Home আঞ্চলিক পাল্টে যাচ্ছে খুলনার শিববাড়িসহ দুটি মোড়ের নাম !

পাল্টে যাচ্ছে খুলনার শিববাড়িসহ দুটি মোড়ের নাম !

35

স্টাফ রিপোর্টার।।
মহানগরী খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিববাড়িসহ দুটি মোড়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এর মধ্যে শিববাড়ি মোড়কে ‘বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর’ ও বর্তমান বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর (শেরে বাংলা রোড ও কেডিএ এভিনিউয়ের সংযোগ স্থল) নাম পরিবর্তন করে শহীদ শেখ আবু নাসের চত্ত্বর করা হবে।

আগামী রবিবার (৩০ এপ্রিল) করপোরেশনের (কেসিসি) ১৯তম সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। করপোরেশনের প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষরে ডাকা সাধারণ সভার নোটিশে এ তথ্য জানা গেছে। ১৪টি এজেন্ডার মধ্যে এটি আলোচ্যসূচির ৫ নম্বর এজেন্ডা।

তবে খুলনার ঐতিহ্যবাহী স্থানের নাম পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, অতীত ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ করে নাম পরিবর্তন সঠিক হবে না। আর আগেও একটি পক্ষ শিববাড়ির নাম পরিবর্তন করে বাবরী চত্ত্বর করার দাবি জানায়। কিন্তু সকলের বিরোধীতায় বাস্তবায়ন হয়নি। এখন সিটি করপোরেশন একই উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।

কেসিসির সাধারণ সভার নোটিশে জানা গেছে, আগামী ৩০ এপ্রিল বেলা ১১টায় কেসিসির শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসির ১৯তম সাধারণ সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। সভার ৫ নম্বরসূচিতে উল্লেখ রয়েছে নগরীর শিববাড়ি মোড়ের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর করা প্রসঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ওই নম্বরের আলোচ্য সূচিতে বর্তমান বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরের (শেরে বাংলা রোড ও কেডিএ এভিনিউয়ের সংযোগ স্থল) নাম পরিবর্তন করে শহীদ শেখ আবু নাসের চত্ত্বর নামকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘নামকরণের ক্ষেত্রে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শিববাড়ি মোড়টি ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো। বিষয়গুলো সিটি করপোরেশনের ভাবনায় আনতে হবে।’

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম সাধারণ সভায় আলোচ্যসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকলের সম্মতিতে বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে আনা হয়েছে। এটি গৃহিত হলে প্রস্তাবনাগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ঐতিহাসিক ড. শেখ গাউস মিয়ার তার ‘মহানগরী খুলনা’ বইয়ে অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে জনৈক সার্ভেয়ার উমাচরণ দে ‘শিব মূর্তি’ স্থাপন করেন বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সময় থেকে ওই এলাকাটি শিববাড়ি মোড় হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৩ সালের ১৩ মার্চ যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সেখানে বাবরী চত্ত্বরের ফলক স্থাপন করলেও তা কার্যকর হয়নি।