Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

31
ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ায় দেখা দিচ্ছে ছোট-বড় দেশি মাছ। তাই মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন জেলেরা। ছবিটি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসিঘাট থেকে তোলা। পিবিএ

বড় বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন
খবর বিজ্ঞপ্তি
মরহুম কাওসার আলী জমাদ্দার ছিলেন একজন জননন্দিত নেতা। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনমত সুসংগঠিত করতে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি বিএনপির পরীক্ষিত সৈনিক। তার অনুপস্থিতিতে দল একজন নিবেদিত কর্মীকে হারাল। স্বৈরশাসক বিরোধী আন্দোলন বেগবান করে শোকাহত কর্মীদের নবজাগরণের সৃষ্টি করতে হবে।
বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সদ্য প্রায়ত খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, ফুলতলা উপজেলার সাবেক সভাপতি জনপ্রিয় নেতা মরহুম কাওসার আলী জমাদ্দার এর বাসভবনে গিয়ে পরিবারকে সান্তনা দেয়ার সময় দলের নগর শাখার সাবেক সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু উপরোক্ত কথাগুলে বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শেখ ইকবাল হোসেন, এড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, সিরাজুল হক নান্নু, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, সোলায়মান হোসেন প্রমুখ। এসময় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নগরীর বড় বাজারে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ছুটে যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সেখানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের সাথে কথা বলেন। তাদের বিপদের সময় পাশে থেকে সব কিছু শুনে শান্তনা দেন এবং ধৈর্য ধারণ করার আহবান জানান। তিনি বলেন এই বিপদের দিনে আল্লাহতায়ালা সকলকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আনোয়ার হোসেন, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, শামীম খান, কামাল হোসেন প্রমুখ।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বাজার পরিদর্শনে নগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ
খবর বিজ্ঞপ্তি
ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বড় বাজার পরিদর্শন করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বুধবার সন্ধ্যায় নগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বাজারে যান এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন। তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, যুগ্ম আহবায়ক স ম আব্দুর রহমান, বদরুল আনাম খান, শের আলম সান্টু, একরামুল হক হেলাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধূরি হাসানুর রশীদ মিরাজ, সদস্য নাজির উদ্দিন নান্নু, মজিবর রহমান, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, মিজানুর রহমান মিলটন, শফিকুল ইসলাম শফি, আলী আক্কাস সহ ২১ নং ওয়ার্ডের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ধর্মসভা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন
খবর বিজ্ঞপ্তি
দেবী মর্ত্য ছেড়ে ফিরে যাবে কৈলাশে। তাই উলুধ্বনি, শঙ্ক, ঘন্টা ও ঢাক-ঢোলের বাজণায় দেবী-দূর্গার বিদায়ের সুরে বিজয়া দশমীর সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্রী শ্রী দূর্গা মাকে বিদায়ের কষ্ট ভুলে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য সিঁদুর খেলার মধ্যে দিয়ে ভক্তদের ঢলে দেবী-মা আবারও আশির্বাদ নিয়ে আসবেন এই প্রত্যাশায়- আর্য ধর্মসভা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন এবং ০৫ দিন ব্যাপী শ্রীশ্রী শারদীয় দূর্গা’মায়ের উৎসব অনুষ্ঠান সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ন হওয়ায়, প্রেস-মিডিয়া, সাংবাদিক, পুলিশ প্রশাসন সহ যেসকল নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকল’কে এবং উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দ’দেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সমর কুমার কুন্ডু এবং পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানস ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কর্মকার।

কুল্যায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের মহিষাডাঙ্গার বালুয়া নদীতে বাশিরাম স্মৃতি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে মহিষাডাঙ্গা পুজা উদযাপন পরিষদ ও মহিষাডাঙ্গা বলাকা যুব সংঘের যৌথ আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
হাজার হাজার দর্শকের উপচে পড়া ভীড়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগীতায় সোনা বাধাল, মহিষাডাঙ্গা, কুলপোতা, শাহাপুর, বারানগর, খাশেরাবাদ ও মেষারডাঙ্গা নৌকা দল অংশগ্রহণ করে। সোনা বাধাল নৌকা দল ১ম স্থান ও কুলাপোতা নৌকা দল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।
প্রভাষক হিরুলাল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের পিতা অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার। বিশেষ অতিথি ও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আশাশুনি উপজলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিত মন্ডল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর সাকি ফেরদৌস পলাশ, আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম হোসেনুজ্জামান হোসেন, আশাশুনি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবু হানিফ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য প্রার্থী মহিতুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম সাহেব আলী, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৈদ্য, মহিষাডাঙ্গা বলাকা যুব সংঘের সভাপতি নিমাই বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস, নিরাপদ সরকার প্রমূখ।

আশাশুনির বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনে উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম
আশাশুনি প্রতিনিধি
শারদীয়া দুর্গোৎসবের মহানবমীতে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম। মঙ্গলবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি আশাশুনি সদর ও বুধহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।
পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ বাচ্চু, কুল্যা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক টিটল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসমাউল হুসাইন, যুবলীগ নেতা পরেশ অধিকারী, আনিসুর রহমান বাবলা, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তবিবুর রহমান তৈবার, শোভনালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক হোসেন, উপজেলা কৃষকলীগ নেতা এম এম সাহেব আলী, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুল হাকিম, কাদাকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আসিফ ইকবাল রিপন, শোভনালী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ফরহাদ আহমেদ নয়ন, সাধারণ সম্পাদক আজমীর হোসেন, বুধহাটা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি এজদান হোসেন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আল আমিন হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম আসাদ, সাহারুল, শান্ত প্রমুখ।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডপে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পূজার উৎসবকে প্রাণবন্ত করার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

বড়দল চেয়ারম্যান জগদীশের ২১ মন্দির পরিদর্শন
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র সানা ইউনিয়নের ২১ টি শারদীয়া দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা করেছেন। মহানবমীর দিনে বিকাল ৪.৩০ টা থেকে শুরু করে গভীর রাত্রি পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।
ইউনিয়নে এবছর ২১ টি মন্দিরে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদিয়া, দক্ষিণ মাদিয়া, হেতাইলবুনিয়া, বাইনতলা, দক্ষিণ বড়দল, পাঁচপোতা, বড়দল বাজার, বুড়িয়া, ফকরাবাদ, উত্তর বুড়িয়াসহ ২১ টি পূজা মন্দিরে গমন করে মন্দির ও পূজা কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলেন। সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে পূজা অনুষ্ঠানে আগতদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসব অনুষ্ঠানে স্ব স্ব মন্দিরের কর্মকর্তা ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ সুশংকর কুমার মন্ডল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানগুলোতে মহিলা মেম্বর শ্রাবন্তী বৈরাগী, রেহেনা পারভিন, মেম্বর চন্দ্র কান্ত মন্ডল, সত্যরঞ্জন বৈরাগী, জুলফিকর আলী ভুট্টো, আফজাল হোসেন, আবু হাসান, সাংবাদিক শরিফুজ্জামান শরীফ, যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরজ্জামান ডালিম প্রমুখ চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গী ছিলেন। চেয়ারম্যান জগদীশ চন্দ্র সানা সকল মন্দিরে পূজা শুরুর পূর্বেই ২টি করে সিসি ক্যামেরা প্রদান করেন। এছাড়া স্ষ্ঠুু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা সম্পন্নের জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

বুধহাটায় চেয়ারম্যান ডাবলুর পূজা মন্দির পরিদর্শন
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন শারদীয়া দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ডাবলু। মহানবমীর বিকাল থেকে গভীর রাত্র পর্যন্ত তিনি মন্ডপগুলোতে গমন করেন।
বুধহাটা সুবর্ণ বণিক পাড়া পূজা মন্দির, বুধহাটা সার্বজনীন শারদীয়া পূজা মন্দির, মহেশ্বরকাটি সার্বজনীন পূজা মন্দির, বেউলা, কুন্দুড়িয়াসহ বিভিন্ন শারদীয়া পূজা মন্দিরে গমন করে চেয়ারম্যান ডাবলু কমিটি নের্তৃবৃন্দ ও আগত ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় ইউপি সদস্য, দলীয় নের্তৃবৃন্দসহ অনেকে তার সাথে ছিলেন। বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়া পূজা মন্দির পরিদর্শনকালে মন্দির কমিটির সভাপতি দেব কুমার দে ও সাধারণ সম্পাদক সচ্চিদানন্দদে সদয়ের হাতে তিনি নগদ পাঁচ হাজার টাকা অনুদান তুলে দেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা, স্থানীয় নেতা কর্মী ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপসায় রেলের জমির লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়েও ভোগ-দখল করতে পারছেনা ইদ্রিস মীর
রূপসা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়েও জমি ভোগ-দখল করতে পারছেনা রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের ইদ্রিস আলী মীর। প্রথম লিজ গ্রহীতার লিজ বাতিল না করে একই জায়গায় অন্য আর একজনকে লিজ দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে প্রথম পক্ষের লিজ বহাল রেখে দ্বিতীয় পক্ষের লিজ বাতিল করলেও প্রথম পক্ষকে জমির কাছে যেতে দিচ্ছেনা দ্বিতীয় পক্ষ। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিবাদ লেগেই আছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত রাশেদ আলী মীরের ছেলে ইদ্রিস আলী মীর ২০১১ সালে বাগমারা মৌজার ১৭৩ নম্বর দাগের ১৬ শতক জমি বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে একসনা লিজ গ্রহন করে। সেই থেকে নিয়মিত বার্ষিক খাজনা দিয়ে ভোগ দখল করে আসছে সে। এদিকে ওই এলাকার মৃত নিয়ামত আলী মীরের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৭ সালে ওই একই মৌজার একই দাগের ১৬ শতক জমির মধ্যে ১৫ শতক জমি কৌশলে লিজ নিয়ে জবর দখল করে নেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইদ্রিস আলী মীর রেল কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের লিজ বাতিল করে দেয়। তবে লিজ বাতিল হলেও দ্বিতীয় পক্ষ মামুন ও সাহিদা বেগম ওই জমির মালিকানা ছাড়তে নারাজ। প্রথম পক্ষ জমিতে কাজ করতে গেলেই লোকজন দিয়ে তার উপর হামলা চালাচ্ছে।
জমির লিজ মালিক ইদ্রিস আলী মীর বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমি ওই জমি লিজ নিয়ে ভোগদখলে আছি। প্রতি বছর নিয়মিত খাজনা প্রদান করছি। তিনি বলেন, রেল কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে আমার লিজের জায়গা ওরা লিজ আনে। পরে রেল কর্তৃপক্ষকে আমার লিজের ও খাজনার কাগজ দেখালে ওদের লিজ বাতিল করে আমার লিজ বহাল রাখে। তারপরও সাহিদা ও মামুন আমাকে জমি নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে। আমি এর বিচার চাই।
সাহিদা বেগম বলেন, এই জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এছাড়া ২০১৭ সালে রেল থেকে লিজও নিয়েছি। নিয়মিত খাজনা দিচ্ছেন বলে দাবি করলেও খাজনার কোন রশিদ তিনি দেখাতে পারেননি।
এবিষয়ে রূপসা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এই দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু দিন আগে আমার সভাপতি হারুন মোল্লা ও পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যাান্ড পুলিশ ফাঁড়ির আইসি কামাল হোসেন রেলের ১৮ নং কাছারিতে যায়। উভয়পক্ষের কাগজ-পত্র দেখে ওখানকার কর্মকর্তা জানান ইদ্রিস আলীর কাগজ-পত্র সঠিক আছে। আর মামুনের কাগজ অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছে।

প্রস্তুতি সভায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ
খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে কাফনের কাপড় পড়ে রাজপথে থাকার অঙ্গিকার
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ ২২ অক্টোবর’র বিএনপির বিভাগীয় গনসমাবেশ সফল করতে কাফনের কাপড় পড়ে রাজপথে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করে বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা হারানো ভয়ে বিরোধী দলের কর্মসুচিতে আঘাত করছে। খুলনার সমাবেশ হবে শতভাগ শান্তিপুর্ণ কিন্তু কোন ধরনের বাধা আসলে তার পরিনাম শুভ হবে না।
বুধবার ( ০৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিএনপি কার্যালয়ে ২২ তারিখের বিএনপির বিভাগীয় গনসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আগামী ১৬ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কর্মীসভা সফল করার লক্ষ্যে খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরো বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে চলমান গনতান্ত্রিক আন্দোলন সফল করতে স্বেচ্ছাসেবক দল সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছে। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলালের সভাপতিত্বে এবং ইউসুফ মোল্লার পরিচালনায় প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, কে এম মাহবু হোসেন,মুনতাসির আল মামুন, এস এম নাসির উদ্দিন, হেলাল ফরাজী ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম মল্লিক,মহিদুল ইসলাম,কামরুল ইসলাম,জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু, লাবু বিশ্বাস,আল আমিন সরদার রতন,বেলাল হোসেন,মন্জুর শাহিন রুবলে, মিজান সরদার,এম এম শফি,মোঃ নজরুল ইসলাম,কবীর গাজী, নাইম হাসীব, রিপন সিকদার, মোঃ আল আমিন শেখ, সাইফুর রহমান জাহিদ, আলা উদ্দিন জোমাদ্দার,সাকিল আহমেদ,মোঃ নুরু,জাফর আহমেদ,কালু মোল্লা,মোঃ সবুজ, মোঃ শফিকুল ইসলাম সজল, মোঃ জহির শেখ, মোঃ রিপন হোসেন, মোঃ মাহামুদ হাসান পলাশ, মোঃ রাজু হাওলাদার, মোঃ শহিদুল ইসলাম ডালিম, মোঃ শিরাজুল ইসলাম (শিরাজ), মোঃ জাফর হাওলাদার, মোঃ কবির শেখ, মোঃ ফিরোজ হাওলাদার, মোঃ আবুল সিকদার, মোঃ চানমিয়া, মোঃ এজাজ হোসেন মোল্লা, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ মোক্তার মোল্লা,মীর মে: আল আমিন,মুশফিক জনি,শামসুল হক,শিমুল,ফরিদ,লিটন শিকদার প্রমুখ।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কর্মীসভা সফলের লক্ষ্যে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন হিলটনকে আহবায়ক, ইউসুফ মোল্লা, মুনতাসির আলম মামুন, এস এম নাসির উদ্দিন,হেলাল ফরাজীকে সদস্য করে ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভা থেকে সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খায়রুজ্জামান সজিবের সুস্থতা কামনা করা হয়।

ভারী বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আমনক্ষেত
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-হাকিমপুর গ্রামীন পাকা সড়কের কাশীপুর মাঠের কালভার্ট ভেঙ্গে পড়ায় তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে কালীগঞ্জ ও পার্শ^বর্তী যশোরের চৌগাছা উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামের মানুষ ওই সড়কে চলাচলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে এ অঞ্চলের সকল মাঠের পানি প্রবাহ। এখন অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ওই বিস্তর এলাকার ভরা আমন ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার বিরাট ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়, কাশিপুর গ্রামের কৃষক মাসুদুর রহমান জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই কালভার্টটির অংশ বিশেষ ভাঙতে শুরু করে। এ অবস্থার মধ্যদিয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে ওই ব্যস্থতম সড়কের মানুষ যাতায়াত করছিল। এরপর গত কয়েকদিন আগে কালভার্টটির সম্পূর্ণই ধসে পড়েছে। এছাড়াও কালীগঞ্জ উপজেলার রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন ও যশোরের চৌগাছা উপজেলাসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছে।

কাশীপুর গ্রামের পৌর কাউন্সিলর মেহেদী হাসান সজল বলেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় কালীগঞ্জ থেকে হাকিমপুর যাওয়া-আসার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয়রা তার পাশেই মাটি দিয়ে কিছুটা ভরাট করে আপাতত চলাচলের উপযোগী করেছে মাত্র। তবে, সেটাও ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে এখনই কালভাটটি নির্মান জরুরী। এ বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

শিমলা রোকনপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকালে হঠাৎ কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ার পর স্থানীয়রা ভাঙ্গা স্থানে গাছের ডাল পুতে এর সঙ্গে লাল কাপড় জড়িয়ে দিয়ে চলাচলকারীদের সাবধান করছে মাত্র।
ওই সড়কের পথচারী আব্দুস সালাম জানান, এখন এই সড়কে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মালবাহী কোন গাড়ি যেতে পারছে না। আবার এখন ভারি বর্ষা দেখা দিলে এ বিস্তর এলাকার পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হবে। এমনকি পানিতে আমনের ভরাক্ষেত ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, কালভার্ট ভেঙ্গে পড়ার সংবাদটি জেনেছেন। ভাঙ্গা কালভার্টটি অনেক পুরাতন। রাস্তা এবং ওই রাস্তার কালভার্ট ও ব্রীজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা আগেই পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব পাশ না হলে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তবে কিছুদিন পরেই মাঠের আমন ধান পাকতে শুরু করবে। এ সময় ভারি বর্ষা হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও রয়েছে বর্তমানে ওই সড়কে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে বলে তিনিও স্বীকার করে বলেন আপাতত চলাচল উপযোগী করার ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।

বাগেরহাটে ৮০ বছরের বয়স্ক বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলায় ৮০ বছরের বয়স্ক বিধবা নারী ও তার মেয়েকে মারধর , জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের হলরুমে ভুক্তভোগী নারী রোমেসা বেগম (৮০) এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর বড় মেয়ে রাবেয়া বেগম, ছোট মেয়ে মার্জিয়া বেগম ও পুত্র বধূ হুমায়রা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোমেসা বেগম বলেন, আমার স্বামী ১৮ বছর পূর্বে চার সন্তান রেখে মারা যায়। আমার স্বামীর মৃত্যুর পূর্বে মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা মৌজার ৫১৩ খতিয়ানে ৭৬ শতাংশ জমি রেখে যায়। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে উক্ত সম্মত্তি ভোগ দখল করে আসছি। গত সোমবার (৩রা অক্টোবর) ঐ খতিয়ানের অন্য শরিকদার হোসেন শেখ , ইদ্রিস সেখ ও জাকির শেখ আমার জমিতে জোর পূর্বক ধান চাষ করতে আসে। আমি তাদেরকে বাধা দিলে সে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। আমি কোন উপায় না পেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেই। এতে হামলাকারিরা আমার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয় ও আমাকে মারধর শুরু করে। এ সময় আমাকে বাচাতে আমার ছোট মেয়ে মার্জিয়া এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এ সময় হামলাকারিরা আামর বসত ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আমাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় আমি ও আমার মেয়েকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগি নারী আরো বলেন, হামলা কারীরা নিজেদের ক্ষমতার দাপোটে প্রায় সময়েই বিনা কারনে আমাদের উপর হামলা করে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এখন আমরা বাড়ি ঘরে যেতে ভয় পাচ্ছি। তারা যে কোন সময় আমাদের উপর হামলা ও প্রান নাশ করতে পারে।
তিরি আরো বলেন, ইদ্রিসগং আমাদের ভোগদখলীয় জমি অনৈতিকভাবে রেকর্ড করিয়ে নিলে আমি আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করি। মামলার রায় আমাদের পক্ষে আসায় প্রতিপক্ষরা আদালতের রায় না মেনে আমাদের উপর হামলা করে। তারা আমাদের বসত ঘরের মালামাল লুটে নিয়ে জমি দখলের পায়তারা করছে। এখন ছেলে মেয়েদের নিয়ে যাতে ভালো ভাবে বসবাস করতে পারি এ জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই ভুক্তভোগী নারী।

বারাকপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী আনছার শেখের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন দিঘলিয়ার বারাকপুর বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক ও আগামি ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বারাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আনছার শেখ। মঙ্গলবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বারাকপুর ইউনিয়নের লক্ষিকাঠী সার্বজনীন পূজা মন্দির, আড়ুয়া বাছারবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দির , আড়ুয়া সার্বজনীন পূজা মন্দির, আমবাড়িয়া পশ্চিমপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির , রাধামাধবপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির, রাধামাধবপুর দক্ষিনপাড়া সার্বজনীন দূর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় পূজার শুভেচ্ছা বিনিময় , শুভেচ্ছা উপহার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে ০২ নং বারাকপুর ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তার সাথে ছিলেন।

রামপালে নিরুত্তাপ জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩ প্রার্থী
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
আসন্ন ১৭ অক্টোবর বাগেরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডের (রামপাল উপজেলা) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন প্রার্থী। ১৩৩ জন জনপ্রতিনিধি এ ওয়ার্ডে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি বা সদস্য নির্বাচন করবেন। এ ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হলেন রামপাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. গোলাম আজম ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অসিত বরন কুন্ডু। বাগেরহাট জেলা পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড রামপাল উপজেলা। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা মোট ১৩৩ জন। ১০ টি ইউনিয়নে ১০ জন চেয়ারম্যান, ৯০ জন সাধারণ সদস্য ও ৩০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ১৩০ জন জনপ্রতিনিধি। এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি ক্লিন ইমেজ প্রার্থী। এলাকায় তার জনপ্রিয়ও রয়েছে। তিনি আশাবাদী ভোটাররা তাকে রায় প্রদান করে সদস্য নির্বাচিত করবেন। তিনি তার দলগত অবস্থানের বাইরে রাতদিন প্রচারণায় সময় পার করছেন এবং দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম আজম ও আশাবাদী। তিনি স্বতন্ত্রভাবে হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি ও তার ক্লিন ইমেজ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। শ্রীফলতলাস্থ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মাতব্বর ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি তার দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। আগামী নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে মানুষের পাশে থাকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অসিত বরন কুন্ডু লড়ছেন টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে। তিনি ও আশাবাদী এবারও তিনি নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন জেলা পরিষদের বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুকুর সংস্কার ও নতুন পুকুর খননসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছি। তবে উন্নয়ন বরাদ্দে নয়ছয় বা অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবী করেন। এবারো তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।

ওয়াকিব মহল মনে করেন এবার ভােটের মাঠে ভিন্ন ধরনের মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর যারা এককভাবে অসিত বরন কুন্ডুকে বিজয়ী হতে সহযোগিতা করেছিলেন এবার তারা প্রার্থী হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসবেন সেটি স্পষ্ট নয়। তবে কয়েকজন সাধারণ ভোটাররা বলেছেন যে যাই বলুন আমরা আমাদের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিবো। আমাদের মতামতের উপর কেউ হস্তক্ষেপ করুক এটা আমরা চাই না। কয়েকজন চেয়ারম্যান অসিত বরনকে এগিয়ে রাখলেও ভিন্ন চিত্র মাঠের হিসাবে। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওলোট পালোট হওয়ায় এক নেতার অধিপত্যে ভাটা পড়ে। এতে নতুন সমীকরণ দেখছেন সাধারণ মানুষ। শেষমেশ লড়াইটা ত্রিমুখী হবে না কি দ্বিমুখী হয় সেটি এখন দেখার বিষয়।

ছাত্রনেতা কামালের মৃত্যুবার্ষিকী: এমিতদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেছে ছাত্রদল
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদল আয়োজিত তিনদিনের কর্মসূচির শেষ দিনে বুধবার বাদ জোহর বাংলাদেশ মসজিদ মিশন কমপ্লেক্স মসজিদে বিশেষ দোয়া মোনাজাত এবং এতিম ছাত্রদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
দোয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা। সঞ্চালনা করেন মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ তাজিম বিশ^াস। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ পারভেজ বাবু, ওয়াহেদুর রহমান দিপু, বেগ তানভীরুল আজম, কে এম হুমায়ুুন কবির, এহতেশামুল হক শাওন, রফিকুল ইসলাম বাবু, আব্দুল আজিজ সুমন, গোলাম মোস্তফা তুহিন, মনজুরুল আলম, বেলাল হোসেন, এ্যাড.বজলুর রশিদ রাজা, মুজাহিদুল ইসলাম টনি, খান রাকিব, আমিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, আবিদ হাসান, খান ফিরোজ, হেদায়েতুল্লাহ দিপু, রিয়াজুল খান মুরাদ, আবু জাফর, আঃ রহিম বাদশা, এস এম ইউসুফ, হারুন অর রশিদ, মোঃ শুকুর আলী, মিজানুর রহমান, আরিফুল ইসলাম টুকু, গাজী মোঃ মনিরুল ইসলাম, ইজবুর রহমান ইমুল, মাহামুদুল হাসান, আঃ সালাম, নাম্মিন হোসেন মারজান, ইসরাইল হোসেন জিসান, নাজমুল হাসান, আল আমিন হোসেন, মহিউদ্দিন তালিম, মোঃ আল আমিন, নাসিমুল ইসলাম রিদয়, তারিকুল ইসলাম টিটু, ইয়াসিন মল্লিক, মিজানুর রহমান তামিম, খালিদ হাসান প্রমুখ।
দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মসজিদ মিশন মাদ্রাসা কমপ্লেক্স এর পরিচালক মাওলানা মফিজুর রহমান।

আজ খুলনায় বিএনপির শোক র্যালী
খবর বিজ্ঞপ্তি
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা মহানগরীতে শোক র্যালী করবে বিএনপি। বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর রেল স্টেশন চত্বর থেকে র্যালী বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে।
চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন এবং জ¦ালানী তেল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ভোলার নুরে আলম ও আব্দুর রহিম, নারায়নগঞ্জের শাওন, মুন্সিগঞ্জের শহিদুল ইসলাম শাওন এবং যশোরে আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্মমভাবে হত্যার শিকার আব্দুল আলিম স্মরণে কেন্দ্র থেকে শোক র্যালী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শোক র্যালী কর্মসূচি সফল করতে মহানগর ও জেলা বিএনপি, সকল ওয়ার্ড, থানা, ইউনিয়ন এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।

বাগেরহাটের শিকদার বাড়ী দুর্গামন্দিও পরিদর্শন করলেন এমপি তন্ময়
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিকদার বাড়ী শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-০২ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা শেখ সারহান নাসের তন্ময়। তিনি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার সময় মন্দিরে আসেন। এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ ভুইয়া হেমায়েত উদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আকতারুজ্জামান বাচ্চু, এমপি’র একান্ত সহকারী শেখ ফিরোজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আজিজুল ইসলাম। এর আগে সন্ধ্যায় ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার ইন্দ্রজিৎ সাগার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, মহম্মদ হাসান ও বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) কে,এম আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় অতিথিবৃন্দদেরকে মন্দির কমিটির প্রধান পেষ্টপোষক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি লিটন শিকদার ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

ঝিনাইদহে বঙ্গবন্ধুর কটুক্তিকারী জাহিদ তারেকের বিরুদ্ধে মামলা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি করায় কথিত সাংবাদিক জাহিদুর রহমান তারেকের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম বাপ্পি বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলা নং ৮০৮৪(৩)১/
কটুক্তিকারী আসামি জাহিদুর রহমান তারেককে অবাঞ্চিত ঘোষণা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগসহ সর্বস্থরের জনগণ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার (৩অক্টোবর) আসামী মোঃ জাহিদুর রহমান তারেক তার নিজস্ব ভেরিফাই ফেসবুক আইডি থেকে চিত্রনায়ক সাকিব খানের ছবি দিয়া “সাকিব খাঁন যে হারে বাবা হচ্ছে তাতে মনে হয় জাতির পিতা থেকে শেখ মুজিব বাদ পড়বে এমন শিরোনামে ফেসবুকে পোষ্ট করেছে। জাহিদ তারেকের এরকম মিথ্যা, বিব্রতকর কুরুচিচপূর্ণ, ঔদ্ধত্যমূলক আপত্তিকর কটুক্তি মূলক তথ্য প্রচারের কারনে ঝিনাইদহসহ সারাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে ,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ও সাধারন জনমনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্রক্ষোভ তৈরি হয়।
মামলার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, আসামী জাহিদুর রহমান তারেক সে তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে ঝিনাইদহ এলাকায় অস্থীতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই ছিল আসামির একমাত্র লক্ষ্য। একারণেই তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। আসামী তারেক জাহিদকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া মামলার বাদী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ানুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের আদর্শ তার নামে এরকম কটুকথা আমরা কখনোই মানতে পারিনা। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি বাংলাদেশের নয় তিনি সারাবিশ্বের শোষিত মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।
এদিকে সাগর রহমান নামে ঝিনাইদহের সুশিল সমাজের এক ব্যক্তি বলেন, লেখাপড়া জানে না, কোন যোগ্যতা ছাড়াই ক্যামেরা হাতে করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাঁপিয়ে বেড়ায়। এদের চাঁদাবাজি চরমে। সমাজের এসকল নামধারী, কার্ডধারী সাংবাদিক পরিচয় দানকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।

পূজা দিতে গিয়ে ঘরের স্বর্ণালংকার ও টাকা খোয়ালেন বাওয়ালী পরিবার
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
পূজা দিতে গিয়ে ঘরের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার খোয়ালেন বাওয়ালী পরিবার। ঘরে তালা দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী মন্দিরে পূজা দিতে গেলে সেই ফাঁকে চোরে তালা ভেঙ্গে নিয়ে যায় ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনও পর্যন্ত এ ঘটনার কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানান, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দামেরখন্ড গ্রামের বাসিন্দা নিউটন বাওয়ালী (৪২) তার স্ত্রী লাবনী বাওয়ালীকে (৩৬) নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দামেরখন্ড মন্দিরে পূজা দিতে যান। গেইট ও ঘরের দরজায় তালা দিয়ে তারা মন্দিরে যায়। ওই সময় কেউই ঘরে না থাকার সুযোগে চোরেরা তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে একটি আলমারী, একটি বড় ট্রাঙ্ক ও একটি ছোট ট্রাঙ্কের তালা ভেঙ্গে আসবাবপত্র তছনছ করে। এরপর ঘরে থাকা ৫ ভরি ওজনের এক জোড়া রুলি, এক জোড়া শাখা, এক জোড়া পলা, দুইটি চেইন, একটি লকেট, ৬টি টিকলি, তিনটি কানেরদুল ও নাকফুল, একটি বাজু, একটি নুপুর এবং নগদ ৯৮০০টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। পূজা শেষ করে ঘরে এসে গৃহকর্তা-কর্তী দেখেন সবকিছু তছনছও এলোমেলো। তখন গৃহকর্তী লাবনীর ডাক চিৎকার ও কান্নাকাটিতে আশপাশের লোকজন জড়ো হন।
লাবনী বলেন, সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ৮টার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পাওয়ার ঘন্টা দুই পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে মন্দির আর চুরি হওয়া এ বাড়ীর দূরত্ব কোয়াটার কিলোমিটারেরও কম। মন্দির এলাকায় পুলিশের টহল থাকার পরও পাশেই এমন ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় জনমনে। এদিকে এ চুরির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন ক্লু খুজে বের করতে পারেনি পুলিশ।
চটেরহাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মোঃ আলী রেজা বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, রাস্তা থেকে ঘরটি ভিতরে ও ফাঁকা জায়গায়। কিভাবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটালো তা এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে আমরা এদের (চোরদের) খুজে বের করার চেষ্টা করছি।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, দামেরখন্ড এলাকায় চুরির ঘটনায় রাতেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো, ওই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলছে।

নেচে গেয়ে মোংলায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
নেচে গেয়ে মোংলায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিলেন ভক্তরা। বুধবার দুপুর ১টার দিকে বটতলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দিতে তা নেয়া হয় পৌরসভার ফেরিঘাটে। পরে ফেরিঘাটের মোংলা নদীতে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন ও বিসর্জন দিতে পেরে আনন্দ উল্লাস করেন এ ধর্মাবলম্বীর লোকজনেরা। দেবী বিসর্জনের সময় বিভিন্ন বয়সের লোকজন উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পিযুষ কান্তি মজুমদার বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৩টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে, সন্ধ্যায়ও কয়েকটি বিসর্জন হবে। এছাড়া বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ধরেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে, আর কয়েকটিতে প্রতিমা সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি। মোংলায় ৩৪টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা।

কালীগঞ্জে শিক্ষক দিবস পালন: জাতীয়করণসহ শিক্ষাখাতে বৈষম্য দুরিকরণের দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে জাতীয় শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কালীগঞ্জ শাখার আয়োজনে বুধবার সকালে এ দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষক সমিতির ভবনে সভাপতি জালাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন, সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ,সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, নির্বাহী কমিটির নেতা হেলাল উদ্দীন,মোশাররফ হোসেন, কামাল হোসেন, সাবজাল হোসেন, আছাদুর রহমান, আশরাফ হোসেন প্রমূখ।
পরে সমিতির ভবনের সামনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে তারা মানববন্ধন করেন। এ সময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা নানা বৈষম্যের শিকার। তবে মাধ্যমিক সেক্টরের এ শিক্ষক কর্মচারীরাই দেশের কমপক্ষে ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ভূমিকা রেখে থাকেন। অথচ সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর, কল্যান, উৎসব ভাতা, ঘরভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ বিভিন্ন পাওনাদির ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যায্য পওনার দাবিতে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা জানাতে মেহেরপুরের মাসুম ঝিনাইদহে

খাইরুল ইসলাম নিরব, ঝিনাইদহ –
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গত সোমবার (০৩ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য পদযাত্রা শুরু করেন মাসুম পারভেজ বাবুল। তিনি মেহেরপুর পৌর এলাকার বড়বাজার মুখার্জিপাড়ার আব্দুর রব’র ছেলে।
বুধবার সকালে মাসুম পারভেজ বেশ কিছু সময় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালে একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহযোগিতা পেয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে সুচিকিৎসার মধ্য দিয়ে সুস্থ্যতা লাভ করেন। অসুস্থ অবস্থায় মনে মনে তিনি ওয়াদা করেন, যদি সুস্থ্য হতে পারেন তাহলে মেহেরপুর থেকে প্রায় ৩’শত কিলোমিটার পাঁয়ে হেঁটে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করবেন। তার এ উদ্যেশ্য সফল করতে বুধবার দুপুরে তিনি ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তিনি মাগুরার উদ্দ্যেশ্যে রওনা হন।

দাকোপের বাজুয়াসহ সকল বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতের সবজি
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া (দাকোপ)
খুলনার দাকোপের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম শীতের সবজি। তবে দাম বেশ চড়া বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এছাড়া ডিমের দাম বেড়ে ৫২ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারগুলোতে শীতের আগাম সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম আসতে শুরু করেছে। তবে এসব সবজির সর্বনিম্ন দাম ৮০ টাকা চাওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। পৌরসভার চালনা, দাকোপের পোদ্দারগঞ্জ, বাজুয়া, লাউডোব, খুটাখালি, কৈলাশগঞ্জের ভুটেমারি, বুড়িরডাবর, বানিশান্তা, কালিনগর, রামনগর, তিলডাঙ্গা, কামারখোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম এসব সবজি। বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি, বিটকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। এছাড়া ঝিঙে ৫০, বেগুন ৬০, করলা ৬০, কুমড়া ৫০, পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৪০, গাজর ১৫০, শসা ৫০, কচু ৬০ থেকে ৮০ ও টমেটো ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালনা ও বাজুয়া কাঁচাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোহেল পাটোয়ারী ও মজিদ ফকির জানান, কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষেত তলিয়ে গিয়ে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে আমদানি কমে সবজির দাম বেড়েছে। বাজুয়া ইউনিয়নের সবজি চাষি সুপদ, অনিমেষ, ধোপাধির কিশোর, লাউডোবের ছোট ঠাকুর জানান, এখন শীতের আগাম সবজি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অন্য সবজির দিকে তাকানোর সময় নেই। যার ক্ষেতে যেটুকু আছে, তা বিক্রি করে দিতে পারলেই হাফ ছাড়েন তারা। এই কৃষকরা আরও বলেন, ঠিকমতো সেচ দিতে না পারায় তাদের সবজির উৎপাদন এবার অনেক কম হয়েছে। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা বেশি দামে বিক্রি করছেন কৃষকরা। এদিকে, পোলট্রির খাবারের দামবৃদ্ধি ও পরিবহন খরচের অজুহাত দেখিয়ে আবার ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন খামারিরা। ৪৪ টাকা হালির ডিম এখন কিনতে হচ্ছে ৫২ টাকায়। বাজুয়া বাজারের ডিম বিক্রেতা সুকুমার বলেন, খামারিরা ডিমের দাম কমাতে চাইছে না। তারা আরও দাম বাড়ানোর কথা বলছে। কয়দিন আগেও ৪৪ টাকায় ডিম পাওয়া গেছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা হালি।
বাজুয়া বাজারের ক্রেতা কলেজছাত্র রাসেল শেখ বলেন, মেসে থাকা ছাত্রছাত্রীদের প্রধান খাদ্য হলো ডিম। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে সবাইকে। তিনি আরও বলেন, সব ধরনের পণ্যের ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাঁধে চেপে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। ক্রেতার খোঁজ রাখে না কেউ।

দাকোপের বিভিন্ন এলাকার পূজা মন্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্না
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া (দাকোপ)
নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা বাজারের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরসহ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন ও আর্থিক অনুদান প্রদান করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি এ্যাড গ্লোরিয়া ঝর্না সরকার। এ সময় মহিলা এমপি হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর আগে পৌরসভার মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটিকে আর্থিক অনুদানও দিয়েছেন তিনি । পূজা মন্দির পরিদর্শনকালে বলেন, পৌরসভা সহ উপজেলার পূজা মন্দিরে এবারই প্রথম সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখতে ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে এ বড় উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় মুসলমানদেরকে সহায়তার পাশাপাশি সকলকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যদি কেউ বা কোন গোষ্ঠী আমাদের শান্তিপূর্ণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, দাকোপ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জি এম রেজা সহ আওয়ামী লীগ এর নেতাকর্মী বৃন্দ।

মহানবমী পূজায় সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ’র বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শন ও শারদীয় শুভে”ছা বিনিময়
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপির শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী পূজায় গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরে আগত ভক্তবৃন্দের সাথে শারদীয় শুভে”ছা মতবিনিময় করেন। পরিদর্শন কালে এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ আপনাদের পাশে রয়েছে। অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কোন প্রকার অপশক্তির ঠাঁই নেই।
এ সময় উপ¯ি’ত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল চন্দ্র বৈরাগী, মাগুরখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা, আওয়ামীলীগ নেতা মোল্লা জাহিদুল ইসলাম , মোল্লা সোহেল রানা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমীনা পারভীন রুমা, সুকৃতি মন্ডল, শেখ ইকবাল হোসেন, চৈতালী হালদার, মাইকেল রায়, সুব্রত গোলদার,স্বরসতি মন্ডল, গোপাল হালদার, খান আবুল বাশার, বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল, মনিরুল ইসলাম, ভবতোষ মন্ডল, লিংকন মন্ডল, নিরব গোলদার, হরিচাদ, শাওন, রিপন প্রমূখ।

মোংলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহিনীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় থানায় অভিযোগ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহীনিকে শ্লীলতাহানিসহ ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পূজার কনসার্ট দেখে বাড়ী ফেরার পথে ওই গৃহিনীর পথরোধ করে শরীর জামা-কাপড় ছিড়ে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি ধর্ষণের চেষ্টা করেন চার যুবক। এ ঘটনায় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার ওই গৃহিনী অভিযুক্ত ওই চার যুবকের বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মোংলা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীরখন্ড গ্রামের মৃত আকরাম ফকিরের মেয়ে গৃহিনী পিন্জিরা আক্তার (৩০) কে দীর্ঘদিন ধরে উত্যাক্ত করার পাশাপাশি কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন একই এলাকার হুমায়ুন ঢালী (৪৫), মুসফিকুর রহমান (২৮), বুলবুল শেখ (৩০) ও আবুল হোসেন ঢালী (৪৫)। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পিন্জিরার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে থাকেন তারা। এরপর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পিন্জিরা আক্তার চটেরহাট পূজা মন্দির চত্বরে আয়োজিত কনসার্ট দেখে বাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢালীরখন্ড ব্রিজে কাছে পৌঁছালে ওই চার যুবক পথরোধ করে তার শরীরের কাপড়চোপড় টেনে ছিড়ে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে তার ডাক চিৎকারের আশপাশের বাড়ী ঘরের লোকজন ছুটে আসলে ওই যুবকেরা সেখান থেকে সরে পড়েন। পরে খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে রাত ১টার দিকে থানায় নিয়ে যান। থানা পুলিশ তাকে দেখে চিকিৎসা নেয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনেরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিন্জিরার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আচর, খামচি ও মারাত্মক মারধরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।শ্লীলতাহানির পর ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই যুবকেরা গৃহিনী পিন্জিরাকে বেদম মারপিট করে জখম করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে পিন্জিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহিনী ঢালীরখন্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
এ ঘটনার বিষয়ে অস্বীকার করে অভিযুক্ত মুশফিকুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগে যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে ওই সময়ে আমি মন্দির কমিটির লোকজনের সাথে মন্দির এলাকায় ছিলাম, আপনারা খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন। বাকী অভিযুক্তদের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢালীরখন্ডের পিন্জিরা আক্তারের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে আব্দুর রহমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশু পৌরসভার শাপলাকলি পাড়ার রুবেল হোসেন ও শান্তা খাতুনের সন্তান। বুধবার সকালে জীবননগর পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সকালে শান্তা খাতুনের বাড়ি থেকে খবর আসে তাঁর বাবা অসুস্থ। এ খবর শুনে ৯ বছরের ছেলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে ভ্যানে করে তেঁতুলিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। গাড়িটি আলিয়া মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে একটি চাকা গর্তে পড়ে যায়। এ সময় শান্তা ও কোলে থাকা শিশু আব্দুর রহমান ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। শিশু আব্দুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে অন্য হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সে মারা যায়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল খালেক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

খুলনার বড় বাজারে আগুনে পুড়ল ৭ দোকান
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার বড় বাজারে আগুনের ঘটনায় ৭টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। বুধবার দুপুরে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন জানান, বুধবার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে তারা আগুনের খবর পান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ২টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাজারের সড়কগুলো সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। তবে বাজারের পাশে ভৈরব নদী থেকে পানি নিতে পারায় দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে।

খুলনা বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান মিঠু জানান, আগুনে সাতটি পাইকারি দোকান পুড়ে গেছে। এর ফলে তাদের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

যে দোকানগুলো পুড়েছে সেগুলো হচ্ছে- খান ট্রেডিং, কংসমনি, নিউ কংসমনি, নাহিদ ছাতা, সুরুচি বস্ত্রালয়, হোসেন হার্ডওয়ার ও গাজী অ্যালুমিনিয়াম।

এসএসসি পরীক্ষার হারিয়ে যাওয়া ৫০টি খাতা ১৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার!
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ১মপত্র বিষয়ের ৫০টি খাতা হারিয়ে যাওয়ার ১৩ ঘণ্টা পর পাওয়া গেছে। খাতা হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক স্কুলশিক্ষক এমএম বোরহান উদ্দীন।

বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয় স্থানীয় শিক্ষক মহলের মধ্যে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার সময় হারিয়ে যাওয়া সেই খাতার বান্ডিল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় পাওয়া গেছে নওয়াপাড়া শহরের জগবাবুর মোড় এলাকায়।

এসএসসি পরীক্ষার পরীক্ষক উপজেলার শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক এমএম বোরহান উদ্দীন জানান, মূল্যায়নের জন্য আনা এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ের খাতার মধ্য থেকে ৫০টির একটি বান্ডিল তার মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায় নওয়াপাড়া-ধোপাদি সড়কে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নওয়াপাড়া শহরের ধোপাদি সড়কে।

খাতার বান্ডিলটি হারানোর পর ওই শিক্ষক সারারাত পাগলের ন্যায় ছোটাছুটি করে খুঁজতে থাকেন হারিয়ে যাওয়া সেই খাতা। ১৩ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় হারিয়ে যাওয়া সেই খাতা পাওয়া যায় নওয়াপাড়া শহরের জগবাবুর মোড় এলাকায়।

বিষয়টি সম্পর্কে এ বছরে নির্বাচিত যশোর জেলাপর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এসএম ফারুক আহমেদ বলেন, বিষয়টি জেনে আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। খাতা পাওয়ায় সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরা।

‘বাবা আমি মরে গেলে ভালো হতো’
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও রত্না খাতুন দম্পতির একমাত্র মেয়ে নীলা খাতুন। আট বছরের শিশুটি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। নিজের অসুস্থতাজনিত যন্ত্রণা সইতে না পেরে ছোট্ট নীলা তার বাবাকে বলে, ‘আমি মরে গেলে ভালো হতো। জ্বালা-যন্ত্রণা হতো না। ঘুমিয়ে থাকতাম নিশ্চিন্তে।’

মেয়ের কণ্ঠে এমন কথা শোনার পর অসহায় বাবা-মা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। চোখের সামনে দিনদিন শিশুটির অবস্থা খারাপের দিকে গেলেও নীলার চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই অসহায় এই বাবা-মার। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছেন তারা।

নীলার বাবা একটি মিষ্টির দোকানে কারিগরের কাজ করেন আর মা গৃহিণী। আসাদুজ্জামান যা আয় করেন তা মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সংসারে কিছুই দিতে পারেন না। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। অর্থের অভাবে আদরের সন্তানকে চোখের সামনেই নীরবে শেষ হতে দেখছেন শিশুটির বাবা-মা।
এদিকে, নিষ্পাপ মায়াবী চেহারায় ফুটে উঠেছে নীলার বাঁচার আকুতি। নীলা কেমন আছো, জিজ্ঞাসা করলে ছোট গলায় বললো, ভালো নেই, আমার গায়ে জ্বর, সবসময় জ্বালা-যন্ত্রণা করে। খেতে পারি না। উঠতে পারি না। খেলতে পারি না। স্কুলে যেতে পারি না। ডাক্তার বলেছে, অপারেশন করতে হবে। আমাদের তো টাকা নেই। আপনারা দয়া করেন। অন্য ছেলেমেয়েদের মতো আমিও বাঁচতে চাই, বলেই কেঁদে ফেলে শিশুটি।

নীলার বাবা আসাদুজ্জামান জানান, জন্মের মাত্র আড়াই মাস বয়স থেকে নীলা থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। সেই থেকে দীর্ঘ আট বছর ধরে তার শরীরে রক্ত দিয়ে আসছিল পরিবার। বর্তমানে তা জটিল আকার ধারণ করেছে। নীলার পেট ফুলে গেছে। শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। একথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসায় ব্যয় হবে তিন লাখ টাকা। কোথা থেকে পাবেন এ টাকা। গত আট বছরে সন্তানের চিকিৎসা করাতেই তার জমানো সব টাকা শেষ।

এ বিষয়ে স্থানীয় কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। শিশুটাকে বাঁচাতে অনেক আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তশালীদের নীলার চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন: নড়াইলে আওয়ামী লীগ-বিদ্রোহী প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী সভায় তারা এ অভিযোগ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সভার সভাপতিত্ব করেন।

তিন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুল আমীর লিটু, অপর বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদ।

সুবাস চন্দ্র বোস অভিযোগ করে বলেন, ‘লিটু যেখানেই যাচ্ছেন সেখানে আমার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং ইউপি সদস্যদের ধর্মীয় গ্রন্থ ছুঁইয়ে শপথ করাচ্ছেন। আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে। এটা কী নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন নয়?’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্রোহী প্রার্থী লিটু বলেন, ‘২৬ সেপ্টেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে আমার প্রস্তাবক-সমর্থকসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। এটাতো অনেক বড় আচরণ বিধি লঙ্ঘন। আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে অপর বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, আনারস প্রতীকের সুবাস চন্দ্র বোস প্রত্যেক ইউনিয়নে গিয়ে প্রত্যেক ইউপি সদস্যকে ৪ হাজার টাকা দিচ্ছেন। মোট ভোটার ৫৫২ জন। প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা দিলে কতো টাকা হয়। এ টাকা দেওয়ার কোনো
প্রার্থীর সুযোগ আছে।

এর কোনো প্রমাণ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা বলেছেন।’ তবে টাকা দেওয়ার বিষয়টি সুবাস চন্দ্র বোস মিথ্যা বলে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আইন সবার জন্য সমান। যদি কেউ নির্বচন বিধি লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব প্রার্থীকে ৩১টি নির্বাচন বিধির সবগুলো মেনে চলতে হবে। এছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদের দুই সদস্য প্রার্থীর মারামারি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের ওপর হামলার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

 

যশোরের মনিরামপুরে সন্ধ্যা রাতে নারী খুন!

শহিদুল ইসলাম দইচ যশোর।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জয়নগর ইটভাটার পাশের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরাদহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৫ অক্টোবর (বুধবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। তবে ওই নারীর পরিচয় সনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মনিরামপুর থানার ওসি নূর ই আলম সিদ্দিকী জানান, রাত আটটার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন জয়নগর ইটভাটার পাশে লোকমান মিয়ার কলাবাগানে এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। এরপর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সন্ধ্যার পরপরই ওই নারীকে হত্যা করে লাশ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে স্থানীয়রা কেউ তাকে চিনতে পারেনি।
তিনি আরো জানান ঘটনাস্থলে পুলিশের সাথে র্যাব ও পিবিআই সদস্যরা ছায়া তদন্ত করছে।
এদিকে র্যাব- ৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম নাজিউর রহমান জানান, তারা ওই নারীর পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। নিহত নারীর নাম হীরা বেগম এবং তিনি মনিরামপুরেরই বাসিন্দা। তদন্তের স্বার্থে তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে চাননি র্যাবের এ কর্মকর্তা।

‘তবুও থামছে না বাল্যবিয়ে’
স্টাফ রিপোর্টার
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও রোধ করা যাচ্ছে না এ কার্যক্রম। বিভিন্নভাবে বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

করোনাকালে দুই বছর খুলনায় তিন সহস্রাধিক বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটে। যা বর্তমানে কিছুটা কমলেও বন্ধ হয়নি, অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, গত তিন বছরে খুলনা মহানগর উপজেলায় প্রশাসন ও সচেতন মানুষের পদক্ষেপে ১৮০টি বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র জানায়, শহর, বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, হাটে-মাঠে, বিলবোর্ড, সিনেমা ও সংবাদপত্রে প্রচারণা হচ্ছে ‘বাল্যবিয়েকে না বলুন’। জেলা, উপজেলা, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, এনজিও, কাজী, ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা ব্যস্ত বাল্যবিয়ে থামাতে। দাতাগোষ্ঠীও টাকা ঢালছে এ প্রকল্পে। তবুও থামছে না বাল্যবিয়ে। মহানগরীর চেয়ে গ্রামে বাল্যবিয়ে বেশি।

সূত্র জানায়, করোনা মহামারিতে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামে বাল্যবিয়ের হিড়িক পড়ে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রেমজনিত সম্পর্কের কারণে আত্মমর্যাদা রক্ষার্থেও অভিভাবকরা বিয়ে দিতে বাধ্য হন অপ্রাপ্ত বয়স্কদের।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর খুলনার সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মহিলা অধিদপ্তরের প্রচেষ্টায় জেলায় ২০২০ সালে ৬২টি, ২০২১ সালে ৫৮ টি এবং চলতি ২০২২ সালের জুন পযন্ত ৬০টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরীতে বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে গেল দুই মাসের মধ্যে তেরখাদা উপজেলায় ৬টি, দিঘলিয়া উপজেলায় ৩টি, রূপসা উপজেলায় ২টি, ডুমুরিয়া উপজেলায় ৪টি, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২টি, দাকোপ উপজেলায় ৩টি পাইকগাছা উপজেলায় ৪ এবং কয়রা উপজেলায় ১টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

সম্মিলিত চেস্টায় বাল্যবিয়ের কবল থেকে দিঘলিয়া উপজেলার কেয়া খাতুন, সাব্বির চৌধুরী, আরতী রায়, তেরখাদা উপজেলার সোনিয়া খাতুন, রোকসানা আর্ণিকা, আদুরী বেগম, আমেন খাতুন, আশা লতা রায়, রূপসা উপজেলায় লিজা সুলতানা, তানিয়া খাতুন, ডুমুরিয়া উপজেলায় সুমনা পারভীন, মানসুরা খাতুন, মারিয়াম সুলতানা মারিয়া, লিমা খাতুন, বটিয়াঘাটা উপজেলায় তারা রায়, বিউটি মন্ডল, দাকোপ উপজেলায় নাসরিন খাতুন, কল্যানী সরকার, তমা খাতুন, পাইকগাছা উপজেলায় লাইলী আক্তার মেঘলা, রিয়া আক্তার, সুরাইয়া আক্তার, মারিয়া খাতুন ও কয়রা উপজেলায় রিয়াকে রক্ষা পেয়েছে। তারা শিক্ষা জীবন অব্যাহত রেখেছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের (খুলনা) উপ-পরিচালক হাসনা হেনা বলেন, সচেতনতার কারণে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি জানান, মহানগরীর তুলনায় খুলনায় এ ধরনের বিয়ের তৎপরতা বেশি। তবে অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না।