কুষ্টিয়া প্রতিনিধি||
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ৮৪ টন অপরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হালসা স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ডাবল লাইন থাকায় ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য খুলনা থেকে ৩০টির বেশি ওয়াগনবোঝাই ফার্নেস অয়েল নিয়ে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা জংশনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে হালসা স্টেশন থেকে এক কিলোমিটার দূরে লুফ লাইন থেকে মেইন লাইনে ওঠার সময় ইঞ্জিন এবং তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এতে দুটি ওয়াগন ছিদ্র হয়ে প্রায় ৮৪ টন তেল রেললাইনের ওপর পড়ে যায়। পরে সেখান থেকে গড়িয়ে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতেও গেছে তেল।
হালসা রেলস্টেশনের কয়েকজন লাইনম্যান জানান, তেলবোঝাই ট্রেনটিকে তাঁরা লুফ লাইনে থামার নির্দেশ দিলেও লোকোমাস্টার (চালক) মানেননি। তিনি মূল লাইনে ওঠার সময় লাইন ক্লিয়ার না থাকায় ইঞ্জিন ও তিনটি ওয়াগন ছিটকে যায়। লোকোমাস্টার ঘুমিয়ে থাকায় নির্দেশনা টের পাননি। তা ছাড়া এমন দুর্ঘটনার আর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পাকশী জোনের ডিআরএম সাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সকালে হালসা স্টেশন এলাকায় আপ লাইনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। একটি ওয়াগনের ৪২ টন এবং অন্যটির প্রায় পুরোটা ফার্নেস অয়েল পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের লোকোমাস্টারের ঘুমের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারাও চালকের ঘুমের কথা জানিয়েছেন। মিলন আলী জানান, চালক ঘুমিয়ে থাকায় লাইনম্যানদের নির্দেশনা টের পাননি। বিকট শব্দে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। রেললাইন থেকে তেল কৃষিজমিতে আসছে। পরিমাণে বেশি এলে আবাদে সমস্যা হতে পারে বলে জানান তিনি। পোড়াদহ রেলওয়ে থানার কর্মকর্তা নারগিস আক্তার বলেন, ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন আসার পর দুপুরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ওয়াগন রেললাইন থেকে সরানো সম্ভব হয়েছে। ইঞ্জিনসহ বাকি ওয়াগন সরাতে আরও কয়েক ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। অক্ষত ২৭টি ওয়াগন আলমডাঙ্গা নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান আনোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল নেওয়া হচ্ছিল। কেন এমন দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।










































