Home আঞ্চলিক দাকোপের বাজুয়ায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন

দাকোপের বাজুয়ায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন

97


মোঃ শামীম হোসেন, বাজুয়া প্রতিনিধি:


খুলনার দাকোপের বাজুয়ায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন। দাকোপে এবার গতবারের ল্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে তরমুজ চাষ, ফলনও হয়েছে বাম্পার। গতবার তরমুজ চাষ হয়েছিল ১৫০০ হেক্টর জমিতে। এবার তরমুজ চাষ হয়েছে ২৫০০ হেক্টর জমিতে। দামও খুব ভাল এবং চাষীরা লাভবান। এলাকাবাসী ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩৩ নং পোল্ডারের ৫টি ইউনিয়নে গতবারের ল্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এবছর তরমুজের বাম্পার ফলন অথচ করোনা ভাইরাসের কারনে কৃষকদের তরমুজের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকার তরমুজ চাষী কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায় ২০১৩ সালে তরমুজের অস্বাভাবিক দর পতনে হাজার হাজার তরমুজ চাষী ব্যাপক লোকসানের কারণে হতাশ হয়ে মারাত্মক ভাবে ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়ে, অনেক তিগ্রস্থ চাষী তরমুজ চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছিল। তিগ্রস্থ চাষীর মধ্যে এ বছর মাত্র ৫ হাজার ৭শ ৩২ জন তরমুজ চাষী নতুন ভাবে বাঁচার আশায় ২৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। ৩৩ নং পোল্ডারের বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়নে গত বছর মোট ১৩‘শ ৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। চলতি বছর তার ল্যমাত্রা ছাড়িয়ে ওই পাঁচটি ইউনিয়নে মোট তরমুজ চাষ হয়েছে মাত্র ১৭০০শ হেক্টর জমিতে। এলাকা ঘুরে জানা যায় বাজুয়া এলাকায় ১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম কৃষক রবীন্দ্র নাথ মন্ডল ও পংকজ কয়াল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে তরমুজ চাষের শুভ সুচনা করে এবং তরমুজের খুব ভাল ফলন হওয়ায় পরবর্তীতে আশ-পাশের কৃষকরাও তরমুজ চাষে ঝুকে পড়ে। সরেজমিনে বাজুয়া কচা এলাকার তরমুজ চাষী শিক মুরারী মোহন থান্দার জানান, এবছর আমি ৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি।

ফলন খুব ভাল। বিঘা প্রতি আমার খরচ হয়েছে ১০/১২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকা। পশ্চিম বাজুয়া এলাকার চাষী ইউপি সদস্য সঞ্চয় মন্ডল ও বাজুয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান উৎপল দাশ জানান, আমি ১৯বিঘা জমিতে ৩ ল টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছি এবং বিক্রি করেছি ১১ বিঘা ৪ লাখ ৫ হাজার টাকায় এখনও আমাদের ৮ বিঘা জমির তরমুজ বিক্রয় করতে বাকি আছে। এছাড়া কৃষক ফণি ভূষন মন্ডল জানান, আমি ৩০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। আমার ফলন খুব ভাল, জমি চাষ করতে আমার খরচ হয় মোট ৩ লাখ প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং এ পর্যন্ত মাল বিক্রি করেছি প্রায় ৮/৯ লাখ টাকা। েেত এখনো তরমুজ রয়েছে। পশ্চিম বাজুয়ার কৃষক শ্রীকান্ত রায় বলেন আমার ১৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, মাল বিক্রি করেছি প্রায় সাড়ে ৪ ল টাকার। েেত আরো মাল আছে। পূর্ব বাজুয়া এলাকার চাষী সুধীর তরফদার জানান, আমার ৬ বিঘা জমিতে তরমুজ লাগাতে বীজ, কীটনাশক, সার, সেচ, শ্রমিক দিয়ে ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

মাল বিক্রি করেছি প্রায় দেড় লাখ টাকার, এখনো েেত মাল রয়েছে। এছাড়া একই এলাকার রনজিত থান্দার, ঝন্টু গাইনসহ আরো অনেক চাষী এবছরে তরমুজ চাষের লাভের কথা জানান। বরিশাল জেলার নলছড়ি এলাকার তরমুজ ব্যবসায়ী সামছুর হাওলাদার জানান এ বছর এখানে তরমুজের ফলন খুব ভাল, আমি প্রতি বিঘা তরমুজ তে কিনছি ৪০-৫০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকলে আরো বেশী দামে মাল বিক্রি হত। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানান গত বারের ল্য মাত্রার চেয়ে এ বছর বেশী জমিতে তরমুজের চাষ হযেছে। ফলনও ভাল তবে করোনা ভাইরাসের কারনে বাজার দর কিছুটা কম তবে করোনা ভাইরাস না থাকলে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকলে কৃষকরা আরো লাভবান হত।