শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিতে মুন্ডাপল্লিতে লাঠিয়াল বাহিনীর হামলায় আহত নরেন মুন্ডা (৫৬) মারা গেছেন। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, হামলায় ঘটনায় আহত ফনিন্দ্রনাথ মুন্ডা শুক্রবার রাতে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন। এতে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৬০-১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ জানান, নরেন মুন্ডার মৃত্যুর পর আগের মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে শনিবার নূর হোসেন ও নূর মোহাম্মদ নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। মুন্ডাপল্লির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ধুমঘাট অনতাখালী মুন্ডাপল্লিতে তাণ্ডব চালায় প্রায় ২০০ লাঠিয়াল। অভিযোগ রয়েছে, মুন্ডা সম্প্রদায়ের আট বিঘা জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন শ্রীফলা গ্রামের আব্দুল গফুর সরদারের ছেলে রাশিদুল ইসলাম ও এবাদুল হোসেন। এ জমি দখলে নিতে তাঁদের ভাড়া করা যুবলীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ ও উপজেলা তরুণ লীগের সভাপতি আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে বংশীপুর, ঈশ্বরীপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লাঠিয়ালরা হামলা চালায়।
এতে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে নরেন মুন্ডা, সুলতা মুন্ডা, বিলাসী মুন্ডা ও রানী মুন্ডাকে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার চিকিৎসাধীন নরেন মুন্ডার মৃত্যু হয়।
সনাতন মুন্ডা ও ফনিন্দ্র মুন্ডার দাবি, মামলার পর থেকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে হামলা-মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করবেন বলেও শাসাচ্ছেন তাঁরা। হামলার ঘটনার এক দিন পার হলেও জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না আসায় মুন্ডা সম্প্রদায়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিকে শনিবার সকালে মুন্ডা সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার দাবিতে উপজেলার বংশীপুর-ভেটখালী সংযোগ সড়কে মানববন্ধন করেন। এ সময় শ্রীরাম মুন্ডা, কৃষ্ণপদ মুন্ডা, মনোরঞ্জন মুন্ডা, মালতী রানী মুন্ডা, কিশোরী মুন্ডা প্রমুখ বক্তব্য দেন।











































