Home আঞ্চলিক খুলনা জেলা বিএনপি’র গ্রুপিং প্রকাশ্যে!

খুলনা জেলা বিএনপি’র গ্রুপিং প্রকাশ্যে!

21

মোস্তফা জামাল।।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) খুলনা জেলা বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিবৃতির মাধ্যমে গ্রুপিং অনেকটা প্রকাশ্যে এসেছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আজিজুল বারী হেলাল, জেলা আহবায়ক আমীর এজাজ খানসহ বৃহস্পতিবার রাতে আটককৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি ও আহবায়ক ( ভারপ্রাপ্ত) আবু হোসেন বাবু প্রেরিত দুটি পৃথক বিবৃতিতে গ্রপিং এর বিষয়টি প্রকাশ্যে। মনিরুল হাসান বাপ্পি প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক এনামুল হক সজল, ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ ইকবাল হোসেন খান ও উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক মোঃ ইব্রাহিম হোসেনসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আমীর এজাজ খানসহ ১৪জন নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পন্ড করতে গণগ্রেফতার অভিযান চালায় পুলিশ। শুক্রবার এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অবিলম্বে আওয়ামী আজ্ঞাবহ পুলিশের এধরণের নেক্কারজনক কার্যক্রম বন্ধের আহবান জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দীদের মুক্তি দিয়ে সুস্থধারার রাজনীতিতে ফেরার আহবান জানিয়েছেন বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, যুগ্ম-আহবায়ক শেখ আবু হোসেন বাবু, খান জুলফিকার আলী, সাইফুর রহমান, এসএ রহমান, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মোঃ রকিব মল্লিক, মোস্তফাউল বারী, মোল্লা মোশাররফ রহমান, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ তৈয়বুর রহমান, এসএম শামীম কবীর, আশরাফুল আলম খান, শামসুল আলম পিন্টু ও মেজবাউল আলম প্রমুখ।।

অপরদিকে আবু হোসেন বাবু প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, জননেতা আজিজুল বারী হেলাল, আমির এজাজ খান, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা মশিউর রহমান সহ ১৮ জন নেতাকর্মী ডুমুরিয়া উপজেলায় গায়েবি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হয়ে নিন্ম আদালতে হাজির হলে কতৃত্তবাদি অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ নিম্ন আদালত জামিন নামনজুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। অপরদিকে অবৈধ সরকারের রক্ষীবাহিনী পুলিশ গতকাল রাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-নের অংশ হিসেবে নিরীহ নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার চালিয়ে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সজল, নগর কৃষক দলের আহবায়ক সজিব তালুকদার, জেলা যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজু সহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিবৃতি দাতার হলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আবু হোসেন বাবু, যুগ্ম আহবায়কদ্বয় খান জুলফিকার আলী জুলু, আব্দুর রকিব মল্লিক, এস এ রহমান বাবুল, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, মোঃ তৈয়েবুর রহমান, আশরাফুল আলম খান নান্নু,শামসুল আলম পিন্টু, জেলা যুবদলঃ সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েদ, সিঃ সহসভাপতি আব্দুল্লাহ কাফি সখা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাবির আলী, সেচ্ছাসেবক দলঃ সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রুনু, সিঃ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ দিলু, আনোয়ার হোসেন আনো, মহিলা দলঃ সভানেত্রী এ্যাডঃ তসলিমা খাতুন ছন্দা, সাধারণ সম্পাদিকা সেতারা সুলতানা, কৃষক দলঃ সভাপতি মোল্লা কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ, শ্রমিক দলঃ বাবু উজ্জ্বল কুমার সাহা, ছাত্রদলঃ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, মুহিদুল ইসলাম সোহাগ, হুমায়ুন কবির রুবেল, মোঃ সাগর সিকদার, মৎস্যজীবি দলঃ মোঃ আজিজুল রহমান, ওলামা দলঃ মাওলানা ফারুক হোসেন প্রমুখ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার তাদের খুন, গুম,লুটপাট ও দূর্নীতির বিচারের ভয়ে আতংকিত হয়ে পরবর্তী নির্বাচনে আবারও ভোট ডাকাতি করার প্রয়াসে মাঠের সকল বাঁধা অপসারণের লক্ষ্যে দলকানা পুলিশ ও আজ্ঞাবহ বিচারিক প্রশাসনের সহযোগিতায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্মুল করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। তবে যতই চেষ্টা করুক অবৈধ মাফিয়া হাসিনার সরকার পুলিশ ও সন্ত্রাসী দিয়ে অতীতের ন্যায় দিনের ভোট রাতে করার সুযোগ পাবে না। সুতরাং এ অবৈধ সরকারের পক্ষ নিয়ে যারা অবৈধ কাজে সহায়তা করছে তাদের আগামীতে জাতির সামনে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে তৃণমুল্যে ক্ষোভের সঞ্চার পরিলক্ষিত হয়েছে। পাইকগাছা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম এমদাদুল হক বলেন, জেলা বিএনপি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে আবারো আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে। এটা দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী। আহবায়ক কমিটি ব্যর্থ হলে সম্মেলনের মাধ্যমে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব যে ৭টি আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে আবারো আহবায়ক গঠন করেছে এটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ ধরণের মনগড়া সিদ্ধান্ত মোটেই সমর্থন করা যায় না।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, আহবায়ক কারাগারে রয়েছেন। কাউকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু হোসেন বাবু বলেন, আহবায়ক কারাগারে আছেন এ অবস্থায় সিনিয়র যুগ্ম আহবায়কই ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পালন করবেন এটাই সাংগঠনিক নিয়ম। পাল্টাপাল্টি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। এখানে জেলা বিএনপির শীর্ষ দুইজন দল চালাবে এটা কি করে সম্ভব।

২টি পৌরসভা ও ৫টি থানা কমিটি গঠন হলো তাদের পছন্দের লোক দিয়ে। কোন ধরণের আলোচনা নেই, অন্যকারো মতামত নেয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না। চলমান গনতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতাকর্মীরা মামলা, হামলা শিকার হচ্ছেন। কেউ বাড়িতে থাকতে পারছেন না। যারা রাজপথে থাকেন তাদের অবশ্যই মুল্যায়ন করা উচিৎ। বাবু আরো বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি বাতিলের আহবান জানানো হয়েছে। দলের স্বার্থে আমরা গঠনতন্ত্র মোতাবেক সামনে এগিয়ে যাবো।