Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

10

মাত্র ২৫ টাকা বাড়ল চা শ্রমিকদের মজুরি
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে টানা আটদিন ধরে চলা চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার এ আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তারা। বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল মজুরি বৃদ্ধির পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
নৃপেন পাল বলেন, চা-শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে সরকারের এই প্রস্তাব শ্রমিকরা মেনে নিয়েছেন।

শনিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চা-শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হয়। বেলা ৩টায় চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শ্রম অধিদপ্তর। এই বৈঠক শেষে নৃপেন পাল অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুস শহীদসহ মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং চা-শ্রমিকদের পক্ষে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৯ আগস্ট দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করে আসছিল বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।

বঙ্গোপসাগরে ১০ ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৩৪ জেলে
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অন্তত ১৫০ জন জেলেসহ ১০টি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩৪ জন জেলে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা ও মহিপুর আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা।
জেলেরা বলেন, অস্বাভাবিক ঢেউ এবং ঝড়ের কবলে তাদের ট্রলারগুলো ডুবে যায়। এ সময় পাশে থাকা অন্য ট্রলারের মাধ্যমে অন্তত ১১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাগর উত্তাল থাকায় এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৩৪ জন জেলে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিজামপুর কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সেলিম মন্ডল বলেন, সাগরে ট্রলারডুবির খবর পেয়েছি। আমাদের টহল টিম সাগরে রয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার বিরাজ করায় সহস্রাধিক ট্রলার শিববাড়িয়া প্রতাশ্রয়ে অবস্থান করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কেউ না: রহমান
ঢাকা অফিস
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আমাদের দলের কেউ না। তার বক্তব্যের দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না।’
শনিবার দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আব্দুর রহমান। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

আব্দুর রহমান বলেন, চট্রগ্রামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আওয়ামী লীগের দলীয় বক্তব্য নয়। আওয়ামী লীগ জনগণের দল সুতরাং কোনো দেশের সমর্থনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা নির্ভর করে না।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের নয়াদিল্লিতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি দেশটিতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আজকে অনেকের বক্তব্যতে সেটাই এসেছে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। দলের একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ তাদের বক্তব্যে সে বিব্রত অবস্থার কথা জানিয়েছেন।

‘এক পায়ে পাড়া দেব’ বলা সেই ছাত্রলীগ নেত্রী ক্ষমা চাইলেন
ঢাকা অফিস
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে ছাত্রলীগ নেত্রীকে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা গেছে। সেই কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর তামান্না জেসমিন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন।

সেই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। এরা আমার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কিছু নয়। একান্ত ব্যক্তিগত পরিবেশে হলেও দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অসংযত ভাষার প্রয়োগ আমার অপরাধ হয়েছে বলে আমি স্বীকার করছি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাকে এমন শিক্ষা দেয় না তাই সংগঠনের প্রতি আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’
ফাঁস হওয়া অডিওতে তামান্না জেসমিন রিভাকে বলতে শোনা যায়, ‘এইটুকু সেন্স থাকা উচিত ছিল, রুমটা যেহেতু ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্ট নিয়ে নিছে, ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্টের ওপরে আর কেউ নাই। উল্টাপাল্টা করবি এক পায়ে পাড়া দেব, আরেক পায়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলব।’

অডিওতে ছাত্রলীগ সভাপতিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘তোরা লিগ্যাল তাতে আমার… গেছে। কোন হেডাম দেখাইতে আসিস তোরা। আমার পলিটিক্যাল রুমে তোরা লিগ্যাল থাকবি কি না, সেটা তোদের বিষয়। কে কে টাকা জমা দিছিস? আমারে দিছিস? আর কে লিগ্যাল?’

এ সময় পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ও তো অসুস্থ, বাসায় গেছে।’ এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘২০২ (রুম নং) এ আর লিগ্যাল কে? তোরা লিগ্যাল তাতে আমার কী… গেছে? বল? আমি কি তোদের। চ্যাটাং চ্যাটাং করতাছোস! এক পায়ে পাড়া দিমু, আরেক পা টাইনা ধইরা ছিঁড়া ফেলমু। চার মাস হয়ে গেছে, ফাইজলামি শুরু করছিস!’

এ সময় সুমনা মীর নামে এক মেয়েকে গালমন্দ করতে শোনা যায় ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতিকে। তিনি বলেন, ‘বুঝিস না পলিটিক্যাল রুমে থাকিস। তোদের লিগ্যাল করাইছে তাতে আমার… কি? আমি যদি একটা সিট না দেই, ২০২ থেকে তোদের কোন বাপ সিট দেবে? ম্যাডামেরা দেবে, ক্ষমতা আছে ম্যাডামদের? ম্যাডামদের ক্ষমতা আছে আমাদের রুম থেকে একটা মেয়েকে বের করার। ইডেন কলেজের প্রিন্সিপালেরও ক্ষমতা নেই এই রুম থেকে একটাকে বের করার। একদম গলায় পাড়া দিয়ে ধরতে ইচ্ছা করতেছে। আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে যেই রুমে বলব সেই রুমে যাবি। আমার সঙ্গে হেডাম দেখাইতে আসে।’

নদীতে ভেসে উঠল ২০ যুদ্ধজাহাজ
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র খরার মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপ। এতে গত এক শতাব্দীর মধ্যে দানিয়ুব নদীর পানি পৌঁছেছে সর্বনিম্ন স্তরের একটিতে। ফলে সার্বিয়ার বন্দর শহর প্রাহোভোর কাছে ভেসে উঠেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া কয়েক ডজন জার্মান যুদ্ধজাহাজ। আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৪৪ সালে সোভিয়েত বাহিনীর আক্রমণে দানিয়ুব নদীর তীরে নাৎসি জার্মানির কৃষ্ণসাগর বহরের শত শত যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। পানি কমে যাওয়ায় ভেসে ওঠা এসব যুদ্ধজাহাজ সেই বহরের অংশ ছিল।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে ইউরোপজুড়ে সৃষ্ট চলতি বছরের খরায় ভেসে ওঠা এসব যুদ্ধজাহাজের অনেকগুলোতে এখনও কয়েক টন করে গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক মজুদ রয়েছে। ফলে এই রুটে নৌ-চলাচল এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এমনকি পানির স্তর কম থাকলে এখনও ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই নদীপথে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে।

ডুবে যাওয়া এসব জার্মান যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কে একটি বই লিখেছেন প্রাহোভোর প্রবীণ নাগরিক ভেলিমির ট্রাজিলোভি (৭৪)। তিনি বলেন, ‘ডুবে যাওয়া জার্মান জাহাজের এই বহর একটি বড় পরিবেশগত বিপর্যয় রেখে গেছে, যা প্রাহোভোর মানুষকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’

এ ছাড়া এসব জার্মান জাহাজের কারণে স্থানীয় মাছ ধরা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন রোমানিয়া থেকে আসা ব্যক্তিরাও। মূলত নদীর ঠিক ওপারেই রোমানিয়ার অবস্থান।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, মাসের পর মাস ধরে চলে আসা খরা ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দানিয়ুব নদীপথে নৌ-চলাচল কার্যত থমকে গিয়েছে। এতে করে জার্মানি, ইতালি এবং ফ্রান্সসহ ইউরোপের এক অংশ থেকে অন্য অংশে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্য সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ দানিয়ুবের নৌ-চলাচলের লেনগুলো চালু রাখার জন্য ড্রেজিং করছে। তবে দানিয়ুব নদীতে ডুবে থাকা কিছু জার্মান জাহাজ নৌচলাচলের অংশটি ১৮০ মিটার থেকে মাত্র ১০০ মিটারে সঙ্কুচিত করে দিয়েছে।

পেঁয়াজের খোসার বেশ কিছু অবাক করা ব্যবহার
বিভিন্ন ধরনের মজার খাবার তৈরি করতে পেঁয়াজ দরকার। আমরা সাধারণত পেঁয়াজের খোসা আলাদা করে নেওয়ার পর তা আবর্জনার মধ্যে ফেলে দিয়ে থাকেন। কিন্তু জানলে অবাক হবেন যে পেঁয়াজের মতো এর খোসাও অনেক উপকারী। আসুন জেনে নিন পেঁয়াজের খোসার অসাধারণ কতগুলি ব্যবহার:

১. পানির মধ্যে পেঁয়াজের খোসা দিয়ে অন্তত বিশ মিনিট ধরে ফোটান। এরপর থেকে নিয়ে গরম গরম পান করুন। দেখবেন শরীরে ব্যথা বেদনা অনেকাংশে দূর হয়ে গেছে।
২. যারা অনিদ্রাজনিত কারণে ঘুমোতে পারেন না। নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেলে তবেই ঘুম আসে, তাদের জন্য পেঁয়াজের খোসা ভীষণ উপকারী। ঘুমের ঔষধ প্রতিদিন খাওয়া কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। তাই পেঁয়াজের খোসার সেদ্ধ করুন ১৫ মিনিট ধরে জলের মধ্যে এরপর চায়ের মত করে পান করুন।

৩. আমরা সবাই মোটামুটি জানি, পেঁয়াজ চুলের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু অনেকেই জানি না যে, পেঁয়াজের খোসা ও চুলের জন্য সমান উপকারী। পেঁয়াজের খোসা পানির মধ্যে ফুটিয়ে সেই পানি যদি মাথায় লাগিয়ে রাখা যায়, তাহলে চুল আরো বেশি গ্লসি আর চুলে হালকা একটি রং দেখা যায়।

৪. অনেক সময় গরমের কারণে হাতে, পায়ে, গলায় ঘামাচি দেখা যায়। সেক্ষেত্রে পিঁয়াজের খোসা সেদ্ধ করে লাগালে এই সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পেতে পারেন।পিঁয়াজের খোসা সেদ্ধ পানিতে পাবেন এন্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি যা ঘামাচি দূর করতে সক্ষম।

৫. চিকেন সুপ, গ্রেভি ইত্যাদি রান্না করার সময় যদি পিঁয়াজের খোসা সেদ্ধ পানি দিতে পারেন, তাহলে রান্নার স্বাদ হাজারো গুণ বেড়ে যায়।

এফডিসির নেতারা এখন কোথায়
এফডিসিতে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভা থেকে গত বৃহস্পতিবার অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসের ব্যবহৃত ব্যাগ চুরি হয়েছে। তিনি জানান, তার ব্যাগে দুটি মুঠোফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ক্রেডিট কার্ড, ঘরের চাবিসহ অনেক কিছুই ছিল। এ ব্যাপারে রাজধানীর শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন তিনি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এফডিসির কোন সংগঠনের নেতারা তার খোঁজ নেয়নি। নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগও।

ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অরুণা বিশ্বাস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের এফডিসির শ্রদ্ধেয় নেতারা, আপনার কোথায়? আপনাদের সহকর্মীর এত বড় ক্ষতি হয়ে গেল, আপনারা জানার পরও এখনো কেউ আমাকে কল করে জানতে চাননি, আমি কী অবস্থায় আছি? অথচ ভক্ত অনুরাগী, বন্ধুবান্ধব, সাংবাদিক, পরিবারের আত্মীয়স্বজন সবাই খোঁজ নিয়েছেন, এখনো নিচ্ছেন।’
সমিতির নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘মনের সংকীর্ণতার ওপরে উঠুন, শিল্পী হয়ে শিল্পীর পাশে দাঁড়ান। মানবতাও ধর্ম। সহমর্মিতা জানালে বড়ই হবেন, ছোট হবেন না।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘যখন ব্যাগটি হারাই, তখন ওখানে অনেক নেতারাই উপস্থিত ছিল। দু’দিন হয়ে গেল, নেতারা কেউ একবারও খোঁজ নিলো না। আমার সংগঠন শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইসহ অনেকেই ছিলেন, তারাও খোঁজ নেননি। জিনিসগুলো উদ্ধার হোক বা না হোক, একবার হলেও তো সহকর্মীদের ফোন আমি আশা করতে পারি। তাহলে বুঝতাম, আমার সংগঠন আমার পাশে আছে। শুধু শিল্পী সমিতিই না, অন্য সমিতির নেতারাও কেউ খবর নেয়নি। শিল্পীর বিপদে যদি শিল্পী, কলাকুশলীরা এগিয়ে না আসে, তাহলে সংগঠন দিয়ে লাভ কী?’

এদিকে, এফডিসিতে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় একাধিক শিল্পী নিরাপত্তায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এফডিসির ভেতরে ইউটিউবার ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত বেড়েছে। সংরক্ষিত এই এলাকায় এখন অনেকে অচেনা মুখের দেখা মেলে। কাদের সহায়তায় এরা এফডিসিতে ঢুকছে- এসব এখন গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করা দরকার। না হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামনে আরও ঘটবে।

মুক্ত জীবনে ডানা মেলল ১২ টিয়া
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মহারাজপুর গ্রাম থেকে বন্দি ১২টি টিয়া পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীনেশ সরকার উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাখিগুলো ছেড়ে দেন।

জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রাম থেকে পাখিগুলো ‘দি অ্যানিম্যাল রেসকিউ টিম’র সাতজন সদস্যের সহযোগিতায় ১২টি পাখি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি বিলুপ্ত প্রজাতির চন্দনা টিয়া পাখি ছিল। মহারাজপুর গ্রামের পাখি শিকারি শান্ত ও জয় দীর্ঘদিন ধরে পাখি শিকার করতেন। তারা আর কোনোদিন পাখি শিকার করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন।
ইউএনও দীনেশ সরকার বলেন, ‘পরিবেশের জন্যই বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণ করা দরকার। অবৈধভাবে পাখি শিকার ও কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই পাখি শিকারিদের সচেতন করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ভেড়ামারার ইউএনও দীনেশ সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলার রেসকিউ টিমের সদস্যরা গত এক বছরে মোট ১৮৭টি পাখি অবমুক্ত করেন। এই সংগঠনটি বন্য ও পোষা প্রাণীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ, মালিকানাহীন প্রাণীদের চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত এবং জনসাধারণের মাঝে প্রাণী জীবন রক্ষার্থে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

খুলনা মহানগর তাঁতীলীগ নেতা হিরন শেখের ইন্তেকাল: শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর তাঁতীলীগের সদস্য হিরন শেখ শুক্রবার সকাল ৬ টায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…… রাজিউন)। খুলনা মহানগর তাঁতী লীগ তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। বিবৃতি দাতারা হলেন খুলনা মহানগর তাঁতীলীগের সভাপতি সাব্বির আহমেদ শুভ,সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, সহ সভাপতি মঞ্জুর হোসেন, নাজমুজ্জামান জুয়েল,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম রায়হান আহাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এফ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইসলামুল হক,সদস্য রুবেল, জামাল ইমতিয়াজ সোহাগ, আঞ্জুমান রোজী, রানা তালুকদার,সাহাদাত হোসেন,জামাল, লাভলী আক্তার প্রমুখ।

অস্বচ্ছল নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করলেন এমপি বাবু
খবর বিজ্ঞপ্তি
পাইকগাছা উপজেলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্রতা দূরীকরণের লক্ষ্যে অস্বচ্ছল নারীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত সেলাই মেশিন প্রদান করেছেন খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু। গত শুক্রবার বিকালে পাইকগাছা পৌরসভা এলাকায় তিনি এ সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিহাবউদ্দীন ফিরোজ বুলু, ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস বিশ^াস, জেলা যুবলীগ নেতা শামীম সরকার, যুবলীগ নেতা এম এম আজিজুল হাকিম, আকরামুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান পারভেজ রনি প্রমুখ।

রামপালে জাতীয় শোক দিবসে তাঁতী লীগের আলোচনা ও দোয়া
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
রামপালে তাঁতীলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১ টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি মোঃ নাজমুল হাসান সোহাগের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্লা আব্দুর রউফ।

উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিভাষ চন্দ্র হালদারের সঞ্চালনায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল বাকী, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগেরহাট জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফকির ইফতেখার রানা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সহকারী অধ্যাপক হিরণ চন্দ্র দাস, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন কচি, জুলফিকার আলি ভুট্টা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা সায়রা বেগম, তালুকদার মুজিবুর রহমান, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদী প্রমূখ।

খুলনার দাকোপে সাহেবের আবাদ গ্রামের বিশ্বজিৎ চৌকিদারের প্রান কেড়ে নিলো বিদ্যুৎ স্পর্শে

মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া
খুলনার দাকোপে সাহেবের আবাদ গ্রামের বিশ্বজিৎ চৌকিদারের প্রান কেড়ে নিলো বিদ্যুৎ স্পর্শে। ২০ আগষ্ট শনিবার দুপুর ২ টায় বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে বিশ্বজিৎ চৌকিদার নামের একজন মারা গিয়েছে। দাকোপ উপজেলার ২নং দাকোপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাহেবের আবাদ গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা খগেন্দ্রনাথ চৌকিদারের ছেলে বিশ্বজিৎ চৌকিদার ৪০ মারা গিয়েছে। জানা যায়, বিশ্বজিৎ চৌকিদার একজন সঙ্গীত শিল্পী, তিনি দাকোপ উপজেলা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজিয়ে মানুষের মন যোগাতেন। এলাকাবাসি ও স্থানীয় প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ চৌকিদার আজ সকালে প্রতি দিনের মত নিজ জমিতে যায়। জমির কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে আসেন।
তার স্ত্রী বিশ্বজিৎকে বলেন, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, ডিস লাইনের তারটা খুলে দেওয়া দরকার। স্ত্রী বলতেই বিশ্বজিৎ ভিজা কাপড়ে ঘরের ভিতর উঠে যান। ডিস লাইনের জ্যাকে হাত দিতেই বিদ্যুৎ স্পর্শ হয়, ওমনি চিৎকার দিয়ে নিবে যায় জীবন। এলাকায় এখন চলছে শোকের ছায়া। এ খবর লেখা পর্যন্ত দাকোপ থানা পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে অবস্থান করেছেন। এবং লাশ মর্গে খুলনায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

ফকিরহাটে দুইদিন ব্যাপি ভাগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব সম্পন্ন
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও নগর কীর্ত্তনের মধ্য দিয়ে দুইদিন ব্যাপি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব শেষে হয়েছে। শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পাগলা-দেয়াপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দির কমিটির আয়োজনে দুইদিন ব্যাপি এই উৎসবে প্রদীপ প্রজ্জলন, গীতা পাঠ, কেককাটা, ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় নগর কীর্ত্তন ও মহোৎসবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক মনোতোষ রায় কেষ্ট, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রফেসর মুরারী মোহন পাল, উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্মল কুমার দাশ, সনাতন জাগরণী সংঘের সভাপতি বাপ্পা দত্ত, সাধারন সম্পাদক আনন্দ কুমার দে, অসিম দেবনাথ, দেবপ্রসাদ দাস, হৃদয় দাস, কিশোর দাশ, বিধান কান্তি প্রমূখ।

ফকিরহাটে ব্যবসায়ী শান্ত’র মাতার পরোলোক গমন
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শান্ত চক্রবর্তীর মাতা রাধা রানী চক্রবর্তী (৬৭) শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১০মিনিটে খুলনা একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পরোলোক গমন করেন। তিনি মৃত্যুকালে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি উপজেলার কাঠালতলা গ্রামের প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা মৃত সুনিল চক্রবর্তীর স্ত্রী। সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভূগছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁকে শেষবারের মত দেখার জন্য বিভিন্ন শেণি-পেশার মানুষ মৃতের বাড়িতে জড়ো হয়। মৃতের ভাগ্নে শিক্ষক সুপ্রভাত চক্রবর্তী মধু জানান, শনিবার বিকেলে ফকিরহাট কেন্দ্রীয় মহা-শ্মশানে তার শেষ কৃত্যনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। #

কালো বাজারে টিকিট বিক্রি, লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি
বেনাপোল প্রতিনিধি
রেলওয়ে অফিসারদের ”কার্ডপাস” টিকিটের গোপন পাস ওয়ার্ড চুরি করে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে বরখা¯ত করা হয়েছে বেনাপোল টিকিট বুকিং সহকারী এনামুল হক মামুনকে।

পাসওয়ার্ড চুরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিল বেনাপোল রেল ওয়ের টিকিট বুকিং সহকারী এনামুল হক মামুন।

রাজস্ব ফাকির ঘটনা তদন্তে ধরা পড়ায় বেনাপোল রেল ষ্টেশনে ডেপুটিশনে কর্মরত টিকিট বুকিং সহকারী এনামুল হক মামুনকে সাময়িক বরখস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ঘটনা তদেন্ত ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে( ১লা আগষ্ট-২০২২ ) ঈশ্বরদি রেলওয়ে জংশন থেকে ইব্রাহীম নামে একজন টিকিট কালেক্টরের হাতে এ ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে। তার পর বেড়িয়ে পড়ে থলের বিড়াল।

বেনাপোল রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে কর্মরত টিকিট বুকিং সহকারী গ্রেড-২ এনামুল হক মামুন গত ৭ জানুয়ারী ২০২২ বেনাপোল রেলওয়ে ষ্টেশনে ডেপুটিশনে যোগদান করেন। এখানে যোগদান করার পর সে অফিসারদের গোপন কার্ড পাস ওয়ার্ড চুরি করে অফিসারদের শীতাতাপ নিয়নন্ত্রীত ৪ সিটের প্রতিটি কেবিন ৪হাজার ৪শত ৬৪ টাকায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে তার বিক্রয় কৃত ৪ লাখ টাকার টিকিট ধরা পড়েছে কর্তৃপক্ষের হাতে। তাছাড়া সে টিকিট কার্ড পাসের মাধ্যমে ব্লক করে যাত্রীদের নিকট নগদ অর্থে বিক্রি করেছে কয়েক লাখ টাকার। তদন্ত ছাড়া টাকার পরিমান বলা সম্ভব নয় তবে কর্তৃপক্ষ ধারনা করছেন মোটা অংকের সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সে টাকা আত্বসাত করেছে এটা নিশ্বিত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত টিকিট বুকিং সহকারী এনামুল হক মামুন জানান আমার দোষ আমি স্বীকার করেছি অন্যায় হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাকে সাময়িক চাকুরি থেকে বরখস্ত করে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

পাকশিয়া রেল ওয়ের বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন ঘটনাটি ঘটেছে এমন সত্যতার কথা স্বীকার করে জানান এ ব্যাপারে বেনাপোলে ডেপুটিশনে কর্মরত একজন টিকিট বুকিং সহকারী এনামুল হক মামুনকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে

খুলনার দাকোপে আমন চারা রোপনে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে কৃষকেরা
মোঃ শামীম হোসেন – বাজুয়া (দাকোপ)
খুলনার দাকোপে আমন চারা রোপনে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে কৃষকেরা।এলাকা ঘুরে দেখা যায় উপজেলার কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপন শুরু করেছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি কৃষি জমিতে আমন ধান রোপণ করা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকালে সরোজমিনে দেখা যায় চালনা পৌর সভা সহ দাকোপ এলাকার ও বাজুয়ার মাঠে কৃষকেরা তার জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আমন চাষ বিশেষ করে আকাশের বৃষ্টির উপর নির্ভর করে কৃষকেরা অপেক্ষা করছিল। অবশেষে আকাশের বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আবাদে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকেরা। দাকোপ উপজেলার আমন রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। উপজেলার বেশিরভাগ জমি প্রস্তুতির কাজ চললেও চারা রোপণের কাজ চলতি মৌসুমে অনুকূল না থাকায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা আবারো নতুন করে বীজ তলায় বীজ রোপন করে নতুন চারা নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মেহদী হাসান জানান, এবার উপজেলার পৌর এলাকা ও ৯টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ১শত ৪০ হেক্টর জমিতে আমন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আমন আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দাকোপ কৃষি অফিস থেকে কৃষকের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন

খুলনায় ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
তথ্য বিবরনী
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় সভা শনিবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিনিয়র সচিব বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে গতিময়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ তরুণ-তরুণির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন তা বাস্তবায়ন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করে গেছেন। সে পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ডিজিটালসেবা চালু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকল দপ্তরে ই-নথি চালু করা হয়েছে। সরকারি সুরক্ষা এ্যাপস ব্যবহার করে আট কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেশেনের আওতায় আনা হয়েছে। দেশে প্রায় ৩৯টি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় শহর খুলনার হাইটেক পার্ক হবে দৃষ্টি নন্দন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ প্রদান করা হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর হয়েছে, এবার ভিশন স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হবে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম। স্বাগত জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুকুল কুমার মৈত্র। খুলনা জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

খুলনার দাকোপে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপে প্রশাসনসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেণী মানুষের অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত। গত ইং ১৯ আগষ্ট রোজ শুক্রবার সকাল ১১ঘটিকায় বাংলাদেশ সহ সারা দেশে যথাযত মর্যাদায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৮তম শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন পালন করা হয়েছে । তারই অংশ হিসেবে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রায় দাকোপ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতি দেখা যায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে আয়োজিত চালনা বাজারের র‌্যালিতে। এই র‌্যালিতে দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার সনাতনধর্মীয় সকল শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি দেখার মত ছিল। দাকোপ উপজেলার চালনা বৌমার গাছতলা কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উদ্যোগে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বর্নাঢ্য শোভা যাত্রাটি চালনা পৌরসভার মেইন মেইন সড়ক প্রদর্শক্ষন করে চালনা বৌমার গাছতলা রাধা গোবিন্দ কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস। আরো উপস্থিত ছিলেন দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ উজ্জ্বল কুমার দত্ত, দাকোপের গন মানুষের বন্ধু, গরীব অসহায় মানুষের দরদী অসম্প্রদায়ক নেতা দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন, চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমিক লীগের সভাপতি গোবিন্দ বিশ্বাস সহ এলাকার শত শত ভক্ত। পরে চালনা বৌমার গাছতলা রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্বরে এসে উপস্থিত বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জন্ম অষ্টমী নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় ধর্মীয় নীতিমালা ও শিক্ষানীয় বিষয় আলোচনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। অপরদিকে বাজুয়া আর্য্য হরি সভার আয়োজনে বাজুয়ায় শ্রীকৃষ্ণের জন্ম অষ্টমী উৎসব র‌্যালি, শুভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অভয়নগরে গলায় গামছা পেচানো অবস্থায় নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় ভৈরব নদের একটি ঘাটের অফিস থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।ওই নৈশ প্রহরীর নাম মিন্টু তরফদার(৬০)। সে উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নর্থবেঙ্গল এলাকার মুসা তরফদারের ছেলে। সে নওয়াপাড়ার কয়লা আমদানীকারক সরকার গ্রুপের দুর্গাপুর এলাকায় ভৈরব নদের ঘাটের নৈশ প্রহরী ছিল।সরকার গ্রুপের দুর্গাপুর ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহিম হোসেন জানান, মিন্টু তরফদার সরকার গ্রুপের দুর্গাপুর এলাকায় ভৈরব নদের ঘাটের নৈশ প্রহরী ছিল। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সে দায়িত্ব পালন করে। আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে ঘাটের অফিসের মেঝেতে তাঁকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। তার ঠোটে কাটা দাগ ছিল এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে অভয়নগর থানা পুলিশ এসে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এ কে এম শামীম হাসান বলেন, ‘সরকার গ্রুপের অফিস থেকে এক নাইটগার্ডের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু সন্দেহজনক। তার গলায় দাগ দেখা গেছে। ঠোটে কাটা দাগ ছিল এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। লাশের ময়না তদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

রূপসায় এমপি সালাম মুর্শেদী
ধর্মনিরপেক্ষতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে

রূপসা প্রতিনিধি
খুলনা – ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন ধর্মনিরপেক্ষতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে । এদেশের যখনই আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করে তখন এদেশের মানুষ সুশাসনের মাধ্যমে শান্তিতে বসবাস করে । তিনি বলেন আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে জাতি ,ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে । এ কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরে সারাদেশে ব্যাপক পরিমাণে মন্দির মসজিদ বিনির্মাণে অবদান রাখছে । উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান । তিনি আরো বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশ পরিচালিত হলে সর্ব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করে । বিএনপি’র সময়ে এদেশের ব্যাপক অরাজকতা এবং ধ্বংসাত্বক রাজনীতিতে দেশ পরিচালনা করেছে বিধায় বাংলার মানুষ তাদেরকে বারবার ব্যালট পেপারের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে । তিনি আজ ২০ আগস্ট সকালে রূপসা উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে শিয়ালিতে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির এবং ব্যক্তিদের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন । উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ফরিদুজ্জামান , রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন , জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ, ম, আব্দুস সালাম , জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল , উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান , আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পিকিং সিকদার , প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন , মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ফকির , যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ মোল্লা , সমাজসেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান , উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম , জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোতালেব হোসেন , উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব , ইউ পি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর, আলহাজ্ব ইসহাক সরদার , সাবেক চেয়ারম্যান খান শাজাহান কবীর প্যারিস , শেখ জেলা যুবলীগ নেতা আজিজুল হক কাজল , বিনয় কৃষ্ণ হালদার ,উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন , যুবলীগ নেতা হারুন মোল্লা , সুব্রত বাগচী ,রবিউল ইসলাম , খায়রুজ্জামান সজল প্রমূখ । অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ জন ব্যক্তিকে এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানে অনুদান বিতরণ করা হয় ।

বিদেশী সাহায্য নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার মানসিকতার অর্থ হচ্ছে জনসমর্থন হারিয়েছে
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র এক সভায় নেত্রীবৃন্দ বলেছেন, বিদেশী সাহায্য নিয়ে পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকার অর্থ সরকার জনসমর্থন হারিয়েছে। ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে বিদেশের কাছে ধর্ণা দেওয়ার অর্থ রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। স্বাধীন দেশে রাজনীতিকদের এমন চরিত্রের অর্থ স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়া। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে এই মূহুর্তে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
শনিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে দলের খুলনা সদর থানা শাখার প্রতিনিধি সভায় নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার অবসানে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়া জরুরী। অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল ও জাতীয় সরকারের দাবি এখন সকল মানুষের প্রত্যাশা। নেতৃবৃন্দ প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, মানুষের ভোটের ওপর বিশ্বাস নেই বলে শাসক দল বিদেশের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। এটি শুখকর নয়। তাদের ক্ষমতায় থাকার আর অধিকার নেই।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহিদউদ্দিন মাহামুদ স্বপন ভার্চুয়ালে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় একথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন নগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম.এ রাশেদুল হাসান বাবলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নগর সভাপতি লোকমান হাকিম, নগর সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল খালেক। বক্তৃতা করেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এলপি গাইন ও গণসংহতি আন্দোলনের খুলন নগর শাখার সমন্বয়ক মুনির চৌধুরী সোহেল, জেএসডি’র বেল্লাল হোসেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাব্বির হোসাইনকে সভাপতি, মোঃ রাইসুল ইসলামকে সহ-সভাপতি, মোঃ শাওন হাসানকে সাধারণ সম্পাদক, মোঃ তানভীর মেহেদীকে যুগ্মসম্পাদক, মোঃ পিরুকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মোঃ শরিফুল ইসলামকে দপ্তর সম্পাদক, মোঃ কামরুল ইসলাম প্রচার সম্পাদক ও মোসাঃ খুশি আক্তারকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক করে জেএসডি’র খুলনা সদর থানার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ছাত্রী নিবাসের কক্ষ দখলের প্রতিবাদে শরণখোলায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় সরকারী অনার্স কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ছাব্বির আহমেদ মুক্তা কর্তৃক শেখ রাজিয়া নাসের ছাত্রী নিবাসের একটি কক্ষ দখল করে রাখার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করেছে কলেজের সকল শিক্ষার্থীরা। ২০ আগষ্ট সকাল ১০টার দিকে কলেজ চত্বরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রীদের আবাসিক সংকট নিরসনে ২০১৭ সালে শিক্ষক পরিষদের এক সভায় কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের বসবাসরত কয়েকটি কোয়ার্টারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনার চাচী বেগম রাজিয়া নাসেরের নামে ছাত্রী নিবাস নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তে পরে অন্যান্য সকল শিক্ষকরা কোয়ার্টার ছেড়ে দিলেও ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মুক্তা কোয়ার্টারটি ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেন। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে দুইবার নোটিশ করা হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছাত্রী নিবাসের কক্ষটি দখল করে রাখেন তিনি। পরে, শরনখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপেও ছাত্রী নিবাসের কক্ষটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার ছাত্রী নিবাসের কক্ষ ছাড়ার জন্য বিক্ষোভ মিছিল করে শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগ। বিক্ষোভ সমাবেশে আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই শিক্ষককে ছাত্রী নিবাস ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেয় হয় অন্যথায় শনিবার থেকে ক্লাস বর্জনের ঘোষনা দেয়া হয়। এ অংশ হিসাবে ২০ আগষ্ট সকাল ১০ টা থেকে ওই কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

এ ব্যাপারে ছাত্রী নিবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার শান্তা বলেন, আমরা মেয়েরা হোস্টেলে থাকি পাশের রুমে মুক্তা স্যার থাকেন এতে আমরা সাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারছিনা। যার কারনে ছাত্রী নিবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। তাকে সরিয়ে মেয়েদের অভিবাবক হিসেবে একজন নারী শিক্ষিকাকে দায়িত্ব দেয়ারও দাবী জানান এ শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মোঃ সাব্বির আহমেদ মুক্তা বলেন, ক্লাস বর্জনের নামে যা হচ্ছে তা তার সুনাম ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র। তবে তিনি আরও জানান, তার বাড়িতে নির্মান কাজ চলছে তাই মালামাল রাখার যায়গা সংকট আগামী ১০/১১ দিনের মধ্যে তিনি ওই কক্ষটি ছেড়ে দিবেন।

এ ব্যাপরে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আলম ফকির জানান, শেখ রাজিয়া নাসের ছাত্রী নিবাসের জন্য বরাদ্ধকৃত কক্ষটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও তা আমলে নেননি শিক্ষক সাব্বির আহমেদ মুক্তা।

উপস্থিতির হার ৯৬ শতাংশ
খুবিতে ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হলো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
খবর বিজ্ঞপ্তি
গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘সি’ ইউনিটে বাণিজ্য বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা ২০ আগস্ট (শনিবার) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সি’ ইউনিটে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে আসন ছিলো ২ হাজার ১৯৯ জন শিক্ষার্থীর। পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিলো ৯৬ শতাংশ।
এদিকে পরীক্ষা শুরুর পর কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। এসময় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ফোকালপয়েন্ট প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৩০ জুলাই ‘এ’ ইউনিট এবং ১৩ আগস্ট ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয় ৪ আগস্ট আর ‘বি’ ইউনিটের ১৬ আগস্ট। এ পরীক্ষার মাধ্যমে এ বছরের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শেষ হলো।

উন্নয়নের নামে দেশের প্রথম অঙ্কন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নস্ট করা যাবে না
খবর বিজ্ঞপ্তি
উন্নয়নের নামে দেশের প্রথম অঙ্কন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নস্ট করা যাবে না। আন্দোলনের মাধ্যেমে হলেও এটিকে রক্ষা করবে খুলনাবাসি। সংস্কারের অঙ্গিকার করে , কমিটি করে তা ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র কোন ভাবে মানা হবে না। কার স্বার্থে এগুরোধ্বংস করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে শত বছরের ঐতিহ্য পৌরভবন, ডাকবাংলো ভবন, পোস্ট মাস্টার জেনারেলের কার্যালয় হারিয়েছি। হারাতে বসেছি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সার্কিট হাউজের নির্যাতন কেন্দ্র ,শতবর্ষী নাট্য নিকেতনটি সম্মুখে করনেশন হল ও বাংলাদেশের শিল্পকলার পথিকৃত্ শশীভূষণ পাল কর্তৃক ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম অঙ্কন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যা ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রিয় মানুষেরা কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারে না। আমারা চাই এই ইতিহাস ও ঐতিহ্যগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সমধিক হোক। তাই আমরা চাই ইতিহাসসমৃদ্ধ এই ভবনটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষণ করা হোক। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ, গুণীজন স্মৃতি পরিষদেরও চারুশিল্পী সংসদের মানববন্ধনে বক্তারা।
শনিবার বেলা ১১ঘটিকায় জনউদ্যোগ,খুলনা ,গুণীজন স্মৃতি পরিষদ ও চারুশিল্পী সংসদের উদ্যোগে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে দেশের প্রথম অঙ্কনশিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট’ ভবন ও শিল্পী শশীভূষণ পালের স্মৃতি সংরক্ষণ এর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আফম মহসীন ও সঞ্চালনা করেন কালের কন্ঠের ব্যুরো প্রধান লেখক সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সম্মিলিতি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এ্যাডঃ মিনা মিজানুর রহমান, সিপিবি’র মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি মফিদুল ইসলাম ,দেলোয়ার হোসেন দিলু,আওয়ামীলীগ নেতা বীরেন্দ্র নাথ ঘোষ, পোল্ট্রি ফিস ফিড দোকান শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এসএম সোহরাব হোসেন, খুলনা উন্নয়ন ফোরামের কো চেয়াপারসন ডাঃ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটের নেতা মহানগর পূজা উদযাপন পরিশদের কোষাধ্যক্ষ রতন কুমার নাথ, খুলনা আর্ট স্কুলের পরিচালক বিধান চন্দ্র রায়, চারুশিল্পী সংসদের প্রশান্ত দাস, ছায়বৃক্ষের মাবুবব আলম বাদশা, সাংবাদিক এম সাইফুল ইসরাম, বাসদের আঃ করিম,, উদ্যামীর নূরুন্নাহার লিলি, ছাত্র ইউনিয়নের মহানগর সভাপতি অর্চিষ্মান দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক জয় বৈদ্য, এ্যাডঃ আফম মুক্তাকুজ্জামান মুক্তা, এম এ সাদী, ইন্দ্রনীল দেবনাথ, অপরাজিতা যুব কল্যাণ সংস্থার পিকু কুমার বাছাড়, তুষার কুমার সরদার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগ খুলনার সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৪ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও কবি জসিমউদ্দীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের প্রথম অঙ্কনশিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেন। শিল্পী এস এম সুলতান নানা সময়ে এ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। শিল্পপ্রেমী শশীভূষণ পাল আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার পর ১৯২০ সালে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহারাজ বাহাদুর এ স্কুল পরিদর্শনে করেছেন। তিনি স্কুলটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ১৯২২ সালের জুলাই মাসে এ স্কুল পরিদর্শনে আসেন তদানীন্তন বাংলার গভর্নর লর্ড লিটন। স্কুল দেখে তিনি খুব খুশি হন। গভর্নর লর্ড লিটন পরে লর্ড রোনাল্ড সে’ও খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন স্কুলটি পরিদর্শন করার জন্য। অযত্ন-অবহেলায় আজও যা কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সভায় ২৩ আগস্ট বেলা ১১ টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর জেলা প্রশাসককের নিকট স্মারকলিপি পেশ করবে।

নড়াইলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন
মোঃ তাহের, নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃক্ষপ্রাণে প্রকৃতি-পরিবেশ, আগামি প্রজন্মের টেকসই বাংলাদেশ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ নড়াইলের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী (২০-২৬ আগষ্ট) বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ফকরুল হাসান, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, সহকারি বন সংরক্ষক অমিতা মন্ডল। উদ্বোধনী শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার ষ্টল পরিদর্শন করেন। বৃক্ষমেলা উপলক্ষ্যে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া বৃক্ষমেলা চলাকালে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃক্ষমেলায় মোট ১৫টি ষ্টল বসেছে। আগামি ২৬ আগষ্ট বৃক্ষমেলার সমাপনী দিন বিকেল ৪টায় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।

নড়াইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
নড়াইল প্রতিনিধি
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নড়াইলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ আগষ্ট) বিকেলে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলামের বাসভবনের সামনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নড়াইল জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খন্দকার ফসিয়ার রহমান। জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খন্দকার মঞ্জুরুল সাঈদ বাবুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ আলী হাসান,অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল, নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহিদুর রহমান পলাশ, মোঃ নজরুল ইসলাম, স,ম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহবায়ক মোঃ নবীর হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক মোশফিকুর রহমান বাচ্চু, মোঃ আকিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সানিসহ দলীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ডুমুরিয়ায় গ্রামপুলিশসহ ৫ জন দল বেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ, তদন্তে পিবিআই
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় গ্রামপুলিশ সহ ৫ জন দল বেঁধে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত ১ মে উপজেলার শোভনা পশ্চিম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আদালতে দায়ের কৃত মামলা ও ধর্ষিতা পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, শোভনা দাস পাড়া এলাকার দিলীপ দাস (২৬) নামের এক যুবক ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি গৃহবধূ তার দীনমজুর স্বামীকে জানালে ঘটনার দিন সকালে স্বামী ওই দিলীপ দাসের কাছে কু-প্রস্তাবের কারণ জানতে চায়। এ সময় তাকে কারণ বলা তো দুরের কথা উল্টো মারপিট করে আহত করে। এতেও খুশি হতে না পেরে দিলীপ তার বন্ধু ¯’ানীয় গ্রামপুলিশ স্বার্ত্তিক দাস, সহদেব দাস, মদন দাস ও রমেশ দাস সহ ৫ জন ওই দিন রাত ২টার দিকে গৃহবধূর বাড়িতে হানা দেয়। একপর্যায়ে গ্রামপুলিশ স্বার্ত্তিক দাসের ডাকে স্বামী ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে আসলে কাপড় দিয়ে মুখ ও হাত পা বেঁধে ফেলে। এরপর গৃহবধূকে ঘর থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে সঙ্গবদ্ধ ওই দলটি পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ প্রসঙ্গে বাদি পক্ষের আইনজীবী মোঃ মনিরুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ৯ মে খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই কে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিশ্বাস জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

ডুমুরিয়ায় নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে যুব সচেতনতা
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় বে-সরকারী উন্নয়ন সং¯’া রূপান্তরের অপরাজিতা প্রকল্পের আওতায় সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় ও হেলভেটাস সুইস ইন্টার কো-অপারেশনের আয়োজনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণে যুব সচেতনতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন
প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মন্ডল। সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মতিন এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন প্রকল্প সমন্বয়কারী দীপঙ্কর মন্ডল, অপরাজিতা আফরোজা সুলতানা, সহকারী শিক্ষক মধুসুধন ঢালী, দীপা বিশ্বাস, রাখী বিশ্বাস, ছন্দা হালদার, ছাত্রী সাদিয়া খাতুন, ছাত্র সাইফুল্লাহ শেখ প্রমূখ। জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ গঠনে ছাত্র ছাত্রীদের করণীয় বিষয়ে দলীয় কাজ, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

কপোতাক্ষ নদীতে জেলেদের জালে উঠে এল বিশালাকৃতির শিবলিঙ্গ
কপিলমুনি প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির গোলাবাটি এলাকায় কপোতাক্ষ নদীতে জেলের জালে উঠে এসেছে বিশালাকৃতির একটি শিবলিঙ্গ মূর্তি। স্থানীয় নোয়াকাটি এলাকার জগদীশ বিশ্বাস (৬০) কপোতাক্ষের ঐ এলাকায় পাটা জাল পাতলে শুক্রবার রাতে কূলে ঐ মূর্তির মাথা ভেসে উঠলে তিনি সেখান থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে মূর্তিটি পাইকগাছা থানায় জমা দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, নোয়াকাটি গ্রামের মৃত সতীশ বিশ্বাসের ছেলে হতদরিদ্র জগদীশ বিশ্বাস জীবিকা নির্বাহের জন্য কপোতাক্ষের বিভিন্ন স্থানে পাটা জাল পেতে মাছ আহরণ করেন। যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে তিনি গোলাবাটি আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় পাটায় মাছ ধরতে গেলে কিছু একটা বস্তুর মাথা একই স্থানে ভাসতে দেখে এগিয়ে গিয়ে মূর্তিটি আবিষ্কার ও বহু কষ্টে তা উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। রাতেই তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভীঁড় বাড়ে তার বাড়িতে মূর্তিটি এক নজর দেখতে।
বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে জানালে তারা মূর্তিটি থানায় জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক শনিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জগদীশ ও তার স্ত্রী অঞ্জনা বিশ্বাস মূর্তিটি থানায় নিয়ে যান।

এব্যাপারে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, মূর্তিটি থানায় নিলে একটি সাধারণ ডায়েরি করে তা জব্দ করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, কেউ বা কারা সপ্তাহ খানেক পূর্বে মূর্তিটির পূজা করে কপোতাক্ষে বিসর্জন দিয়েছে। তারাও থানায় যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

যদিও স্থানীয়রা জানান, মূর্তিটি কোন মন্দিরে স্থাপন করা ছিল। ইটসহ মূর্তিটি কৌশলে উঠিয়ে সেখানে ফেলা হয়েছে কিংবা বহন করতে না পেরে নদীর পানিতে ডুবিয়ে রাখা হতে পারে। তাছাড়া শিব লিঙ্গ মূর্তির বিসর্জন হয় না।

পদ্মা সেতুতে শুরু হলো রেললাইন বসানোর কাজ
ঢাকা অফিস
পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে রেললাইন বসানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

এর আগে গত ১৫ জুলাই রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে।
সময়মতো বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি অংশ ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত, দ্বিতীয় অংশ মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এবং তৃতীয় অংশ ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত বলে তিনি জানান।

৫২০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে ডিম-মুরগি সিন্ডিকেট
ঢাকা অফিস
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে হুহু করে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। এ সেক্টরে গত ১৫ দিনে দেশের ভোক্তা ও ক্ষুদ্র খামারিদের কাছ থেকে ৫২০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে পোল্ট্রি খাতের সিন্ডিকেট।

শনিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দেশের ক্ষুদ্র খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ডিম এবং এক দিনের বাচ্চা ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দাম সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে এই অর্থ লুটে নিয়েছে তারা। আর এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রয়েছে পোল্ট্রি খাতের ১০-১২টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, কোম্পানিগুলো গত ১৫ দিনে ডিমের দাম বাড়িয়ে লুটে নিয়েছে ১১২ কোটি টাকা। বাচ্চার দাম বাড়িয়ে লুটে নিয়েছে ২৩৪ কোটি টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়িয়ে লুটে নিয়েছে ১৭২ কোটি টাকা। এভাবে সব মিলে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস খন্দকার, সহসভাপতি বাপ্পি কুমার দে।

সংগঠনটির সভাপতি তার বক্তব্যে আরও বলেন, এই ১০-১২টি কোম্পানি দেশের পোল্ট্রি খাতকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের বেকার যুবক ও নারী উদ্যোক্তা অনেক আশা নিয়ে বেকারত্ব দূর করার জন্য এবং দেশে আমিষের চাহিদা পূরণের ভূমিকা রাখবে বলে প্রান্তিক খামারি একটি খামার করে ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে সাধারণ জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। ন্যায্য বাজার মূল্য না পাওয়ায় লসের সম্মুখিন হয়ে অনেক খামারি মূলধন হারিয়ে কোনো ধরনেরে ব্যাংক লোন না পাওয়ায়, বাধ্য হয়ে খামারি বাকিতে পুনরায় খামার চালু করে। ফিড ও বাচ্চার অতিরিক্ত দাম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, উৎপাদন খরচের সাথে বিক্রয় সমন্বয় করে লসের সম্মুখিন হয়। অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। যার কারণে বাজারে ডিম ও মুরগি উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় এবং কোম্পানিদের পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকায় কোম্পানি ও মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়।

পোলট্রি মুরগীর ডিম ও মাংসের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হয়, ১. অস্বাভাবিকভাবে ধাপে ধাপে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি বিগত আঠারো মাসে পোলট্রি খাদ্যর দাম বেড়েছে শতকরা ৫৫-৬০ শতাংশ প্রতি বস্তা ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০০ টাকা হয়েছে। ২. ভেটেরিনারি ঔষধের মূল্য বৃদ্ধি । ৩. খামারের সংখ্যা কমে যাওয়া তথা পোলট্রি মুরগির সংখ্যা কমে যাওয়া। ৪. আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও ভেটেরিনারি ঔষধ তৈরির কাচামালের মূল্য বৃদ্ধি। ৫. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় কলকারখানা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। ৬. কোম্পানি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা। ৭. পোলট্রি ও ডেইরী শিল্পবান্ধব অভিবাবক না থাকা।

এসকল সমস্যার উত্তরণের উপায় হিসাবে বলা হয়, ১. এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র ও কার্যকরী উপায় হলো পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প বান্ধব অভিভাবক নিয়োগ করা। যিনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ সমূহ গ্রহণ করবেন।

ক) পোলট্রি খাদ্য, ডিম, ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি উৎপাদিত রেডি মুরগীর দাম নির্ধারণ করে দেবেন।

খ) নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবেন।

গ) খামারিদের কষ্টে উপার্জিত অর্থে মধ্যস্বত্বভোগীদের যেন ভাগ না বসায় সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ঘ) ক্ষতিগ্রস্থ খামারি চিহ্নিত করে তাদের পুনর্বাসনে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

ঙ) নিরাপদ ডিম ও মাংস উৎপাদনে একটি আদর্শ খামার গড়ে তোলতে খামারিকে প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করবেন।

চ) সরকারিভাবে স্বল্প মুনাফায় খামারিদেরকে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।
ছ) দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর উৎপাদিত অতিরিক্ত পণ্য প্রয়োজনে দেশের বাহিরে রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বাড়ছে না ট্রেন ভাড়া
ঢাকা অফিস
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হলেও আপাতত ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

শনিবার (২০ আগস্ট) পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে রেললাইন বসানোর কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোন প্রস্তাব পাঠাইনি। তাই আমরা এই মুহূর্তে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছি না।

এর আগে শনিবার বেলা ১২টা ৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে রেললাইন বসানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী।

‘মূল্যস্ফীতি হলেও বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি নেই’
ঢাকা অফিস
সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। যেখানে লঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮০ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৬ শতাংশ। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মাত্র ৮.৩ শতাংশ। এছাড়াও চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতি বা খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক।

সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো মূল্যস্ফীতির তোপের মুখে পড়লেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গায় আছে। কারণ, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতি হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক।
বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংক বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এবার খাদ্য মূল্যস্ফীতি বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতি অনুভব করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাত মিলে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় মূল্যস্ফীতি হবে সাড়ে ১৫ শতাংশ। মূলত খাদ্য ঘাটতিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, শ্রীলঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮০ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৬ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকার খাদ্য নিরাপত্তা মোকাবিলায় কৃষিনীতি সামঞ্জস্য করেছে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশ সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে, কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে, ভর্তুকি বাড়িয়েছে সারে এবং রফতানিকারকদের একটি নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বিষয়ে সংস্থাটি জানায়, পাকিস্তানে গম ও চালের উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ সারের অভাব এবং তাপমাত্রা। এছাড়া উল্লেখযোগ্য খাদ্য সরবরাহের ঘাটতিতে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কায় কৃষি উৎপাদন ৪০-৫০ শতাংশ কম হয়েছে। সারের ঘাটতি এবং খাদ্য আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রভাবে এই অবস্থা হয়েছে। সার এবং জ্বালানির ঘাটতি খাদ্য সরবরাহকে আরও সীমিত করবে বলে আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংক।

তবে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত খাদ্যে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। ভারত ৪৪ হাজার টন ইউরিয়ার প্রথম চালান পেয়েছে। ভারতীয় চালের চাহিদা বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন।

ব্যাংকের জমানো টাকাই বাঁচতে দিলো না কালীগঞ্জের বৃদ্ধা গীতাকে ?
সাবজাল হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥
বিধবা গীতা ঘোষ। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়ার চাকরী থেকে ৫ মাস আগে অবসরে গেছেন। নিঃসন্তান ওই বৃদ্ধা বেজপাড়া গ্রামে একটি মাটির ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। অবসরের টাকাসহ ব্যাংকে তার পূর্বে জমানো বেশ কিছু টাকা ছিল। সেই টাকা চেয়েছিল তার রক্তের ভাই তরুন ঘোষ। এ টাকা দিতে রাজি হয়নি বিধবা অসহায় গীতা। এরপর তার ভাই ভাবির নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলেও তার ভাবি ঝর্না ঘোষ বেদম মারপিট করে। এরপর ভাইয়ের কাছে নালিশ দেয়ার পর তার ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এ নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে ঘরের উপরের বাঁশে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এখন তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, টাকায় গীতার জীবনে কাল হলো কেননা জমানো টাকার জন্যই তাকে জীবন দিতে হলো। নিহত গীতা ঘোষ উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের হাজারি ঘোষের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, গীতার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।

গীতা ঘোষের ভাগ্নে প্রশান্ত ঘোষ জানান, গত এপ্রিল মাসে তার মাসি স্কুলের চাকুরী থেকে অবসরে যান। মাসির ব্যাংকে জমানো টাকা তার মামা মামি নিতে চেয়েছিল। কিন্ত মাসি তাদেরকে টাকা দিতে রাজি হননি। এরপর থেকে তারা মাসির ওপর অমানষিক নির্যাতন চালাতো। যা আশপাশের লোকজনের মুখে শুনলেও অহরহ প্রমান মিলবে। ওই টাকার জন্যই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে তারা মনে করছেন। তাকে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করেই মারা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুর রহিম মোল্ল্যা জানান, ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শুনেছি ওই মহিলার একাউন্টে কিছু টাকা আছে। আবার তার সংসারে কোন ঝামেলাও নেই। ফলে বিষয়টি ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা ।

পবিত্র হজ্জ পালন করেছেন তাদের সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনার বয়রাস্থ হাজি কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে ২০২২ সালের পবিত্র হজ্জ পালন করেছেন তাঁদের সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান শনিবার বয়রা লকিবউদ্দিন ওয়াকফ এস্টেট জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার মোহতামিন মাওলানা মোসতাক আহমেদ।
হাজি কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি আলহাজ¦ মোঃ সাইদুর রহমান সাইদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক কেএম ফজলুল রহমান ও ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক শেখ মোঃ আকরামুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাজি কল্যাণ সোসাইটির উপদেষ্টা আবুল কালাম শামসুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বাশার প্রমুখ। ২০২২ সালে পবিত্র হজ্জ পালনকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ হারুনর রশীদ ও শাহীন আলম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মোঃ আলমগীর শিকদার, মুফতি ইলিয়াস জাহানাবাদী, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ ওয়াক্কাস আলী, হাফেজ মাওলানা মোঃ হাসমত আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নতুন ও পুরাতন হাজিদের উপস্থিতিতে বিশে^র মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

৪১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে এবার
ঢাকা অফিস
বৈশ্বিকভাবে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে আবহাওয়া। এর বড় ধাক্কা এসেছে বাংলাদেশে। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে গত ৪১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে এবারে। গেলো জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হয়েছে এবার। ১৯৮১ সালের পর থেকে আবহাওয়ার এমন বিরূপ চেহারা কখনোই দেখা যায়নি। দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির দেখা মেলে জুলাই- আগস্ট মাসে। কিন্তু এবার বৃষ্টির ভরা মৌসুমেও প্রকৃতি বিরূপ। শ্রাবণে মেঘের ঘনঘটা তো দূরের কথা। প্রচণ্ড তাপদাহে তপ্ত প্রাণ। বৃষ্টির জন্য চাতকের আকুলতায় চেয়ে থাকতে হয় আকাশের দিকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে, গেলো জুলাই মাসে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে ২১১ মিলিমিটার। যা ১৯৮১ সালের পর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও কম। গেলো ৪১ বছরে গড় বৃষ্টিপাত ৪৯৬ মিলিমিটার। যদিও ২০২০ সালে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছিলো ৫৫৩ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল আব্দুল মান্নান বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জলবায়ু নির্দিষ্ট নিয়ম মানছে না। কখনো অতিবৃষ্টি আবার কখনো বা অনাবৃষ্টি। উত্থান-পতন তাপমাত্রায়ও।

কৃষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চাষাবাদের সময়কাল সংকুচিত হচ্ছে। ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বীজের অঙ্কুরোদগম কম হচ্ছে। গাছের দৈহিক বৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। ফুল ও ফল কম হচ্ছে। ফল পুষ্ট হচ্ছে না। ফলের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি পেকে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ফসলের পাতা বটে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমান কমে যাচ্ছে। অনাবৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য বোরো ধানের ক্ষেতে-যেখানে সেচের বিকল্প ব্যবস্থা নেই সেখানে আগাম থোড় ধরছে। হঠাৎ তাপমাত্রা উঠানামা করার ফলে হাঁস-মুরগীর ডিম উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

আবহাওয়ার কেন এ বিরূপ আচরণ? দ্রুত রূপ বদলের ভবিষ্যতই বা কি হতে পারে- এমন প্রশ্ন ছিল জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমানের কাছে। তার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বণ নি:সরণের হার কমিয়ে আনতে উন্নত দেশগুলো কাজ করতে না পারলে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ কেবল বাংলাদেশেই নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর জন্য উন্নত দেশগুলোর দায়ই বেশি-বলছেন তারা।

কালীগঞ্জে সশস্ত্র ডাকাতদলের ভীতিকর রুপ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোচিক রেলগেইট সড়কে এক সশস্ত্র ডাকাত দলের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ৬ মোটর সাইকেল যাত্রী। শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে এ সড়কে বাঁশ বেধে ডাকাতির চেষ্টা করছিল সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল। কিন্ত খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। তার আগে ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে মাসুদ হোসেন নামে একজন আহত হন। ওই রাতেই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
জানাগেছে,শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মোচিক -রেলগেট সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে ৬/৭ জনের অস্ত্রধারী একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় পরপর তিনটি মোটরসাইকেল থামিয়ে ৬ জনকে হাত-মুখ বেঁধে পাশের একটি আখক্ষেতে নিয়ে মারধর শুরু করে। তাদের মধ্যে সুযোগ বুঝে একজন কৌশলে পুলিশকে ফোন দেয়। এতে পুলিশ দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছালে টের পেয়ে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।
ডাকাতির কবলে যারা পড়েছেন তারা হলেন- কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া এলাকার সোহান উদ্দিন, হাসানুজ্জামান, বাদেডিহি এলাকার আলী হোসেন, বিল্লাল হোসেন, ঈশ^রবা এলাকার মাসুদ হোসেন ও তার ফুফাতো ভাই কাজল হোসেন।
ভুক্তভোগী সোহান হোসেন জানান, রাতে সুগার মিলের পিছন দিয়ে আসার পথে প্রথমে ৬/৭ জন অস্ত্রধারী ডাকাত তাদের গতিরোধ করে মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে বাগানের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। তিনি বলেন তারা ভীতিকর অস্ত্রপাতিতে সজ্জিত ছিল। এরপর তিনি সুযোগ বুঝে আড়াল থেকে তার চাচাকে মোবাইলে জানিয়ে দেন। পরে পুলিশ দ্রুত এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।
হাসপাতালে ভর্তি মাসুদ হোসেন জানান, ঈশ^রবা থেকে এশার নামাজের পরে ওই পথ দিয়ে তিনি ও তার ফুফাতো ভাই যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখেন রাস্তায় বাঁশ টানানো। পাশেই সশস্ত্র অবস্থায় ৬/৭ দাঁড়িয়ে থাকা তাদের মোটর সাইকেল কেড়ে নিয়ে তাদেরকে এলোপাতাড়ি মারতে মারতে পাশের আখক্ষেতের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তিনি জানান,তাদের কাছে ধারালো ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতরা পুিলশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, শুক্রবার রাতে এমন খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। দ্রুত পুলিশী তৎপরতায় চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারেননি। চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।

এমপি পত্নী সারমিন সালাম কতৃক দিঘলিয়া উপজেলায় বিনামূল্যে ঔষধ ও রান্না করা খাবার বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারমিন সালাম, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্যোগে শনিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় উপজেলা কৃষি অফিস অডিটোরিয়ামে অসহায় নারী ও শিশুদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে বিনামূল্যে ঔষধ ও খাদ্য বিতরণ করেন সারমিন সালাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও খুলনা-৪ আসনের সাংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর সহধর্মিণী মিসেস সারমিন সালাম।
এর আগে দুপুর ১২ টায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান এবং ভর্তিকৃত রোগীদের খোঁজ খবর নেন এবং অসহায় রোগীদের সাধ্য মতো উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শারমিন সালাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালক খান মতিউর রহমান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: মাহবুবুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলী রেজা বাচা, দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হায়দার আলী মোড়ল, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সেলিম মল্লিক, দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক মোঃ মকবুল হোসনে, সদস্য কে এম আসাদুজ্জামান, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আনসার আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন, সেনহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান তারেক, খুলনা -০৪ আসনের এমপির প্রধান সমন্বয়ক নোমান ওসমানী রিচি, সালাম মূর্শেদী সেবাসংঘের টিম লিডার সামসুল আলম বাবু, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আল আমিন, সহ সম্পাদক শেখ সাইদুর রহমান, গাজী সগির হোসেন পাভেল, হাসান মাহমুদ রাকিব, রানা মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোল্লা নাহিদুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পাখী বেগম, নাসরীন আক্তার হীরা, সালমা খাতুন, সাবিনা ইয়াসমিন, নয়ন তারা, ফাতেমা, দিঘলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ জামিল মোর্শেদ মাসুম, সাধারণ সম্পাদক কে এম তহিদুজ্জামান, চন্দনীমহল সংগঠনিক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি গাজী ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মিরাজুল ইসলাম, গাজীরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোল্লা মনির হোসেন, সেনহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, বারাকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল চৌধুরী সহ প্রমূখ।

ধর্ম নিরপেক্ষতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় এগিয়ে -সালাম মূর্শেদী এমপি
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেছেন, ধর্ম নিরপেক্ষতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। এদেশে যখনই আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করে তখন এদেশের মানুষ সুশাসনের মাধ্যমে শান্তিতে বসবাস করে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে জাতি ,ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে । এ কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরে সারাদেশে ব্যাপক পরিমাণে মন্দির মসজিদ বিনির্মাণে অবদান রাখছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশ পরিচালিত হলে সর্ব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করে । বিএনপি’র সময়ে এদেশের ব্যাপক অরাজকতা এবং ধ্বংসাত্বক রাজনীতিতে দেশ পরিচালনা করেছে বিধায় বাংলার মানুষ তাদেরকে বারবার ব্যালট পেপারের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে ।
শনিবার (২০ আগস্ট) সকালে রূপসা উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে শিয়ালিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে অনুদানের চেক বিতরণ, রূপসার টিএসবি এবং ঘাটভোগ ইউনিয়নের সংযোগস্থল তালতলা-রামপাল (পলঘাট সড়কের ৪০ মিটার) পিএসসি গার্ডার ব্রিজের এবং ঘাটভোগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল-নিজাম উদ্দীন হাউস সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন, ঘাটভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নৈহাটি ইউনিয়নের সামছুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নৈহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গসহ সকল শহীদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান এবং নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, নৈহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে সারাদেশে বিএনপি জোটের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ফরিদুজ্জামান , রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ, ম, আব্দুস সালাম , জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আঃ মজিদ ফকির, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার পিকিং সিকদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ফকির, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ মোল্লা, সমাজসেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোতালেব হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব, ইউ পি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর, আলহাজ্ব ইসহাক সরদার, সাবেক চেয়ারম্যান খান শাজাহান কবীর প্যারিস, জেলা যুবলীগ নেতা আজিজুল হক কাজল, বিনয় কৃষ্ণ হালদার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন, যুবলীগ নেতা হারুন মোল্লা, রুহুল আমিন রবি, রাজীব দাস টাল্টু, মাধূরী সরকার, সরদার জসীম, সুব্রত বাগচী, শফিকুর রহমান ইমন, আজমল ফকির, আলম খা, রবিউল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, রতন মন্ডল, খায়রুজ্জামান সজল, আরাফাত হোসেন সাকিব, ছাত্রনেতা জুয়েল সরদার, সাফিরুল ইসলাম হিমেল, আরিফুজ্জামান কাজল, নাজিম মোড়ল, নাজমুল হুদা অন্জন, রিয়াজ শেখ, রূবেল মোল্যা, রূপম দাস, সাব্বির আহম্মেদ, আজিজুল ইসলাম, ইউসুফ শেখ, জাহিদ শেখ, হাসান সরদার, মুসা মোল্যা সবুজ, ইখতিয়ার লস্কর, সুকুমার বৈরাগী, স্বপ্না রানী পাল, হোসেন শেখ,অমিত মজুমদার, হাকিম, রুহুল আমিন, শোভন বর্দ্ধন, বায়জিদ শেখ, নাজিম মুন্না, ইন্দ্রজিত বিশ্বাস প্রমূখ।

খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
বাংলাদেশের বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারকে ভারত ক্ষমতায় রাখবে কি না- তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাহেব বলেছেন, ভারতকে বলেছি আমাদেরকে সরকারে রাখতে। অর্থাৎ ভারত তাদেরকে রাখবে কি না- এটা নিয়ে সংশয় আছে। যাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর, সেই সম্পর্ক যদি স্বামী-স্ত্রীর হয় সেখানে তালাকে সম্ভাবনা আছে কি না, যদি না থাকে তাহলে মোমেন সাহেব এই ধরনের উক্তি কেন করেন? রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে তারা রাষ্ট্রের কথা, রাজনীতির কথা, দেশের মান-সম্মানের কথাটুকু চিন্তা না করে তারা যে ধরনের উক্তি করেন- তাতে আমরা একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক দাবি করা আমাদের কোনো অবকাশ নাই।
শনিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খুলনা মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরো বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যে বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে, তাতে দেশবাসী স্তম্ভিত। সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার সুগভীর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্লু প্রিন্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ করায় জাতি উদ্বিগ্ন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তৈয়েবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং আতাউর রহমান রুনু ও ফারুক হোসেন হিলটনের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা মহান স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলাল। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রিয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মোঃ আসফ কবীর চৌধুরী শত। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জামির হোসেন। জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খান, নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, আবু হোসেন বাবু, মহানগর যুবদল সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, মোঃ নজরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, গালিব ইমতিয়াজ নাহিদ, সোহেল আহমেদ মানিক, আমির ফয়সাল, জুলফিকার আলী ভুট্ট, আনোয়ার হোসেন আনো, ইউসুফ মোল্লা, এ্যাড. এসকেন্দার মির্জা, মুন্তাসির আল মামুন, ছাব্বির হোসেন রানা। উপস্থিত ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের মোঃ নাসির উদ্দিন, হেলাল ফরাজি, খায়রুজ জামান সজিব, সাইফুল ইসলাম মল্লিক, মহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম বাচ্চু, কামরুল ইসলাম, মঞ্জুর শাহিন রুবেল, লাবু বিশ্বাস, আলাউদ্দিন তালুকদার, এম এম শফি, বিল্লাল হোসেন এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নুরুল ইসলাম খোকা, সোহাগ মুন্সি, এস এম রফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের জনি, সোহেল আহম্মেদ মানিক, গালিম ইমতিয়াজ, আবু তাহের, টিটু জুমাদ্দার, এস এম শামীম আহসান, হেলাল আহমেদ, আসাদুল ইসলাম বিল্পব, যগেশ্বর সানা কার্তিক, শামীম আহম্মেদ রমিজ, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, টুটুল, আলমগীর হোসেন, ইমরান হোসেন খাজা, সোহেল, বাপ্পি, এস এম হারুন, সিহাবুল ইসলাম। এর আগে রেলস্টেশন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের প্লাকাট নিয়ে বিশাল র‌্যালী নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

শরণখোলার দুটি ফিশিং ট্রলারের ৩৪ জেলে সহ ১২২ জেলে উদ্ধার
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :
লঘুচাপের কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে ঢেউয়ের আঘাতে ভেসে যাওয়া বাগেরহাটের শরণখোলার দুটি ফিশিং ট্রলারের নিখোঁজ ৩৪ জেলেকে উদ্ধার করেছে উপজেলার রায়েন্দা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন এফবি সোনার মদিনা ফিশিং ট্রলারের জেলেরা। এছাড়া, ভোলার চরফ্যাশানের ১৮ ও পটুয়াখালীর বাউফলের ২৪ জেলেকে উদ্ধার করেছে পুর্ব সুন্দরবন বনবিভাগের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা। অন্যদিকে, ভারতীয় জেলেরা সাগরে ভাসমান অবস্থায় ৪৪ বাংলাদেশী জেলেকে উদ্ধার করে ভারতের কাকদ্বীপে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আবুল হোসেন হাওলাদার জানান, শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু চর এলাকার ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলার এফবি কালাম ও এফবি খায়রুল ইসলাম নামে শরণখোলার দুটি ফিশিংবোট ও নিখোঁজ ৩৪ জেলেকে উদ্ধার করে শরণখোলায় নিয়ে রওয়ানা হয়েছে এফবি সোনার মদিনার জেলেরা।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ মজুমদার মুঠোফোনে জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় দুটি ট্রলার থেকে ভোলার চরফ্যাশানের ১৮ ও পটুয়াখালীর বাউফলের ২৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদর মধ্যে ২৪ জনকে মাঝের কিল্লা আশ্রয় কেন্দ্রে ও বাকী ১৮ জনকে দুবলা আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা শারিরীকভাবে সুস্থ্য আছে বলে জানান তিনি।

বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
নগরীর বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা-২০২২ গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ৬৯ জন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে। উপস্থাপিত প্রজেক্ট বিবেচনায় ১৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পুরস্কার বিতরণ করেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ হাসান ইফতেখার চালু।
এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার পাল, সহকারী শিক্ষক ও খুলনা মহানগর মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এম এ ওহাব বুলবুল, বিজ্ঞান শিক্ষক সরস্বতী রাণী ভাদুড়ী ও নুরুন্নাহার বেগম, সহকারী শিক্ষক উম্মে সাহারা, আশীষ কুমার দাশ, মোঃ রুবায়েত হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, খাদিজা রহমান, মনোরঞ্জন সরদার, স্বপ্না পারভীন, মরিয়ম খাতুন, আফ্রিনা সুলতানা ও মোঃ আশেক বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান মেলায় ১ম স্থান অর্জন করে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ নোমান মাঝি, ২য় স্থান অর্জন করে মোঃ খায়রুল গাজী, যৌথভাবে ৩য় স্থান অর্জন করে শুভ দাশ ও শুভ কুন্ডু।

আশাশুনিতে ইমামের ফতোয়ায় পরস্ত্রী বিয়ে মুয়াজ্জিন বহিস্কৃত, ইমাম ধরাছোয়ার বাইরে!
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে ইমামের ফতোয়ায় মুয়াজ্জিন পরস্ত্রীকে বিয়ে করায় মসজিদ কমিটি মুয়াজ্জিনকে বহিস্কার করেছে। ফতোয়াবাজ ও বিয়ের স্বাক্ষী ইমামকে অজানা কারনে নির্দোষ বানিয়ে ইমামতি বহায় রাখা হয়েছে। ঘটনায় মুসল্লিসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১৯ আগষ্ট) জুম্মার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদের সভাপতি হারুন অর রশিদ, মুসল্লি কেরামত আলী, দাউদ সানা সহ মুসল্লিবৃন্দসহ এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, কাকবাসিয়া গ্রামের অজিয়ার রহমানের ছেলে জাহিদ তার স্ত্রীর সাথে গোলযোগের এক পর্যায়ে রাগের বশবতী হয়ে তালাকের কথা বলেছিলেন ৫/৬ মাস পূর্বে। ঘটনার পর থেকে তারা স্বামী স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করে আসছে। গ্রামের মহিলা হিসাবে স্ত্রীর মনে খটনা লাগলে সম্প্রতি মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক ও কাকবাসিয়া দঃ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওঃ রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে ফতোয়া জানতে চায়। ইমাম রবিউল মহিলা স্বামী বা পরিবারের কারো সাথে কথা না বলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত না হয়ে অন্যত্র বিয়ে করতে হবে বলে ফতোয়া প্রদান করেন। এবং ইমাম তার মসজিদের মুয়াজ্জিন (যার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে তাদের মতামত কিংবা তার পরিবারের কারো সাথে কথা না বলে) রেজাউল ইসলামের সাথে আঁতাত করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার বারান্দায় নিয়ে জাহিদের স্ত্রীর সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। স্বাক্ষী হিসাবে স্বয়ং ইমাম ও কেরামত নামে একজন উপস্থিত থাকেন। অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার পরও পুনরায় জাহিদের বাড়িতে স্ত্রীকে পাঠানো হয়। গোপন বিয়ের ঘটনা স্বামী জাহিদ জানতে পেরে শুক্রবার যখন মসজিদে খুতবা চলছে তখন হাতে কুড়াল নিয়ে ছুটে মসজিদের মধ্যে ঢুকে রেজাউল ও ইমামকে খুজতে থাকলে চরম উত্তেজনা ও হুলস্থুল কান্ডের সৃষ্টি হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ ও মুসল্লিরা জানান, জাহিদ কুড়াল নিয়ে মসজিদে ঢুকে পড়লে মুসল্লিরা তাকে নিবৃত করে এবং নামাজ শেষে শালিসে বসে ফয়সালা করবেন জানালে সে নিবৃত হয়। নামাজ শেষে শালিসে গোপনে ও প্রকৃত ঘটনা না জেনে বিয়ে ব্যবস্থা করা অন্যায় বিবেচিত হয়। অপরাধের জন্য মুয়াজ্জিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এব্যাপারে মসজিদের মুসল্লিবৃন্দ, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দসহ এলাকাবাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ধনীরাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার পারিশামারী নয়াবাদ ফটিকখালী হাইস্কুলের নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ আগষ্ট) সকালে স্কুল ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ্যাড. তারক নাথের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক বিরাজ মোহন রায়ের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এসএম শাহনেওয়াজ ডালিম। সভায় ইউপি সদস্য রামপদ সানা, খায়রুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার নাজিম উদ্দীন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন কান্তি মন্ডল, রমজান আলী মোড়লসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে অভিভাবকদের মধ্যে থেকে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু, গোলাম রসূল, বিনয় কৃষ্ণ মন্ডল, সুজিত মন্ডল, শেফালী রানীকে নির্বাচিত করা হয়। তবে নির্বাচিত সদস্যরাও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নীতিমালা অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র ক্রয়, জমা সব কিছুই করতে হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

পাটকেলঘাটায় জন্মাষ্টমী পালিত
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
পাটকেলঘাটায় গত শুক্রবার শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পাটকেলেশ্বরী কালী মন্দির থেকে বিশাল এক র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। এ সময় র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনদ কুমার, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও পাটকেলঘাটা ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় সহ অনেকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কালী মন্দিরে শত শত ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে জন্মাষ্টমী পালন করে।

খুলনার দাকোপে বাজুয়া সুরেন্দ্রনাথ ডিগ্রি অনার্স কলেজে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সভা
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া (দাকোপ)
দক্ষিণ খুলনার দাকোপ উপজেলার সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বাজুয়া সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ৫০ বছর পুর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তী ওপুনর্মিলনী ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে ২০ আগষ্ট শনিবার বেলা ১১টায় কলেজ মিলনায়তনে সুবর্নজয়ন্তী ও পুর্নমিলনী উদযাপন পরিষদ আহবায়ক ও অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান। সভায় বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার রায়, সহকারী অধ্যাপক হেমন্ত কুমার বৈদ্য, তুষার কান্তি পাল, নিতাই চন্দ্র সরকার, সবেশ্বর রায়, সমরেন্দ্র নাথ মহালদার, ছন্দা শীল, প্রবীর কুমার রায়, প্রনাবেন্দ্র রায়, প্রভাষক শেখর চন্দ্র রায়, অনিমেশ মন্ডল, তাপষ সুন্দর প্রমান্য, ইমরান হোসেন, হাবিবুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, শ্যামল অধীকারী, শিক্ষক শ্যামল কুমার রায়, প্রাক্তন ছাত্র ও দাকোপ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শচীন্দ্র নাথ মন্ডল প্রমুখ।

খালিশপুর শপিং কমপ্লেক্সের ২৭টি দোকান পাঁচ মাস তালাবদ্ধ, এক মাসের মধ্যে খুলে দেয়ার নির্দেশ উচ্চ আদালতের
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের মডেল শপিং কমপ্লেক্সের ২৭টি দোকান গত পাঁচ ধরে পাটকল শ্রমিক নেতাদের নেতৃত্বে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়া হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন। এতে করে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অবশেষে উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হলে আদালত দোকানগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে দোকানগুলো খুলে দেয়ার জন্য খুলনার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৭ আগস্ট বিচারপতি কে এম কামরুল কাদির ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলী বেঞ্চ রিট পিটিশনের শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। রিট পিটিশনে ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। এর মধ্যে ২নং বিবাদী হলেন জেলা প্রশাসক। তাকেই আদালত বাদীগণের দোকানগুলো যারা অবৈধভাবে জোরপূর্বক বে আইনীভাবে মূল ফটকে তালা লাগাইছে। তা খুলে দিয়ে বাদীগণের নিকট শান্তিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের মধ্যে সোহেল মাহমুদ পলাশ হাই কোর্টে এই রীট পিটিশন দাখিল করেন। যার নং-৮৯৫৯/২২। গত ১ আগস্ট তিনি রিট পিটিশন দাখিল করেন বলে জানান বাদীর আইনজীবী এড. গাজী মুসতাক আহমেদ। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ রিসিভ করার পর এক মাসের মধ্যে দোকানগুলো খুলে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, গত ২০ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে শ্রমিক নেতা মুরাদ হোসেন ও হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একদল শ্রমিক নেতা তাদের মডেল শপিং কমপ্লেক্সের গেট তালা দিয়ে দেয়। এমন কি তালা যাতে না খুলতে পারে এ জন্য সিলগালা করা হয়। অনেক দপ্তরে এ ব্যাপারে ছুটাছুটি করলেও তালা খোলার কোন ব্যবস্থা হয়নি। এতে করে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অপর ব্যবসায়ী ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম সজল বলেন, নগরীর খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের মডেল শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী তারা। এ কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরণের ২৭টি দোকান রয়েছে তাদের। দীর্ঘ দিন ধরে তারা দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে। বিজেএমসি সব জুট মিল বন্ধ করে দেয়। এরপর পাটকল শ্রমিক সংগঠন দ্বারা পরিচালিত খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কতিপয় ব্যক্তি এসে দোকান ঘরের জামানত ও ভাড়া অতিরিক্ত দাবি করে এবং বিরক্ত করতে থাকে। এতে বাধ্য হয়ে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। এমন কি মাকের্টের জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকায় তারা দোকান ঘরের ভাড়া আদালতে জমা দিয়ে যাচ্ছেন। এরপর চক্রটি ক্ষুব্দ হয়ে মার্কেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
এদিকে গত ১৬ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার শরিফুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের সাথে তিনি উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনের ওপর আদালতের আদেশের কটি সংযুক্ত করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তারা মার্কেটের ৪৮জন দোকানদার বৈধভাবে সরকারের নিকট থেকে বরাদ্দ পেতে চায়। ইতোমধ্যে তারা জেলা প্রশাসকের নিটক দোকান ঘরের প্রতিমাসের ভাড়া জমা দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতা বজায়ে রাখতে চায় এসব ব্যবসায়ীরা।

কালীগঞ্জে কাঙ্গালী ভোজের খিচুড়ি নিয়ে মারামারি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥
শোক দিবস পালন শেষে কাঙ্গালী ভোজের খেচুড়ি নিয়ে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের রাখালগাছি ইউনিয়ন আ’লীগের দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে। মারামারিতে দু’পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে।

আ’লীগের স্থানীয় কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাখালগাছি ইউনিয়ন আ’লীগের উদ্যোগে এক সভার আয়োজন করা হয়। শেষে সন্ধ্যার পর নেতাকর্মিদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরন শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দরবেশ আলীর সাথে অপর আ’লীগ নেতা ইরাদ হোসেনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ও মারামারি শুরু হয়। এ সময় মিরাজ হোসেন, ইরাদ হোসেন ও টনিসহ দু’পক্ষের ৫/৬ জন আহত হয়।
ইরাদ হোসেন জানান, সভাশেষে কাঙ্গালী ভোজের খিচুড়ি বিতরণ নিয়ে বাকবিতন্ডায় একটু হাতাহাতি হয়েছিল। পরে স্থানীয় নেতারা মিমাংসা করে দিয়েছেন।
টনি হোসেন জানান, চাচাতো ভাই ইরাদ হোসেনকে ঠেকাতে গিয়ে তিনি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে রাখালগাছি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান, খাবার বিতরণ নিয়ে তাদের দলের কর্মীদের মধ্যে একটু হাতাহাতি হয়েছিল। পরে তাদেরকে শান্ত ও দু’পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দিয়েছেন। তবে মারামারি খুব বেশি সময় ধরে হয়নি।
জ্বালানী তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে

খুলনার উপজেলাপর্যায়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ শুরু সোমবার
খবর বিজ্ঞপ্তি
জ্বালানি তেল, পরিবহণ ভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবার কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলপর্যায়ে যাচ্ছে খুলনা জেলা বিএনপি। আগামীকাল সোমবার (২২ আগস্ট) থেকে উপজেলা, পৌরসভা, থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠে নামছে দলটি। উপজেলা পর্যায়ের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক জননেতা জনাব আজিজুল বারী হেলাল। এসব কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খান। সমন্বয়কারী হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী ও যুগ্ম-আহবায়ক শেখ আবু হোসেন বাবু।
গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২২ আগস্ট (সোমবার) বেলা ১১টায় বটিয়াঘাটা উপজেলায়, একইদিন বিকেল ৩টায় দাকোপ উপজেলা ও চালনা পৌরসভায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় ডুমুরিয়া উপজেলায়, ২৪ আগস্ট বেলা ১১টায় তেরখাদায় ও একইদিন বিকেল ৩টায় রূপসায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আর পরদিন ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় দিঘলিয়ায়, ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টায় ফুলতলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষদিনে ২৭ আগস্ট বেলা ১১টায় কয়রা উপজেলায় এবং একই দিনের বিকেল ৩টায় পাইকগাছা উপজেলা ও পৌরসভায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী এই সিরিজ কর্মসূচি সর্ম্পকে বলেন, সরকার পতন আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলন শুধু বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন, জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক্ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে মানুষ আজ দিশেহারা। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে মানুষ জেগে উঠেছে। এখন সবাই চায় এই সরকারের পতন। সে লক্ষ্যে তৃণমূলের বিশাল জনগোষ্ঠিকে আন্দোলনের মূলধারায় একত্মতার উদ্দেশ্য আমাদের।#

মহানগর বিএনপি নেতা দুলু ও মাগুরঘোনার শাহাদাতের সুস্থ্যতা কামনা জেলা নেতৃবৃন্দের
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হাসান দুলু ও ডুমুরিয়ার মাগুরঘোনা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ শাহাদাত হোসেন হালদারের আশু সুস্থ্যতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে নেতাদ্বয়ের সুস্থ্যতা কামনা করা হয়। তারা দু’জনই শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আমির এজাজ খান, সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী ও যুগ্ম-আহবায়ক শেখ আবু হোসেন বাবুসহ আহবায়ক কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ।#

দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে রূঢ় আচরণ ও ১৫ আগস্টের বক্তৃতা করায় তিন নেতাকে শোকজ
খবর বিজ্ঞপ্তি
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে একেরপর এক রূঢ় ব্যবহার করায় পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এসএম এনামুল হক এবং ১৫-ই আগস্টের শোক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করায় জেলা বিএনপি’র সদস্য মোঃ দিদার হোসেন ও তেরখাদা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক ইকরাম হোসেন জমাদ্দার বক্তৃতা করায় শোকজ করেছে জেলা বিএনপি। কেনো তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব দিতে ৭দিনের সময় দেয়া হয়েছে তাদের। পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল শনিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খান ও সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফলে পাইকগাছা থেকে খুলনায় বাসযোগে আসার সময় পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ডাঃ আব্দুর মজিদ এবং সিনিয়র নেতা আঃ মজিদ গোলদারের সাথে গাড়ীর ভিতর নেতা-কর্মীদের সামনে গালিগালাজসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট কৃষকদলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফলে নেতাকর্মীরা খুলনা শহরে আসলে ফেরীঘাট মোড়ে কৃষক দলের সভাপতি মেছের আলীকে নেতাকর্মীদের সামনে গালিগালাজসহ মারতে উদ্যত হন। এরআগে ১১ এপ্রিল পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র অফিসে সভা চলাকলীন মজিদ গোলদারকে একইভাবে অফিস থেকে বের করে দেন। এছাড়া খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কর্মসূচীতে খুলনায় আসার পথে চাঁদখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নানের সাথে গাড়ীর ভিতর একই আচরণ করেন। প্রতিটি ঘটনার পর নেতৃবৃন্দ এসএম এনামুল হককে মৌখিকভাবে সতর্ক করে আসছেন। বিএনপি’র দায়িত্বশীল পদে থেকে নেতাকর্মীদের সাথে একেরপর এক এরূপ আচরণ দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ। কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এ মর্মে ৭ দিনের মধ্যে খুলানা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক/ সদস্য সচিব বরাবর কারণ ব্যাখ্যা পূর্বক জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপি’র অন্যতম সদস্য মোঃ দিদার হোসেন ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর শোক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। বিএনপির’র দায়িত্বশীল পদে থেকে এ রূপ আচরণ দলের গঠণতন্ত্র বিরোধী ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল।
আবার, তেরখাদা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক ইকরাম হোসেন জমাদ্দার অনুরুপভাবে তার এলাকায় ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর শোক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। বিএনপির’র দায়িত্বশীল পদে থেকে এ রূপ আচরণ দলের গঠণতন্ত্র বিরোধী ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল। কেনো তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না এ মর্মে সাতদিনের মধ্যে খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে বলা হয়েছে।

বাগেরহাটে গাজা ও গাজা গাছসহ ৪ মাদক কারবারি আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পৃথক অভিযানে গাজা ও গাজা গাছ সহ চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার উদয়পুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গাজাসহ তিনজনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ২১৫ গ্রাম গাজা উদ্ধার করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার গাড়ফা গ্রামের বাকু শেখের দ্বীন ইসলাম ওরফে বিটকেল, উদয়পুর উত্তরকান্দি গ্রামের আফজাল কাজী, একই গ্রামের নান্নু শরীফের বরকত শরীফ।
অন্যদিকে একই দিনে আরেক উপজেলার গাওলা ইউনিয়নের উত্তর মাটিয়ারগাতি গ্রাম থেকে গাজা গাছসহ ধীরেন বিশ্বাস নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ধীরেন বিশ্বাস মাটিয়ারগাতি গ্রামের মৃত ভেজাল বিশ্বাসের ছেলে।তিনি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গাজা গাছ রোপন করেছিলেন। উদ্ধারকরা গাছটি ১৫ ফুট লম্বা।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৌমেন দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাজা ও গাজা গাছসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জাতীয় শোক দিবসে তাঁতী লীগের আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের রামপালে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাতী লীগের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্লা আব্দুর রউফ। এসময়, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগেরহাট জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল বাকী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফকির ইফতেখারুল ইসলাম রানা, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা সায়রা বেগম, রামপাল উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি মোঃ নাজমুল হাসান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক বিভাষ চন্দ্র হালদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সহকারী অধ্যাপক হিরণ চন্দ্র দাস, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন কচি, জুলফিকার আলি ভুট্টা, তালুকদার মুজিবুর রহমান, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদী প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, আগামী জাতীয় দ্বাদশ নির্বাচনে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। মানুষের জানমান ও দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করতে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নসহ ওয়ার্ড গুলোকে পুর্নাঙ্গভাবে কমিটি গঠন করে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আলোচনা সভা শেষে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

শ্যমনগরে মেম্বর এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সম্মেলন ও কমিটি গঠন
মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন, শ্যামনগর
শনিবার বেলা ১১টায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ী বরসা রিসোর্ট সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বর এসোসিয়েশনের শ্যামনগর উপজেলা মেম্বর প্রতিনিধি সম্মেলন ও কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজী গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এস.কে সিরাজের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এস.এম আতাউল হক দোলন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মেম্বর এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি হাজী আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলাম সেন্টু, সাতক্ষীরা জেলা আহবায়ক মুফিজ উদ্দীন মুফতি, উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আনিসুজ্জামান, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নজরুল, ভুরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু, মুন্সীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার মৃধা, রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন প্রমুখ। প্রতিনিধি সম্মেলনে শ্যামনগরের ১৪৪ মেম্বরের মধ্যে ১৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির সমন্বয়ে গাজী গোলাম মোস্তাফকে সভাপতি, এসকে সিরাজ সাধারণ সম্পাদক ও গাজী আব্দুর রউফকে সাংগঠনিক সম্পাদক, করে আংশিক শ্যামনগর উপজেলার মেম্বর এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটি দ্রুত ৫১ সদস্য কমিটি ঘোষনা করবেন।

শ্যামনগরে আদিবাসী পল্লীতে হামলায় আহত নরেন্দ্র মুন্ডার মৃত্যু, গ্রেফতার ৪
শ্যামনগর প্রতিনিধি
জমি দখলের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট অন্তাখালী গ্রামের আদিবাসী মুন্ডা পল্লীতে বর্বরোচিত হামলায় আহত নরেন্দ্রনাথ মুন্ডার (৭০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ৩ টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে, হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট অন্তাখালী গ্রামের মুন্ডা পল্লীর আদিবাসী মুন্ডাদের উপর নারকীয় তান্ডব চালানোর ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৮ টার দিকে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের মৃত গফুর সরদার ছেলে রাশিদুল ইসলাম ও এবাদুল হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল এ তান্ডব চালায়। বিরোধপূর্ণ ৮ বিঘা জমি দখলে নিতে পুর্বপরিকল্পিত এ তান্ডব চালানোর জন্য বংশীপুর, ঈশ্বরীপুর সহ উপজেলার বিভিন্ন অংশ হতে লাঠিয়ালদের ভাড়া করে আনা হয়। এসময় হামলার সাথে জড়িতরা আদিবাসী মুন্ডাদের পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ভোগ দখলে থাকা জমি চাষ করে সীমানা পিলার স্থাপন করে। এক পর্যায়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পালিয়ে গিয়ে জমি দখলে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে মুন্ডা সম্প্রদায়ের অসহায় নারী পুরুষদের বেপরোয়োভাবে লাঠিপেটা করে হামলার সাথে জড়িতরা। এতে আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের বিলাসী মুন্ডা, রিনা মুন্ডা, সুলতা মুন্ডা ও নরেন্দ্র মুন্ডাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে সন্ত্রাসী হামলার সময় অবরুদ্ধ মুন্ডা পরিবারগুলো ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। হামলার শিকার ফনিন্দ্রনাথ মুন্ডা জানান, তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি দখলের জন্য প্রায় দুই থেকে আড়াই শতাধিক লাঠিয়াল শুক্রবার হামলা চালায়। এসময় তাদের প্রতিটি পরিবারকে বসত ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রেখে সন্ত্রাসীরা বসতবাড়ি সংলগ্ন চাষের জমিতে কলের লাঙল দিয়ে চাষ শুরু করে। এসময় জমিতে রোপনের জন্য তৈরি বীজতলা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয় লাঠিয়ালরা। তিনি আরো বলেন, কৌশলে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পালিয়ে কয়েকজন সেখানে যেয়ে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে লাঠিয়াল বাহিনী তাদের বেপরোয়াভাবে মারপিট করে। এ সময় তার স্ত্রীসহ অন্তত ১২ জন আহত হলে মারাত্বক আহত ৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালী আবদুল গফুর সরদারের ছেলে রাশিদুল ও এবাদুল ঐ জমির মালিকানা দাবি করে তা দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। বিষয়টা আদালত বিচারাধীন থাকার পরও শুক্রবার শত শত লাঠিয়াল নিয়ে তা দখল করে নিয়েছে। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা বলেন শুক্রবার সকালে আদিবাসী মুন্ডাদের উপর নারকীয় তান্ডব চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মুন্ডা সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ও ভোগদখলে থাকা জমি দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অস্তিত্ব সংকটে মুন্ডা সম্প্রদায় নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা হারিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্ডা সম্প্রদায় এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাপ দাদার বাদাকাটা (বনের গাছকাটা) পেশা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এই সম্প্রদায়ের প্রায় তিন হাজার মানুষ। ফলে ঝুঁকছেন অন্য পেশায়। আদিবাসী মুন্ডাদের বসবাস সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলায়। গত ২৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন তারা। এলাকায় তারা সুন্দরবনের আদিবাসী ‘মুন্ডা’ সম্প্রদায় নামেই পরিচিত। আদি নিবাস ভারতের ঝাড়খন্ড ও রাচি এলাকায়। এদেশে আসা মুন্ডাদের রয়েছে স্বতন্ত্র ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে শ্যামনগরে মুন্ডাদের ৪২০ টি পরিবারের জনসংখ্যা ২ হাজার ৭৪০। এসব পরিবারের ৯৫ শতাংশ ভূমিহীন। অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও অভাবকে পুঁজি করে ভূমিদস্যুরা তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে চার শতাধিক পরিবারের মধ্যে তিনজন গ্রাম পুলিশ এবং ১৩ জন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। অন্য সদস্যরা দিন মজুরের কাজ করেন। প্রতিকূল পরিবেশে কঠোর পরিশ্রম করতে পারে এই সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসকরা সমতল ভূমির বন জঙ্গল কেটে কৃষি উপযোগী করাসহ পরিচ্ছন্ন হাট-বাজার ও নগর গড়ে তোলার কাজে তাদের নিয়ে আসে এদেশে। এক সময় তাদের সুন্দরবনের গাছ কেটে জন বসতি গড়ার কাজে লাগানো হয়। সময়ের আবর্তে মুন্ডা সম্প্রদায়ের পেশার সঙ্গে কাজের ধরনও বদলে যায়। এরপর থেকেই তারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পাশে বসতি গড়ে তোলেন। বর্তমানে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিঞ্চি, ভেটখালী, তারানিপুর, সাপখালী, ধুমঘাট, মুন্সিগঞ্জ, কাশিপুর, কচুখালী এলাকায় নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে বাস করে আদিবাসী মুন্ডারা। আগে তাদের প্রধান জীবিকা ছিল সুন্দরবনের গাছ কাটা, নদীতে মাছ শিকার ও কৃষিকাজ। বর্তমানে তাদের অনেকেই আদি পেশা ছেড়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের বাহামনি মুন্ডা জানান, পূর্ব পুরুষদের পেশা ছিল জঙ্গলের গাছ, গোলপাতা ও গরান কাঠ কাটা। বর্তমানে গাছকাটা বন্ধ করেছে সরকার। ফলে অনেকেই আদি পেশা ছেড়ে কৃষিকাজ ও নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ কেউ অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের বৃদ্ধ কাহার মুন্ডা বলেন, বাদাকাটা জমিতে তিন পুরুষের বাস। আগে পূর্ব পুরুষের পেশায় ছিলাম। বনের গাছ কেটে বিক্রি করতাম। এরপর মহাজনরা আমাদের বনে গাছ, গোলপাতা কাটতে নিয়ে যেত। এখন বনে যেতে দেয় না। তাই নিজেরা জাল বুনে সুন্দরবনের নদী খালে মাছ, কাঁকড়া ধরছি। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা বলেন, বাঙালিদের সঙ্গে লেখাপড়ার কারণে নিজেদের ভাষা ভুলতে বসেছে বর্তমান প্রজন্ম। প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা না থাকায় মুন্ডারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চাও করে। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী ওয়াহেদ মুর্শেদ জানান, এজাহারভুক্ত ৪ কে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ৩৫ নং ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৭ তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে খানজাহান আলী থানার অর্ন্তগত ৩৫ নং ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে গতকাল বিকাল ৫ টায় গিলাতলা ৩৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে কুরআন খতম, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিনা আলাউদ্দিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খানজাহান আলী থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার স.ম রেজওয়ান আলী । প্রধান বক্তা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ শেখ মোঃ আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইজ্ঞিল কাজী, সৈয়দ আহম্মেদ আলী , শেখ আঃ হক , মোঃ রাছেল আহম্মেদ, শাহানাজ পারভিন বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলেক শেখ, দুলাল মন্ডল, আঃ গনী, আজগার কাগজী, শাহাজালাল, দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্বারী আসহাব উদ্দিন।

ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকী আজ
ঢাকা অফিস
রক্তাক্ত বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। এদিন নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার ১৮তম বার্ষিকী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এই নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতা। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজিত সমাবেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে যে ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদতেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।
কাল ইতিহাসের এই জঘন্যতম গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকীতে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে হামলায় নিহতদের স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তুপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। স্পিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ। নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গগন বিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।
সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভাগ্যগুণে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন দেখে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে টার্গেট করা গুলি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভেদ করতে পারেনি। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান ছাড়াও সেদিন নিহত হন ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। গ্রেনেডের স্পিন্টারের সঙ্গে লড়াই করে ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ আরও কয়েকজন পরাজিত হন।
হামলায় আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে শরীরে স্পিন্টার নিয়ে আজও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আহত হয়েছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এখনও অনেক নেতাকর্মী সেদিনের সেই গ্রেনেডের স্পিন্টারের মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অনেক নেতাকর্মীকে তাৎক্ষণিক দেশে-বিদেশে চিকিৎসা করালেও তারা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
এদিকে গ্রেনেড হামলার পর ভয়, শঙ্কা ও ত্রাস গ্রাস করে ফেলে গোটা রাজধানীকে। এই গণহত্যার উত্তেজনা ও শোক আছড়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজে বাঁচতে ও অন্যদের বাঁচাতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঠিক তখনই পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর বেধড়ক লাঠি-টিয়ার শেল চার্জ করে। একইসঙ্গে নষ্ট করা হয় সেই রোমহর্ষক ঘটনার যাবতীয় আলামত। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।
কর্মসূচি: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হবে।
এছাড়াও সকাল সাড়ে ১০ টা ১৫ মিনিটে ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা দুলু হৃদরোগে আক্রান্ত: পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক খুলনা চেম্বার অফ কমার্স এর পরিচালক আজিজুল হাসান দুলু’র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় তিনি অসুস্থতা অনুভব করলে নগরীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হৃদরোগের বিষয়টি নিশ্চিত করলে তাৎক্ষনিক তাকে রিং পড়ানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার রিং পড়ানো সফল হয়েছে এবং তিনি এখন করোনারী কেয়ার ইউনিটে আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আজিজুল হাসান দুলুর সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন। খবর পেয়ে খুলনা বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ নেতৃবৃন্দ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। এদিকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল হাসান দুলু’র সুস্থতা কামনা করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপি। শনিবার এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ তার আশু রোগ মুক্তি কামনা করেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. তারিকুল ইসলাম জহির, যুগ্ম আহবায়ক কাজী মো. রাশেদ, স ম আব্দুর রহমান, সৈয়দা রেহানা ঈসা, এ্যাড. নুরুল হাসান রুবা, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, মাহবুব হাসান পিয়ারু, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, শেখ সাদী, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ প্রমুখ।

সম্ভাবনা: রঙিন মাছে রাঙা জীবন
স্টাফ রিপোর্টার
লাল, নীল, কমলা, কালো, বাদামি, হলুদ- খালি চোখে এগুলো রং। এসএম হাসানুর রহমানের কাছে এগুলো একেকটি স্বপ্ন। তাঁর জীবন রাঙানোর উপকরণ, ভাগ্য বদলের জিয়নকাঠি। খুলনার দিঘলিয়ার মহেশ্বরপুর গ্রামে তাঁর পুকুর ও হাউসের পানিতে ভাসছে, ডুব দিচ্ছে নানা রঙের মাছ। গোল্ড ফিশ, কমেট, কই কার্ভ, ওরেন্টা গোল্ড, মলি, গাপটি, অ্যাঞ্জেল, সিল্ক্কি কৈ প্রভৃৃতি বর্ণিল মাছ দেখলে চোখ জুড়ায়, মন ভরে যায়। সাধারণত বাসাবাড়ির অ্যাকুয়ারিয়ামে শোভা পেয়ে থাকে এসব মাছ।

ইতোমধ্যে রঙিন মাছের চাষ করে জীবনকে রাঙিয়েছেন হাসানুর। সচ্ছলতা ফিরেছে সংসারে। তাঁকে দেখে এলাকার অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন, নিজের সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হচ্ছেন। তিন বছর আগে পুকুর ও হাউসে রঙিন মাছের চাষ শুরু করেন হাসানুর। লাভে লাভে বেড়েই চলে চাষের পরিসর। এখন তাঁর ২০ শতক জমিতে ৫টি পুকুর ও ৭২টি হাউসে ১০৫ প্রজাতির প্রায় ১৩ লাখ পিস রঙিন মাছ রয়েছে।
তরুণ এই উদ্যোক্তা জানান, তাঁর কাছে প্রতি পিস ১ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা দামের মাছ রয়েছে। প্রতি মাসেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০ হাজার পিস মাছ বিক্রি করেন। সব খরচ বাদে ২ লাখ টাকার মতো থাকে। বিক্রয় মূল্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই লাভ হয়। চাষাবাদের জন্য তাঁর ফার্মে রয়েছেন সাতজন কর্মচারী।

হাসানুর বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে পাইকারি দরে মাছ নিয়ে যান। বিদেশে এই মাছ রপ্তানির সক্ষমতা আমার রয়েছে। অনেকে নিতে চান। কিন্তু অনুমতি না থাকায় রপ্তানি করতে পারছি না।

নগরীর বাগমারা মেইন রোডের বাসিন্দা গাজী শাহনেওয়াজ পিপলু বছর দুয়েক আগে শখের বশে বাড়ির ছাদে চাষ শুরু করেন। লাভের মুখ দেখায় এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। প্রায় ৫০টি ট্যাঙ্ক ও ড্রামে করা চাষ থেকেই মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করছেন। পিপলু বলেন, শীতকালে কিছু সংখ্যক রঙিন মাছ মারা যায়। কিন্তু কেন মৃত্যু হয়, অনেক চেষ্টা করেও কূলকিনারা করতে পারিনি। নতুন কেউ রঙিন মাছ চাষে এলে প্রথম ছয় মাস খুব ছোট পরিসরে করার পরামর্শ দেন তিনি।

হাসানুর ও পিপলুর মতো খুলনায় অনেকেই রঙিন মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ পুকুরে, কেউ হাউস করে আবার কেউ বাড়ির ছাদে চাষ করছেন। এর মাধ্যমে সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে। নগরীর টুটপাড়া এলাকার রবিউল হোসেন ও আরিফুল ইসলাম জানান, রঙিন মাছ চাষের বিষয়ে মৎস্য অফিসের তেমন সহায়তা পাওয়া যায় না।

প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা পেলে অনেক বেকারের জীবন পাল্টে দিত রঙিন মাছ।

জেলা মৎস্য অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনায় এখন রঙিন মাছের চাষ করছেন ৪০ থেকে ৪৫ জন। অবশ্য এই চাষে জড়িতরা বলছেন, সংখ্যাটি ৩ শতাধিক। আর অ্যাকুয়ারিয়ামসহ রঙিন মাছ বিক্রির দোকান আছে ৬০-৬৫টি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজিক্যাল প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় খুলনার ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় তাঁদের কার্যক্রম চলছে। তাঁরা ১০ জনকে রঙিন মাছ চাষের প্রশিক্ষণসহ সহায়তা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রকল্পের আওতা বাড়ানো হবে। রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা গেলে দেশও লাভবান হবে।

আহত নরেন মুন্ডার মৃত্যু, যুবলীগ নেতাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিতে মুন্ডাপল্লিতে লাঠিয়াল বাহিনীর হামলায় আহত নরেন মুন্ডা (৫৬) মারা গেছেন। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, হামলায় ঘটনায় আহত ফনিন্দ্রনাথ মুন্ডা শুক্রবার রাতে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন। এতে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৬০-১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ জানান, নরেন মুন্ডার মৃত্যুর পর আগের মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে শনিবার নূর হোসেন ও নূর মোহাম্মদ নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। মুন্ডাপল্লির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ধুমঘাট অনতাখালী মুন্ডাপল্লিতে তাণ্ডব চালায় প্রায় ২০০ লাঠিয়াল। অভিযোগ রয়েছে, মুন্ডা সম্প্রদায়ের আট বিঘা জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন শ্রীফলা গ্রামের আব্দুল গফুর সরদারের ছেলে রাশিদুল ইসলাম ও এবাদুল হোসেন। এ জমি দখলে নিতে তাঁদের ভাড়া করা যুবলীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ ও উপজেলা তরুণ লীগের সভাপতি আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে বংশীপুর, ঈশ্বরীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লাঠিয়ালরা হামলা চালায়।
এতে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে নরেন মুন্ডা, সুলতা মুন্ডা, বিলাসী মুন্ডা ও রানী মুন্ডাকে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার চিকিৎসাধীন নরেন মুন্ডার মৃত্যু হয়।

সনাতন মুন্ডা ও ফনিন্দ্র মুন্ডার দাবি, মামলার পর থেকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে হামলা-মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করবেন বলেও শাসাচ্ছেন তাঁরা। হামলার ঘটনার এক দিন পার হলেও জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না আসায় মুন্ডা সম্প্রদায়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে মুন্ডা সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার দাবিতে উপজেলার বংশীপুর-ভেটখালী সংযোগ সড়কে মানববন্ধন করেন। এ সময় শ্রীরাম মুন্ডা, কৃষ্ণপদ মুন্ডা, মনোরঞ্জন মুন্ডা, মালতী রানী মুন্ডা, কিশোরী মুন্ডা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিসিবি কর্মকর্তার বাসা থেকে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার
ঢাকা অফিস
রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তার ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২০ আগস্ট) রাতে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়ালিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আজ গুলশান-২ এর ৮১ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি ফ্ল্যাটটি বিসিবির এক কর্মকর্তার।

এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, মৃত গৃহকর্মীর নাম নুন নাহার। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। বাবার নাম মোতালেব হোসেন। তিনি বিবাহিতা ছিলেন।

এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেকে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।