Home আন্তর্জাতিক পুতিনের ‘দুর্দিন’ আসছে!

পুতিনের ‘দুর্দিন’ আসছে!

21

খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।

চলতি বছরের গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর আজ শনিবার পর্যন্ত টানা ২০৬ দিনের মতো চলছে দেশ দুইটির সংঘাত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভ দখল নিয়ে সেখানে পুতুল সরকার বসোনার যে ইচ্ছে ছিল পুতিনের তা এখন পর্যন্ত অধরাই। এছাড়া রুশ বাহিনী ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল সম্প্রতি জানা যাচ্ছে, অনেক অঞ্চল থেকে ইউক্রেন বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে রুশ বাহিনী। সামনে ইউক্রেন বাহিনীর অগ্রসর অব্যাহত থাকবে বলে দাবি পশ্চিমা গোয়েন্দাদের।

স্থানীয় দুই রাজনীতিবিদের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যর্থতা পুতিনের নতুন বিরোধী জোটকে উসকে দিচ্ছে। এই দুই রাজনীতিবিদও পুতিনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

দ্রুত বিজয় অর্জনে ব্যর্থতা, ইউক্রেন বাহিনীর সফল পাল্টা আক্রমণ এবং যুদ্ধে বহু রুশ বাহিনীর প্রাণহানি ও অসংখ্য সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতিতে রাগ ও ক্ষোভকে পুতিনের বিরোধীরা কাজে লাগাতে চেষ্টা করছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের স্থানীয় এক রাজনীতিবিদ দিমিত্রি পলিউগা বলেন, একটি পয়েন্ট হচ্ছে উদারপন্থী দল এবং যুদ্ধপন্থী দল উভয়েরই লক্ষ্য এক হতে পারে। সেটা হচ্ছে পুতিনকে পদত্যাগ করার লক্ষ্য। পুতিনের নিজ শহরের এই নেতা পুতিনের অভিশংসনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সিএনএনকে দিমিত্রি পলিউগা বলেন, তার মতো উদারপন্থীরা মানবিক ও আইনি ভিত্তিতে ইউক্রেন আক্রমণের বিরোধিতা করেছিল। তাই তিনি এখন এতে সমর্থন পাওয়া বেশি সুযোগ দেখছেন।

তিনি আরও বলেছেন, আমরা কিছু লোককে টার্গেট করতে চাচ্ছি যারা আগে পুতিনকে সমর্থন করেছিল কিন্তু এখন তারা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করছেন।

স্থানীয় এই নেতা বলেন, এই মুহূর্তে রুশ বাহিনী ধ্বংস হচ্ছে। আমরা লোক, অস্ত্র হারাচ্ছি এবং আমরা নিজেদের রক্ষা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলব।

তবে রাশিয়ায় পুতিনের সমালোচনা করা বেশ কঠিন। দেশটিতে পুতিনের প্রধান বিরোধী অ্যালেক্সি নাভানলিকে প্রথমে বিষপ্রয়োগ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে জেলে পাঠানো হয়।

পুতিনের আরেক বিরোধী বরিস নেমতসভকে গুলি করা হয় বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোধীতা করায় দেশটির লেখক এবং রাজনীতিবিদ ভ্লাদিমির কারা-মুর্জা এখন জেলের ঘানি টানছেন। এছাড়া পুতিনের বিরুদ্ধে যাওয়ায় দেশটির বহু বিরোধীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমা গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে তুমুল বাহিনী সংকটে ভুগছে রাশিয়া। এই ঘাটতি মেটাতে রাশিয়া বিভিন্নভাবে সেনা নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এই সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে কয়েদিদের পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার কারাগারগুলোতে আটক অপরাধীদের ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠনোর বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন দেশটির একটি ভাড়াটে গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। রাশিয়ায় ওয়াগনার গ্রুপ নামে একটি ভাড়াটে সৈন্য দলের প্রধান হচ্ছেন ইয়েভগেনি প্রিগোজিন।

সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সৈন্য ভাড়া করার জন্য রাশিয়ার একটি কারাগারে যান। সেখানে তিনি বলেছেন, যারা যুদ্ধে যেতে চায় না, তাদের উচিত হবে তাদের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠানো।

ফাঁস ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারাগারে গিয়ে ইয়েভগেনি প্রিগোজিন বন্দিদের উদ্দেশে বলছেন যারা তার গ্রুপের জন্য ছয়মাস কাজ করবে তাদের মুক্ত করে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ভ্লাদমির পুতিন দেশটিতে সেনাবাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।

এদিকে আজ গার্ডিয়ানের লাইভ প্রতিবেদন বলেছে, লুহানস্কে ইউক্রেন বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে রাশিয়ার সম্ভবত মজুদ নেই। এছাড়া পুতিন এতদিন যাকে নিজের পক্ষ বলে মনে করতেন তাতেও প্রশ্ন উঠেছে।

উজবেকিস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সামিটের ফাঁকে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে মোদি পুতিনকে বলেছেন, এখন যুদ্ধ করার সময় নয়। এজন্য মোদির প্রশংসা করেছে মার্কিন মিডিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উজবেকিস্তানে সমরকান্দ শহরের মোদি-পুতিনের বৈঠকের কথোপকথন মার্কিন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের শিরোনামে লিখে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনকে তিরস্কার করেছে মোদি। রাশিয়ার শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সব দিক থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

রয়টার্স মোদির এই বক্তব্য পুতিনকে সরাসরি আক্রমণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলেছে। তাই পুতিনের সামনে দুর্দিন আসছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।