স্টাফ রিপোর্টার।।
একটি টেবিলের ওপর থরেথরে সাজানো প্রাচীন প্রায় দেড়শ কুপিবাতি। আরেকটি টেবিলের ওপর নানা ধরনের অসংখ্য রেডিও। রয়েছে প্রাচীন ক্যামেরা, প্রথম দিকের টেলিফোন সেট ও কলের গান। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলসহ দেড়শ-দুইশ বছরের পুরাতন তালা ও চাবি, প্রাচীন মুদ্রা ও যুদ্ধাস্ত্র।
খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে প্রদর্শন করা হচ্ছে এসব দুর্লভ সামগ্রী। খুলনা কালেক্টরস সোসাইটি আয়োজিত শৌখিন সংগ্রাহকদের সামগ্রীর এই প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ৩১ জন সংগ্রাহকের হাজার বছরের দুর্লভ মুদ্রা, প্রাচীন সামগ্রী, তৈজসপত্র, তালা-চাবি, কুপিবাতি, ধাতব মেডেল, ডাকটিকিট, দেশলাইসহ নানা দ্রব্য। তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত চলবে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
প্রদর্শনীতে রয়েছে মসলিন শাড়ি, মোগল সাম্রাজ্যে ব্যবহূত ঢাল ও আঙুলের বর্ম, সপ্তদশ শতাব্দীতে রৌপ্য ও তামার সংমিশ্রণে হাতে তৈরি প্লেট, সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবাহিনীর সাবমেরিনে ব্যবহূত চাবি দেওয়া ঘড়ি, উনিশ শতকে কামারের ব্যবহূত হস্তচালিত হাওয়ার যন্ত্র। ব্রিটিশ আমলের পায়ের ঘুঙুর, ইংল্যান্ডে ১৯৩০-৫০ সাল পর্যন্ত বিক্রি হওয়া রৌপ্য নির্মিত মোমদানি, ১৯ শতকে জমিদারবাড়িতে ব্যবহূত গুপ্তি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিতে ব্যবহূত বিষমিশ্রিত বেয়নেট। প্রদর্শনীতে আছে কাঠ ও লোহা দিয়ে তৈরি স্যান্ডেল, শতবর্ষ প্রাচীন লাড্ডু গোপাল মূর্তি, পিতলের আয়রন, বেদেদের বাঁশি, প্রাচীন বাটখারা, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে প্রচলিত মুদ্রা ও ব্যাংক নোট। বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত অর্ধশতাধিক ডাকটিকিট, রাজাকারদের বেতনের নথি, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য দেওয়া খেতাব ও মেডেল।
এতে স্থান পেয়েছে প্রয়াত রানী এলিজাবেথের ছবিসংবলিত ব্যাংক নোট, পলিমার ব্যাংক নোট, প্রাচীন-অস্বাভাবিক অদ্ভুত ও রঙিন মুদ্রা, বিভিন্ন দেশের ছিদ্রযুক্ত স্মারক মুদ্রা, এ অঞ্চলের ইউরোপীয় শাসনামলের ব্যাংক নোট, খাড়াভাবে মুদ্রিত বিভিন্ন দেশের ব্যাংক নোট, সিরিয়াল নম্বরের সকল ডিজিটের একই সংখ্যার ব্যাংক নোট, বাংলাদেশের বিশেষ সিরিয়াল নম্বরের ব্যাংক নোট, বাংলাদেশের ত্রুটিযুক্ত বিভিন্ন প্রকার ব্যাংক নোট।
আছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান শাসনামলের ব্যাংক নোট, ভারতীয় রাজতন্ত্রীয় প্রদেশের মুদ্রা, বাংলার সুলতানি শাসনামলের মুদ্রা, দিল্লির সুলতানি শাসনামলের মুদ্রা, মোগল শানামলের মুদ্রা, ভারতীয় স্বাধীন রাজ্যের মুদ্রা, বিলুপ্ত দেশের মুদ্রা, ইকোমিক কুকার (প্রেশার কুকারের আদিরূপ)।
প্রদর্শনীতে আরও রয়েছে পিতলের হুক্কা, পাথরের হুক্কা, মাটির হুক্কা, হরেক রকম ও বাহারি সব ম্যাচবক্স, বিভিন্ন প্রকারের মেডেল, আদিবাসীদের গহনা, প্রাচীন আমলের কেটলি, পানের বাটা, গহনার বাক্স, গোল্ড কয়েনসহ অনেক কিছু।
গতকাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক শেখ হারুনুর রশীদ। উপাচার্য মাহমুদ বলেন, এখানে এলে মনের খোরাক মেটানোর পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য, পরিবর্তন-বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে, জ্ঞানের পরিধি বাড়বে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো তাঁরা এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। এখানে এলে যে কারোরই ভালো লাগবে।
দর্শনার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘এখানে এসে প্রাচীন আমলের অনেক কিছু দেখেছি, খুবই ভালো লেগেছে। পুরাতন সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি।’ দর্শনার্থী শাহ মামুনুর রহমান তুহিন বলেন, ‘এটা একটা অসাধারণ প্রদর্শনী। আমরা সচরাচর যে ধরনের প্রদর্শনী দেখে থাকি, এটা তার ব্যতিক্রম।’










































