কোন পাখি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি নিজেসহ গ্রামের অনেকেই এসব অতিথি পাখির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাখি প্রেমী লোকজন এগুলো দেখার জন্য আসতো। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সব শেষ করে দিলো।
বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, পাখিগুলোর প্রতিটি ২-৩ কেজি করে ওজন ছিল। পাখিগুলোর প্রতি গ্রামের কিছু লোকের আগে থেকেই লোভ ছিল। ঝড়ের সময় মানুষ যখন নিজেদের জানমাল নিয়ে ব্যস্ত, তখন ওইসব লোকজন পাখিগুলো ধরে নিয়ে কেটে কুটে রান্নার উপযোগী করে ফেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন সাবু বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ধরে নেয়া পাখির সংখ্যা ৫০-৫৫ টির মত হবে। গ্রামের লোকজনের সচেতনতার কারণে এতদিন পাখিগুলো ধরতে পারেনি। কিন্তু এবার আর পাখিগুলো বাঁচানো গেল না। এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, বাজিতপুরে গ্রামে অতিথি পাখি শামুকখোল থাকার বিষয়টি জানা ছিল না। এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘূর্ণিঝড়ের বিরুদ্ধে পুনরায় রক্ষাকর্তা সুন্দরবন
স্টাফ রিপোর্টার
পুনরায় আরেকবার ঘূর্ণিঝড়ের বিরুদ্ধে রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলো সুন্দরবন। বুধবার সন্ধ্যা থেকে সুপার সাইকোন আম্ফান দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তান্ডব চালাতে শুরু করলে তা প্রতিহত করে বাঁধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় ম্যানগ্রোভ বনটি যা বৃহস্পতিার ভোর পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সুপার সাইকোনটি বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঝড়ো বাতাস, প্রচন্ডবৃষ্টি এবং ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সহ প্রথম আঘাত হানে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, মারাত্মক এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরা এবং সুন্দরবনের উপর শক্তি প্রদর্শন করার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ কিঃমি প্রতি ঘন্টায় যা দমকা হাওযার আকারে সর্বোচ্চ ১৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে সুন্দরবন না থাকলে আম্ফানের ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন আরও অনেক বেশি হতো। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি উপকূলীয় অঞ্চলকে আম্ফানের হিংস্রতা থেকে রক্ষা করেছে।
খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন “সুন্দরবন আম্ফানের বিশাল ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করেছে। এই বন আমাদেরকে বরাবরই আম্ফানের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এর প্রভাব থেকে রক্ষা করে চলেছে” তিনি বলেন, “ঘন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হাওয়ায় সুন্দরবন একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। বাতাসের গতিকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি যখন ঝড় এর ভেতর দিয়ে যেতে থাকে তখন এই বন জলোচ্ছ্বাস এবং সমুদ্রের ঢেউ কে ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলে”
এর আগেও ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে একই ধরনের দুটি ঝড়ে ঢাল হিসাবে কয়েক লাখ মানুষকে রক্ষা করে এই সুন্দরবন।
ডুমুরিয়ায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি, প্লাবিত ১০ গ্রাম
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইকোন আমফানের আঘাতে ল-ভ- হয়ে পড়েছে খুলনার ডুমুরিয়া। প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপকুলবর্তী বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০ গ্রামসহ প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার বসতবাড়ি ভেঙে গেছে। ওই এলাকার মানুষ নিকটবর্তী সাইকোন শেল্টারসহ বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে।
জানা যায়, বুধবার রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড় আমফান গভীর রাত পর্যন্ত ডুমুরিয়া এলাকায় তা-ব চালায়। প্রচ- জলোচ্ছ্বাসে বাঁশতলা ও লতাবুনিয়া এলাকায় নদীর কুলবর্তী রক্ষাবাঁধ ভেঙ্গে ঘেংরাইল নদীর পানি প্রবেশ করে। সম্পূর্ণভাবে ২ গ্রাম পাবিত হয়। এছাড়া পাউবোর ২৯ নং পোল্ডার বাধ ভেঙে শরাফপুর, চাদগড়, আকড়া ও বাহির আকড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। নদীতে ১০/১২ফুট পানি বৃদ্ধি হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে তেলিখালী ও বকুলতলা গ্রামের রক্ষাবাঁধ উপচে এলাকা প্লাবিত হয়। ভয়াবহ ঝড়ে ল-ভ- হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎখাত। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বানভাসিদের মাঝে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারি কর্মকর্তারা ত্রাণ দিতে শুরু করেছে। এছাড়া ঝড়ে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পাউবোর কর্মকর্তা এসডি মিজানুর রহমান বলেন, নদীতে প্রচ- পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে শরাফপুরে ২৯ নং পোল্ডারের বাঁধ উপচে ভিতরে পানি প্রবেশ করার ফলে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। সকালে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করা হয়। এছাড়া বকুলতলা, তেলিখালী, জাবড়া, বাঁশতলা, লতাবুুনিয়া ও বাগআছড়া এলাকায় নদীরকুলবর্তী রক্ষাবাঁধ ভেঙে এলাকা পাবিত হয়। এই মুহূর্তে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব না হলেও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে দ্রুত মেরামত করা হবে। তবে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবদুল মতিন বলেন, আম্পানের আঘাতে বিভিন্ন স্থানে ৭২ খুঁটি ভেঙে গেছে। প্রায় ১০০ খুঁটি হেলে পড়েছে। ১২০০ টি মিটার নষ্ট হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টি। ক্রসআর্ম ভেঙে গেছে দেড় শতাধিক। এছাড়া ১ হাজারের বেশি স্থানে তারের উপর গাছপালা পড়ে আছে। আমরা এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সচল করার জন্য দুর্যোগের আলোর গেরিলা (কুইক রেন্সপন্স টম) সহ মোট ৯৮টিম কাজ করছি। আশাকরি ঈদের আগেই সব এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করতে পারবো। সবমিলে বিদ্যুৎখাতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ায় ২৩৫০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লতাবুনিয়া ও বাশতলা গ্রাম সম্পূর্ণ পাবিত হয়েছে। সেখানকার মানুষগুলো কে নিকটবর্তী লতাবুনিয়া স্কুলে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদেরকে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: শাহনাজ বেগম স্যার, এমপি স্যার ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ত্রাণ বিতরনে সহযোগিতা করেন। তবে আম্ফানের আঘাতে ডুমুরিয়ার বসতঘর ভেঙে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইকোন আম্পান ডুমুরিয়ায় বিশেষ করে উপকুল অঞ্চলে ব্যাপক আঘাত এনেছে। প্রচন্ড জলোচ্ছ্বাসে লতাবুনিয়া, বাঁশতলা, বাগআঁছড়া, তেলিখালী, বকুলতলা ও জাবড়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বাঁধ মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
যশোরে এইসএসসি ২০১৭ সালের ব্যাচের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
যশোর অফিস
যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ২০১৭ সালের এইসএসসি ব্যাচের (মানবিক শাখার) বন্ধু মিলে করোনা ভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আম্পান দুর্যোগের সময় বৃহস্পতিবার সকালে যশোর শহরের ১৫ জন অসহায় মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। খাদ্য সামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে ৪ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ লিটার তেল ও ১ টি সাবান।
এইচএসসি ব্যাচের মোঃ নাহিদ হোসেন, রিয়াজুল হাসান জনি, আরিয়ান নোমান, মোস্তাফিজুর রহমান, তানভীর রহমান, এ্যানি পারভীন ও নাসিম আলির অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বৃহস্পতিবার তানভীর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণের তারা বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে কয়েকজন মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে পেরেছি, এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি এটাই আমাদের আনন্দ। আমরা চাই, সমাজে যারা বিত্তবান মানুষ আছে তারা এই ক্রান্তিকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দুঃখ লাঘব করুক।
মোড়েলগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী’র ত্রাণ নিয়ে ছুটে এলেন জেলা প্রশাসক
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সুপার সাইকোন ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে এলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। বুধবার বিকেলে তিনি পানগুছি নদীর তীরবর্তী সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এ সব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ-ই আলম বাচ্চু, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, মোড়েলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার(ভূমি)রঞ্জন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা মো. নাসির উদ্দিন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী হাওলাদার প্রমুখ। এ সব খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল, ডাল, তেল, চিনি, লুডুসসহ বিভিন্ন সামগ্রী। মোড়েলগঞ্জ সদর ও খাউলিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে । এ ছাড়াও বাকি ইউনিয়নগুলোতে পর্যায়ক্রমে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন।
খুবি শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ২৯ টি ডিসিপ্লিনের ৮৭ জন অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনা ভাইরাসের বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ টি ডিসিপ্লিনের প্রতিটি ডিসিপ্লিন থেকে ৩ জন করে মোট ৮৭ জন অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ২,১৭,৫০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রত্যেক ডিসিপ্লিন প্রধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন থেকে ৩ জন করে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থী মনোনীত করা হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন অস্বচ্ছল কর্মচারীর মধ্যে প্রত্যেককে পাঁচশত টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
খুবিতে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে সাত টায়
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ-উল ফিতরের নামাযের জামাত বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে সকাল সাড়ে সাত টায় সরকারী নির্দেশনা অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের নামাযে ইমামতি করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।
ফুলতলায় হতদরীদ্রদের মাঝে ইফতারী সামগ্রী বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল ইসলাম মনা’র নির্দেশে খুলনা মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ইকবাল হোসেনের পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় ২০ মে বুধবার সকাল ১০টায় ফুলতলা ইউনিয়ন এলাকায় কর্মহীন অসহায় হতদরীদ্রদের মাঝে সামাজিক ও শারিরিক দুরত্ব বজায় রেখে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাসার, ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সরদার সেলিম, জেলা বিএনপি’র সদস্য শফিক আহম্মদ মেজবাহ, থানা বিএনপি’র সদস্য সৈয়দ বাবর আলী, শেখ শরিফুল ইসলাম, মিয়া রফিকুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন রানা, ইব্রাহিম সরদার, শেখ ইনজাহার আলী, মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্যা, মোঃ রবিউল ইসলাম মল্লিক,মোঃ রুহুল আমিন, মোল্যা আইউব হোসেন, শেখ আবু বক্কার , সিরাজুল ইসলাম মোড়ল প্রমুখ। এদিকে ১৯ মে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় দামোদর ইউনিয়ন এলাকায় কর্মহীন অসহায় হতদরীদ্রদের মাঝে সামাজিক ও শারিরিক দুরত্ব বজায় রেখে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি সহ সভাপতি এসএরহমান বাবুল, বিএনপি নেতা ওয়াহিদুজ্জামান নান্না মোল্যা, দামোদর ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি জামাল হোসেন ভুইয়া, মশিউর রহমান বিপ্লব, আফতাব উদ্দিন খান বিদ্যুৎ, আক্তারুজ্জামান কচি, আবুল হোসেন, শেখ নজরুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান জুয়েল, আবিদ হোসেন, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বারাকপুর খেয়াঘাটের মাঝিদের মধ্যে ঘাট ইজারাদার ইজাজুলের ঈদ উপহার বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
গিলাতলা বারাকপুর (সন্ন্যাসীহাট) খেয়াঘাট মাঝিদের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন ঘাট ইজারাদার । বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় এ ঘাটে চলাচলরত সকল ট্রলারের মাঝিদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন ঘাট ইজারাদার ও বারাকপুর বাজার বনিক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ ইজাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটি’র সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার আটরা গিলাতলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক।
বাদামতলা মোড়ল ফিলিং ষ্টেশনের স্বত্বাধিকারীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
করোনার প্রভাবে কর্মহীন মানুষের মাঝে, খাদ্রসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন বাদামতলা মোড়ল ফিলিং ষ্টেশনের স্বতা¡ধিকারী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোড়ল আঃ সোবহান। বৃহস্পতিবার ৭ম দফায় যোগিপোল ইউনিয়নের ৬ শতাধিক পরিবারের মধ্যে মোড়ল আব্দুস সোবহানের পক্ষে তার পুত্র মোঃ নাজমুল হোসেন এসকল খাদ্রসামগ্রী বিতরণ করেন । করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্রসামগ্রি বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন । তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্রসামগ্রী বিতরন করেছেন ।
ছাত্রলীগ নেতা অয়নের সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্প্যাদক শেখ নাজমুল হক অয়ন বৃহস্পতি বার বেলা ১২ টায় সাংবাদিকদের মধ্যে হ্যান্ড সেনিটাইজার, মাস্ক, স্যাভলন , সাবান, হেডক্যাপ সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করেছে । এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শির্ক্ষার্থী মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন অমি, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক, মিহির রঞ্জন বিশ্বাস ।
ইন্দুরকানীতে ঘূর্নিঝড়ে আম্ফানে একজনের মৃত্যু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইন্দুরকানী(পিরোজপুর) প্রতিনিধি
ইন্দুরকানীতে ঘূর্নিঝড় আম্ফানের প্রভাবে পানি বন্দি হয়ে পাড়েরহাট উমেদপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে মোঃ শাহ আলম (৫৫) মৃত্যু হয়েছে । উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত পানি হওয়ায় কচানদীর ভেরিবাধগুলো ভেঙ্গে চাড়াখালী আদর্শ গ্রাম,জাপানী ব্যাক হাউজ,চরসাঈদখালী,পাড়েরহাট আবাসন সহ পাঁচ শতাধিক কাচা ঘরবাড়ি, ইরি ধান,রবিশস্যা, মাছে ঘের , পানের বরস , কলা বাগান, ও পল্ট্রী ফার্মা,গাছপালা সহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং গ্রামীন অবকাঠামোর কাচা ও পাকা রাস্তা গুলো পানিতে ডুবে ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । ঘূর্ণিঝড় আ¤ফানের কারনে ২দিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ বিচ্ছন্ন । পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন,ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ,জেলা ত্রান কর্মকর্তা মোজাহারুল হক,পিআইও শফিকুল ইসলাম উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে এবং মৃত্যু ব্যক্তির পরিবারকে নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় কাচাঘরবাড়ী রবিশস্য, পানের বরস, মাছের ঘের,কলাবাগান,ইরি ধান সহ ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিয় হয়েছে । এছাড়া পানি বন্দি হয়ে একজন মারা গেছে।
অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে খুলনা সোসাইটির পথচলা শুরু
খবর বিজ্ঞপ্তি
অসহায় ও দু:স্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করেছে নবগঠিত সামাজিক সংগঠন খুলনা সোসাইটি। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। প্রথম দিনেই সদস্যরা ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে গরীব মানুষের মাঝে সেমাই, চিনি, দুধ, মিছমিস, বাদামসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
নবগঠিত কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন- ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান, এ্যাড. শাহনেওয়াজ বাবুল, আবু তৈয়ব মুন্সী ও আজিজুল হাসান দুলু। চীফ ট্রেইনার হিসেবে রয়েছেন- মো: মাহাবুব আলম। সংগঠনের চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন এস এম সোহেল ইসহাক। কো: চেয়ারম্যান আজগর বিশ্বাস তারা, ভাইস-চেয়ারম্যান হলেন এ্যাড. সেলিনা পিয়া, মো: আব্দুস সালাম শিমুল ও আতাউর রহমান শিকদার রাজু। মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন ফারহানা চৌধুরী কনিকা। যুগ্ম মহাসচিব হলেন ময়েজ উদ্দিন চুন্নু, সাইফুর রহমান সুজন, ওয়াহিদ জামান ও ইঞ্জি. মিজানুর রহমান।
সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন সারিকা জামান রুনা, জি এম শহিদুল ইসলাম, ইঞ্জি. সাব্বির হোসেন ও শেখ সাদিকুর রশিদ অভি, কোষাধ্যক্ষ কাজী আইনুল মুন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ইসরাত আমিন শাবানা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর তাসরিনা বেগম, সমাজ কল্যান সম্পাদক ডা: প্রদীপ দেবনাথ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: দেবাশিষ সরকার, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মেহেদী হাসান, প্রচার সম্পাদক আব্দুল জলিল সাগর, দপ্তর সম্পাদক মো: জয়নাল ফরাজী, সহ-দপ্তর সম্পাদক শেখ সুমনা আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. জামিলা আকতার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক গোপাল কর্মকার, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক কাজী মাহফুজুর রহমান, পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এস এম মিশকাতুল ইসলাম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো: মাসুদ রানা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি: আরিফুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি: হাসিবুর রহমান ইমন, মানকল্যান সম্পাদক ডা: মো: নজরুল ইসলাম। সদস্যরা হলেন- বেগ রফিকুল ইসলাম, প্রফেসর আহমেদুল কবির চাইনিজ, রফিকুল ইসলাম পিটু, মো: নুর ইসলাম, ডা: বিষ্ণুপদ সাহা, ডা: চয়ন বিশ্বাস, সাজিনা ইসলাম, ইমরুল কায়েস জুয়েল ও মো: তারেক হাসান।
করোনায় মানবিক সহায়তা নিয়ে তিন’শ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন খুলনা শাখা
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশব্যাপী চলছে সাধারণ ছুটি। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। কর্মহীন ও দরিদ্র এসব মানুষের জন্য সহায়তার হাত বড়িয়েছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএইচবিএফসি খুলনা জোনাল অফিসে ৩০০ পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
করোনা দুর্যোগে মানুষের পাশে “মানবিক সহায়তা কার্যক্রম” এই স্লোগানকে সামনে রেখে খুলনায় এই কার্যক্রম ভিডিও কলের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মোঃ আতিকুল ইসলাম এবং বিএইচবিএফসি’র মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌ. মোঃ গোলাম মোস্তফা। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি খুলনার সদস্য সচিব মুঃ আব্দুর রব-এর সার্বিক তত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন, বিএইচবিএফসি যশোর এর রিজিওনাল ম্যানেজার কালিদাস রায়, সহকারী প্রকৌশলী হেদায়েত উল্লাহ, সিনিয়র অফিসার কাকলী রানী, সিনিয়র অফিসার তনয় কুমার দাসসহ অন্যান্য স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
খুলনা বিভাগের ৩০০ টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি খুলনার সদস্য সচিব মুঃ আব্দুর রব বলেন, আমাদের এই জোনাল অফিসের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আড়াইশ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার জন্য। আমরা আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে আরো কিছু অর্থ যোগান দিয়ে তিনশ পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি।
নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা ঈদ সামগ্রী বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
চলমান মহামারি করোনায় কর্মহীন নি¤œ আয়ের মানুষের পাশে দাড়িয়েছে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় খালিশপুর থানাধীন ১০নং ওয়ার্ডে নয়াবাটি ইউনিট শাখার উদ্যোগে নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার মহানগর সহ সভাপতি ও খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ এ এস এম সায়েম মিয়ার সার্বিক তত্ববধায়নে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কাজী ফয়েজ মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার নয়াবাটি ইউনিট শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলামের সাভাপতিত্তে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংগঠনের খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠনের নগর শাখার যুগ্ন সম্পাদক এস এম নূর হাসান জনি, ১০ নং ওয়ার্ড সভাপতি মুন্সি মোঃ মিলন, সহ সভাপতি মেহেদী হাসান সুমন, সিরাজুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, বিশিষ্ট জালানী তেল ব্যবসায়ী মোঃ হাবিবুর রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নয়াবাটি ইউনিট শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়।
আম্পানে গাছচাপা পড়ে মণিরামপুরে পাঁচ জনের মৃত্যু
আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তা-বে ল-ভন্ড হয়েছে যশোরের মণিরামপুর। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর চলা তা-বে উপজেলাজুড়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, সবজি ক্ষেত, গাছপালা, বিদ্যুৎ সংযোগসহ আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আম্পান স্মরণকালের সেরা তা-ব বলে অভিমত অনেকের।
এদিকে আম্পানে ঘরের উপর গাছ পড়ে উপজেলার মশ্মিমনগরের পারখাজুরায় বৃদ্ধ দম্পতি, পিতা-পুত্রসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম।
নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের ঋষিপাড়ার খোকন দাস (৭০) ও তার স্ত্রী বিজন দাসী (৬০), দফাদার পাড়ার ওয়াজেদ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইছা (১৫) এবং একই পাড়ার মৃত জবেদ আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম (৭০)। রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ফতেউর জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তা-বের সময় নিহতরা সবাই ঘরেই ছিলেন। হঠাৎ রাতের কোন একসময় তাদের ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়ে। তখন চাপা পড়ে পারখাজুরা গ্রামে পৃথক তিন পরিবারে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এসআই ফতেউর বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর পেয়ে আমরা এলাকায় যাই। ততক্ষণে নিহতদের তিন জনের দাফন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুই জনের শ্মশানে সৎকারের কাজ চলছিল।
মণিরামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবাশীষ গাছ চাপা পড়ে পাঁজ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় থানায় ডাইরি করা হয়েছে।
আম্পানের প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে মণিরামপুরে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বুধবার সন্ধ্যা থেকে তা-ব শুরু হয় আম্পানের। বৃষ্টির সাথে থেমে থেমে প্রবল বেগে ঝড় বইতে থাকে ভোর পর্যন্ত। এতে উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। উড়ে গেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের চালের টিন। বড়বড় গাছ উপড়ে পড়েছে বসত ঘরসহ সড়কের উপর। ফলে রাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাছ কেটে রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া বিদ্যুতের খুটি ভেঙে ও তার ছিড়ে পড়ায় বুধবার রাত থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সদর দপ্তরের (মণিরামপুর) এজিএম (অপারেশন ও মেইন্টেই) মো. শফিক বলেন, আম্পানে মণিরামপুরে ২৮২ টি বিদ্যুতের পুল ভেঙে পড়েছে। ৩১টি স্পটে মেইন সংযোগের তারের উপর গাছ ভেঙে পড়েছে। ঠিকাদারগ্রুপসহ আমাদের ৩৫০জন কর্মী কাজ করছেন। ঈদের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে উপরের নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে আম্পানের প্রভাবে উপস্থিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আম্পানে ৩৬০ হেক্টর জমির পেঁপে, ১২৪ হেক্টর জমির কলা, ১১০ হেক্টর জমির আম এবং ১৫২ হেক্টর জমির তিলের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরেছি। কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হরিদাসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাড়ে বলেন, আম্পানে আমার ঘরের উপর জামগাছ উপড়ে পড়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। গাছপালা ভেঙে রাস্তা আটকে থাকায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় উপস্থিত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা যায়নি।
নেহালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাদৎ বলেন, ঝড়ে প্রচুর বড়বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি যে কত ভেঙেছে তার কোন হিসেব নেই।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, সকালে পৌর এলাকার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। ঝড়ে পেঁপে ও কলা গাছ ভেঙে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে কাজ করছেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে গাছ পড়ে উপজেলার প্রতিটি রাস্তা আটকা পড়েছে। অনেকের চালের টিন উড়ে গেছে। আবার দূর্বল ঘর পড়েছে অনেক। মোবাইল ফোনের সংযোগ না থাকায় সব এলাকা থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উপস্থিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বররা তথ্য নিচ্ছেন। আশাকরি দ্রুত সব তথ্য পেয়ে যাব। ঘরভেঙে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
খুলনার ল্যাবে ১১ জনের করোনা শনাক্ত
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) আরটি-পিসিআর ল্যাবে আরও ১১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে সাতজন খুলনার, নড়াইলের তিনজন ও যশোরের একজন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর মেশিনে মোট ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা জেলার নমুনা ছিলো ৩৬টি। এদের মধ্যে মোট ১১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তিনি আরও জানান, খুলনায় আক্রান্তদের মধ্যে গল্লামারী মোহাম্মদনগর এলাকার ৪২ বছর বয়সী একজন, সোনাডাঙ্গা সিদ্দিকিয়া মহল্লার ৫৮ বছর বয়সী একজন, ডুমুরিয়া হাশেমপুর এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। এছাড়া বাকি তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই সাতজন ছাড়া নড়াইল জেলার তিনজন ও যশোর জেলার একজন রয়েছেন। এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, খুলনা জেলায় এ পর্যন্ত ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১২ জন সুস্থ্য হয়েছেন।










































