খুলনায় বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় ইব্রাহিম (৭০) নামে এক বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর মেশিনে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, আজ খুমেকের পিসিআর ল্যাবে ১৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ইব্রাহিমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তিনি আরও জানান, গত ৩০ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার বাড়ি যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার গোড়াখালী গ্রামে।
ইফতার বিতরণ করে সুখ ও প্রশান্তি খুঁজে পায় খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ
খবর বিজ্ঞপ্তি
অসহায় এতিম রোজাদার মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। প্রতিদিন দিনের ন্যায় ৪মে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ ঘটিকার সময় নগরীর দৌলতপুর থানার দেয়ানা মোহামাদিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় রোজাদার এতিম ছাত্রদের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল। রমজানের শুরুতে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষথেকে নগরীর বিভিন্ন এতিমখানায়, লিল্লাহি বোডিং, পথচারী ও অসহায় মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ করে আসছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন “এই ক্রান্তিকালে রমজান মাসে অসহায় এতিম রোজাদার ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তাদের একটু হলেও মনের তৃপ্তির জন্য প্রতিদিন আমরা ইফতার নিয়ে তাদের নিকট পৌছাচ্ছি। এতিম অসহায় ছাত্রদের মাঝে ইফতার বিতরণ করে এবং তারা ইফতার পেয়ে তাদের যে তৃপ্তি, এটাতেই আমরা ছাত্রলীগ সুুখ ও প্রশান্তি খুঁজে পাই” এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মেহেদী মোড়ল, আরিফ মোড়ল, ইব্রাহীম মোড়ল, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মাহামুদুল ইসলাম সুজন, রেজোয়ান মোড়ল, জিহাদি জিসান, পিয়াল হাসান, মামুনুর রহমান, শেখ শান্ত ইসলাম, আবু তালেব মোড়ল প্রমুখ।
শোক বিবৃতিঃ খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাজমুল হক তাজু’র পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাজমুল হক তাজুর পিতা ডায়াবটিক ও হার্টের সমস্যা জনিত কারনে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৪মে দুপুর ২ ঘটিকার সময় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালের তার বয়স হয়েছিলো আনুমানিক ৭৫ বছর ও তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন। তিনি স্ত্রী পুত্র কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে মৃত্যুবরণ করেন। বাদ আসর নামাজের জানাজা শেষে টুটপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম এ মাজেদ’র ইন্তেকাল
পাইকগাছা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম.এ. মাজেদ লিভার জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সোমবার (৪ মে) আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব শেখ হারুনুর রশিদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মেয়র আলহাজ্জ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারী।
অনুরুপ বিবৃতি দিয়েছেন সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক। বিবৃতিদাতার মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যশোরের দুই সংগঠনের সহায়তা
যশোর অফিস
করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় যশোর বিচারিক আদালতের পৃথক দুইটি সংগঠনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির একাউন্টে এক লাখ ৬৩ হাজার ৪০ টাকা জমা দেয়া হয়েছে। সোমবার যশোর সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে এ অর্থ প্রেরণ করা হয়।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকে ৫২ হাজার ৪০ টাকা কেন্দ্রীয় কমিটির একাউন্টে ও বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার পক্ষে এক লাখ ১১ হাজার টাকা তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির একাউন্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিসিয়াল পেশকার এবং বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম এ তথ্য জানান।
শাহ আলম আরও জানান, আমাদের সংগঠনের সদস্যেদের সাথে আলোচনা করে দেশের এই মহামারি দুর্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতা করেছি। এ মহামারী দুর্যোগ মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সহায়তা প্রদানের জন্য দেশের সকল সংগঠনসহ বিত্তবানদের প্রতি আহবান করছি।
যশোরে গত ৩ দিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি
যশোর অফিস
গত ৩ দিনে যশোর জেলায় কোন করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন। এছাড়া, যশোর জেলার সিভিল সার্জন অফিস থেকে গত ১০ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত স্যাম্পুল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়েছে ৭০৯টি। এর মধ্যে ৫৭টি পজিটিভ এসেছে বাকী সব নেগেটিভ এসেছে বলে সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত হাইয়ূম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান,যশোর থেকে পাঠানো স্যাম্পুলের মধ্যে ২শ’ ১৫টি স্যাম্পুলের পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে আরো জানাগেছে,রোববার সকাল ৮ টা থেকে সোমবার সকাল ৮ পর্যন্ত ৪৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চৌগাছা থেকে ১৫জন, বাগারপাড়া থেকে ১জন, অভয়নগর থেকে ১১ জন, শার্শা থেকে ৮জন ও যশোর সদর উপজেলা থেকে ১৩ জন রয়েছে। সকলকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র গ্রহন করেছেন ১৫ জন।
কেশবপুরে কৃষকের ধান কেটে সহযোগিতা করলেন কানাইডাঙ্গা হাইস্কুলের শিক্ষকবৃন্দ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার আহ্বানে সোমবার কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ কৃষকের ধান কেটে সহযোগিতা করেছেন। কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের পাগল চন্দ্র দাস জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লগডাউনে শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টি-সহ ঝড়ো হাওয়ার কারণে ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন। বিষয়টটি অবগত হয়ে কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফলাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ মাষ্টার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওঃ আব্দুস সবুর, সহকারী শিক্ষক নারায়ন বিশ্বাস, দিনবন্ধু বিশ্বাস, নিতাই বিশ্বাস, আলী আকবর, সুভাষ রায়, নূরুল ইসলাম, আব্দুল গণি, বিদ্যুৎ মন্ডল, মকবুল মাহফুজ, আলাউদ্দীন গাজী, বিশ্বজিৎ নাথ, চিত্তরঞ্জন মন্ডল গতকাল তাঁর ক্ষেতের পাকা ধান কেটে তাকে সহযোগিতা করেছেন। এসময় কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার ব্রম্ম ও পল্লী উন্নয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শীতল চন্দ্র রাহাও উক্ত ধান কাটায় অংশ নেন।
এব্যাপারে কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সুফলাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ মাষ্টার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার আহ্বানে আমরা ধান কেটে কৃষকের সহযোগিতা করছি। তিনি ভাইরাস থেকে বাংলাদেশ-সহ বিশ্ব বাসিকে মুক্তির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। তাছাড়া তিনি দেশের যে কোন সংকটে দেশবাসির পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কেশবপুর ত্রাণ তহবিলে হাসান সাদেক ও নাসিমা সাদেকের ৫০ হাজার টাকা প্রদান
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনে কর্মহীন অতিদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে যশোর জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব হাসান সাদেক ও কেশবপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক ব্যক্তিগত ভাবে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহানের হাতে তাঁর দপ্তরে উক্ত ৫০ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন যশোর জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব হাসান সাদেক।
মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি শাহাদতের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
সোমবার দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু পরিষদ খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি মোঃ শাহাদাৎ হোসেন করোনা ভাইরাসে দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে, ত্রান সামগ্রী বিতরণ এবং রেল ষ্টেশনে অবস্থানরত গরীব অসহায়, অটো ও রিক্সা চালকদের মাঝে স্বাস্থ্য বিধি মেনে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণ কালে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক এম,আসাদুজ্জামান মুন্না, আলহাজ¦ সেকেন্দার, কাজী জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী (জুয়েল), মোঃ সুমন হাওলাদার, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ রাতুল মিয়া, শ্রাবন্তী কর্মকার, কনক কান্তি দাস, চঞ্চল রায়, বিজয় কুমার পাল, পঙ্কজ কুমার বিশ^াস, প্রফুল্য কুমার বিশ^াস, বিশ^জিৎ সাহা প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ ত্রাণ বিতরণ কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্য নীতি মেনে চলার জন্য খুলনার নগরবাসীসহ দেশের সর্বস্তরের জনতাকে অনুরোধ জানান।
জলমা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি’র শ্বশুরের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন ১নং জলমা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম মনিরের শ্বশুর মোঃ আনোয়ার হোসেন গাজী (৬৫) বার্ধক্যজনিত কারণে ৩ মে রবিবার সকাল ১১:৩০টায় নাজিরঘাটস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে…..রাজেউন)। তাঁর মৃত্যু খবর শুনে সেখানে যেয়ে পরিবারবর্গকে সান্তনা দেনÑখুলনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ পীর আলী। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেনÑখুলনা জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শেখ মোঃ মঈনুল ইসলাম মোহন, দপ্তর সম্পাদক কামরুল গাজী, বটিয়াঘাটা উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোঃ সোহাগ হাওলাদার, কার্যকরী সদস্য কামাল হোসেন প্রমুখ।
এদিকে মোঃ মনিরুল ইসলাম গাজী’র মৃত্যুতে খুলনা জেলা শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ গভীরভাবে শোকাহত। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেনÑখুলনা জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম জাফরসহ সকল নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য পূর্বের শোক সংবাদে প্রেরিত মাধ্যমের অসতর্কায় দুঃখজনকভাবে মৃতের নাম মোঃ আনোয়ার হোসেন গাজীর পরিবর্তে মোঃ মনিরুল ইসলাম লেখা হয়েছে।
খানজাহান আলী থানা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে খানজাহান আলী থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তি যোদ্ধা স.ম রেজওয়ান আলী এলাকার নি¤œ মধ্যবিত্ত, কর্মহীন ও অসহায় হতদরীদ্রের মাঝে খাদ্র সামগ্রী বিতরণ করেন। ৪মে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় শিরোমণি মধ্য পাড়া দিঘিরপাড় এলাকায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় ১৫০ পরিবারের অসহায় হতদরীদ্রের মাঝে খাদ্র সামগ্রী বিতরণ করেন বীর মুক্তি যোদ্ধা স.ম রেজওয়ান আলী । এসময় তার সাথে ছিলেন আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মনিরুল ইসলাম। ইঞ্জিল কাজী, শেখ শারফিন, মিনা রুবেল, কাগজী ইব্রাহীম, শেখ ওমর ফারুক, মিনা আবুল হাসান ডলার, শেখ ফরিদ হোসেন প্রমুখ।
নিসচা’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে কর্মহীন ও অসহায় হতদরীদ্রদের মাঝে ৪ মে সোমবার বেলা ১২টায় শিরোমণি খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা)র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে ১৭০ জন কর্মহীন পরিবহন চালক-শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন, খানজাহান আলী থানা নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা)র আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য শেখ আব্দুস সালাম ও সদস্য সচিব মোঃ লুৎফর রহমান লিটন এর ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন আটরা গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মনিরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এসএ রহমান বাবুল, খানজাহান আলী থানা ভারপ্রপ্তি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম,অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস,ফকির রবিউল ইসলাম, শেখ রফিকুল ইসলাম তাবারক, খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটি’র সভাপতি শেখ বদর উদ্দীন, ভেমর সরদার, সরদার বিল্লাল হোসেন, মোঃ আবুল কালাম আজাদ,শেখ আলমগীর হোসেন, মিয়া খালিদ হাসান, মিয়া সোহনুর রহমান, মিজানুর রহমান , তৌহিদুল ইসলাম, আঃ সামাদ,বাচ্চু শেখ,ইউসুফ শেখ, কাজী সামসুর রহমান, শেখ শরিফু ল ইসলাম,রুবেল ইসলাম, মহশিন শেখ,সোহেল সরদার প্রমুখ।
দেবহাটায় এবার ভিক্ষুকদের মাঝে মসলা সামগ্রী বিতরন করলো স্বেচ্ছাসেবকলীগ
কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা
দেবহাটায় এবার ভিক্ষুকদের মাঝে মসলা সামগ্রী বিতরন করলো স্বেচ্ছাসেবকলীগ। সাতক্ষীরার দেবহাটায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ। জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দিক নির্দেশনায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাস্ক বিতরন, কর্মহীন অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসহ বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকলীগ। তাছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলায় সরকারী-বেসরকারী পর্যায় থেকে যারা কাজ করছে তাদের সুরক্ষার জন্য কয়েকটি ধাপে পিপিই প্রদানও করেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগ। যার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন, দেবহাটা থানা পুলিশের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা, , উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডাঃ আব্দুল লতিফ, কুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কোষাধাক্ষ আছাদুল হক, সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন, কুলিয়া. দেবহাটা সদর, পারুলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির মাঝে পিপিই তুলে দেন।তারই ধারাবাহিকতায় এবার পর্যায়ত্রমে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ভিক্ষুকদের মাঝে মসল্লা সামগ্রী বিতরনের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিল স্বেচ্ছাবেকলীগ । এতে প্রথমে পারুলিয়া ইউনিয়নের ৪২ জন ভিক্ষুকদের মাঝে গরম মসলা, জিরা-মরিচ,মুশারীর ডাউল, আলু, পেয়াজ, রসুন, আদা, লবন, সোয়াবিন তেল সহ ১১ প্রকার মসলা সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগ। সোমবার সকাল ১০ টায় পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ, সহ-সভাপতি এ্যাড:সাঈদুজ্জামান জিকু, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম , উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান কবির, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, পারুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হোসেন আলী, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান প্রমূখ।
দেবহাটায় স্বেচ্ছসেবী নারী সংগঠনের মাঝে মহিলা বিষয়কের চেক বিতরন
দেবহাটা প্রতিনিধি
দেবহাটায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী নারী উন্নয়ন সংগঠনের মাঝে মহিলা বিষয়কের অনুদানের চেক বিতরন করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টায়য় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ চেক বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জ্এিম স্পর্শ, মহিলা বিষয়ক অফিসার নাসরিন জাহান। এসময় উপজেলা নারী ফোরাম ২৫হাজার টাকা, তারকা মহিলা সংস্থা ১৫ হাজার, পল্লী সমাজ ফাউন্ডেশন ১৫ হাজার টাকা, নীলা মাহিলা উন্নয়ন সংস্থা ২০ হাজার, পল্লী সমাজ বহুমূখী উন্নয়ন সংস্থা ২০ হাজার, কর্মমূখী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ১৫ হাজার টাকা, নারীকন্ঠ উন্নয়ন সংস্থা ২৫ হাজার ও শতদল মহিলা সংস্থা ২০ হাজার টাকার চেক গ্রহন করেন। অনান্যদের মধ্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক মিজানুর রহমান, অফিস সহায়ক দিপুকার রহমান, মোস্তফা আহম্মেদসহ বিভিন্ন নারী উন্নয়ন সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শরণখোলায় কর্মহীন মানুষের মাঝে বিএনপি ও যুবদলের খাদ্য সামগ্রী বিতরন
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
শরণখোলায় করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুৃষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে উপজেলা বিএনপি ও যুবদল। সোমবার দুপুরে রায়েন্দা পাঁচ রাস্তা এলাকায় পৃথকভাবে এসব খাদ্য সাগগ্রী বিতরন করা হয়। খাদ্য সহায়তা বিতরন করেন বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম লাল, সাধারন সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ইসাহাক আলী এবং বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাঁন মতিয়ার রহমান ও যুবদল নেতা আলআমিন খাঁন প্রমূখ।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন এবং তাঁর মাতার আরোগ্য কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাঁর মা গত ১৮ এপ্রিল থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন এবং তাঁর মায়ের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এবং দেশ বাসীর কাছে তাঁদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা বিএমএ’র সভাপতি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম।
যশোরে শ্রমিকনেতাসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ
যশোর অফিস
যশোরে পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির এক নেতাসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মিন্টু গাজীর পেটে গুলি ঢুকে রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকা নেওয়া হচ্ছে। আহত অন্য ব্যক্তির নাম ইমদাদুল। হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া এই ব্যক্তি আশঙ্কামুক্ত আছেন। সোমবার বিকেলে যশোর শহরের বকচর হুঁশতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তি গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
আহত ইমদাদুলের ভাই বদরুল আলম জানান, বিকেল সোয়া চারটার দিকে ইমদাদুল ও মিন্টু গাজী ইফতারি কেনার জন্য হেঁটে হুঁশতলা মোড়ে যাচ্ছিলেন। কপোতা লায়ন্স চু হাসপাতালের পাশে কপোতা প্লটের সামনে ওত পেতে থাকা বিল্লাল ওরফে চোর বিল্লাল নামে এক দুর্বৃত্ত তাদের ল্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি ইমদাদুলের হাতে আঘাত করে মিন্টুর পেটে বিদ্ধ হয়। তিনি জানান, মিন্টু গাজী (৫০), ইমদাদুল (৫০), বকচর এলাকার বিল্লাল, লাল্টু, সাইফুল, লিটন প্রতিদিন হুঁশতলা কবরস্থানের পাশে একটি বাগানে জুয়া খেলেন। এই জুয়া খেলা নিয়ে তিন-চার দিন আগে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। তারই জের ধরে আজ বিল্লাল ওই দুইজনকে গুলি করে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ইন্টার্ন ডাক্তার মুক্তামণি জানান, মিন্টুর পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। সেই কারণে তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। আর আহত ইমদাদুল আশঙ্কামুক্ত। পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২২৭) যুগ্ম সম্পাদক ষষ্ঠি দত্ত জানান, মিন্টুকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা নেওয়া হচ্ছে। এখন তারা যশোর বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন।
যশোর কোতয়ালী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনা শোনার পর দায়ী ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। কারা কী কারণে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকনেতা ষষ্ঠি দত্ত জানান, আহত মিন্টু গাজী বকচর হুঁশতলা এলাকার হামিদ গাজীর ছেলে। তিনি পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতি যশোরের সহসাধারণ সম্পাদক। আর আহত ইমদাদুলও একই সংগঠনের সদস্য।
নৌবাহিনীর ইফতার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে নৌবাহিনী। অসহায় ও দুস্থ পরিবারে ঘরে ঘরে ইফতার সামগ্রী পৌছানোসহ জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে নৌবাহিনী । এরই ধারাবাহিকতায় নৌ ঘাঁটি তিতুমীর কর্তৃক চরেরহাট ভালের বিল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় ২০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া নৌ ঘাঁটি সোলাম কর্তৃক পুথিমারি এলাকায় ১০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। একইসময়ে বানৌজা আবু উবাইদাহ কর্তৃক দিগরাজ বাজার এলাকায় ১৬০ গরীব ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় ৮৪৮টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা ও ১০০টি জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সাধারণ জনগণকে কাঁচা বাজার, ঔষধের দোকান ও মসজিদ ব্যবহারে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সাথে অনুমোদিত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকান নির্দিষ্ট রুটিন সময়ের পর বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, কুমারখালী, মংলা বন্দর, বুড়িরডাঙ্গা ও চরকানাই এলাকায় টহল পরিচালনা করে। এ সময় ৩৪৫টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে। এসময় কয়েকজন মটর সাইকেল চালকের নিকট হইতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তিন হাজার তিনশত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হয়।
মোংলায় বেশি দামে পণ্য বিক্রি ও ওজনে কম দেয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
রমজানে মোংলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বেশি দামে বিক্রির দায়ে কয়েক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার দুপুরে পৌর শহরের প্রধান বাজারের মুদি ব্যবসায়ীদের এই অর্থদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া বাটখারায় ওজনে কম থাকায় মাছ ব্যবসায়ীকেও অর্থদন্ড দেওয়া হয় এসময়। ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযানে ব্যবসায়ীদেরকে ১২ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করার পাশাপাশি তাদেরকে ভবিষ্যৎ সতর্ক বাণী দেয়া হয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান। মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বেশি দামে বিক্রি করে সাধারণ মানুষদের ঠকাচ্ছেন। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, কাঁচা বাজারে যে সব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরী করে পণ্য বিক্রি করছেন তাদেরকেও আইনেরও আওতায় এনে জরিমানা করা হবে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারতীয় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
৯ দিনের মজুরী ও মান সম্মত খাবারের ব্যবস্থার দাবী এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় লকডাউনের মধ্যেই ভারতে ফিরে যেতে চেয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েক’শ শ্রমিক বিক্ষোভ প্রর্দশন করেছে। ওই কেন্দ্রের কাজে নিযুক্ত ভারতীয় শ্রমিকদের মধ্য থেকে প্রায় ৪শ শ্রমিক সোমবার সকাল ৯ টার দিকে এ সকল দাবীতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রাচীরের মুল গেইট থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলে আসে। এ সময় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি চলে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন তাদেরকে কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় তাদেরকে কেন্দ্রের ভিতরে নিয়ে গিয়ে তাদের মধ্য থেকে ৫ জনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া ৯ দিনের বেতন পরিশোধ, যে কয়দিন শ্রমিকেরা সেখানে থাকবেন তাদেরকে ভাল খাবার পরিবেশন ও স্বল্প সময়ে তাদেরকে ভারতে যাওয়া সুযোগ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা শান্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, শ্রমিকদের দাবীর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে। ফলে শ্রমিকেরা তাদের ব্র্যাকে ফিরে গিয়েছেন। এছাড়া যারা ভারতে চলে যেতে যান দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদেশী রয়েছেন ১৮০২ জন। এরমধ্যে চায়না ২১ জন এবং ১৩৪৪ জন ভারতীয় রয়েছেন।
শরণখোলায় পানি সংকটে হাজার হাজার পরিবার
শরনখোলায় (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতির কারণে বাগেহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে পানির জন্য হাহাকার চলছে। স্লুইজ গেইট নির্মানের কাজ প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের কর্তব্য পালনে উধাসীন থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানাগেছে, ঝড় , জ্বলোচ্ছাস ও বন্যা সহ প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগের হাত থেকে উপকুলবাসীকে রক্ষায় ২০১৭ সালে বলেশ্বর নদী সংলগ্ন ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্যর ভেরী বাঁধ নির্মান কাজ শুরু করেন (সি এইচ. ডব্লিউ) নামের চায়নার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । উক্ত বাঁধ নির্মানের পাশাপাশি পানি নিঃস্কাশনের জন্য ছোট -বড় মিলিয়ে উক্ত বাঁধে শতাধিক স্লুইজ গেইট নির্মানের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার গ্রুপ। কিন্তু তদারকির অভাবে গেইট গুলোর নির্মান কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। আবার অনেক স্থানের নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর র্দুভোগ এখন চরম পর্যায়ে পৌছেছে। পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম হওয়ায় প্রকল্পের স্থায়ীত্ব নিয়ে শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের শহীদ মিনার এলাকার বাসিন্দা শ্রমিকলীগ নেতা মোঃ তাইজুল ইসলাম মিরাজ বলেন, আমার বাসা সংলগ্ন এলাকার একটি লেক ও পুকুরের পানি ওঠানামার জন্য বলেশ্ব নদীর সাথে ভেরীবাঁধ নির্মানকারি ঠিকাদার গ্রুপ প্রায় ৩মাস পুর্বে একটি স্লুইজ গেইট নির্মান কাজ শুরু করেন। কিছু অংশ করে ঠিকাদার ওই কাজ ফেলে রাখায় স্থানীয় সোনালী মসজিদের মুসুল্লিরা সহ পাঁচ শতাধিক পরিবার এ রমজান মাসেও পানির জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ঠিকাদারের গাফেলতির পাশাপাশি কাজ দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উদাসিনতার কারণে এখন রান্না-বান্না ,ওযু-গোসল সহ দৈনন্দিন কাজের জন্য কোন পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এ গেইটটির কাজ দ্রুত শেষ করে পানি ছেড়ে দেয়ার জন্য উপজেলার (ইউ এন ও) স্যার কয়েকবার ফোন করলেও কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া মেলেনি। এছাড়া ঠিকাদার গ্রুপের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে বাঁধ সহ স্লুইজগেট গুলো টেকশই না হলে শরণখোলা বাসীর দুর্ভোগ থেকেই যাবে ।
অপরদিকে, রায়েন্দা বাজার শহর রক্ষা বাঁধ কমিটির আহবায়ক প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা এম এ রশিদ আকন বলেন , পানি শুন্যতার কারণে মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি বাঁধ নির্মান কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাছে বার বার অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে তাদের ইচ্ছা মতো কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। এখন পানির জন্য জনসাধারনকে সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প কোন পথ দেখছিনা। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, বিষয়টি নিয়ে চায়না ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের সাথে শীঘ্রই বৈঠক করে পানির সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হবে ।
অন্যদিকে , প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, রায়েন্দা বাজারের ওই গেটটি নির্মানে একটু ত্রুটি হওয়ায় কাজ সাময়িক বন্ধ আছে। তবে, মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির দুর্ভোগ সমাধানে চেষ্টা চলছে।
দুর্যোগ মোকাবেলায় সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা আ’লীগের জরুরী সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনা ভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরী বর্ধিত সভা করেছে সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ। সোমবার দুপুর ১২টায় সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা। সভায় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, কাউন্সিলর ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, তসলিম আহমেদ আশা, কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন, মাহাবুবুল আলম বাবলু মোল্লা, জিয়াউল ইসলাম মন্টু, শেখ আবিদ উল্লাহ, নুর ইসলাম, শেখ জাহিদ হোসেন, চ.ম মুজিবর রহমান, মুন্সি আইয়ুব আলী, জাহিদুল হক, মঈনুল ইসলাম নাসির, ফেরদৌস হোসেন লাবু, চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল, আব্দুল হাই পলাশ, এ্যাড. ফারুক হোসেন, হাসান ইফতেখার চালু, ইউসুফ আলী খান, জাকির হোসেন, মো. মোতালেব মিয়া, মীর মো. লিটন, সরদার আব্দুল হালিম, শেখ মো. রুহুল আমিন, এমরানুল হক বাবু, ফয়েজুল ইসলাম টিটো, আতাউর রহমান শিকদার রাজু, শেখ এশারুল হক, এ্যাড. শামীম মোশাররফ, মো. শিহাব উদ্দিন, অহিদুল ইসলাম পলাশ, নজরুল ইসলাম, কাউন্সিলর এস এম মোজাফফর রশিদী রেজা, কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আযম, কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান, কাউন্সিলর আনিছুর রহমান বিশ্বাষ, কাউন্সিলর আরিফুর রহমান মিঠু, কাউন্সিলর গোলাম মওলা শানু, কাউন্সিলর আমেনা হালিম বেবী, কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম, কাউন্সিলর কনিকা সাহা প্রমুখ।
সভায় করোনা ভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবেলায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং কাউন্সিলররা সমন্বয় করে কেন্দ্র কমিটির আহবায়ক সদস্য সচিবকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে দলমত নির্বিশেষে দুর্গত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। স্ব স্ব এলাকার মানুষের পাশে অবস্থান করার জন্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও কাউন্সিলরদের প্রতি আহবান জানান হয়।
মোড়েলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৮,গৃহিনীর আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন
এম.পলাশ শরীফ,মোড়েলগঞ্জ
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কুপিয়ে এক গৃহিনীর আঙ্গলু বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুবৃত্তরা। মারপিটে উভয় পক্ষের আরো ৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ৯ টার দিকে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের হরতকীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর জখমী গৃহিনী ফিরোজা বেগমকে(৫৫) মোড়েলগঞ্জ হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহত তার স্বামী ফজলুর রহমান নান্না(৬৫), ছেলে হাসান(৩০), মিজান (৩২) ও প্রতিপক্ষের নাছির হাওলাদার(৩৫), পান্না(৩২), ইয়াছমিন বেগম(২৫), রাহিলা বেগম(৩৮) ও চুন্নু হাওলাদারকে(৪৫) মোড়েলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ফজলুর রহমান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারনে প্রতিবেশী শত্রুপক্ষের লোকেরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা করে। এতে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমের ডান হাতের একটি আঙ্গুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ বিষয়ে থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, মারপিটের খবর শুনেছি। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
স্বর্ণশিল্পী শ্রমিক ও কর্মহীনদের মাঝে সিটি মেয়রের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
তথ্য বিবরণী
খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘বেসরকারি মানবিক সহায়তা সেল’-এর আওতায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নি¤œআয়ের তিনশত ২১ কর্মহীন স্বর্ণশিল্পী শ্রমিকদের মাঝে সোমবার সকালে খুলনা জিলা স্কুল মাঠে সাত কেজি করে চাল এবং সবজিসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে করোনা মোকাবেলায় সকলকে আবারও ঘরে থাকার আহবান জানান সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, এই সময়ে সুস্থ্য থাকার জন্য ঘরে থাকার কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আমরা করোনাভাইরাস থেকে অচিরেই মুক্ত হতে পারবো। প্রয়োজনে কর্মহীনদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পেীঁছে দেওয়া হবে। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা ও খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ইতোপূর্বে তিনশত কর্মহীন স্বর্ণশিল্পী শ্রমিকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পরে সিটি মেয়র পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘মানবিক সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় নগরীর ১৩, ১০, ২৩, ২১, ১৫, ১, ৩, ৫ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারশত ২৮ জন করে মোট তিন হাজার আটশত ৫২ কর্মহীন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী ও দরিদ্রদের মাঝে সাত কেজি করে চালসহ আলু, ডাল, লবণ, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
করোনা ভাইরাস রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম অব্যাহত
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে খুলনা-যশোর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে লকডাউন। সরকারের ৩১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা গত ২৪ মার্চ থেকে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। খুলনা-যশোর অঞ্চলের মোট ১০ টি জেলা করোনা মুক্ত রাখতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকা- পরিচালনা করছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা।
শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনার কারণে চরম বিপাকে পড়া কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে সেনা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি ছুটছেন। জনসমাগম পরিহার করে নিজেদের রেশনের চাল, ডাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রীর একটি অংশ অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত হয়ে যাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকার কথা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা।
খাবার সহায়তার সঙ্গে যশোর অঞ্চলের অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেনা চিকিৎসক, নার্সসহ সেনা সদস্যরা করোনা মোকাবিলায় কাজ করছেন। পাশাপাশি তারা প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সড়কে জনসাধারণের চলাচল অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেও বিভিন্ন প্রয়োজনে যারা বাইরে বের হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাইকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় প্রয়োজনীয় দোকানের বাইরে যেসব দোকান-পাট খোলা হয়েছে সেসব দোকানদারকে বুঝিয়ে সেনা সদস্যরা তা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
রমজান মাসে প্রচ- গরম আর রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সেনা সদস্যরা নিরলসভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ইফতারির সময় তারা রাস্তার কোনো এক ফাঁকা স্থানে নিজেদের ইফতার ও নামাজ সেরে নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ছেন দায়িত্বে। এছাড়াও তারাবিহ নামাজ উপলক্ষে যেন বিশৃঙ্খলা এবং অতিরিক্ত জনসমাগম না হয় সে লক্ষ্যে সেনা সদস্যরা তাদের কর্মপরিধি আরও বৃদ্ধি করেছেন।
যশোর সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়াদের মধ্যে সমাজের একটা বড় অংশ খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও তাদের বরাদ্দকৃত রেশনের একটি অংশ এসব হতদরিদ্র মানুষদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, কিছু দুর্গম এলাকাতেও হেঁটে কাঁধে করে রেশন বয়ে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। জাতির যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সিপিবি’র সদর থানায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনায় লগডাউনে থাকা কর্মহীন মানুষের মাঝে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিÑসিপিবি, খুলনা সদর থানা কমিটির উদ্যোগে সোমবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলা সভাপতি কমরেড ডাঃ মনোজ দাশ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑখুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, সদর থানা সভাপতি দীন সোহাম্মদ প্রমুখ। এ সময়ে নেতৃবৃন্দ ঘরে থাকার পরিবহণ শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ধৈর্য্য ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে মহামারি মোকাবেলা করতে হবে: মঞ্জু
খবর বিজ্ঞপ্তি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন সংকটে পড়েছে। যত কষ্ট হোক আমাদের ধৈর্য্য ধারণ করে এই মহামারির মোকাবেলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা ছাড়া কোন দল বা গোষ্ঠির একার পক্ষে উত্তরণ সম্ভব নয়। আমরা সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মানুষের কল্যাণে অসহায়, হতদরিদ্র, গৃহবন্ধি খেটে খাওয়া মানুষের পাশে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসি। দেশ ব্যাপি চলছে মহাদুর্যোগ, কিন্তু থেমে নেই মানুষের জীবন যাত্রা। তবু মানুষ ছুটে চলেছে করোনার মত অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। বর্তমান সময় রাস্ট্রীয় ভাবে যে টুকু সাহায্য জনগণের মধ্যে দিচ্ছে তা চাহিদার চেয়ে পরিমাণে খুবই অল্প। এই খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠির ক্ষুধা মেটানো সম্ভব নয়। আসুন আমরা এই মধ্যবিত্ত, নি¤œ মধ্যবিত্তসহ সকল দরিদ্র সমাজের মানুষের মাঝে পবিত্র রমজান মাসে বেশি করে সাহায্য করি। সাহায্যের হাত আরো প্রসস্থ করি। দেশের সেবায়, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসি। সকলকে সুস্থ সচেতনার সাথে জীবন-যাপন করার আবহান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় নগর বিএনপি’র ত্রাণ কর্মসুচির অংশ হিসেবে সদর থানার ২৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র উদ্যোগে পশ্চিম টুটুপাড়া ঠ্যাকের বাজার এলাকার করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকাল উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এসময় উপস্থিত ছিলেন আরিফুজ্জামান অপু, মেহেদী হাসান দীপু, ইশহাক তালুকদার, কামরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ডিকেন, জিএম রফিকুল হাসান, মাসুদ খান বাদল, জিএম মিজানুর রহমান লিটন, ডা. ফারুক হোসেন, শামীম আশরাফ, শরিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আমিন হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, এস এম ইউসুফ, জুয়েল হোসেন প্রমুখ।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইউসুফ মোল্যার মায়ের ইন্তেকাল : শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগরস্বেচ্ছাসেবক দলের ১ম যুগ্ম-সম্পাদক ইউসুফ মোল্যার মাতা ফজিলা খাতুন (৫৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…..রাজিউন)। গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় খালিশপুর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল বাদ জোহর বিআইডিসি রোডে মরহুমার নামাজে জানাযা শেষে তাকে গোয়ালখালি সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ইউসুফ মোল্যার মায়ের ইন্তেকালে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন নগর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দরা হলেন বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউলাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।
স্বেচ্ছাসেবক দল : খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ ইউছুফ মোল্লা-এর মাতা বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজেউন)। মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন একরামুল হক হেলাল, শফিকুল ইসলাম শাহীন, ফারুক হিল্টন, ময়েজ উদ্দিন চুন্নু, কে এম মাহবুবুল আলম, জাকির হোসেন, শরিফুল ইসলাম টিপু, হেলাল শরিফ, সাইফুল ইসলাম মল্লিক, অহিদুজ্জামান হাওলাদার, ইউসুফ মোল্লা, ইকতিয়ার উদ্দিন বাবুল, মুন্তাসির আল মামুন, এ্যাডঃ ওমর ফারুক বনি, হেলাল ফরাজি, মিজান সরদার, এম এম সফি, আলাউদ্দিন তালুকদার,সাইজ উদ্দিন সাজু, আলহাজ্ব আল আমিন হোসেন, জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু, তুহিন খন্দকার, রফিকুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান ইভু প্রমূখ।
খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ২ বন্দী
স্টাফ রিপোর্টার
করোনায় সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২জন। সোমবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তারা খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। বিষয়টি খুলনা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। মুক্তিপ্রাপ্তরা হচ্ছে- খুলনার মো. কিবরিয়া শেখ এবং যশোরের মো. সবুজ। চুরি মামলায় তারা খুলনা জেলা কারাগারে এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। ইতিমধ্যেই চার মাসের কারাদ- ভোগ করেছেন তারা।
খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. ওমর ফারুক জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ (কারা-২) শাখার ২৯ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১(১) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কর্তৃক উল্লিখিত ২জন বন্দীর অবশিষ্ট কারাদন্ড মওকুফ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায়পূর্বক সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, করোনার কারণে সরকার লঘুদন্ড ও ২০ বছরের অধিক সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে খুলনা জেলা কারাগার থেকে এ ধরণের ৬৮জনকে মুক্তির প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু প্রথম দফায় খুলনা কারাগার থেকে কাউকে মুক্তি দেয়া হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ১৪জনকে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়। ওই ১৪ জনের মধ্য থেকে ২জনকে মুক্তি প্রদান করা হলো। খুলনা জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৬০৮জন হলেও সোমবার পযৃন্ত ১ হাজার ৪৮৫জন বন্দী রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেল সুপার ওমর ফারুক।
তিন দিন পরই বেনাপোল দিয়ে ফের আমদানি বন্ধ
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার। তিন দিনের মাথায় আবার তা বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে আবারও বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (৩ মে) বিকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি বন্ধ করার জন্য রবিবার দুপুরে বনগাঁ থেকে ছয়ঘরিয়া পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করে। ফলে ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে আবারও পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে দীর্ঘ ৩৯ দিন বন্ধ থাকার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকাল থেকে বেনাপোল পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয়। তা চলে মাত্র তিনদিন। ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্য সরকারের সমর্থকদের দাবি ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি হলে ওই ট্রাকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। এজন্য ফের আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে তারা।
আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে করোনার কারণে দীর্ঘ ৩৯ দিন বন্ধ থাকার পর দু’দেশের সরকারের নির্দেশে আমদানি বাণিজ্য চালু করা হয়। কিন্তু তিন দিন যেতে না যেতেই আবারও আমদানি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সরকার ও কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি-রফতনি বন্ধ করা হয়নি। তবে রফতানি বাণিজ্য চালু থাকলে ট্রাকচালকদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এমন অজুহাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা আন্দোলন করে পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।
ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, সরকারিভাবে পেট্রাপোল বন্দর চালু আছে। কিন্তু কিছু সাধারণ জনগণ করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় বনগাঁয় আন্দোলন করায় পণ্য রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফের আমদানি বাণিজ্য সচল হবে।
বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ভারত থেকে তিন দিনে ১৫ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। নোম্যান্সল্যান্ডে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধিবিধান মেনেই লোড-আনলোড করা হয়েছে। ভারতে জনগণের আন্দোলনের জন্য গতকাল বিকাল থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পেট্রাপোল বন্দর পণ্য দিলে বেনাপোল বন্দরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সব রকম সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
যশোরে রেশন কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ পাবে ৭৫ হাজার পরিবার
যশোর অফিস
যশোরে ৭৫ হাজার দরিদ্র পরিবার ত্রাণ সহায়তা পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে জেলার আটটি উপজেলা এবং আটটি পৌরসভায় সুবিধাভোগী এসব পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া এসব পরিবার কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোডযুক্ত রেশন কার্ডের মাধ্যমে এই ত্রাণ সহায়তা পাবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে জেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র ও অভাবী ৭৫ হাজার পরিবার রেশন কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা পাবে। যতদিন করোনার প্রভাব থাকবে ততদিন এই ত্রাণ সহায়তা চলবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে পরিবারভিত্তিক এসব মানবিক সহায়তা কার্ডের তালিকা করা হচ্ছে। এসব কার্ডে ১২টি তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হচ্ছে। পরিবার প্রধানের নাম, বাবা বা স্বামীর নাম, জন্ম তারিখ, বয়স, লিঙ্গ, পেশা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যার (পুরুষ, মহিলা, হিজড়া, শিশু প্রতিবন্ধী আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে) তথ্য নেওয়া হচ্ছে। আগে কোনও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকলে তার নাম, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রত্যেককে কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোডযুক্ত কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডে তার বিস্তারিত তথ্য থাকবে। বিভিন্ন কর্মসূচির আলাদা রংয়ের কার্ড থাকবে। এক কর্মসূচির কার্ড দিয়ে অন্য কর্মসূচির সুবিধা নেওয়া যাবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে একটা সফটওয়্যার থাকবে। সেখান থেকে সারাদেশের সুবিধাভোগীদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে জানা যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্যকোনও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা পাচ্ছেন কি না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার মেয়রদের কাছে সুবিধাভোগী এসব দরিদ্র পরিবারের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর তা অনলাইনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তালিকা অনুমোদনের পর এই ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হবে। প্রথম দফায় কার্ড প্রতি ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, যশোর সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৭০০, মণিরামপুর উপজেলায় ১১ হাজার, শার্শা উপজেলায় সাত হাজার ৭০০, চৌগাছা উপজেলায় ছয় হাজার ৪০০, ঝিকরগাছা উপজেলায় সাত হাজার ৩০০, অভয়নগর উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫০০, বাঘারপাড়া উপজেলায় ছয় হাজার এবং কেশবপুর উপজেলায় ছয় হাজার ৫০০টি পরিবার এই ত্রাণ সহায়তা পাবে। এছাড়া, যশোর পৌরসভা আট হাজার ১০০, নওয়াপাড়া পৌরসভা এক হাজার, চৌগাছা পৌরসভা ৬০০, মণিরামপুর পৌরসভা এক হাজার, বাঘারপাড়া পৌরসভা ৫০০, বেনাপোল পৌরসভা এক হাজার, ঝিকরগাছা পৌরসভা ৭০০ এবং কেশবপুর পৌরসভায় এক হাজার পরিবার রেশন কার্ডের মাধ্যমে এই ত্রাণ সহায়তা পেতে যাচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘জেলার ৭৫ হাজার দরিদ্র পরিবার কিউআর কোডযুক্ত রেশন কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা পাবে। করোনার প্রভাব থাকাকালে এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলবে। জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার মেয়রদের কাছে সুবিধাভোগী এসব দরিদ্র পরিবারের তালিকা চাওয়া হয়েছে। রবিবার তালিকা পাঠানোর শেষদিন ছিল। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তালিকা পাওয়া যায়নি। তালিকা পাওয়ার পর তা অনলাইনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে এই ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হবে।’
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৯ হাজার কোটি টাকার ১১ প্রকল্প চলমান
হেদায়েত হোসেন
বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ১১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার তিনটি বড় প্রকল্প প্রস্তাবনায় রয়েছে; যা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এ প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের চিত্র পাল্টে যাবে। বেড়ে যাবে বন্দরের গতি ও ধারণ ক্ষমতা। ১০ ফিট গভীরতার জাহাজও অনায়াসে বন্দরের জেটিতে এসে ভিড়তে পারবে। সংশ্লিষ্টরা এমনটিই মনে করছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি জাহাজের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ভিটিএমআইএস প্রবর্তন করার জন্য ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস) প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫২ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল: ২০১৭-১৮ হতে ২০২০-২১। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দর সীমানায় আসা সমুদ্রগামী জাহাজসমূহ মনিটরিং করাসহ দক্ষতার সঙ্গে হ্যান্ডলিং করার মাধ্যমে সেবার মান উন্নীত করা যাবে। ভিটিএমআইএস যন্ত্রপাতিসমূহ এ বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মালামাল শিপমেন্টে দুই মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে হিরণ পয়েন্টে ল্যাটিস টাওয়ার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং প্রকল্প এগিয়ে চলছে। ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে এ বছরের ডিসেম্বর। প্রকল্পটির অধীনে ১০৩ দশমিক ৯৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিং এর সুবিধা সৃষ্টি হবে। ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর এ প্রকল্পের ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ড্রেজিং কাজ চলছে।
মোংলা বন্দরের জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বাস্তবায়নে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প কাজ এগিয়ে চলছে। এর বাস্তবায়নকাল ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১। প্রকল্পটির অধীনে মোংলায় একটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর, সমুদ্রগামী জাহাজ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুপেয় পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। প্রকল্পের জন্য রিজার্ভার নির্মাণের পাইলিং এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলমান।
মোংলা বন্দরের হারবার চ্যানেলের ফুড সাইলো এলাকায় ড্রেজিং করার জন্য ৩৬ কোটি ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকার প্রকল্প আগামী জুনে শেষ হবে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটির শুরু হয়। প্রকল্পটির অধীনে ১৩ দশমিক ৩৬ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পাদন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে নির্বিঘ্নে জাহাজ আগমন ও নির্গমণের পথ সুগম হবে। ইতোমধ্যে ১১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি/সরঞ্জাম সংগ্রহে ৪৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়; যা শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালের জুনে। প্রকল্পটির অধীনে বিভিন্ন ধরনের ৬৪টি ইকুইপমেন্ট এবং ১১টি নির্মাণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। ১৯টি ইকুইপমেন্টের এনওএ প্রদান করা হয়েছে। এখন চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছে। ৪৫টি ইকুইপমেন্টের মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়েছে। ১১টি ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন আছে।
স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্লান ফর মোংলা পোর্ট প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে জুন ২০২০। এর মাধ্যমে একটি হালনাগাদ মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী মোংলা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরপর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ইন্টারিম রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৪০১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
বাস্তবায়নকাল: জুলাই-২০১৯ থেকে জুন- ২০২২। প্রকল্পটির অধীনে বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমন্টেসহ একটি বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান (মারপল শিপ) সংগ্রহ করা হবে। মোংলা সমুদ্র বন্দর এলাকায় চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্ক, কন্টেইনার, ট্যাংকার ও অন্যান্য জলযান নিসৃত তেল ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় ব্লিজ, স্লাজ, বালাস্ট, নিকাশি, বর্জ্য পানি ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহের জন্য বর্জ্য সংগ্রহ করা এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইওআই আহ্বান করা হয় এবং বছরের ১ মার্চ তা খোলা হয়। মূল্যায়ন কাজ চলছে।
মোংলা বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহে ৭৬৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। যার মেয়াদ জুলাই-২০১৯ থেকে জুন-২০২২। প্রকল্পটির অধীনে বিভিন্ন ধরনের ছয়টি জলযান সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে মোংলা বন্দরে আগত সব সমুদ্রগামী জাহাজ দক্ষতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। ড্রেজিং কাজের ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে প্রি-কোয়ালিফিকেশন করার জন্য ইওআই আহ্বান করা হয় এবং তা গত ২৩ মার্চ খোলা হয়েছে। এখন মূল্যায়ন কাজ চলছে।
বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি-২০২০ থেকে জুন-২০২২। প্রকল্পটির অধীনে বন্দর চ্যানেলের ইনারবারে ২১৬ দশমিক ১৩ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর জেটিতে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির গত ২৮ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রিকোয়ালিফিকেশনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল দরপত্র গ্রহণ করা হবে।
পিপিপি এর আওতায় মোংলা বন্দরের দুটি অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪১২ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল: ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২। প্রকল্পটির অধীনে আনুমানিক ইকুইপমেন্টসহ দুটি অসম্পূর্ণ জেটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক এক লাখ ৪০ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। জেটি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং গত বছরের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল: অর্থবছর ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২- ২৩। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কন্টেইনার টার্মিনাল, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড, সার্ভিস ভেসেল জেটি, মেরিন ওয়র্কসপ কমপ্লেক্স, বন্দর এলাকায় ৮টি বহুতল ভবন, আকরাম পয়েন্টে ভাসমান সার্ভিস টার্মিনাল নির্মাণ, বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, ১১টি বিভিন্ন ধরনের জলযান সংগ্রহ, একটি ট্রেলিং সাকশান হপার ড্রেজার সংগ্রহ, জেটি হতে জয়মনিরগোল পর্যন্ত ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তায়িত হলে মোংলা বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে। প্রকল্পটি গত ২৫ ফেব্রুয়ারিতে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।
মোংলা বন্দরের বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, মোংলা বন্দরের গতি বাড়াতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কাজ এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বন্দরের কর্যক্রমে নতুন ধারা যুক্ত হবে।
বন্দরের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান জহিরুল হক জানান, মোংলা বন্দরের উন্নয়নমূলক কোনও কাজেই করোনার প্রভাব নেই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব রকমের প্রক্রিয়া ঠিক রেখে কাজ গতিশীল রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রকল্প: মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৪৭৭ কোটি ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। যার বাস্তবায়নকাল ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২। মোংলা বন্দরের ক্রমবর্ধমান কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। কন্টেইনার টার্মিনাল, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মিত হলে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে বছরে ৫ লাখ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। প্রজেক্ট কনসেপ্ট পেপারটি চীন কর্তৃক মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের সভায় জানানো হয়। মোংলা বন্দরের ক্রমবর্ধমান কন্টেইনার সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। মোংলা বন্দরের ক্রমবর্ধমান কন্টেইনার সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিং এর জন্য ৯ নম্বর জেটির পশ্চাতে একটি কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। আমদানিকৃত গাড়ি পরিকল্পিত উপায়ে সংরক্ষণের জন্য ন্যূনতম ৪ হাজার গাড়ি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বহুতল কার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। কার ইয়ার্ড নির্মিত হলে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানীকৃত ন্যূনতম ৪ হাজার গাড়ি সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পশুর চ্যানেল হতে ৫টি ডুবন্ত রেক উত্তোলন করা হবে। ডুবন্ত রেক অপসারিত হলে পশুর চ্যানেলে পলিজনিত সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। ফলে বন্দরে আরও বড় জাহাজ চলাচল নিরাপদ হবে। মোংলা বন্দরের প্রধান সড়ক ছয় লেনে ও বাইপাস সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে।
পদ্মা সেতু ও খুলনা-মোংলা রেললাইন স্থাপন কাজ সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের আমদানি-রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ব্যক্তিমালিকানায় শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে ওই এলাকায় উৎপাদিত পণ্য এবং আমদানি-রফতানি পণ্য পরিকল্পিত উপায়ে নির্বিঘ্নে পরিবহন করা সম্ভব হবে। ৫ হতে ৯ নম্বর জেটি সম্মুখে শিট পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। শিট পাইলিং এর কাজ সম্পন্ন করা হলে জেটির সম্মুখে নাব্যতা সংরক্ষণ করা সহজতর হবে এবং ৫টি জেটি ৮ মিটার ড্রাফটের জাহাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
মোংলা বন্দরের জন্য একটি ট্রেলিং সাকশান হপার ড্রেজার সংগ্রহ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৩২০ কোটি টাকা বাস্তবায়নকাল: ২০১৭-১৮ থেকে ২০১৯-২০। প্রকল্পটির অধীনে একটি ট্রেলিং সাকশান হপার ড্রেজারসহ একটি মুরিং গিয়ার পন্টুন সংগ্রহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের ১৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা সংরক্ষণ করা সহজ হবে। প্রকল্পটি চীন সরকারের বিবেচনায় আছে। গতি মন্থর হওয়ায় জিওবি অর্থায়নে ড্রেজার সংগ্রহের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বন্দরের জেটির পাইলসমূহের ক্ষয়রোধক ও ফেন্ডার প্রতিস্থাপন প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৩৮ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২২। এ প্রকল্পের আওতায় মোংলা বন্দরের জেটির ৩৪২টি রাবার ফেন্ডার সংগ্রহ ও প্রতিস্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে মোংলা বন্দরের ভূমিকা বৃদ্ধি করা।-বাংলা ট্রিবিউন
খুলনার সড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচল প্রায় স্বাভাবিক
স্টাফ রিপোর্টার
করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। জরিমানা করেও চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকার ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখতে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খুলনায় সামাজিক দূরত্ব তত্ত্ব বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ জন্য পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি কাজ করছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। এরপরও মানুষ সড়কে বেরিয়ে আসছেন। নগরীতে ধীরে ধীরে খুলছে দোকানপাট। মোড়ের চায়ের দোকান সচল হচ্ছে। ইফতার সামগ্রী নিয়েও বিক্রেতারা বসছেন ছোট ছোট গলিতে। সড়কে ভিড় বাড়ছে মানুষের। সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানছে না মানুষ। একই সঙ্গে হাসপাতালে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। খুলনার সড়কে মানুষ ও যানবাহন চলাচল পরিস্থিতি এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্ব না মানায় খুলনায় জেলা প্রশাসন সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৭৪০ ব্যক্তিকে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তবে নগরীর নতুন বাজার, নতুন বাজার চর বস্তি, রূপসা ওয়াপদা, লঞ্চঘাট, কাস্টমঘাট, রূপসা ট্রাফিক মোড়, রূপসা ফেরিঘাট, কাঠগোলা, লবণচরা বান্দা বাজার, রূপসা ব্রিজের নিচ, লবণচরা আমতলা, টুটপাড়া মহিরবাড়ি বড় খালপাড়, খ্রিস্টানপাড়া বালুর মাঠ, পশ্চিম টুটপাড়া, মাওলার বাড়ি মোড়, ডিআলী স্কুল মোড়, করের বাজার, জেলখানা ঘাট, কাছারীবাড়ি ঘাট, ৫নং বিআইটিএ ঘাট, রকেট ঘাট, পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় ক্রমেই ভিড় বাড়ছে। এসব এলাকায় চলছে আড্ডা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং দলাদলি। ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
জানা গেছে, শহরের দিকে পুলিশ, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী থাকলেও এসব এলাকায় তারা আসার সময় পাচ্ছে না। বিকাল হলে সবাই রাস্তা, মোড় এবং খোলা মাঠে আড্ডাবাজি করছে। অনেক মাছঘরে বাজিতে তাস, দাবা, লুডু খেলার প্রতিযোগিতা চলছে। সে খেলা দেখতেও জনসমাগম থাকছে। কেউই সামাজিক দূরত্ব মানছে না। মানুষ বেরিয়ে আসছে রাস্তায়। আড্ডা দিচ্ছে, চায়ের দোকানগুলো অর্ধেক ঝাপ খোলা রাখছে। নানা বাহানায় মুদির দোকান কিংবা বাজার, পাড়ার মোড়ে আড্ডায় মাতছে তারা। নগরীর নিরালা, রূপসার মোড়, গল্লামারী বাজার, নগরীর নিউমার্কেট, বয়রা বাজার, সোনাডাঙ্গা, পিটিআই মোড়, রয়েল মোড়, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, ডাকবাংলো মোড়ে ভিড় বাড়ছে। এসব এলাকায় বেকার শ্রমিকের থেকে উৎসুক জনতার সমাগম বেশি। উৎসুকরা বের হচ্ছেন, পণ্য কেনার বাহানা নিয়ে।
পূর্ববানিয়াখামার এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘কাউকে ঘরে থাকতে বললে উত্তর দেয়, “আমার হয় হোক। আপনার যেন না হয়। সেদিকে দেখেন। পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘরে থাকলে চলে না।” তাই কিছু বলার থাকে না।’ বয়স্ক রিকশাচালক শ্রমিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘কত আর বাসায় থাকা যায়। তাই একটু বের হলাম।’
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। অনেকেই সরকারের প্রথম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তবে ধীরে ধীরে সেটা গা সওয়া ভাব এসেছে। সরকার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। তাহলে এত কিসের কষ্ট। প্রশাসন কঠোর না হলে কোনোভাবেই করোনার ভয়াবহতা থেকে আমরা রক্ষা পাবো না।’
রূপসা বেড়িবাঁধের ষাটোর্ধ রিকশাচালক লোকমান মিয়া বলেন, ‘নিজের রিকশাটি ছিল বলেই রক্ষা। টুকটাক করে এ গলি সে গলিতে ঘুরে ঘুরে চালিয়ে দু-চার জন যাত্রী পাওয়া যায়। এ দিয়েই দিনের খরচটা উঠে আসে। ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু কখন আসে যায় টের পাওয়া যায় না।’
সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। সরকারের নির্দেশ না মানলে করোনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ পর্যন্ত খুলনায় ২৩৯৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। আর ৭২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ জন মারা গেছে, ১ জন সুস্থ হয়েছে, ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার খোন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, ‘বাইরে না থাকার জন্য মানুষকে বোঝাতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করে যাচ্ছেন। এরপরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না।’ প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিদেশ-ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকল্পে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানকালে দ- বিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ও ২৬৯ ধারায় জরিমানা করা হচ্ছে।











































