Home জাতীয় বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চান ব্যাশেলে

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চান ব্যাশেলে

18

ঢাকা অফিস।।

ঢাকা সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাশেলে বাংলাদেশে যেসব বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে সেগুলোর নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চান তিনি।

বুধবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে মিশেল ব্যাশেলে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে যাচ্ছিল।’ তিনি জানান, ঢাকায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ নিয়ে তিনি তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ সময় মিশেল বলেন, তিনি সরকারকে একটি স্বাধীন এবং বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলেছেন। যাতে করে এ ধরনের ঘটনার শিকার ব্যক্তি, পরিবার এবং সিভিল সোসাইটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করা যায়।’

কিভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এরকম একটি সংস্থা গড়ে তোলা যায় সেজন্যে তার দপ্তর বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তত, তিনি বলেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ যে সবচেয়ে বেশি সেনা পাঠায় সে কথা উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকারের রেকর্ড যেন সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে দেখা হয়-সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

মিশেল ব্যাশেলে জানান, তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও তার উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন। এই আইনের কিছু বিষয় সংশোধন এবং পরিমার্জনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেন তিনি।

জাতিসংঘের প্রথম মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিচেল ব্যাশেলে বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আমলে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষ হয় বিচার বহির্ভূত হত্যা অথবা গুমের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এসব অভিযোগের পটভূমিতে গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং সাত জন শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

তবে সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের কথা অস্বীকার করেছে সবসময়। সরকারের একজন মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন যে, যারা গুম হয়েছে বলা বলা হচ্ছে, তাদের অনেকে আসলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।